বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
-আর একবার একটু ভেবে দ্যাখ না !
-তুই জিনিসটা বুঝতেছিস না। তুই আমাকে ভালবাসিস। আমার প্রতি তোর একটা ফিলিংস আছে+আমরা ৮ বছরে ফ্রেন্ড , কিন্তু আমার তোর প্রতি ভালবাসা টাইপ কোনো ফিলিংস নাই।
-কিন্তু কেনো নাই? তুই কেনো বুঝিস না যে আমি তোকে কতটা ভালবাসি?
-তুই কেন আমাকে বুঝতেছিস না। তুই আমার বেস্ট ফ্রেন্ড। তোকে নিয়ে আমি এমন ভাবে কখনি ভাবি নাই। সুতরাং, কাহিনি শেষ।
আমি তোর কাছে পৃথিবীর অন্য সব মেয়ে থেকে স্পেশাল, ঠিক তো?? তাহলে তুই ও যে অন্য সব ছেলে থেকে আমার কাছে স্পেশাল সেইটা আমাকে উপলব্ধি করা।
ব্যস আমি তোকে ভালবাসব।
-তুই মেয়েটা এমন ক্যান রে? ভাল লাগে না। ধুর!
-আমাকে তোর ভাল লাগে না?? মাত্র না বললি যে আমাকে ভালবাসিস??
-ওহ! কীসের মধ্যে কি ! ধুর! বাদ দে!
(২)
অনামিকাকে অনেক ভালবাসে রবিন। কিন্তু অনামিকার কথা হইল তার মধ্যে রবিন এর জন্য বন্ধু ব্যতীত অন্য কোনো ফিলিংস নাই। সুতরাং রবিন কে ভালবাসা যাবে না। সে যে অন্য কাউকে ভালবাসে তাও কিন্তু না।
কিন্তু তারপরও মেয়েটার মাথায় যে কি ঘোরে তা স্রেফ আল্লাহ ভাল জানেন। রবিন আর অনামিকার বন্ধুত্ব প্রায় ৫-৬ বছরের। রবিন অনামিকাকে যেদিন প্রথম দেখেছিল, সে দিন অনামিকা ক্লাসে এক ছেলের সাথে যুদ্ধ করতেছিল।
কি এক তুচ্ছ ব্যাপার নিয়া ছেলেটা অনামিকাকে এক থাপ্পর দিয়েছিল। অনামিকা সেই ছেলের দিকে বোর্ড মোছার ডাস্টার ছুড়ে মারল। অনামিকার তুখোড় নিশানায় ছেলেটার ডান চোখটা যাই যাই করে গেলো না।
তারপরও ভালই আহত হয়েছিল। অনামিকা যখন রাগের চোটে ক্লাস থেকে বেড়োতে গেল, তখন দেখে রবিন ক্লাসের বাইরে দাঁড়িয়ে তামাশা উপভোগ করতেছে। তখন রবিন কে উদ্দেশ্য করিয়া বলল-
"ওই পোলা ক্লাসে যাও? ক্লাস নাই?? তামশা দ্যাখো??? যাও ক্লাসে যাও!!"
রবিন সিনিয়র না জুনিয়র সেই চিন্তাটা একবারের জন্য ও অনামিকার মাথায় আসল না। আর রবিন তো ধমকের ঠ্যালায় পুরাই থ !
সেই দিন থেকেই অনামিকার প্রতি এক গভীর টান রবিনের।
(৩)
তারপর কোনো একদিন ক্লাস শেষে অনেক খোজাখুজির পর রবিন কে পেয়ে মাফ চেয়েছিল, সাথে বন্ধুত্বের হাতটাও বাড়িয়ে দিয়েছিল। সেই থেকেই তাদের বন্ধুত্ব শুরু। প্রায় ৫-৬ বছর পেরিয়ে গেল।
গত কিছুদিন যাবৎ অনামিকার জন্য তার মনে আলাদা এক রাজ্য তৈরি হয়েছে, যার রাজা রবিন এবং রানীর আসনে অনামিকা নামের রানীটি না থাকলেও তাকে সে আসনে বসানোর জন্য মন আকুল হয়ে আছে।
কিন্তু ভীষণ জেদি এবং একগুয়ে মেয়েটাকে যে কোনো ভাবেই বোঝানো যাচ্ছে না। তার মধ্যে ভালবাসার উপলব্ধি তৈরি করা যাচ্ছে না। বিষয়টা রবিনের জীবন কে অতিষ্ট করে তুলেছে। নাওয়া-খাওয়া সব হারাম তার।
একবার ভাবল আত্মহত্যা করার চেষ্টা করি নাহলে গুম হয়ে যাই। আমার উপস্থিতি টের না পেলেই অনামিকা আমার অভাব বুঝবে। কিন্তু তাও কেনো জানি হল না। একবার ভাবল যদি পাগলামি করতে গিয়ে মারা যাই তখন?
নাহ এই বুদ্ধি বাদ। ভার্সিটি জীবন শেষের পথে। তারপর যে যার রাস্তা মাপবে।
-নাহ! ধুর শালা, কোনো আইডিয়া পাইতেছি না।, বেশি গ্যাঞ্জাম হইলে মইরাই জামু !!
(৪)
অনামিকার সামনে আর ভালবাসার কথা ত্তুলল না রবিন। অনামিকা কে বোঝার চেষ্টা করতে লাগল। তার পছন্দ অপছন্দ কিংবা সে কি চায়, এই জিনিসগুলা সারাদিন ভাবায় তাকে।
আর এই ভাবাভাবির ঠেলায় নিজ জীবনটা গোল্লায় গেছে। তবুও সংকল্প একটাই, অনামিকা কেই যে চাই ! ফোনে গল্প, টিএসসি তে আড্ডা, ফুচকা, চটপটি সবই হত। কিন্তু অনামিকার মাঝে ভালবাসার জন্ম হল না।
ছোট খাটো উপহার, কিংবা অনামিকার জন্য তার প্রিয় জুঁই কিংবা কদম কিংবা বেলী ফুল নিয়ে হাজির হয়ে যেত সময়ের পূর্বেই। মাঝে মাঝে অনামিকার মধ্যেও ভালবাসার একটু পরশ দেখা গেলেও মুহূর্তেই তা অন্য প্রসঙ্গের মাঝে হারিয়ে যেত।।
দিনগুলো এভাবেই পার হচ্ছিল।
(৫)
অনামিকাকে পরিবার থেকে বিয়ের জন্য চাপ দেয়া হত। কিন্তু মেয়ে বিয়ে করতেও নারাজ। আগে সে স্বাবলম্বী হবে। নিজের জন্য একটা চাকরী যোগাড় করবে, তারপর বিয়ে করার চিন্তা ভাবনা।
নিজে যে কাউকে পছন্দ করে তাও না। তাই বিয়ে নিয়ে ভাবতে চাচ্ছে না সে। মাঝে মাঝে সে রবিনকে নিয়ে ভাবে অনামিকা। রবিন কেমন, তার জীবন সঙ্গী রবিন হতে পাররে কিনা এইসব।
কিন্তু রবিনের প্রতি ভালবাসা জাতীয় অনুভূতি তৈরি হচ্ছে না। কেনো জানি না তার মনে হয় রবিনই তার মনের মানুষটা না। সে যেরকম চায় সে রকম না। তার মধ্যে এক ধরনের পাওয়ার ইচ্ছা কাজ করে।
কাকে, সে নিজেও জানে না। কেউই তার মনে ভালবাসার অনুভূতি তৈরি করতে পারে নি। সবার বন্ধু হিসেবেই থাকতে চায়।
(৬)
রবিনের বড় ভাই সুইডেনে কাজ করেন। ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠানে। তার ইচ্ছা ছিল, উচ্চ শিক্ষার জন্য রবিনকে তিনি তার কাছে নিয়ে যাবেন। পারলে তার ব্যাবসায়িক কাজ গুলোয় রবিনকে সংশ্লিষ্ট করবেন।
ছোটো ভাই টাকে নিজের পায়ে দাড় করিয়ে দিতে চান তিনি। রবিনের বিয়ে নিয়ে রবিনের পরিবারের চিন্তা ভাবনা নেই। আর সদ্য অনার্স শেষ করা ছেলেকে নিয়ে বিয়ের এত তাড়া না থাকাটাই স্বাভাবিক।
খুব দ্রুত গতিতে রবিনের বিদেশে যাওয়ার প্রক্রিয়া চলছিল। হয়ত আর দিন দশেক লাগবে এই রকম অবস্থায় আছে। এখন অনামিকার সাথে সারাদিন কাটিয়ে দিতে পারে না রবিন।
কারন নানা কাজে এখন সে ব্যস্ত। কিন্তু অনামিকা তার মনের সবটুকু জায়গা জুড়ে আছে। ব্যস্ততা থেকে একটু রক্ষা পেলেই অনামিকাকে ফোন দেয় সে। দিনে ১-২ ঘন্টা এমনিতেই কথা হয়।
তবুও দুরত্ব টা ধীরে ধীরে বাড়ছিল। রবিন সবই বুঝত। কিন্তু কিচ্ছু করতে পারত না। ফোনে, মেসেজে নানা ভাবে সে অনামিকাকে তার ভালবাসার কথা বলত। অনামিকা বুঝত। কিন্তু কোনো উত্তর দিত না।
ভালবাসা বিষয়ক কথা গুলো এড়িয়ে যেতেই তার ভালো লাগতো।
(৭)
আর ৫ দিন পর রবিন চলে যাবে। সে সিদ্ধান্ত নিল, আজকেই শেষ প্রচেষ্টা।আজ যদি ব্যর্থ হয়ে যায়, তবে আজ থেকেই দুরে সরে যাবে সে। অনামিকাকে ফোন করে ২ ঘন্টা ধানমন্ডি লেকের পাড়ে আসতে বলল।
সময়ের ১০ মিনিট আগে এসেই বসে আছে রবিন। প্রায় আধ ঘন্টা দেড়ি করে আসলো অনামিকা। যদিও তাতে একটুও রাগ করে নি রবিন। দুই জন মানুষ চুপ চাপ পাশাপাশি বসে আছে। কারো মুখে কোনো কথা নেই।
নীরবতায় আরও কিছু মুহূর্ত কেটে গেলো। কেউই কিচ্ছু বলছে না। অবশেষে নীরবতা ভাঙ্গালো অনামিকা।
[অনামিকা]-কী-রে? কিছু বলবি?
- আমি কি বলবো বা বলতে চাই তা তুই খুব ভালো করে জানিস।
- হুম জানি। তোর সাথে আমি কথা বলবো না।
- কেন?
-তুই তো আমাকে রেখে সুদূর দেশে পাড়ি জমাবি।
- আমি তো তোকে নিয়েই যেতে চাই। কিন্তু তুই ই তো রাজি হচ্ছিস না !!
- আমি বুঝাতে চাচ্ছি, তুই তোর সব চেয়ে প্রিয় বন্ধুটিকে ফেলে চলে যাবি?
- আর কী-বা করা।।
কিছুক্ষনের নীরবতা।
[রবিন]- কিছু কথার জবাব খুজঁতে খুঁজতে তোর পিছু নিয়েছি। কিন্তু তুই তো তুই ই। সেই জবাব মনে হয় আর এই জীবনে পাবো না।
অনামিকা কিছু বলছে না।
আধ ঘন্টা চলে গেল। কিন্তু এরপর কেউই কিছু বলছে না।
রবিন জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে শেষ বারের মত তাকালো অনামিকার দিকে। কিন্তু অনামিকা, অন্য দিকে তাকিয়ে, নির্বিকার। আস্তে করে উঠে চলে গেল রবিন। কিছুই বলল না। অনামিকা টের পেল।
সেও কিছুই বলল না। তিন দিন পর চলে যাচ্ছে রবিন। এই তিন দিনে একটি বারের জন্যও কথা হয় নি অনামিকার সাথে। বিদায় বেলায় এয়ারপোর্টের আশে পাশে চোখ বুলালো, যদি এক পলক দেখা পেয়ে যায়, সেই আশায়।
কিন্তু না, সৃষ্টিকর্তা হয়ত চাননি। তাই শেষ দেখাটাও হয়ত হল না। চোখে অশ্রু এসেও কেনো জানি চলে গেল। নির্বাক রবিন জাত্রা করল অজানায়।
(৮)
[৬ বছর পর]
অনামিকার একটি ছবি আছে রবিনের কাছে। সেটা দেখেই তার দিন পার হয়। অনুভূতিগুলো কেমন জানি ভোতা হয়ে গেছে। এখন আর কাউকে ভালবাসতে চায় না, কারো সাথে মিশতে চায় না।একা একা দিন কাটায়।
কাজের মধ্যে ডুবে থাকে। অনেক দিন পর সে কাল দেশে ফিরবে। তার মনে অনেক প্রশ্ন। আচ্ছা অনামিকা কি বিয়ে করেছে। আচ্ছা তার কি কোনো ছেলেমেয়ে হয়েছে, তারা কি অনামিকার মত। এই সব ভাবনা চিন্তা তার মধ্যে ঘোরে
৬টি বছর পর দেশে ফিরেছে রবিন। বাবা মা আর ছোট বোনটি এসেছে তাকে নিতে। অনেক দিন পর বুক ভরে নিশ্বাস নিতে পারছে সে। ২ টি দিন কেটে গেল, কিন্তু অনামিকার কোনো খোজ নেয়া হলনা।
নিজে থেকেই নেয়নি সে।
(৯)
এই ৬টি বছর অনামিকা কি তাকে একটি বারে জন্যও ভাবে নি? হ্যা, ভেবেছে। একটু বেশীই ।। কি যেন এক শুন্যতা তাকে ঘিরে ধরেছিল। রবিনের সাথে তার শেষ দেখার দিন সে কেদেছিল। অনেক।
সে রবিনকে অনেক ভালবাস্তো। কিন্তু দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা সে দিতে পারে নি। তারপর অনেক কেদেছে সে। তারপর তার বিয়ে ঠিক হয়েছিল। বাবা মা যখন তাকে তার পছন্দের কথা জিজ্ঞেস করেছিল, তখন সে কোনো উত্তর দিতে পারে নি।
কারন নিজের ভালবাসাকে নিজের ভুলে দূরে সরিয়ে দিয়েছিল। কি-বা বলবে। তাই সে ভুলের মাশুল সে দিয়েছে। সে এখন বিবাহিত। তার স্বামী অনেক টাকা আয় করে। দেড় বছড়ের ছোটো এক ছেলে আছে তার।
খোজ নিয়ে সবই জেনেছে রবিন। কেদেছেও অনেক।
এখনও মাঝে মাঝে সেই লেকের পাড়ে যায় রবিন যেখানে তার শেষ দেখা হয়েছিল অনামিকার সাথে। পরিবারের চাপে তাকেও বিয়ে করতে হয়েছে। রবিনের কষ্টগুলো বাসার বাইরেই সীমাবদ্ধ।
বাসায় গেলে সে সব কষ্টগুলো বাইরে রেখে যায়। কারন তার স্ত্রীর তো কোনো দোষ নেই। সে কেনো ভুগবে। কিছু দিন পর সে বাবা হবে। তাই হয়ত কষ্টগুলো কে ধুয়ে মুছে ফেলেছে।। এইত জীবন...
জন্ম, মৃত্যু, সুখ, দুঃখ, হাসি কান্না, বেদনা, পাওয়া, না-পাওয়া, হারানো। এইত
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now