বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
শীতের ভোর সকালকে হাতছানি দেয়। আমি নিদ্রাদেবীর আশীর্বাদে ঘুমের ঘোরে স্বপ্নে বিভোর থাকি। গত অগ্রাহায়ণ মাসে হোসেন স্যারের কাছে গণিত প্রাইভেট পড়া শুরু করি। এ সময়টাতে স্বপ্ন আর ঘুমিয়ে দেখার সুযোগ ছিল না।
ভোরবেলা মুয়াজ্জিনের কণ্ঠ শুনে মা আমার ঘুম ভাঙায়। বাইরে তখনও ঘুটঘুটে অন্ধকার। এত ভোরে রিক্সা ভ্যান কিছুই পাওয়া যায় না। দুই গ্রামের সীমানায় আমাদের বাড়ি। একা একা হেঁটে যাই দেড় কিলোমিটার পথ।
আমি ছাড়া সবার বাড়ি ছিল স্যারের বাড়ির কাছাকাছি। প্রথম ব্যাচে নয় জন ছাত্র-ছাত্রী। আমরা নবম শ্রেণির ৫ জন, আর সপ্তম শ্রেণিতে পৌষী সহ ৪ জন। পৌষী সবসময় স্যারের ডানপাশে বসতো। আমি বসতাম তার উল্টো দিকে ঠিক স্যারের বাঁ পাশে। যাতে তাকালেই পৌষীকে দেখা যায় বন্ধুদের চোখ এড়িয়ে।
পৌষীর চোখ দুটো আমাকে খুবই আকর্ষণ করত। ওর চাহনি, হাসি, কথা বলার ভঙ্গি দেখে আমি খুবই মুগ্ধ হই। আমার হৃদয় প্রতিদিন ও একটু একটু করে জায়গা দখল করে নেয়। আর যখন ও মুচকি হাসি দিত তখন মনে হত কে যেন আমার হৃদয়ে একটা চিম্টি কেটে গেল। ওকে ভেবে আমার মনের ভেতর যে এতো আলোড়ন তা ওকে জানাতে ইচ্ছে করত। বুঝতাম ও-ই আমার স্বপ্নের রাজকন্যা।
তাইতো পৌষের ভোরে এতটা পথ পাড়ি দিয়ে যখন পৌষীর মুখটা দেখি তখন সব কষ্ট অজানা আনন্দে হাওয়ায় মিলিয়ে যায়।
রাত্রে যখন পড়তে বসি ওর প্রতিচ্ছবি আমার সামনে এসে দাঁড়ায়। যতোই বইয়ের পৃষ্ঠা উল্টাই শুধুই আমার সামনে পৌষী। ইশারায় আমার সঙ্গে কত যে কথা বলে ও।
অনার্স ফাইনাল পরীক্ষা দিয়ে আমার চাচাত ভাই অজয় এল বেড়াতে। বয়সে অনেক বড় সে। তবুও আমার সঙ্গে সে খুবই ফ্রি। আমার এ অবস্থা দেখে ভাইয়ার বুঝতে আর বাকী রইল না যে, আমি প্রেমে পড়েছি। ভাইয়া সব শুনে বলল, তুই কি পৌষীকে ব্যাপারটা জানিয়েছিস? আমি বললাম, না। আরও জানালাম, আমার কয়েকজন বুন্ধরাও পৌষীকে খুব ভালোবাসে।
ভাইয়া বলল, সবদিক মিলিয়ে পৌষী শুধু ভালো নয়, খুব ভালো মেয়ে। যদি মন থেকে ভালোবাসিস, তাহলে আর দেরী নয়, বলে ফেল্। যেহেতু অন্য কেউ এখনও বলে নি। এটাই তোর উপযুক্ত সময়। সাহস করে বল্, কাজ হয়ে যেতে পারে। আমি ভাইয়াকে আমার লেখা চিরকুট দেখালাম। তাতে লেখা ছিল, তুমিই শুধু পারবে আমার /মরিচা রোধ করতে /তুমি যদি সান্ত¦না দাও /তবে পারি পড়তে /তুমি আমার গাইড বই /তুমি প্রশ্নের সীট/পারলে একটু ভালোবেসো/হৃদয়ে কর না চিট্। ভাইয়া পড়ে বলল, এজন্যই তো লোকে বলে প্রেমে পড়লে মানুষ কবি হয়ে যায়।
একদিন সাহস করে মনের কথাটা জানালাম পৌষীকে। শোনা মাত্রই চমকে পাথর হয়ে গেল সে। একটি কথাও বলল না।
তারপর এক মাস ওকে কোথাও দেখা যায় নি। তারপর হঠাৎ একদিন আমার সামনে এসে দাঁড়াল পৌষী। আমি ওকে দেখে থমকে দাঁড়াই। ভাবি, তাহলে কি ওর মনে ভালোবাসার বীজ বপন করতে পেরেছি ।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now