বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
টিউশনি ও রোমান্টিক মেয়ে
..
শেষ পর্ব
..
--এই মিম কি হইছে পড়া পারে না আবার কান্না করে।এত্ত বড় মেয়ে হইছে এখনো ক্লাস টেনেই পড়ে এখনো লজ্জা নেই তোমার।
--না লজ্জাই নেই।আপনার জন্য আমার এই অবস্থা।(বলেই কান্নার গতি আরো বেড়ে গেল)
--কেন আমি আবার কি করলাম।
--কি করেন নি আপনি বলেন।সেই আট বছর আগে যখন থেকে প্রেম,ভালবাসা বুঝেছি তখন থেকেই আপনাকে ভালবেসেছি।কিন্তু বলতে পারিনি রাস্তায় আপনাকে দেখে
আমি আপনার কাছে যাওয়ার আগেই চলে যেতেন।রাস্তা দিয়ে কে কখন যায় খেয়ালি করেন না।আপনার সাথে কোন ভাবে কথা বলতে পারি না বলে আব্বু পটিয়ে আপনাকে আমার প্রাইভেটটিউটর বানাইছি।আর আব্বু বলছে যখন এস এস সি পাশ করব তখনি বিয়ে দিয়ে দিবে।তাই আমি ইচ্ছা করে সবসময় ফেল করি কারন আমাকে যেন আব্বু বিয়ে না দিতে পারে কারন আমি শুধু আপনাকেই ভালবাসি আর বিয়ে করতে চাই।
..
কথা গুলি একটানে বলেই আরো জোরে জোরে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কান্না করতে লাগল।মিমের কথা গুলো শুনে নিজেকে অপরাধী মনে হল।মেয়েটা এত্ত ভালবাসে আমাকে।আমার জন্য এত্ত বার ইচ্ছে করে পরিক্ষায় ফেল করলো।আসলে আমারই দোষ রাস্তায় বা অন্য জায়গায় কোন মেয়ে দেখলেই অন্য দিকে চলে যাই।কারন মেয়ে দেখলেই ভয় লাগতো।কিন্তু এখন মনে হচ্ছে যে মেয়েটা আমাকে এত্ত ভালবাসে তাকে ফিরিয়ে দেয়া উচিত না।
..
--তাহলে এবারো ইচ্ছা করে ফেল করবে।
--হ্যা করব।আপনার কি।
--আমার তো অনেক কিছু।আমি প্রাইভেট পড়াই আমার সম্মান কি থাকবে।
--দরকার নেই সম্মানের।আপনি আপনার সম্মান নিয়েই থাকেন।আর আমাকে পড়ানোর দরকার নেই।গেলাম।(চেয়ার থেকে উঠে গেল)
--কোথায় যাও।(হাত ধরে ফেললাম)
--জাহান্নামে যাই।হাত ছাড়েন।
--এবার পাশ করতে হবে।
--কেন পাশ করব।
--এবার পাশ না করলে আমি বিয়ে করব না।
--আমি আপনাকে বিয়ে করব কেন।
--তুমিই তো বললে ভালবাস আমাকে।
--হুম বাসি তো।
--তো কিছু না চললাম।
--আরে আরে স্যার আগে পড়াটা নিয়ে যান।দেখেন আমি পড়া পারি কিনা।ফাঁকিবাজি করলে আব্বুকে বলে দিব।
--আচ্ছা ঠিক আছে।কালকের পড়াটা দেখি পার কিনা।
..
সে খুব সুন্দর করে কালকের পড়া গুলো বলল।আর বলল যে
তার আব্বুকে বলতে যে সে পাশ করার পর আমি মিম কে বিয়ে করব।না হয় সে এবারো ইচ্ছা করে ফেল করবে।আমি তাকে বললাম ঠিক আছে বলব তবে আমি না আব্বুকে দিয়ে বলাবো।কিন্তু এক শর্ত দিলাম পরিক্ষার আগে আর কোন পাকনামি করা চলবে না।এখন শুধুই পড়া লেখা। প্রেম টেম করা যাবে না প্রেম হবে বিয়ের পরে।সে রাজী হয়ে গেল।
..
দেখতে দেখতে পরিক্ষা চলে আসল।মিমের পরিক্ষা খুব ভাল হল।রেজাল্ট দিল মিমের রেজাল্ট শুনে আমি অবাক হয়ে গেলাম।মিম নাকি এ প্লাস পাইছে।অথচ এত্ত বার মিম এস এস সি তে ফেল করছে।এ খবর শুনে এলাকায় হৈ চৈ পড়ে গেল কারন সবাই তো অবাক যে মেয়ে এত্ত বার ফেল করছে সে এবার এ প্লাস পাইছে।
..
মিম তার কথা রাখছে এবার আমার কথা রাখার পালা।আব্বুকে অনেক কষ্টে রাজি করিয়ে মিমের আব্বুর কাছে বিয়ের প্রস্তাব পাঠালাম।করিম চাচা এক কথাই রাজি হয়ে গেল।আর কেনই বা রাজি হবে না আমার মত সোনার টুকরা ছেলে কি এই তল্লাটে আর পাবে। যাক গিয়ে সেই কথা পাঠক পাঠিকারা আবার আমাকে চাপাবাজ ভাববে।
..
অত:পর সেই বাসর রাত।বাসর ঘরে ঢুকতেই দেখি বউ খাটে নাই।ওমা আমার বউ কি পালাই গেল নাকি না আছে বাচা গেল বাবা।
--এই মাইয়া তোমার দেখি লজ্জা শরম নাই।নতুন বউ কি এভাবে পা তুলে সোফায় বসে নাকি তোমার বসার কথা লম্বা ঘোমটা দিয়ে খাটে।
--না এটা আমার ইচ্ছা।যেভাবে খুশি সেভাবে বসব তোমার কি।এখন যেটা বলি সেটা শুনো।
--কি শুনব।
--আমার হাত পা গুলা না অনেক ব্যাথা করছে একটু টিপে দাও।
--কিই তুমি তো আচ্ছা ফাজিল মেয়ে।নিজের জামাই কে কেউ এই কথা বলে কখনো।
--আমাকে অনেক ঘুরাইছো সোনা এখন হাত পা টিপে দাও না হয় জোরে চিৎকার দিমু।
--হ্যা দিতাছি(মান সম্মান বলে একটা কথা আছে মাইয়া জোরে চিৎকার দিলে বাড়ির মানুষ কি ভাববে তাই রাজি হয়ে গেলাম)
..
পায়ে হাত দেয়ার আগেই দেখি মিম মেডাম আমাকে জড়িয়ে ধরল।আহ বউ জড়াইয়া ধরলে এত্ত ভালা লাগে যদি জানতাম তাহলে বিয়াটা আরো আগে করতাম।(সমাপ্ত)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now