বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

শাবকী দেবী—২য় ও শেষ পর্ব

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X অতিপ্রাকৃত গল্প "শাবকী দেবী" অপু তানভীর ---------------- (২য় ও শেষ পর্ব) ছয় রাতের বেলা ঘুমিয়ে আছি এমন সময় জেনের ডাকে ঘুম ভাঙ্গলো ! ভাবলাম বুঝি সকাল হয়ে গেছে । তাকয়ে দেখি এখনও রাতই আছে । তবে গুড় গুড় করে মেঘ ডাকা আওয়াজ শুনতে পাচ্ছি ! আমি আলো জ্বালতে গেলাম ও বাঁধা দিল ! শব্দ করতেও মানা করলো ! তারপর আমাকে খুব জোরে এসে জড়িয়ে ধরলো ! এতো জোরে আমি ঠিক বুঝতে পারলাম না হঠাৎ কি হল ! তারপর আমাকে অবাক করে দিয়ে বলল -তোমার সামনে খুব কঠিন বিপদ ! -মানে ? -কোন কথা না, কোন আওয়াজ না ! সাং দাড়িয়ে আছে বাইরে ! তুমি এখন ওর সাথে যাবা ! সকাল পর্যন্ত থামবা না ! কেবল হাটবা, পারলে দৌড়া ! সকালের আগে কোথাও থামবা না ! মনে থাকবে ? আমি কিছুই বুঝতে পারছিলাম না ! হঠাৎ করেই কি হল ! আমার বিপদ মানে ? কি ভাবে বিপদ ! -জেন ! কি বলছো এসব ! আমার বিপদ মানে কিসের বিপদ ! জেন আমার দিকে তাকিয়ে থাকলো কিছু সময় ! -ইউ নো আই লাভ ইউ ! -হুম ! জাি তো ! -আমি সত্যি তোমাকে ভালবাসি ! আর আমার কারনে তোমার কোন ক্ষতি আমি করতে পারবো না ! -কি বলছো ! আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না ! -আমি তোমাকে এখানে আমাদের উৎসব দেখাতে নয় তোমাকে শাবকির উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করার জন্য এনেছিলাম ! -মানে !! আমি যেন নিজর কান কে ঠিক মত বিশ্বাস করতে পারছিলাম না ! কি বলছে এই মেয়ে ! মাথা ঠিক আছে তো ! -শুনো ! এখনও সময় আছে পালিয়ে যাও ! কোন প্রশ্ন কর না ! হয়তো আর দেখা হবে না ! তবে একটা কথা মনে রেখো যে আমি তোমাকে ভালবাসি ! সব কিছুই থেকে ভাল বেশি ভালবাসি ! এই বলে জেন আমার ঠোটে একটা চুম খেল ! আমি আর দাড়ালাম না ! সাং বাইরের দাড়িয়ে ছিল ! ওকে নিয়ে আস্তে আস্তে হাটতে লাগলাম ! গ্রামের সীমা অতিক্রম করে এবার দৌড়াতে লাগলাম ! যদিও অন্ধকারে হাটতে বেশ কষ্ট হচ্ছিলো ! কেবল হাটছিলাম আর দৌড়াচ্ছিলাম ! জেন বলেছিল কোন ভাবেই রাতের বেলা কোথাও থামা যাবে না ! চলতে থাকতে হবে ! সাত কিভাবে সকাল হল আমি বুঝতে পারলাম না ! কেবল মনে হয়েছে যে আমি আজীবন ধরে কেবল দৌড়েই চলেছি ! যখন আলো ফুটলো তখনও আমরা পাহাড়ি এলাকা থেকে বের হতে পারি নি ! একটা পাহাড়ের পাদদেশে একটা কুড়ে ঘর দেখে সেখানে বলসলাম একটু বিশ্রামের জন্য ! সাং বলল -এখন মোটামুটি নিরাপদ ! ওদের গ্রামর মানুষ এখানে আসবে না । এটা অন্য গোত্রদের এলাকা ! আমি চোখ বন্ধ করলাম ! মাথার ভেতরে অনেক গুলো প্রশ্ন খেলা করছে । জেন এই সব কি বলছে ! ও আমাকে এখানে কেন নিয়ে এসেছে ! যদি জেনের কথা ঠিক থাকে গ্রামের লোক গুলোর চোখের ঐরকম দৃষ্টির একটা ব্যাখ্যা পাওয়া যায় ! এই সব ভাবতে ভাবতে কখন ঘুমিয়ে পড়েছি খেয়াল নেই ! বৃষ্টির ঝাট গায়ে লাগাতে চোখ মেলে চাইলাম ! বাইরে প্রবল বৃষ্টি শুরু হয়েছে ! পাশে তাকিয়ে দেখি সাং বসে বসে কাঁদছে ! আমরা তো বেচে এসেছি ! তাহলে এই ছেলে কাঁদছে কেন ? -কাঁদছো কেন ? -আইজেন বু আর বাঁচবে না ! -সে কি ! কেন ? -ও আপনাকে বাঁচিয়ে দিয়ে নিজের মৃত্যু ডেকে এনেছে ! -মানে ? -আপনি জানেন না ! বু বলে নি আপনাকে ? আমি কিছু মনে করতে পারলাম না ! এমন কিছু বলেছে কি ! সাং বলতে শুরু করলো -শাবকি ! হয় শরীর নয়তো কষ্ট ! শরীরটা ছিল আপনার ! সেটা যখন শাবকীকে দেওয়া হয় নি তখন কষ্ট ! সেটা হবে আইজেন বুর ! শাবকীকে সন্তুষ্ঠ করতে রাজার মেয়েকে কঠিন কষ্টের ভেতর দিয়ে যেতে হয় ! জেন বলেছি শজরীরের সব ছিদ্র সেলাই করে দেওয়া হয় ! তারপর শরীরের ফোটানো হয় ১০০১ টা সুই ! এভাবেই রেখে দেওয়া হয় শবকির মন্দিরের সামনে । যদি শাবকী নিজে এসে তাকে গ্রহন করে তাহলে হয়তো বেঁচে ওঠে নয়তো ওভাবে মারা যায় ! আর বিকল্প উপায় হচ্ছে রাজকুরামীর ভালবাসার মানুষকে শাবকীর উদ্দেশ বলি দেওয়া যাতে সারাটা জীবন যে মনের কষ্ট নিয়ে বেঁচে থাকে ! সাং বলল -আমার নানী ছিল শাবকিনী ! -শাবকিনী ? -যারা শাবকীর জন্য জীবন উৎসর্গ করে ! নানা নিজে এই গ্রামে ভালর জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন ! নানী এতো দিন বেঁচে ছিল তাই আমার মা কিংবা আইজেন বুর মাকে কিছু করতে হয় নি । কিন্তু গত মাসে নানী মারা গেছে । আর এখন গ্রামে কোন শাবকিনী নেই ! নিয়ম অনুসারে এখন আইজেন বুকে শাবকিনী হতে হবে ! আমাদের পরিবারের একমাত্র মেয়ে সেই ই ! আমি কি বলবি কিছু খুজে পেলাম না ! কেবল জেনের চেহারাটা ভেসে আসতে লাগলো ! আসলেই কি সেই সব কিছু জেনের সাথে করা হবে ! না মোটেই না ! মোটেই না ! আমি আর ভাবতে পারলাম না ! না ! এটা হবে না ! -চল ! -কোথায় ? সাং আমার দিকে অবাক হয়ে তাকালো ! -আবার গ্রামে ! সাং সত্যি আমার দিকে তাকিয়ে রইলো অবাক হয়ে ! আামকে আগে এই কথা বললে আমি হয়তো আসতাম ই না ! জেন যদি আমাকে বাচানোর জন্য এই অবর্ননীয় কষ্ট স হ্য করতে পারে আমিও ওর জন্য মরতে প্রস্তুত ! তুমি এখনই চলে ! -এখন আর লাভ নেই ! আজকে ভোর বেলা বুকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ! আর এই যে বৃষ্টি শুরু হয়েছে ! এটা তারই প্রমান ! নানাী মারা যাওয়ার পরপরই আমাদের গ্রামের উপরে শাবকীর অভিশাপ নেমে আসতে শুরু করে । ঝর্ণা শুকিয়ে যেতে শুরু করে । আমরা পানির সমস্যায় পড়তে শুরু করি ! এই যে বৃষ্টি শুরু হয়েছে এটা তারই জন্য ! বুবুকে শাবকীর সামনে রাখা হয়ে গেছে এতোক্ষনে ! আমার বুকের ভেতরে আবারও সেই অনুভুতি টাহল ! কেউ জেনের ঐ চমৎকার ঠোট দুটো সেলার করছে এটা ভাবতেই আমি শিউরে উঠলাম ! -যদি হয়েও থাকে তবুও ওকে বাঁচানো সম্ভব ! তুমি চল আমার আছে ! -আমি পারবো না ! এখন সে দেবীর সম্পত্তি হয়ে গেছে ! আমাদের কিছু করার নেই ! আট সাং আমাকে দিকে তাকিয়ে রইলো কিছুটা সময় ! আমার চোখে এমন কিছু ছিল যেটাতে ও রাজি হয়ে গেল ! আবারও আমরা পথ চলতে লাগলাম ! এতো এনার্জি আমার ভেতরে কোথায় ছিল আমি নিজেই জানি না ! বারবার কেবল জেনের কথা মনে হচ্ছিলো ! যখন পুরো মন্দিরে পৌছালাম তখন সন্ধ্যা হয়ে এসেছে ! এতো জোরে বৃষ্টি শুরু হয়েছে আমি এক হাত দুরের জিনিস ঠিক মত দেখতে পাচ্ছি না । সেই সাথে অন্ধকার হয়ে আসছে । জায়গাটা এতো দুর্গম আমি একটু হাটতেও ক্লান্ত হয়ে এসেছি ! গাছপালা ঘন হলেও ঠিকই বোঝা যাচ্ছে পায়ে চলা একটা পথ আছে । তবুও সেটা ঠিক মত চোখ পড়ে না । তবে কিছু নতুন মারানো ভাঙ্গা পাতা ডাল চোখ পড়ছে । সাং যদি ঠিক বলে থাকে এর অর্থ হচ্ছে জেনকে নিয়ে আজকে ওরা এখানে এসেছে । আরও কিছু দুর আসতেই পথের চারিপাশে লেবু পড়ে আছে । তখনই মনে হল আমি কাছাকাছি চলে এসেছি ! সাং আমার পাশে পাশেই ছিল ! হটাৎ থেমে গেল ! -আমি আর যাবো না ! -কেন ? -এরপরে আমার পক্ষে আর যাওয়া আর সম্ভব না ! আপনি আর একটু সামনে যান ! ঐ যে ঘন বেড়াটা দেখা যাচ্ছে ঠিক তারপরেই শাবকী দেবীর মন্দির ! আমি আপনার জন্য এখানে অপেক্ষা করছি ! আপনি যতক্ষন না আসেন ! আমি আর কথা বাড়ালাম না ! এক পা দুপায়ে এগিয়ে যেতে লাগলাম ! যতই আমি এগুতে লাগলাম ততই আমার মনে অদ্ভুদ ভয় দানা বাধতে লাগলো ! এতোক্ষন পরিবেশ টা হালকা ছিল কিন্তু যতই কাছে যাচ্ছি মনে হচ্ছে কেমন যেন একটা অশুভ কিছু রয়েছে চারি দিকে ! আমি যখন ঘন গাছ পালা ভেদ করে আমি ভেতরে তাকালাম প্রথমে কিছুই দেখলাম না । ততক্ষনে অন্ধকার হয়ে এসেছে । কিন্তু পরক্ষনে বিদ্যুৎ চমকে জায়গাটা একেবারে দিনের আলোর মত হয়ে উঠলো ! ঘন গাছপালার ভেতরে গোল মত একটা স্থান । বলা চলে একেবারে পাথরের কন্ক্রিট দিয়ে ঝালাই করা মঝে । আমি অন্ধকারের ভেতরেই পাথরের এদিক ওদিক তাকাতে লাগলাম ! একটু একটু করে এগুচ্ছি ! আর পায়ের কাছে লেবু ধাক্কা খাচ্ছে । বোঝা যাচ্ছে এখানে আশে পাশে অনেক লেবু পরে আছে । আসলেই কি লেবু শাবকি দেবীর হাত থেকে তুনতিদের বাঁচাতে পারে ! এই যুগে এই সব বিশ্বাস করা কিছুটা হাস্যকরই বটে কিন্তু এমন রাতের বেলা আর এমন বৃষ্টির সময় সব কিছুই কেমন সত্য মনে হয় ! আমার যরে ভয় ভয় করছসে না এই কথা বললে মিথ্যা হবে কিন্তু সেটার থেকেও আমার কাছে জেন আর জেন কে বাঁচানো টা বেশি গুরুত্বপূর্ন ! আরেকবার বিদ্যুৎ চমকাতেই আমি জেনকে দেখতে পেলাম । কিন্তু যা দেখলাম আর যেভাবে দেখলাম সেটা দেখার জন্য আমি মোটেই প্রস্তুত ছিলাম না ! ঠিক যেমন টা শাবকীর মুর্তির দেখেছিলাম ঐ নতুন মন্দিরে ঠিক সরকম দুইটা মুর্তি দেখতে পেলাম ! পরস্পর থেকে মিটার খানেক দুরে রাখা আছে ! আরেক টু ভাল করে পরেরবার যখন আরেকবার বিদ্যুৎ চমকালো তখন দেখলাম আসলে একটা মুর্তি হলে অন্যটা কোন মুর্তি নয় ! ওটা জেন ! আমার জেন ! আমি কিছু তীব্র বৃষ্টি ভেদ করেও ওর দিকে তাকিয়ে আছি ! কিছু সময় পরপরই বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে আর ওর চেহারাটা আমার কাছে বারবার ভেসে উঠছে ! প্রতিবারই ওর সেলাই করা ঠোট দুটো আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি ! সেই ঠোট দিয়ে রক্ত পড়ছে । সারা শরীরে কেবল সুঁচ আর সুঁচ ! আমি কয়েক মুহর্ত কি করবো কিছু বুঝে উঠতে পারলাম না ! আমি মন্দিরে সিড়িতে পা দিতেই আরেকবার বিদ্যুৎ চমকে উঠলো ! ঠিক তখনই জেনের চোখ খুলে গেল ! আমার দিকে তাকিয়ে ওর চোখে বিশ্ময় দেখলাম ! আমাকে সে এখানে কিছুতেই আশা করে নি ! যদিও অনন্ধকার হয়ে গেলে কিন্তু আমার কাছে মনে হল ও আমাকে স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে ! আরেকবার বিদ্যুৎ চমকাতেই দেখলাম সেই বিশ্ময় মাখা চোখে ও তখনও আমার দিকে তাকিয়ে আছে ! আমি আর মন্দিরে উঠে এলাম ! শাবকির মুর্তি পার হয়ে চলে গেলাম জেনের কাছে ! অন্ধকার হলেও এতো কাছ থেকে ওর চোখ দুটো স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে ! আমাকে দেখে চোখ দিয়ে পানি বের হয়ে এল ! স্পষ্টই ওর চোখ আমাকে বলছে এখান থেকে চলে যেতে ! কয়েকবার মুখ ফুটে কিছু বলতে গেলে কিন্তু সেলাই করার কারনে কিছু বলতে পারলো না ! চাপ লেগে আরও রক্ত বের হয়ে এল ! আমি কেবল বললাম -তোমাকে ছেড়ে যাবো না ! বুঝেছো তুমি ! যাবো না যাবো না ! ঠিক তখনই আমার সেই আগের অনুভুতি টা আবার ফিরে এল । এতোক্ষন জেনের শরীরের এই অবস্থা থেকে আমার মাথায় অন্য কিছু আসে নি । আমি ওকে নামাবো কি, তার আগেই খুব কাছে একটা আওয়াজ এল ! কেউ যেন একটা পাথরে খুব জোরে আঘাত করলো ! আমি চট করে পেছন ফিরে তাকালাম ! প্রথমে কিছু বুঝতে না পারলেও মনে হল কিছু একটা যেন ঠিক নেই ! কিছু একটা আগে ছিল ঠিক । কয়েক মিনট লাগলো ব্যাপার টা ধরতে । আরে এখানে শাবকীর মুর্তির ছিল সেটা কোথায় ? প্রথমে মনে হল চোখের ভুল কিন্তু একটু পরে আরও ভাল করে বুঝতে পারলাম যে কোন ভুল না ! শাবকীর মুর্তির কাছে জেনের শরীর টা ছিল, কিন্তু এখন শাবকী দেবীর পাথরের মুর্টিটা নেই ! কোথায় গেল ! এটা কিছুতেই সম্ভব নয় ! সম্ভব না ! আমি মন কে বোঝাতে চাচ্ছি ! কোন ভাবেই এটা সম্ভব নয় ! কোন মুর্তি একা একা নিজের জায়গা ছেড়ে চলে যেতে পারে না ! হয়তো সেটা ......। হয়তো এমন কোন মুর্তি ছিলই না এখানে ! থাকতে পারে না ! আবার খুব কাছেই একটা আওয়াহ হল ! এবার ডান দিকে । ডাল ভাঙ্গার আওয়াজ ! খুব ভারী পারে কেউ যেন এগিয়ে আসছে ! আমার বুকের ভেতরে আবারও ধক করে উঠলো ! তারপর আবার ! এবার আমাদের পেছেন ! আমার কেবল মনে হল খুব অশুভ কেউ এগিয়ে আসছে । সাং বলেছিল জেন এখন দেবীর সম্পত্তি হয়ে গেছে । জেন কে নিয়ে যাওয়া মানে দেবীর সম্পত্তি নিয়ে যাওয়া ! এটা শাবকী দেবী কি এমনি এমনি হতে দিবে ? আমার ষষ্ঠ ইন্দ্রীয় বলছে এখনই এখান থেকে পালিয়ে যেতে ! কিন্তু জেন কে রেখে কে রেখে আমি কোথায় যাবো না ! আমি যাবো না ! চিৎকার করে বললাম কথা টা ! চিৎকার করলে নাকি ভয় কমে যায় ! আমি আমার গলার সমস্ত শক্তি দিয়ে চিৎকার করে বললাম আমি যাবো না ! আমি ওকে রেখে কোথায় যাবোনা ! যদি তোমার ওর কাছে পৌছাতে হয় তাহলে আমাকে মেরে তারপর যেতে হবে ! বুঝেছো তুমি ! সবাই তোমাকে ভয় পেলেও আমি পাই না ! আমি ওকে রেখে যাবো না ! ঠিক তখনই আমি তাকে দেখতে পেলাম ! একে বারে আমার না বরাবর ! অন্ধকারে ভেতরেও আরও কিছুটা বেশি কুঁচকুচে অন্ধকার ! আস্তে আস্তে এগিয়ে আসছে ! থপ থপ থপ আওয়াজ করে ! আমার বুকের ভেতরে কেবল ভয়ের একটা ঠান্ডা স্রোত বয়ে গেল ! মাথা বলছে এখনই এখান থেকে দৌড় দিতে কিন্তু মন বলছে কিছুতেই জেন কে ছাড়া যাওয়া যাবে না ! দুনিয়া উল্টে গেলেও না ! এরই মাঝে আবারও একবার বিদ্যুৎ চমকালো ! আমি ওটাকে আরও পরিস্কার করে দেখতে পেলাম ! ঠোট দুটো নাকের দুইপাশ সেলাই করা ! সেখান থেকে একটু একটু রক্ত পড়ছে যেন ! বৃষ্টির প্রবল বর্ষন হওয়া সত্ত্বেরও সেটা ধুয়ে যাচ্ছে না ! আস্তে আস্তে এগিয়ে আসছে ! আমি জেনের শরীর দিকে আরও একটু এগিয়ে এলাম ! পায়ের কাছে তখনও কিছু লেবু গড়াগড় খাচ্ছে ! জানি কোন কাজ হবে না তবুও আমি দুটো লেবু হাত দিয়ে শক্ত করে চেপে ধরে জেনে শরীরটা আড়াল করে রাখা চেষ্টা করলাম ! কোন ভাবেই জেনের কাছে আমি শাবকীকে পৌছাতে দিব না ! তখনও থপথপ আওয়াজ শুনতে পাচ্ছি ! ওটা এগিয়েই আসছে ! আসছেই ! আমার আর তাকানোর সাহস নেই ! আমি ঘুরে গিয়ে কেবল জেন কে জড়িয়ে ধরলাম ! মনে মনে কেবল বলতে লাগলাম আমি ওকে ছেড়ে যাবো না ! যাবো না ! ওকে ছেড়ে যাবো না ! নয় কতক্ষন এভাবে ছিলাম আমার নিজেরও মনে নেই ! একটা সময় কেবল লক্ষ করলাম যে চারিদিকে তীব্র লেবুর গন্ধ ছড়িয়ে পরেছে । তাকিয়ে দেখি আমার হাতের যে লেবু দুটো ছিল সেগুলো আমি উত্তেজনায় এতো ধরে চেপে ধরেছি যে সেগুলো হাতের ভেতরেই পিসে গেছে । আমি আবার ঘুরে তাকালাম ! তাকিয়ে দেখি শাবকীর মুর্তিটা ঠিক আগের জায়গায় রয়েছে ! একটু আগেও যে অশুভ অনুভুতিটা হচ্ছিলো সেটা আর হচ্ছে না এখন ! তবুও আমার কেবল মনে এখানে থাকাটা মোটেই শমীচিন হবে না ! আমি জেন কে নামালাম ! মন্দিরের মাটিতে নামিয়েই প্রথমে ওর সেলাই গুলো কাটতে চেষ্টা করলাম ! কিন্তু অন্ধকারের কারনে সেটা খুব বেশি বুদ্ধিমানের কাজ মনে হল না ! যখন ওর পালস নেড়ে দেখি খুব দুর্বল ! শরীর থেকে প্রচুর রক্ত বয়ে চলেছে ! শরীর সুই সব বের করা সম্ভব হল না ! তবুও কিছু বের করে ওকে নিয়ে বৃষ্টির ভেতরেই নেমে গেলাম ! নিচের গায়ের শার্ট টা ওকে আগেই পড়িয়ে দিয়েছি ! গাছ পালার দেওয়াল পার হয়েই দেখি সাং এখনও আমার জন্য অপেক্ষা করছে ! আমাকে আর জেন কে দেখে অবাক হয়ে তাকালো ! বিশেষ করে জেন দেখে দেখে ! আমি আরও একটু কাছে আসতেই হঠাৎ করেই মাটিতে কপাল ঠেকিয়ে প্রানামের মত করলো ! -কি করছো তুমি ? আগে জেনকে ধর ! -না ! এটা আমি পারবো না ! মাথা নিচ করে রেখেই সাং বলল ! -কেন ? -সে এখন আর স্বাধারন কেউ নেই । শাবকীনি হয়ে গেছে ! আর আমরা তার দিকে চোখ তুলে তাকানোর ক্ষমতা নেই ! এই বলে সে মাথা নিচ করেি রইলো ! বুঝলাম ওর কাছ থেকে আর কোন সাহায্য পাওয়া যাবে না ! ওকে একাই বয়ে নিয়ে চললাম ! কিন্তু আগে ওর শরীর থেকে সুই গুলো বের করতে হবে ! আর এই প্রবল বর্ষনের ভেতরে জনে কে নিয়ে এগোনো সম্ভব না ! ওর শরীর সেটা স হ্য করতে পারবে না ! সাং কে কথাটা বলতেই ও একটু দুরেই একটা ছোট গুহার মত খুজে বের করে ফেলল ! সেখানে এই বৃষ্টির ভেতরেও আগুন জ্বলিয়ে ফেলল কেমন করে জানি ! গুহার ভেতরে ঢুকে আমি কাজে লেগে গেলাম ! আস্তে আস্তে খুব সাবধানে ওর সেলাই গুলো কাটতে লাগলাম ! সাথে সাথে সুই গুলো শরীর থেকে বের করতে লাগলাম ! সাং কেবল দুর থেকে আমাকে দেখতে লাগলো ! ওর চোখে আমার আর জেন দুই জনের জন্য বিশ্ময় ছিল, ছিল ভয় ! কি সেই ভয় আমি জানি না ! যখন শেষ সুচ টা বের করলাম তখন রাত কয়টা বাজে কে জানে ! আমি সারা শরীরের তখন কি পরিমান ক্লান্তি এসে জমা হয়েছে আমি । ভেজা শার্ট টা দিয়ে ওর শরীরটা মুছিয়ে দিয়ে আমি ওর পাশেই শুয়ে পড়লাম ! পরিশিষ্টঃ সকালে যখন ঘুম ভাঙ্গলো তখন বাইরে রোদ উঠেছে । আমি চোখ মেলে দেখি পাশে জেন নেই ! সাংও নেই ! বাইরে বের হয়ে একটু অবাক হতে হল ! ঠিক গুহার সামনেই আমি একটা ঝর্ণা দেখতে পেলাম । স্পষ্টই মনে আছে কাল রাতে যখন এখানে এসেছিলাম তখন এটা ছিল না । তার মানে এক রাতেই এটা তৈরি হয়ে হয়েছে কিংবা আগে ছিল, শুকিয়ে গিয়েছিল এখন আবার কাল বৃষ্টির ফলে তৈরি হয়েছে । আমি সামনের জমা হওয়ার পানির দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে ভাবতে লাগলাম জেন কোথায় গেল ! যদি নিজ পায়ে উঠে গিয়ে থাকে তার মানে কাল রাতের থেকেও ওর শারীরিক অবস্থা আগের থেকে ভাল ! আমি পানির দিকে তাকিয়ে আছি তখনই একটু আলোড়ন দেখতে পেলাম । আমি তাকিয়ে আছি পানির দিকে । তখন যেন সময় একটু স্লো মোশনে চলা শুরু করলো । হিন্দি সিনেমায় নায়িকা সমুদ্র কিংবা সুইমিং পুলের পানি থেকে উঠানো টা দেখানো হয় ঠিক সেই ভাবে পানি থেকে জেন কে উঠতে দেখলাম । পানি থেকে উঠে আস্তে আস্তে আমার দিকে এগিয়ে এল ! আমি কেবল অবাক করে তাকিয়ে দেখলাম ওর দিকে তাকিয়ে ! আমার বিশ্ময় টা আরও একটু বেড়ে যখন দেখলাম জেন আমার পাশে এসে বসলো ! ওর শরীর থেকে তখনই পানি ঝড়ছে । হাত দিয়ে চুলের পানির ঝাড়তে ঝাড়তে আমার দিকে তাকিয়ে হাসলো ! সেই চিরো চেনা দম বন্ধ করা হাসি ! কাল রাতে ওর ঠোঁট দুটো সেলার করা ছিল, সেটা কাটার মনে হয়েছিল যে ঠোঁটে দাগ টা অনেক দিন থাকবে কিন্তু এখানে ওর ঠোটে একটা দাগ নেই ! আমি হাত দিয়ে ওর ঠোঁট দেখলাম ! -দাগ !! শরীরের কোন ক্ষত নেই ! কিভাবে সম্ভব ! জেন কেবল হাসলো ! যখন জেনদের গ্রামে গেলাম পরিবেশ টা দেখার মত হল ! সবাই কেবল আমাদের দেখার সাথে সাথেই মাথা নিচ করে কুর্নিশ করছে । এমন কি স্বয়ং রাজা সাহেব আমাদের দেখে কুর্নিশ করছে । আগের বার তো কেউ কেউ জেন কে দেখে কুর্নিশ করছিল কিন্তু সেটার সাথে এইটার কোন তুলনায় নেই ! সত্যি কারের রাজ দেবীকে যেন তারা মাথা নত করে সালাম করছে ! এবং এরা এইবার আমাকে দেখেও কুর্নিশ করছে কিন্তু কেন ! জেন কেবল আমার দিকে তাকিয়ে বলল -অভ্যেস করে নাও ! ইউ আর গোয়িং টু বি দ্য কিং !! -দ্য কিং ! সিরিয়াসলি !!! (সমাপ্ত) -------------- ।। একাকী কন্যা ।।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩৮ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now