বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
রাত প্রায় একটা বাজে ।
আমি বসে আছি গৌরিপুর রেল স্টেশনে, চিটাগাং মেইল ধরব । ট্রেন আসবে রাত তিনটায় । অপেক্ষা করা ছাড়া বর্তমানে আমার আর কিছু করণীয় নেই । শীতের রাত । ময়মনসিংহ অন্চলের বিখ্যাত শীত পড়েছে । গারো পাহাড় থেকে উড়ে আসছে কনকনে হাওয়া । সুয়েটরের ওপর কোট,তার ওপর একটা চাদর চাপিয়েও ঠকঠক করে কাপছি ।
গৌরিপুর রেল স্টেশনের এয়েটিং রুমে আপাতত স্থান পেয়েছি,তবে কতক্ষণ এখানে থাকতে পারব বুঝতে পারছি না । স্টেশনের ভবঘুরে সম্প্রদায়ের বিশাল অংশ এখানে স্থান নিয়েছে ।
ঝগড়া ঝাঁটি হচ্ছে । আমার চোখের সামনে ছোটখাটো একটা মারামারিও হয়ে গেল । এক ভদ্রলোক তার মেয়ের বিয়ের জন্যে খাসি কিনেছেন । তিনি যাবেন মোহনগন্জ । চারটি প্রমাণ সাইজের খাসি নিয়ে তিনিও আমার মতোই ওয়েটিং রুমে অপেক্ষা করছেন । খাসি চারটির স্বভাব বিচিএ । এরা চুপচাপ থাকে,কিন্তু কিছুক্ষণ পরপর চারজনই একত্রে ব্যাকুল স্বরে ডাকাডাকি শুরু করে । তাদের ডাকাডাকিতে ভয় পেয়ে ছোট ছোট বাচ্চারা কাদতে শুরু করে । যখন বিশৃঙ্খলা চরমে ওঠে তখন খাসিরা চুপ করে যায় । এমন অবস্থায় মেজাজ ঠিক রাখা খুব মুশকিল ।
আমি পাণপণে চেষ্টা করছি মেজাজ ঠিক রাখতে । চেয়ারে পা তুলে বসে বই পড়ার চেষ্টা করছি । এই সময় আমাকে চমকে দিয়ে এক ভদ্রলোক বললেন,স্যার চা খাবেন?
ভদ্রলোক আমার পরিচিত নন । পরিচিত হলেও অবশ্যি চেনা যেত না । তিনি পরে আছেন মাংকি ক্যাপ । টুপির ফুটোর ভেতর দিয়ে শুধু চোখ বের হয়ে আছে । রোগা পাতলা মানুষ । বেশ লম্বা । শীতের কারণেই বোধহয় খানিকটা বেকে গেছেন ।। ভদ্রলোক আবার বললেন,স্যার চা খাবেন?
*আমি বললাম,জি না ।
*আমি আপনার মতই চিটাগাং মেইল ধরব ।
*ও আচ্ছা ।
*শীত কি রকম পড়েছে দেখছেন ?
সাইবেরিয়াতেও এত শীত পড়ে না ।
*আমি হাসির মতো ভঙ্গি করে আবার বই পড়ায় মন দিলাম । এ জাতীয় উটকো লোককে বেশি প্রশ্রয় দিতে নেই । প্রশ্রই পেলেই এরা কথা বলে বলে জীবন দুর্বিষহ করে তুলবে । চা খাব না বলার পরও ভদ্রলোক হাল ছাড়লেন না । খানিকটা ঝুকে এসে বললেন,শীতের মধ্যে চা খেলে শরীরটা চাঙ্গা হতো ।
*আমার প্রয়োজন নেই ।
*ভদ্রলোক চলে গেলেন । আমি আবার বইয়ে মন দেবার চেষ্টা করলাম । শীত মনে হচ্ছে আরো বেড়েছে । চাদর ভেদ করে ঠান্ডা বাতাস ঢুকছে ।
খাসি চারটা আবারো একসঙ্গে চেচাতে শুরু করেছে । আমি বই পড়ছি ,কিন্তু কি পড়ছি নিজেই বুঝতে পারছি না ।
*স্যার চা নিন ।
*আমি তাকিয়ে দেখি ভদ্রলোক পিরিচ দিয়ে ঢাকা চায়ের কাপ এগিয়ে ধরে আছেন । আমার নিষেধ শুনেননি ।
*শীতটা কমবে চুমুক দিন ।
*আমি কথা বাড়ালাম না । চায়ের কাপ নিলাম ।
*পান খাওয়ার অভ্যাস আছে?
*জি না ।
*পান নিয়ে এসেছি । চা খাবার পর জর্দা দিয়ে একটা পান খান,দেখবেন শীত কমে গেছে । পান খেলে মুখ নড়ে তো,এক্সারসাইজ হয়,এতে শীত কমে ।
*আমাকে পানও নিতে হলো । ভদ্রলোক আমার পাশের টেবিলে উঠে বসলেন ।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now