বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অনু আমার ছাত্রী

"মজার অভিজ্ঞতা" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X অনু আমার ছাত্রী, বয়স ৬ বছর। ওই আমার একমাত্র এবং প্রথম ছাত্রী। আমি নিজেও একজন ছাত্র টিউশনী করার কোন ইচ্ছে কোন কালেই আমার ছিল না। কারন বন্ধুদের কাছে শোনে আসছি ব্যাপারটা নাকি খুবই বরিং। সেদিন বিকালে সংসদ ভবনের সামনে বেড়াতে গেলাম। হাটার সময় কিউট একটা বাচ্চাকে চোখে পরল, সে তার বাবার হাত ধরে হাটছিল। পিচ্ছিটা এত কিউট ছিল যে আমি আমার হাতকে ওকে আদর করা থেকে বিরত রাখতে পারিনি। আমি আমার হাত দিয়ে আস্তে করে ওর গালে আদর করে দিলাম। কিন্তু ওর গালে ধরার পর ও আমাকে প্রশ্ন করল... তুমি আমার গালে ধরেছ কেন? আমি প্রশ্ন শোনেই থ... বললাম বাবু তোমাকে আদর করার জন্য। বাবা বাবা আমি নাকি বাবু? আমিতো বাবু না। তাহলে তুমি কে? আমি অনু। তা অনু তুমি কেমন আছ? তুমি আমার কি হও? আমি তোমার বন্ধু হই। তাহলে আমি কি তোমাকে বন্ধু বলে ডাকব? হুম পিচ্চি বন্ধু, আমরা দুজন বন্ধু। সেদিন অনুর বাবার সাথে এক কথা দুই কথা বলতে বলতে আঙ্কেল আমার কাছে জানতে চায় আমি কি করছি? আমি ছাত্র বলার পর, যেহেতু অনু আমাকে পছন্দ করেছে তাই উনি আমাকে তনুর হোম টিউটর হওয়ার জন্য অনুরোধ করলেন। আমিও পিচ্চিটাকে ভাল লেগেছিল বলে সেদিন মানা করিনি। ওকে পড়ানোর জন্য রাজি হয়ে যাই। # অনুর প্রতি কেমন জানি একটা মায়া বসে গেছে। মেয়েটা যখন আমাকে বন্ধু বলে ডাকে আমি কোথায় যেন হারিয়ে যাই, আমি ভিতর থেকে ফিল করি ও আমার আপন কেউ, মনে হয় ও আমার মায়ের পেটের বোন। ওর সাথে আমার সময়টা ভালই কাটে। যদিও ওকে পড়ানোর কথা সপ্তাহে ৪ দিন কিন্তু আমি প্রতিদিনই যেতাম কারন ওকে একটা নজর না দেখলে আমার ভাল লাগত না। # অনু এখন ক্লাস সিক্সে পড়ে, আর এদিকে আমারও পড়াশোনা শেষ। ঢাকা থেকে এখন বিদায় নিতে হবে। অনুদের বাসায় কথাটা আঙ্কেল আন্টিকে জানালাম, আমার তো পড়াশোনা শেষ তাই ভাবছি ঢাকা ছেড়ে চলে যাব। কথাটা অনুও শোন কিন্তু তার কিছুক্ষন পর অনুকে খোজে পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক খোজাখুজির পর অনুকে খুজে পেলাম বাথরুমে ও কান্না করছে বিষণ কান্না। আমি ওর কাছে যাওয়ার পর ও আমার গলা জড়িয়ে ধরে কান্না শুরু করে, আমি আমার কান্না ধরে রাখতে পারি না। সিদ্ধান্ত নিলাম থেকে যাওয়ার। # সেদিন আমি পারিনি অনুকে ছেড়ে চলে আসতে, অনুর কান্না আমাকে আকড়ে ধরেছিল। আমি ঢাকা থেকে যাই, অনুর বাবা একটা জব ম্যানেজ করে দেয়, পাশাপাশি অনুকে পড়াই। অনু যখন ক্লাস এইটে তখন অনিক নামে একটা ছেলের প্রেমে পড়ে। অনু সব ব্যাপার আমার সাথে শেয়ার করলেও এই একটা ব্যাপার লুকিয়ে ছিল। কেউ জানত না অনুর আর অনিকের ঘটনা। ছেলেটা ছিল অনুদের বাসার দুই বাসার পরের বাসার। হঠাৎ একদিন সকাল গড়িয়ে বিকেল হয়ে যায় কিন্তু অনু স্কুল থেকে বাসায় ফিরেনা। আন্টি আমাকে ফোন করে জরুরি তাদের বাসায় যেতে বলে। গিয়ে সব কিছু জেনে অনুকে খোজার জন্য বেরিয়ে পরি কিন্তু কোথাও পাইনি। দুই দিন পর অনু আমাকে ফোন করে বলল, বন্ধু আমাকে বাঁচাও, আমি কোথায় বন্দি আছি আমি জানিনা। অনিক নামের একটা ছেলে আমার সাথে প্রমের অভিনয় করে আমাকে তুলে নিয়ে এসেছে। অনিক আমার উপর অনেক নির্যাতন করছে। আমি লুকিয়ে তোমাকে ফোন করেছি। বন্ধু আমি ভুল করেছি আমাকে বাচাঁ... বাচাঁও কথাটা বলার আগেই কেউ একজন ওর কাছ থেকে ফোনটা কেড়ে নেয়। যদিও পুরা ব্যাপারটা আমরা পরে জেনেছি, আর দুই বাসা পরে অনিক নামেও কেউ ছিল না। শুরু হয় অনুকে খোজার পালা, মোবাইল ট্রেকিং করে ১২ দিন পর আমরা সেই জায়গায় ঠিকই গিয়েছিলাম, অনু কেউ পেয়েছিলাম কিন্তু সে কাউকেই চিনতে পারে নি। ইভেন যেই আমি পিচ্চি বন্ধু বলে ডাক দিলে দৌড়ে এসে গলায় জড়িয়ে ধরত সেই আমাকে দেখে সে চিৎকার করে উঠে। আমি পিচ্চি বন্ধু বলে ডাকার পরও কোন সাড়া দেয় না। পরে ডাক্তার জানায় অনু মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছে। অনুকে পাবনা রেখে এসেছি, অনুকে রেখে আসার সময় আজ সে আমার গলা জড়িয়ে ধরে কান্না করেনি, আজ বলেনি ভাইয়া আমাকে রেখে যেওনা। আজ অনু আমাকে বলেনি ভাইয়া তুমি চলে গেলে আমি আর পড়াশোনা করব না। জানিনা অনু আবার আমাদের মাঝে ফিরে আসবে কিনা। আবারও মায়ের বকুনি খেয়ে আমার পিছনে মুখ লুকাবে কিনা। আমি জানিনা ও আর কখনও আমাকে ভাইয়া বলে ডাকবে কিনা? ( অসমাপ্ত) লিখা: মেহেদী হাসান


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৫ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now