বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
কিছু তিতা কথা লিখি। খারাপ লাগলে কিছু বলার নাই। লজিকে ভুল থাকলে ধরিয়ে দিবেন।
ধরুন, আপনি ঈশ্বরের উপর বিশ্বাস হারানো নাস্তিক মানুষ। মানুষকে "ধর্ম" নামক "অভিশাপ" থেকে বাঁচার জন্য আপনি ব্যাপক পড়াশুনা করেছেন এবং জ্ঞানের জাহাজ হয়ে গেছেন। কিন্তু পাব্লিক পোস্ট লিখার সময় আপনি শুরুই করলেন আল্লাহ, নবী (সা) ও যাবতীয় ধর্ম প্রণেতাদের গালাগালি দিয়ে!! তাহলে আমি আপনাকে বলবো -আপনি এক মহা বেকুব এবং ভোদাই। আপনার জ্ঞানের উপর আমি মুতি। কারণ, আপনার মাথায় এতটুকু জ্ঞান নাই, গালাগালি করলে শুরুতেই ধার্মিকরা আপনার উপর শ্রদ্ধা হারিয়ে ফেলবে এরপর আপনার কোন কথাই তার ভালো লাগবে না। অথচ মুক্ত চিন্তার সবচেয়ে বড় অস্ত্র হলো যুক্তি। নিখুঁত লজিক। কঠিন যুক্তি দিয়ে তাবলীগ করা হুজুরের ঈমান পর্যন্ত নাড়িয়ে দেয়া যায় আর ভোদাইয়ের মত আপনি করেন গালাগালি। ইউ আর এ শেইম টু ফ্রি থিংকারস। ইউ আর যাস্ট আ এটেনশন হোর।
এবার আমার মুমিন ভাই ও বোনেরা,
আপনার ঘরের সবচেয়ে উঁচু জায়গায় যত্ন করে রাখা কুরআনে ধুলার উপর ধুলা জমে। বুকসেলফে রাখা হাদিসের বই গুলোতে পোকায় কাটে। জায়নামাজটা সপ্তাহে একদিন ধরা হয়। সেই ঘরের পিসিটার কিন্তু কোন বিরাম নেই। সেইটা দিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা আপনি বিভিন্ন নাস্তিক ব্লগারের একের পর এক ব্লগ পড়ে তার হিট বাড়াচ্ছেন, তাদের ওয়েব সাইট গুলোতে ভিউ বাড়িয়ে তাদের টাকা আয় করিয়ে দিচ্ছেন, তাদের নিয়ে আলোচনা করে বিখ্যাত বানিয়ে বিদেশের যাবার ভিসা আপনারাই তাদের হাতে তুলে দিচ্ছেন। কেন? কারণ আপনার আসলে নিষিদ্ধ জিনিসের প্রতি খুব আকর্ষণ, তাই না? অস্বীকার করে লাভ নাই, আমি জানি
দুঃখ জনক হলেও সত্য, যে আগ্রহ নিয়ে এদেশের ফেসবুকে আসক্ত মুমিন বান্দারা নাস্তিকদের লিখা পড়ে তার সিকি ভাগ দিয়েও যদি নিজেদের ধর্মগ্রন্থ, হাদিস, তাফসীর পড়তো, তারা একেকজন বিশাল আলেম হয়ে যেত!!
আরে ভাই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে, নিজের লেখাপড়া চাকরি পরিবার কাজকর্ম করে কার টাইম থাকে এসব ছাইপাঁশ পড়ার? আমাদের আসেপাশেও তো ধার্মিক মানুষ কম নাই ... অনেস্টলি স্পিকিং, নাস্তিক ব্লগারের লিখা পড়া তো দুরের কথা, ফেসবুকে ঢুকারো টাইম হয় না তাদের।
-তাহলে কখনো এসব লিখা চোখে পড়লে কি করবো?
-এড়িয়ে যাবেন।
-কি? প্রতিবাদ করবো না?
-না। কারণ ধর্মকে অহেতুক গালি দিয়ে যারা লিখে তারা এটাই চায়। এটেনশন চায়।
-আমাদের আল্লাহ-নবী (সা) কে গালি দেয়ার প্রতিবাদ বা করলে তারা আমাদের দুর্বল ভাববে। তারা বলবে আমাদের ঈমান দুর্বল।
আই মিন রিয়েলি? একটু ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করে দেখুন। প্রতিবার এই অনলাইন ব্লাসেফেমির "প্রতিবাদ" করতে গেলে কি হয়।
কমেন্টে আপনি যখন যুক্তি বা গালি যাই দিচ্ছেন, তাতে তাদের ভিউ বাড়ে, পোস্ট রিপোর্ট করা যায় না। তারা লালে লাল।
বাইরে কোপাবেন বা গুলি করে মারবেন? দেখুন কি হয়- দশ হাজার কপির শার্লি এব্দো এখন মিলিয়ন কপি বিক্রি হয়। আরো বেশি বেশি আপনার ধর্মকে নিয়ে ব্যাংগ করা হচ্ছে। অভিজিৎরায়ের নাম আগে হাজারখানেক মানুষ জানলে এখন লাখ লাখ মানুষ জানছে, উনার ওয়ালের ৫০-১০০ লাইক পাওয়া পোস্টে এখন ১৫০০-২০০০ লাইক, উনার বই বিক্রি হবে এখন হাজার হাজার কপি। এখন যাস্ট কিউরিয়াস হয়ে একটা ছেলে বা মেয়ে যদি তার বই পড়ে ঈমান দুর্বল করে ফেলে তার দায়ভার কে নিবে? আপনি আমাকে বলেন এইখানে কই ইসলামের লাভ হচ্ছে? গালাগালি কতটুকু কমেছে?
-কিন্তু ভাই এদের যে মুসলিমরাই খুন করেছে তার কি প্রমাণ আছে?
-ফারাবির স্ক্রিনশট দেখেছেন?
-সেইটা ভুয়াও হইতে পারে
-আপনার ওয়ালে তো দেখলাম "আলুহামদুলিল্লাহ। আসেন মিষ্টি খাই, গাভীজিৎ নাস্তিক কুত্তাটা মরসে" স্ট্যাটাস। এত খুশি যখন খুনতো আপনিও করতে পারেন। কিংবা আপনারই সমগোত্রীয় ভাই।
এপর্যায়ে মুমিন বান্দা চুপ। হ্যা আস্তিক-নাস্তিক-ভাড়াটে খুনি যে কেউ করতে পারে, অন্য কোন পলিটিকাল বা পার্সোনাল কারণেও করতে পারে, বাট উল্লাস করতেসে মুসলিমরা কারণ তাদের ধর্মকে লোকটা হেয় করতো। অথচ লাভ আলটেমেটলি মুক্তচিন্তাধারীদেরই হচ্ছে কারণ তাদের মতবাদ,দর্শনের ফ্রি এ্যডভারটাইজমেন্ট হচ্ছে, একদম পত্রিকার প্রথম পাতায় লাল হেডলাইনে। তাহলে এই উল্লাসের মানে কি দাঁড়ালো?
যাস্ট ইমাজিন, একদিন আসিফ মহীউদ্দিন ইসলামকে আচ্ছামত গালি দিয়ে পোস্ট দিলো কিন্তু একটাও গালি পড়লো না। তার চেহারাটা কি হবে। সব কিছু নিরামিষ লাগবে। এরকম কয়েকদিন হতে থাকলে একদিন তার পোস্টে লাইক টাইকও কমে যাবে, সেও লিখার উৎসাহ হারিয়ে ফেলবে। আপনারা গালাগালি দিতে থাকবেন, আরো দশটা আসিফ গজাবে। কবে এইটা বুঝবেন? কবে?
একটা নাস্তিকও আর খুন হলো না। তাদের নাম অল্প কিছু মানুষই জানলো। তাদের লিখা তারাই পড়লো। আপনারা কেন বুঝেন না আপনাদের এ্যাটেনশন, আপনাদের ঘৃণাই ধর্মকে অহেতুক গালিদেয়া মানুষগুলোর বেঁচে থাকার অক্সিজেন। তাদের পাত্তা দেয়া যেদিন একদম বন্ধ করবেন, সেইদিনই তারা সেদিন তাদের অক্সিজেনের অভাবে হাঁসফাঁস করতে করতে মরে যাবে।
আর চাপাতি দিয়ে যত দিন তাদের মাথা কাটতে থাকবেন, ততদিন হাইড্রার মত আরো সাতটা মাথা গজাবে। নিতান্তই সাধারণ ব্লগার থেকে তারা শহীদ হতে থাকবে, তাদের নামে স্মৃতিসৌধ বানানো হবে। প্লিজ, বিফোর কমেন্টিং এনিথিং, একটু ঠান্ডা মাথায় আমার কথা গুলো ভেবে দেখবেন। প্লিজ।
[] মোঃ আসিফ উর রহমান []
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now