বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

স্যার আমাকে ক্লাশে

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X স্যার আমাকে ক্লাশে সবার সামনে কান ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে বললেন। অপরাধ, ঠিকঠাক মত কোনদিনই প্রেজেন্ট দিতে পারিনা। স্যারের কথামত যেমনি কানে হাত তুললাম পেছন থেকে ফিক করে হেসে উঠল কেউ একজন। স্যার ওকেও দাঁড় করিয়ে বলল "এই মেয়ে তুমিও কান ধরে দাঁড়িয়ে থাক"। আচমকা মেয়েটা হাসি বন্ধ করে দিয়ে কান ধরে দাঁড়াল। "হাসছিলে কেন"? অনেকটা রাগান্বিত কন্ঠেই স্যার মেয়েটাকে জিজ্ঞেস করল। মেয়েটা কিছুই না বলে মাথা নিচু করে কান দুটি ধরে দাঁড়িয়ে থাকল। মনে হল কিছুক্ষনের জন্য মেয়েটা তার বোধশক্তি হারিয়ে ফেলেছিল। এবার আমার দিকে মেয়েটা আর মেয়েটার দিকে আমি তাকিয়ে আছি। দুজনেরই কানে হাত ধরা। সেইতো পরিচয় তমালিকার সাথে। তখন সবেমাত্র ক্লাশ ফাইভে পড়ি। অপমানবোধটা সেভাবে জন্মায়নি তখনো। লাজুক মেয়েটার লাজুকতার মাঝে প্রচন্ডরকম মায়া ছিল। হাতে সুন্দর করে মেহেদি পরতো। নখগুলো ছিল নেলপালিশে ঢাকা। প্রচন্ডরকম টান ছিল ওর চোখ দুটোর মাঝে। যেন আমাকে বারবার কাছে ডাকতো হরিনী চোখের ওই দৃষ্টি। যেন কিছু বলতে চাইছে। কিন্তু কোন অদৃশ্য শক্তি তার চাওয়াটাকে আটকে দিচ্ছে। খুব বেশি সময় লাগেনি। অল্প কয়দিনের মধ্যেই আমরা ভালো বন্ধু হয়ে গেলাম। তমালিকা সবসময় আমাকে বুঝতো। আমার নীরবতার কারন খুঁজতো। মন খারাপ থাকলে কতইনা বাহানা করে মন ভালো করে দিত! ভালোবাসার পূর্ন আচ্ছাদনে মেয়েটাকে ঢেকে দিতে ইচ্ছে হতো। কখনো পারিনি সে সাহসিকতা প্রদর্শন করতে। বলতে "তমালিকা আমরা কি পারিনা দুজন দুজনকে ভালোবাসতে?" প্রাইমারী থেকে হাইস্কুল তারপর কলেজ, তমালিকা আর আমি একই সাথে হাতে হাত মিলিয়ে পার করতে চললাম। কিন্তু আমার সাহসিকতার পোঁকাটা আগের জায়গাতেই রয়ে গেল। একচুল পরিমানও নড়লো না। তবে সাহসটা আমাকে করতে হল না। আমাকে অবাক করে দিয়ে তমালিকা একদিন ছোট্ট একটা চিরকুট আমার হাতে ধরিয়ে দিল আর হাসতে হাসতে দৌড়ে চলে গেল! আমি ঠিক বুঝে উঠতে পারিনি তখন চিরকুটটা কিসের। আস্তে করে খুলে দেখলাম সুন্দর করে লেখা "এই চলনা আমরা তুইটাকে তুমি করে ফেলি"। নিচে গাঢ় করে লেখা "আই লাভ ইউ!" আমি পেয়ে গেছি আমার জীবনের বড় পাওনাটা। রবীন্দ্রনাথের ভাষায় বলতে ইচ্ছে হলো "পাইলাম, আমি ইহাকে পাইলাম"। মনে আছে সেদিন সারাক্ষন হেসেছিলাম। দোস্ত অরুন,নিলয়,রবি ও অংকনকে পেট ভরিয়ে খাইয়েছিলাম। সেইতো সূচনা আমার আর তমালিকার ভালোবাসাময় পথ চলার। স্বপ্নের মতই কেটে গেল কলেজ লাইফটা। কতশত স্মৃতির বেড়াজাল ভেঙ্গে উচ্চশিক্ষার জন্য পাড়ি জমালাম শহরে। তমালিকা রয়ে গেল গ্রামেই। সেই শহরে আসার সময় তমালিকাকে দেখাটাই যে হবে শেষ দেখা আমি বুঝিনি। নামকরা ভার্সিটিতে ভর্তি হলাম। ভালই যাচ্ছিল দিনকাল। কিন্তু এর পেছনে যে অন্ধকারময় সময় অপেক্ষা করছিল তা আমি ভাবতেও পারিনি। হঠাৎ একদিন দেশে ফিরে শুনলাম তমালিকার বিয়ে হয়ে গেছে। কথাটা তখন আমার বুকে যেন ছুড়ির মত বিধে গিয়েছিল। গ্রামের দরিদ্র পরিবারের কাছে একটা মেয়ের বিয়ে দিতে পারাটা যেন গলা থেকে ফাঁসির দড়ি সরানো। সেদিন মনে আছে, আমি বাচ্চাদের মতই কেঁদে ফেলেছিলাম। জীবন সংগ্রামে টিকে থাকার জন্য দূরে পাড়ি জমিয়ে হারিয়েছি আমার ভালোবাসাকে। রাগ করে চলে এলাম জীবনের খোঁজেই। সেই তমালিকা,সেই শীতল স্পর্শ, সেই মন ভালো করা মানুষটাকে তখনো পারিনি মন থেকে মুছে ফেলতে। ডায়েরির কোন পাতায় লিখেছিলাম "দুই সন্তানের মা হলেও তমালিকা আমার জীবনে ফিরে আসলে আমি তাকে ঠিক আগের মতই ভালোবাসবো"। ছয় বছর পর... গ্যাজুয়েশান কমপ্লিট করে ভালো একটা চাকরিতে জয়েন করলাম বছরখানেক হলো। বাসা থেকে বিয়ে করার জন্য চাপ দিচ্ছে।সিদ্ধান্ত নিলাম বিয়েটা করেই ফেলবো। কিন্তু মনের মত কোন মেয়েকে খুঁজে পাচ্ছিলাম না। কারন সকল মেয়েদের মধ্যেই আমি তমালিকাকে খুঁজে বেড়াতাম। কিন্তু পেতাম না। অফিস থেকে বস আমাকে গাড়ি দিয়েছেন যাতায়াতের জন্য। একদিন অফিস শেষে দুপুরে বাসায় ফিরছিলাম। হঠাৎ গাড়ির সামনে বছর পাঁচেক একটা বাচ্চা মেয়ে হাত নাঁড়ছিল। ওকে দেখে প্রচন্ড মায়া হয়েছিল। গাড়ি থামিয়ে নেমে বললাম, "কিছু বলবে"? মেয়েটা মাথা নাঁড়াতে নাঁড়াতে হাতে থাকা ল্যামিনেটিং করা এক টুকরো কাগজ আমার হাতে তুলে দিল। লিখা, "আমি কথা বলতে পারিনা।আমার আম্মু ছাড়া দুনিয়াতে কেউ নেই। বাবা গাড়ি এক্সিডেন্টে মারা যান। আমাকে সাহায্য করুন"।লেখাটা পড়তেই আমার চোখ দুটো ভিজে গেল। কেন যেন মনে হলো হাতের লেখাগুলো বেশ পরিচিত। কিন্তু ঠিক মনে করতে পারছিলাম না। পকেট থেকে মানি ব্যাগটা বের করে টাকা তুলে দেব মেয়েটার হাতে, ঠিক তখনই পেছন থেকে মেয়েটার মা ডেকে উঠল "তনিকা, মা এদিকে এসো"। আমি ঘাঁড় ফিরিয়ে পেছনে তাকিয়ে ঘাঁড়টা সোজা করতেই ভুলে গিয়েছিলাম যেন! মেয়েটির মা আর কেউ ছিল না, ছিল আমার সেই ভালোবাসার মানুষ "তমালিকা"। তমালিকাও আমাকে হঠাৎ দেখে চমকে উঠল। তবে কিছু বুঝে উঠার আগেই সে তার মেয়েকে নিয়ে জায়গা ছেড়ে চলে গেল। আমি ডাকতে গিয়েও কেন জানি তখন ডাকতে পারছিলাম না। বাসায় ফিরে পুরনো ডায়েরিটা বের করলাম। ধূলোমাখা ডায়েরিটা খুলে দেখতে লাগলাম। হাজারো স্মৃতিকথন তমালিকাকে ঘিরে। সেগুলো পড়ে মনে হলো খানিক্ষনের জন্য চলে গেলাম আমার আর তমালিকার সেই পূরনোজ স্মৃতির মোহনায়। আমি আজ মস্ত বড় অফিসার।তমালিকা এক সন্তানের জননী। কিন্তু সে বিধবা। সবই বদলে গেছে। কেন যেন বদলায়নি তমালিকার প্রতি আমার ভালোবাসা। ডায়েরিটা বুকের মাঝে জড়িয়ে বাবার রুমের দিকে রওয়ানা হলাম। আজ আমি নিজেই বাবাকে বলবো, "বাবা আমি বিয়ে করবো"। ""যে ভালবাসার মায়াজাল আমাকে এতটা বছর ধরে বেঁধে রেখেছিল, সেই মায়াজাল আমি এত সহজে ছিঁড়ে ফেলি কি করে""??? [] Shêkhør Môzûmdér []


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৮ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now