বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

দেয়ালে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে 5

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান নাসরুল্লাহ (০ পয়েন্ট)

X মধুমিতা মেসের সামনে ভীড়টা চোখে পরার মতো । মূল রাস্তায় দু’টো পুলিশের গাড়ী দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলাম । অনেকক্ষন হাঁটার ফলে প্রচন্ড ক্লান্তি অনুভব করছি । মনে হচ্ছে গোসল করতে পারলে ফ্রেস লাগত । কিন্তু এতো রাতে মেসের সামনে এতো লোকজন কি করছে বুঝতে পারলাম না । কৌতুহল নিয়ে মেসের ভেতরে ঢোকার জন্য পা বাড়াতেই গেটের কাছে একজন এসআই আমার পথ রোধ করে দাঁড়াল । আমাকে আপাত মস্তক এক নজর দেখে নিয়ে প্রশ্ন করল, “কে আপনি ?” জ্বি, আমার নাম রন্জু । এখানেই থাকি । এতো রাতে কোথা থেকে এলেন ? জ্বি কাজ ছিল একটা । কি কাজ ? এফডিসিতে একজনের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম । করেন কি ? লেখালেখি করি ? গল্প, উপন্যাস , চিত্রনাট্য লিখি । ও বই লিখেন ? লোকটা কি বুঝে প্রশ্ন করল বুঝলাম না, মাথা নেড়ে বললাম, হ্যা । তা, কতো দিন ধরে এখানে আছেন ? বছর তিনেক হলো । কাউন্টারের কাছে ম্যানেজার বদরুলকে দেখলাম, দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কাঁদছে । এতো বড় একজন মানুষের কান্না দেখতে ভাল লাগেনা । তার উপরে বদরুলকে তো আরো না । আমাকে দেখে বদরুল রন্জু ভাই বলে ছুটে এসে জরিয়ে ধরল । বদরুল লোকটাকে আমার বিশেষ পছন্দ না । আমি পারত পক্ষে ওর সঙ্গে কথা বলি না । বদরুলও আমাকে সব সময় এড়িয়ে চলে । সেই বদরুলের এভাবে আমাকে জড়িয়ে ধরায় আমি অবাক না হয়ে পারলাম না । মানুষের আবেক কে কখনও উপেক্ষা করতে নেই । হোক না সে যেমনই মানুষ । কিন্তু বদরুলের ব্যাপারটা ভিন্ন । আমি বদরুলকে ছাড়িয়ে দিতে দিতে নরম অথচ শক্তভাবে প্রশ্ন করলাম;“কি হয়েছে বদরুল ? ” সদু ভাই ; বলে বদরুল আবারও কাঁদতে লাগল । আমার কাছে মনে হলো বদরুল অভিনয় করছে । আমি দাঁতে দাঁত চেপে জিজ্ঞাসা করলাম, সদু ভাই কি ? সদু ভাই আর নেই । নেই মানে কি? কোথায় গেছেন ? ভনিতা না করে আসল কথা বলো । আমি আস্থির হয়ে উঠলাম । সদু ভাই, সদু ভাই আত্মহত্যা করেছেন । বলে বদরুল ছেলে মানুষের মতো কাঁদতে লাগলো। এবার আর ওর কান্নাটাকে অভিনয় বলে মনে হলো না । আমি প্রায় চিৎকার করে বলে উঠলাম, “কোথায়, কেন ?” উপড়ে বলে, বদরুল আঙুল দিয়ে দোতালাটা দেখিয়ে দিল। দোতালার শেষ মাথায় সদু ভাইয়ের একটা রুম আছে । সদু সেটাকে অফিস হিসাবেই ব্যবহার করেন । পাশে একটা বিছানা পাতা আছে মাঝে মাঝে রাতে থেকে গেলে সেটাতে সদু ভাই ঘুমান । আমি এসআইয়ের দিকে উপড়ে যাবার অনুমতি পাবার দৃস্টিতে তাকালাম । এসআই আমার কাঁধে হাত রেখে বললেন, যান। তবে কিছু স্পর্শ করবেন না । এটা মার্ডার কেসও হতে পারে। ঠিক আছে, বলে দ্রুত উপড়ে উঠে এলাম । বারান্দায় চেনা অচেনা অনেক মানুষ । কয়েকজন পুলিশ ও রয়েছে । আমার রুমটা মাঝামাঝি । আমার রুমের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় দেখলাম তালা দেয়া । যারা আমাকে চেনে তারা আমাকে দেখে সরে গিয়ে ভেতরে যারার রাস্তা করে দিল । সদু ভাইয়ের রুমে ঢুকতেই আমি ভয়ন্কর রকমের ভয় পেয়ে গেলাম, ফ্যানের সঙ্গে বিশ্রী ভাবে সদু ভাইয়ের দেহটা ঝুলছে । জ্বিবটা মুখ থেকে বের হয়ে আছে । চোখ দু’টো খোলা । বিশাল দুটো হাত দুপাশে ছড়ান । পুরো শরীরে কোন কাপড় নেই । আমি প্রচন্ড ভয় পেয়ে গেলাম । হঠাৎ টের পেলাম আমার মাথা ঘুরছে। আমি কোন রকম বারান্দায় এসে দাঁড়ালাম। থানা থেকে ওসি সাহেব আসার পর সুরতহাল রিপোট তৈরি করে পোস্টমটেমের জন্য লাশ নামিয়ে নিয়ে যাওয়া হলো । পুলিশ মেসের বোর্ডারদের থানাতে না জানিয়ে কোথাও না যাবার নির্দেশ দিয়ে চলে গেল । ঘড়িতে তখন সাড়ে তিনটা বাজে। ইতিমধ্যে আমি একটু ধাতস্ত হতে পেরেছি । সদু ভাই নেই । কথাটা ভাবতেই বুকের ভেতটা কেমন জানি করে উঠছে। বারবার সদু ভাইয়েই মুখটা চোখের সামনে ভেসে উঠছে । রুমে ঢুকে দেখি টেবিলের উপড় আমার খাবার ঢেকে রাখা । তারমানে হচ্ছে – সদু ভাইয়ের কাছ থেকে চাবি নিয়ে আমার খাবারটা রুমে দিয়ে গেছে । আহা: সদু ভাই, আমি হঠাৎ কান্নায় ভেঙ্গে পরলাম । বুক চেপে ধরে খাটের উপড় বসে পরলাম। হঠাৎ এফডিসির বাইরে দেখা লোকটার কথাটা কানে ভাসতে লাগল, তোর তো আপন কেউ নেই , তাই হারাবারও কিছু নেই । তুই তাহলে রাজি ? তুই তাহলে রাজি ? আমার মনে হলো সদু ভাই আমার আত্মীয় না হয়েও অনেক বেশি আপন ছিল । অনেক, অনেক বেশি ।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১২০৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ দেয়ালে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে 4
→ দেয়ালে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে 3
→ দেয়ালে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে 2
→ দেয়ালে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে 1

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now