বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
খুব দ্রুত জামাটা গায় দিয়ে আমি তৈরি হয়ে নিলাম । দেয়ালে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি প্রায় সাড়ে ন’টা বাজে । দেরি হয়ে গেছে ।
ইদানিং কোন কাজই সময় মতো করতে পারছিনা। সব কাজে কোন না কোন কারণে দেরি হয়ে যায় । বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ সব কাজগুলো । সাড়ে দশটার মধ্যে এফডিসিতে পৌছতে হবে । অনেক ধরাধরির পর বিখ্যাত পরিচালক এহতে সামস্ সময় দিয়েছেন, তাও আবার পাঁচ মিনিট । মানুষের সময়ের মূল্য যে কতো, তা এ সব বিখ্যাত মানুষগুলোকে না দেখলে বোঝা যায় না। এই পাঁচ মিনিট সময়ের মধ্যে তাকে পুরো চিত্র নাট্যটি বোঝাতে হবে । যদি তার পছন্দ হয়, তা হলে তিনি তার পরবর্তি ছবির জন্য আমার লেখাটি নেবেন ।
এটাই কোন পরিচালকের সঙ্গে আমার চিত্রনাট্য নিয়ে প্রথম সাক্ষাত নয় । এর আগেও অসংখ্য বার অসংখ্য পরিচালক আমার চিত্রনাট্য দেখেছেন । এবং প্রতিবারই আমি প্রত্যাক্ষিত হয়ে যন্ত্রনার শেষ সীমায় পৌছে পার মাতাল হয়ে মেসে ফিরেছি । বাংলা সিনামায় চাকবুম চাকবুম বিষয় না থাকলে ঠিক জমে না । অথচ আমি সেই চাকবুম চাকবুম জিনিষটাকে আমার চিত্রনাট্য থেকে পুরোপুরি বাদ দিয়ে দিয়েছি । চিত্রনাট্য নেড়ে চেড়ে সিগারেটের পেছনে দম দিতে দিতে এক এক জন বলছেন, “মিয়া নাচ-গান নাই এইটা কোন সিনামা হইলো ? নাচে গানে ভরপুর কিছু নিয়া আস, পার্বলিক নায়িকার উত্তাল নাচ দেখতে চায় ।
নায়িকারে বৃস্টিতে ভিজাও পানিতে চুবাও , প্রয়োজনে বন জঙ্গলে নিয়া হাটুর উপড়ে সাপের কামড় খাওয়াও তা হইলেই না সিনামা হিট হইবো ”। আমি নায়িকারে বৃস্টিতেও ভিজাতে পারছিনা আবার পানিতেও চুবাতে পারছি না । না পারছি হাটুর উপড় সাপের কামড় খাওয়াইতে । তাই কোন পরিচালক আমার চিত্রনাট্য গিলছে না । কাজেই প্রত্যাক্ষিত হয়ে মাতাল হয়ে পরিচালকদের চৌদ্দগোস্টিকে গালিগালাজ করে মেসে ফেরা ছাড়া আমার কোন উপায় নাই ।
মধুমিতা মেসের মালিক সদু ভাই আমাকে বিশেষ ভালবাসেন বিধায় ঐ অবস্থায় আমি মেসে ফিরতে পারি । তা না হলে যে কি হতো কে জানে । তা ছাড়া এ জগতের মানুষের এ অভ্যাসটাকে লোকে অনেকটা মেনে নিয়েছে ।
আজও হয়তো ভাংঙ্গা মন নিয়ে মাতাল হয়ে আমাকে গভীর রাত্রিরে মেসে ফিরতে হবে । যতোটা উৎসাহ নিয়ে যাচ্ছি; হয়তো তার চাইতেই ঢের বেশি মনকষ্ট নিয়ে ফিরে আসবো । তাই বলে হাল ছেড়ে দেবার পাত্র আমি নই । একবার না পারিলে দেখ শতবার নীতিতে বিশ্বাস রেখে এগিয়ে চলেছি ।
টেবিলের উপরে রাখা ব্যাগটা আরেকবার পরীক্ষা করে নিলাম । লেখাটি ঠিক মতো আছে কিনা । গত রাতে পুরো চিত্রনাট্যটি বেশ কয়েকটি জায়গায় কাটাছেড়া করেছি। পরে ফ্রেশ করে নেওয়া যাবে । এখন সময় নেই । আলমারি খুলে এ মাসের বেতনের শেষ পাঁচশ টাকার নোটটা বের করে মানিব্যাগে নিলাম। মাসের বাকি এখন ও দশ দিন । বাকি দিনগুলো কিভাবে কাটবে কে জানে ।
দরজায় তালা দিয়ে । সিড়ি দিয়ে নীচে নামতেই কাউন্টারের সামনে দেখি সদু ভাই দাঁড়িয়ে কয়েক জনের সঙ্গে কথা বলছেন । খুব সম্ভব এরা মেসের বাবুচি হবে । আমাকে সিঁড়ি দিয়ে তারাহুরো করে নামতে দেখে সদু ভাই আমার দিকে একবার তাকিয়ে-কাউন্টারের উপড় রাখা পিক দানিতে পানের পিক ফেলে বললেন, “কি রাইটার সাব , আবারও মনে হয় যাইতাছ ?” আমি একটু থেমে মাথা নেড়ে বললাম , জি সদু ভাই, দোয়া করবেন ?
“তা এইবার কারে দেখাইবা ?”
“এহতে সামস্ ।” আমি ছোট্র করে নামটা বললাম ।
ক ও কি মিঞা ? ঐ ব্যাটা তো হুনছি হিটের পর হিট । ঠিক লোকরেই ধরছো মনে হয় । তোমার দিয়া হইবোই হইবো এইডা আমি কইয়া দিলাম । সদু ভাই এগিয়ে এসে আমার কাঁধে চাপর দিলেন । সঙ্গে সঙ্গে জর্দ্দার কড়া গন্ধ নাক এসে নাকে লাগল । আমি চলে যাবার ভঙি করে, “বললাম, “দোয়া করবেন সদু ভাই ।”
দোয়া তো করমুই, এইডাই তো এখন আমাগো বাংলাদেশে একমাত্র ফ্রি জিনিষ । তা কুনহানে দেহা করবা ওনার লগে ? যাইবা কই ?
এফডিসিতে ?
কও কি ?
জ্বি, ওনার একটা সুটিং আছে. ফাঁকে আমার সঙ্গে কথা বলবেন ।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now