বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
-জানিস, নিলয় আমাকে আজ অনেক বার ফোন দিছে কিন্তু আমি রিসিভ করিনি এখন তুই বল আমি ওর সাথে কথা বলবো কিনা??
-জানিনা আমার ভাল লাগতেছে না, রাখলাম ফোন
-প্লিজ বল না, সত্যি আমি বোধ হয় নিলয়কে ভুলতে পারব না রে
-সেটা আমাকে বলতেছিস কেন?? ফোন রাখলাম আমি
.
বন্যা কে আর কথা না বলার সুযোগ দিয়ে ফোনটা কেটে দিলাম। আমি বন্যাকে খুব ভালবাসি। আর যাকে ভালবাসি সে যদি বলে আমি আরেকটা ছেলের সাথে প্রেম করব তাহলে নিজেকে কিভাবে ঠিক রাখব সেটা বুঝতেছিলাম না। কিন্তু করার তো কিছু নেই আর আমি বন্যাকে বলিও নি যে আমি তাকে ভালবাসি।
.
বন্যার সাথে আমার পরিচয় হয় ফেসবুকে। একদিন ফেসবুক চালাচ্ছি এমন সময় মেসেজ এল-
-হাই
-হাই
-কেমন আছেন??
-কিন্তু আপনাকে চিনতে পারলাম না
-আমি বন্যা
-হ্যা, তা নাম দেখেই বোঝা যাচ্ছে। কিন্তু আমাকে মেসেজ দেওয়ার কারন??
-আপনার বন্ধু হতে চাই তাই মেসেজ দিলাম। আমাকে বন্ধু হওয়ার সুযোগ দিবেন তো???
.
কেউ বন্ধু হতে চাইলে না করা যায় নাকি তারউপর যদি সে একটা মেয়ে হয়। তাই আর কোনকিছু না ভেবেই হ্যা বলে দিলাম । তারপর থেকে শুরু হলো কথা বলা । প্রতেক দিন ১১ টার পর বন্যা ফেসবুকে আসত আর তখনই আমার আর তার মাজে কথা হত । একসময় আমরা বেষ্ট ফ্রেন্ড হয়ে গেলাম। আমার সব কথা বন্যার কাছে শেয়ার করতাম বন্যার সব কথা আমার কাছে শেয়ার করত । একদিন বন্যার কাছে জানতে চাইলাম
-বন্যা তুই কারও সাথে প্রেম করিস না?
-না আমি প্রেমে বিশ্বাস করিনা
-সত্যি তুই কারও সাথে প্রেম করিস না??
-আমি একটা ছেলেকে ভালবাসতাম কিন্তু সে আমাকে ছেরে চলে গেছে। আমি এখন তার কথা মনে করতে চাইনা
-ও সেই জন্যে বলতেছিস প্রেমে বিশ্বাস করি না??
-হ্যা আমি তাকে খুব ভালবেসেছিলাম কিন্তু.....
.
সেদিন জানতে পারি বন্যা নিলয় নামে একটা ছেলেকে খুব ভালবাসত কিন্তু তাদের মাঝে কি একটা হয় তারপর ব্রেক আপ হয়ে যায়।
বন্যার কষ্ট দেখে আমারই জেন কেমন লাগতে শুরু করল। চিন্তা করলাম আমি কি পারিনা বন্যার এই কষ্ট গুলো দুর করতে? সেদিন অনেক ভাবলাম কিন্তু সমধান খুজে পেলাম না।কিছুদিন হয়েছে মাত্র বন্ধুত্ত্বর এর মাজেই অনেক ঘনিষ্ট হয়ে গেছি আমরা । একদিন কথা না হলে পরের দিন অভিমান কাটাতেই অনেক সময় চলে যেত । এভাবে আমাদের বন্ধুত্ত্ব চলতে থাকে । এর মাঝে আমি বন্যাকে ভালবেসে ফেলি কিন্তু বলব কিভাবে সেটা খুজে পাচ্ছিলাম না। সবসময় ভাবতাম যদি আমাদের বন্ধুত্ত্ব নষ্ট করে দেয় তাই আর প্রপোজ করতেও সাহস পাচ্ছিলামনা কিন্তু আমাদের মাঝে বন্ধুত্ত্বের চেয়ে একটু বোধ হয় বেশিই ছিল। ফোনে কথা হতো অনেকক্ষন করে তারপর সারাক্ষন মেসেজিং হতো। আমি ভেবে নিলাম মেয়েরা তো নিজের ভালবাসার কথা মুখ ফুটে বলতে পারে না তাই বোধ হয় বন্যা আমাকে তার ভালবাসার কথা বলছে না। কিন্তু তারপরও বলতে সাহস পাচ্ছিলাম না কারন বন্যাই ছিল আমার জীবনে প্রথম মেয়ে। তার আগে আমি কোন মেয়ের সাথে তেমন মিশি নি।মেয়ে দেখলে দুরে দুরে থাকতাম। তার মুল কারন ছিল মেয়েদের সামনে গেলে আর কথা বলতে পারি না কথা আটকে যায়। তাই আমি বন্যাকে হারাতে চাই না। কিন্তু কতদিন আর নিজের মনের কথা গোপন রাখা যায়। একদিন অনেক বোর একটা মেসেজ দিলাম ফোনে বলার সাহস হচ্ছিল না তাই মেসেজ এ জানালাম আমি তাকে ভালবাসি। কিন্তু একি আমার ধারনা সম্পূর্ণ ভুল। বন্যা আমার ভালবাসা গ্রহন করল না। কিন্তু সে বন্ধুত্ত টা ঠিক রাখছে। আমি ভাবলাম বন্যা এর আগে একটা ছেলেকে ভালবেসে কষ্ট পাইছে তাই আমার ভালবাসা গ্রহন করল না কিন্তু বন্যা আমাকে ভালবাসে বলেই ফ্রেন্ডসিপটা টিকিয়ে রাখছে। সেদিন সারাদিন আর ফোন খুললাম না বন্ধ করে শুয়ে ছিলাম।তারপরের দিন থেকেই আমাদের মাঝে আবার আগের মত চলতে থাকল। আমাদের বাড়ি থেকে অনেক দুরে ছিল বন্যার বাড়ি। অনেক দিন থেকে ভাবি বন্যার সাথে দেখা করব আর সেদিন তাকে ভালভাবে প্রপোজ টাও করব।একদিন চলে গেলাম যেয়ে বন্যাকে ফোন দিয়ে অবাক করে দিলাম। বিকেল ৪ টায় পার্কে বন্যাকে দেখা করতে বলি। যথাসময়ে পৌছে গেলাম যেয়ে দেখি বন্যা আমার আগে থেকে এসে বসে আছে আর যেহেতু ফেসবুকে ছবি দেখেছি তাই চিন্তে কারও অসুবিধা হলোনা। অনেক গল্প করলাম দুজনে মিলে কিন্তু আমার মুখ থেকে আমি হাজার চেষ্টা করেই বলতে পারছিলাম না। অনেকক্ষনপর যখন বন্যা বলল আমি বাড়ি যাব তখন বললাম আমার একটা কথা ছিল-
-হুম বল।
-আমি তোকে ভালবাসি
আমার কথা শুনে বন্যা অবাক হলোনা কারন ও জানে আমি তাকে ভালবাসি
-দেখ আমিও তোকে খুব ভালবাসি কিন্তু সেটা বন্ধু হিসাবে। আর সরি, ভাল থাকিস। বাই
.
বন্যা চলে যেতে লাগল আমি তার চলে যাওয়ার দিকে চেয়ে রইলাম অপলক দৃষ্টিতে। আমার তখন মনে হলো পৃথিবীর সব চেয়ে অসহায় চাহনীটা বোধ হয় আমারই। যত দুরে যাচ্ছে চাহনীটাও ততো গভীর হচ্ছে। আমার ভিতরটা মনে হতে লাগল শেষ হয়ে যাচ্ছে। এখন আর বন্যাকে দেখা যাচ্ছে না। নিজেকে বরই অচেনা মনে হচ্ছিল। অসহাত্ব সাথে নিয়ে হাটা দিলাম। আকাশটা মেঘলা হয়ে আসছে। তবে কি আকাশের এই অসহাত্ব আছে??নাকি আকাশ মানুষের মনের কথা বুঝতে পারে?? অঝোর ধারায় বৃষ্টি নামল। বৃষ্টিকে কেন জানিনা নিজের সহায়ক মনে হতে লাগল।মনে হচ্ছিল এই বৃষ্টিই আমার সব কষ্ট ধুয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
.
পার হয়েছে ২ টা বছর,বদলেও গেছে অনেক কিছু। এখন আর রাত ১১ টায় কেউ আসবে বলে ফেসবুকে অপেক্ষা করিনা কিনবা কেউ মেসেজ দিবে তার জন্যেও আর অপেক্ষা করিনা।
রাস্তায় দারিয়ে আছি ভাইয়া আসবে তার সাথে মর্কেট এ যাব কিন্তু হটাৎ চিরচেনা একটা কন্ঠ পিছন থেকে শোনা গেল পিছন ফিরে দেখতে পেলাম বন্যা। ২ টা বছর পার হয়েছে তো কি হয়েছে চিনতে মোটেও ভুল করিনি এই বন্যা। সেদিন থেকে তার সাথে যোগাযোগ নাই। হয়তো বুঝতে পেরেছে সেদিন আমাকে ফিরিয়ে ফিরিয়ে দিয়ে ঠিক করেনি।
-কেমন আছিস???
উল্টা পথ ধরে হাটা শুরু করলাম।
-প্লিজ যাস না দারা
পিছন ফিরে আর চেয়ে দেখিনি।বন্যা হয়ত সেদিন অনেক বর ভুল করে ফেলেছিল। আমাদের মত সহজ-সরল মানুষ জটিলতা বোঝে না। তাদের মনে সত্য ভালবাসার জন্ম নেয়। কিন্তু অবজ্ঞা,অবহেলা, তাচ্ছিল তাদের পাথরের চেয়ে ও বেশি শক্ত করে দেয়।
[] Rasel []
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now