বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আয়তন ১,৪৭,৫৭০ বঃ কিঃ,জনসংখ্যা ১২,৯৩,০০০০০ ঘনত্ব ৮৭৬ জন রাজধানী-ঢাকা ।
বৈচিত্রময় এ পৃথিবী ,বৈচিত্র্যে ভরা দেশে ও বিদেশে বিচিত্র মানব গোষ্টী আর বৈচিত্রময় তার রুপ । প্রাক্তন বৃটিশ ইন্ডিয়া শাসিত বঙ্গ ভূমিতে যশোর জেলার সরঙ্গদিয়া গ্রামে জন্মেছিলাম মধ্যবিত্ত জোয়ারদার পরিবারে মরহুম জোয়ারদার আবদুল মজিদ এর ঘরে জীবিত ও মৃত নিয়ে এক ডজন ভাই বোনের মাঝে সবার শেষেই এ স্বর্গনামে খ্যাত নরকসম ও জন্ঞালময় পৃথিবীতে আমার আগমন ঘটেছিল ১৯৪২ সনে ২৪শে জানুয়ারী । সেদিন শুক্রবার অর্থাৎ মুসলমানদের পবিত্র দিন ।
বাড়ির তিন পার্শ্বে আম,জাম,কাঠাল ও বাশ বনের ঝাড় ।
অনেকে পিছনে সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা বাংলার মাঠ । আর সম্মুখ দিয়েই প্রবাহিত পূতঃ পবিত্র কুমার নদী অর্থাৎ চির কৈমার্যব্রত নামধারী নদীটি । পাশে শশ্বান ঘাট ছোট বেলায় দেখেছি মরালাশ পোড়ানো দৃশ্য আর চভয়ে আড়ষ্ট হয়ে মায়ের কোলে লুকিয়েছি অনেকবার । বাড়ীর নিকটেই প্রাইমারী স্কুল আর পাশাপাশি এ্কটি বাজারও আছে । সেই স্কুলেই প্রথম পাঠ শুরু আর পাশের বাজারের বালি মিশ্রিত টক মিষ্টি লজেন্সও খেয়েছি অনে ।
বাড়ীর উপরেই মসজিদ আবার একটু দূরেই কালি মন্দির । ঈদে যমন আমাদের অর্থাৎ মুসলমানদের আনন্দের ঘটা,পুজো পার্বনেও ঠিক তেমন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের আনন্দ উৎসব ।
বাড়তি আনন্দ ছিলো মেলা । কত রকম হাতি,ঘোড়া ,বানর ,কুকুর,বিড়াল,পুতুল সবই মাটি কাঠ আর কাগজের তৈরী । থাকতো নাগর দোলা,বাচ্চাদের জন্য কিনা আনন্দের উৎসব । আবার রাতে থাকতো বড়দের জন্য যাত্রা অনুষ্ঠান কৃষ্ণ যাত্রা ,গুনাই ,ভাষাণ ,সীতার বনবাস ইত্যাদি । বড়দের মুখে শুনতাম । মাঝে মধ্যে ইচ্ছে হতো যাত্রা দেখার অথচ আমার আম্মা অত্যাধিক কড়া ছিলেন আজো মনে আছে মাঝে মধ্যে রাতে আমার ঘরে বাহির হতে তালা লাগিয়ে রাখতেন । অবশ্য জীবনে সামান্যতম যতটুকু প্রতিষ্ঠা পেয়েছি তা মায়ের সেই কড়া শাসন এর বদৌলতেই । পাঠকবৃন্দ একদিন কিন্তু কয়েকজন সহপাঠির সাথে মিলে বাড়ী হতে আধা মাইল দূরে যাত্রা দেখতে গিয়েছিলাম অবশ্য পালিয়ে ।
কনকনে মাঘ মাসের শীতের রাত গায়ে ছোয়েটার,চাদর আর গলায় মাফলার জড়িয়ে । বড় একদোতলা বাড়ীর চত্ত্বরে উপরে সামিয়ানা চারিপাশে ঘেরাও দেওয়া বাশ । তার সাথে বাধা মোটা কাপড় দিয়ে । লোকে লোকারণ্য । আমরাও সামিল হয়ে গেলাম । বড় ষ্টেজে রাধা কলসী কাখে অশ্রু সজল নয়নে গাইছে-**
"ওগো অন্তর্যামী তুমি হরি,
জানিতেছো তুমি সবই ।
আমার ভক্তির পথে বাধা দিতে
আছে পাপ ননদী" ।
আজো দিব্যি মনে আছে । যা ভালো লেগেছিলো আজো স্মৃতিপটে অম্লান হয়ে আছে । পরে জেনেছিলাম যে আমাদের স্কুলেরই হাসান নামে এক ছাত্রই মেয়ে সেজে রাধার অভিনয় করছে অবাকই হয়েছিলাম বটে ।
আমি তখন ক্লাস নাইনের ছাত্র । উঠতি বয়সে,পুলকিত মন আর কৌতুহলী দৃষ্টি ভালো লাগারই কথা । বাড়ী ফিরে এলাম রাত তখন হবে দূইটা বা তিনটা । আমাদের দরজায় দেখলাম তালা ঝুলছে । বাকী রাত ঘরের পেছনে ছোট্ট একটা ফুলের বাগানে বসেই সে রাত কেটেছিলো । সাহস হয়নি বাবা মাকে দরজা খোলার জন্য ডাকতে । পাঠকবৃন্দ ত্রিশ বৎসর পর আজকের আমি হয়ত দরজা না ভাঙ্গলেও তালার অস্থিত্ব থাকতো কিনা সন্দেহ । কারণ এখন রকেটের যুগতো বোধ করি তাই সেই আমারই এই মন্তব্য । পরদিন সকালে দুকর্ণ ধরে মায়ের সামনে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম । সত্যি বলছি আর কোনদিন রাত্রা দেখেছি কিনা মনে পড়ে না ।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now