বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
-সিন্দুক-১-
মিসির আলির ঘর অন্ধকার। তিনি অন্ধকার ঘরে
চেয়ারে পা তুলে বসে আছেন। চেয়ারে পা
তুলে বসে থাকার বিষয়টা আমার অনুমান। অন্ধকারের
কারনে তাকে দেখতে পাচ্ছি না। তবে পা তুলে
জবথুবু ভঙ্গিতে বসে থাকা তার অভ্যাস।
আমি বললাম, ঘরে মোমবাতি নাই?
মিসির আলি বললেন, টেবিলে মোমবাতি বসানো
আছে। এতক্ষণ জ্বলছিল। আপনি ঘরে ঢোকার
কিছুক্ষণ আগে বাতাসে নিভে গেছে।
আমি বললাম, মোমবাতি জ্বালাব? না-কি অন্ধকারে
বসে থাকবেন?
মিসির আলি বললেন, থাকি কিছুক্ষণ অন্ধকারে।
আঁধারের রূপ দেখি।
বিশেষ কিছু নিয় চিন্তা করছিলেন?
মিসির আলি বললেন, আপনার কি ধারণা সারাক্ষণ আমি
কিছু-না-কিছু নিয়ে চিন্তা করি? চিন্তার দোকান খুলে
বসেছি? পকেটে দেয়াশলাই থাকলে মোমবাতি
জ্বালান। একা একা অন্ধকারে বসে থাকা যায়। দু’জন
অন্ধকারে থাকা যায় না।
কেন?
দু’জন হলেই মুখ দেখতে ইচ্ছা করে।
আমি মোম জ্বালালাম। আমার অনুমান ঠিক হয় নি। মিসির
আলি পা নামিয়ে বসে আছেন। তাকে সুখি সুখি
লাগছে। বিয়েবাড়ির খাবার খাওয়ার পর পান মুখে
দিয়ে একটা সিগারেট ধরালে চেহারায় যে সুখি সুখি
ভাব আসে সে রকম।
মিসির আলি বললেন, বিশেষ কোন কাজে
এসেছেন না-কি গল্পগুজব?
গল্পগুজব।
মিসির আলি বললেন, আপনি কি একটা ব্যাপার লক্ষ্য
করেছেন? আমরা সবসময় বলি গল্পগুজব। শুধু গল্প
বলি না। তার অর্থ হচ্ছে আমাদের গল্পে ‘গুজব’
একটা বিশেষ স্থান দখল করে আছে। আমাদের
গল্পের একটা অংশ থাকবে গুজব। ইংরেজিতে
কেউ কিন্তু বলে না story and rumor. কারণ,
Rumor ওদের কাছে তেমন গুরুত্বপূর্ণ না।
আমি বললাম, আপনি গল্পই বলুন। গুজব বাদ থাক।
কী গল্প শুনবেন?
যা বলবেন তাই শুনব। আপনার ছেলেবেলার গল্প
শুনি। শৈশব-কথা। আপনার বাবা কি আপনার মত ছিলেন?
আমার মত মানে?
জটিল চিন্তা করা টাইপ মানুষ।
আমার বাবা নিতান্তই আলাভোলা মানুষ ছিলেন। তার
প্রিয় শব্দ হলো "আশ্চর্য"।
কোন কারণ ছাড়াই তার বিস্মিত হবার ক্ষমতা ছিল।
উদাহরণ দেব?
দিন
একবার একটা প্রজাপতি দেখে ‘কী আশ্চর্য!
কী আশ্চর্য’ বলে তার পেছন পেছন ছুটলেন।
তিনি শুধু যে একা ছুটলেন তা না, আমাকেও ছুটতে
বাধ্য করলেন। প্রজাপতির একটা ডানা ছিঁড়ে
গিয়েছিল। বেচারা একটা ডানায় ভর করে উড়ছিল।
আমি বললাম, আশ্চর্য হবার মতই তো ঘটনা।
মিসির আলি বললেন, তা বলতে পারেন। তবে
দিনের পর দিন এই ঘতনার পেছনে সময় নষ্ট করা
কি ঠিক? তার প্রধান কাজ তখন হয়ে দাঁড়াল প্রজাপতি
ধরে ধরে একটা ডানা ছিঁড়ে দেখা সে এক ডানায়
উড়তে পারে কি-না। শুধু প্রজাপতি না, তিনি ফড়িং
ধরেও ডানা ছিঁড়ে দেখতেন উড়তে পারে কি-না।
বাবার এই কাজগুলি আমার একেবারেই পছন্দ হতো
না। কৌতূহল মেটানোর জন্য তুচ্ছ পতঙ্গকে কষ্ট
দেয়ার কোনো মানে হয় না।
আপনার বাবার পেশা কী ছিল?
উনি মাদ্রাসার শিক্ষক ছিলেন। উলা পাশ শিক্ষক। যদিও
আমাকে তিনি মাদ্রাসায় পড়তে দেন নি। তিনি লম্বা
জুব্বা পড়তেন। জুব্বার রঙ সবুজ, কারণ নবীজি
সবুজ রঙের জুব্বা পড়তেন। বাবার ঝোঁক ছিল
‘সত্য’ কথা বলার দিকে। তার একটাই উপদেশ ছিল,
সত্যি বলতে হবে। তাকে খুব অল্প বয়সে ‘সত্যি’
বিষয়ে আটকে ফেলেছিলাম। শুনবেন সেই
গল্প?
বলুন শুনি।
(চলবে)
{কমছে কম ২০ মন্তধ্য চাই পরের পর্বের জন্য}
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now