বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
গল্পের মেয়েটার নাম জয়া আফনান ইরিন্তা।প্রতিদিনের মত চা নিয়ে বারান্দায় বসে।একটু উচু গলার স্বর শুনে পাশের বাসার কাচের ভিতর দিয়ে তাকায়। একটা দৃশ্য দেখে হাসতেও গিয়েও হাসলো না মেয়েটা। কোর্ট আর টাই পরা একজন কান ধরে দাঁড়িয়ে আছে।
ওমা উঠবোস ও যে করছে!
কেন জানি একটু মায়াও লাগলো।কিন্তু খটকাই বেশি।মানুষের মস্তিষ্ক কঠিন আর অদ্ভুত জিনিস সামনে পেলেই ঘুরে ফিরে দেখে।
ব্যাপারটা জন্ম দেয় কৌতুহলের।
কি ভেবে প্রায়ই তাকাত।হয়তো কৌতুহলের ফিশন বিক্রিয়ার আবেগের নিউট্রন আগাত হানছিলো ভেতরে বন্ধ দরজায়। প্রায় রাতে ছেলেটার ঘরের বড় একটা টিভিতে কাল হো না হো মুভি প্লে হতো। জয়াও অবাক হতো!!
একই ছবি এত বার।
সকালবেলা ছেলেটা বাবার সাথে জগিং এ যায়।
একদিন সকালে একাই বেরিয়েছে ছেলেটা। ছেলেটার নাম ইরফান।কয়েকদিন ধরেই খেয়াল করেছে মেয়েটাকে।
প্রায় কফি নিয়ে বসে আর ইরফান কে খুঁজে।
ইরফান চেষ্টা করে সামনে না পড়তে কিন্তু তবু মেয়েটা ইদ্যানিং বারান্দায় ইয়া মোটা রসায়নের বই নিয়ে বসে।
কিন্তু পৃষ্ঠা উল্টায় না একেবারেই।
তবে কি তাকে দেখতেই??
না ইরফান কে সামনা সামনি দেখেনি মেয়েটা।
কিন্তু আজ??
একটু জোরে হাটতে চেষ্টা করতেই মেয়েটা সামনে এসে পথ রোধ করে দাঁড়ালো।
> থামুন, we are not in race!
- excuse me!!
> হইছে এত পার্ট মারা লাগবে না।
- দেখুন মিস...
> জয়া
- হুম জয়া দেখুন।
> মিস জয়া
- দেখুন মিস জয়া!!
> কি দেখবো?? আপনার নাম কি??
- আমার নাম কি মানে?
> নিকের নাম জানেন না?
- দেখুন অফিস আছে আমার।
> আমারো ইন্টার্ভিউ
- কোথায়?
> এতো ইন্টাররেস্ট?
- আচ্ছা বাই। অল দ্যা বেস্ট
> থ্যাংকস।
একের পর এক রিজেকটেড ক্যান্ডিডেট আসছে।
দেখেই জয়ার হাসি পাচ্ছে। কারন সে মোটেও প্রিপারেশান নিয়ে আসে নাই। তার ওপর প্রাইভেট কোম্পানীতে আগেই ক্যান্ডিডেট সিলেক্ট করা থাকে। বাবার কথায় এসেছে!!
দেয়ালে বড় করে পাশের বাড়ির আঙ্কেল টার ছবি!!
জয়া আফনান ইরিন্তা।
ডাক পড়ে জয়ার।
ভেতরে দুজন মানুষ একজন উল্টী ঘুরে জী বাবা জী বাবা করছে। ভয়েসটা শোনা শোনা মনে হচ্ছে। চেয়ারের সামনে দাড়াতেই উল্টো ঘুরে থাকা লোকটা ঘুরে জয়াকে দেখে।তারপর তাকিয়ে পাশের লোকটাকে বলেঃ থ্যাংকস মিস্টার জামান। ইউ মে লিভ।
জয়া প্রায় সাথে সাথে বলেঃ আপনি??
- হুম। প্লিজ নট হেয়ার?
> মানে কি?
- যা হওয়ার বাসায়!
> ছিঃ ছিঃ
- মানে?
> বলতে বাধলো না
- বাধবে কেন? এখানে কেউ নাম জানতে আসে। তাও আবার অফিসে ইন্টারভিউ এর সময়।কে দিলো আসতে? আমার নামঃ ইরফান। এখন প্লিজ লিভ মি এলন
> হ্যালো মিস্টার মাথামোটা ইরফান, ওয়েট।আমি এখানে ইন্টারভিউ দিতে আসছি।
- সিরিয়াসলি?
> কেন কি ভাবছেন আপনাকে দেখতে আসছি??
- না?? তবে আমি ভেবেছিলাম,
> এই জন্য আপনাকে কান ধরে উঠবোস করায় তাই না?? দুইলাইন বেশি বুঝেন :@
- ওহ দেখেছেন?? বাবার বছরে প্রায় ব্রেন হ্যামারেজ ধরনের ব্যাপারের কিছু একটা হয়।অস্বাভাবিক আচরন করেন। বাসায় সবাইকে মানতে হয়।
> ওহ সরি।
- ইটস ওকে।
>আজ উঠছি।
-কেন? আড্ডা দিতে এসেছেন?
>জবটা তো পাচ্ছি না।আর আপনাকে দেখে আর জব করতেও ইচ্ছা করতেছে না।
-ওকে ইউ মে লিভ।
কয়েকদিন স্বাভাবিক ভাবেই কাটে।তবে মাঝে মাঝে ইরফান বারান্দায় আসে।এসে অযথা বেশি সময় ধরে গাছে পানি দেয়।
ইরফান এর মা আর বোনও আসে প্রায়ই।গল্প করে অনেক।ইরফানের ছোট বেলার গল্প।
একদিন হঠ্যাত করেই চলে আসে চিঠি।
লেখাঃ
মিস জয়া আফনান ইরিন্তা,
দুঃখিত যে আপনাকে জব দেয়া যাচ্ছে না কারন আপনার ইন্টারভিউ ইনকম্পলিট।
ইতি,
ইরফান হাসনান খান।
চিঠি দেখে জয়ার স্বভাব সুলভ রাগ অনেক বেড়ে গেলো।
দৌড়ে গিয়ে দরজা ধাক্কা দিতেই ইরফান খুলে দিয়ে বলেঃ
> আসুন।
-এটা কি?
>কিছু না, ইউ আর রিজেকটেড।
- এটা চিঠি দিয়ে বলার কি?
ইরফানের মা বলেনঃ
মা তোমরা স্টাডিতে বসো।
ইরফানের বাবার সমস্যা আছে।উনার ঘুম ভাঙতে পারে
স্টাডিতে গিয়ে দেখে একটা অর্ধেক আকা ছবি।জয়া বাজি লাগতে পারে যে এটা জয়ার পোট্রেট ছবি।ছবি দেখিয়ে বলেঃ
> এটা কার আকা??
দৌড়ে গিয়ে একটা কাপড়ে ঢেকে দেয় ইরফান।
-বলে এমনি!! আমিই!!
> আমার ছবি এঁকেছেন?
- না ইয়ে মানে হ্যা।
> ইন্টারভিউ নিন।
-কেন?
>কারন আপনি আমাকে ব্যক্তিগত কারনে রিজেকটেড করেছেন।
- হুম করেছি।
>কেন?
-এর চেয়ে ভালো কিছু অপেক্ষা করছে।
>কিন্তু আপনি অপমান করেছেন!
-না। আমি আপনাকে কিছু বলতে চাই।
>আমি শুনবো না উঠছি।
-আপনি চাকরী পেয়েছেন জগিং এর সময় দেয়া মানে আমার নেয়া ইন্টারভিউ এ।
একটা খাম দেয় ইরফান।লেখাঃ
জয়া আফনান ইরিন্তা,
একটু কঠিন হবে কাজটা আর তা হলো প্রতিদিন ভোরে ঘুম ভাঙিয়ে চা বানিয়ে আনতে হবে আর ঝগড়া করার স্বভাব কমাতে হবে।
রাজি হলে জগিং এ বের হই চলুন।
জয়া উঠে দাড়ায়। হঠ্যাত ইরফানের বাবা এসে বলেঃ এই তোরা কি করছিস?
দুজন কান ধর!!
এক
দুই
তিন
ইরফানের বাবা বসে গুনতে থাকেন।দুজন ওঠবস করছে। জয়া হেসে ফেলে আর অমনি ইরফানের বাবা বলেঃ গেট লস্ট বোথ অফ ইউ!
দুজনেই বের হয়ে আসে।
জয়া জগিং যাবার জন্য রেডি হয়ে আছে আর ইরফান হাটছে।জয়ার খুব জানতে ইচ্ছে করছে মানুষটা তাকে দেখে কি করে।
কারন,
জয়া জগিং স্যুট পড়েনি। বরং পড়েছে নীলচে কালো শাড়ি।
আর ভেবে অবাক হচ্ছে প্রোপজ নাই কিছু নাই একজন সরাসরি বিয়ে করতে চায়??
ইরফান জয়াকে দেখে বাবার গাড়ি নিয়ে বের হয় যেটাতে স্ক্রাচ পড়ায় গতদিন কান ধরে দাঁড়িয়ে ছিলো!!
আজ জয়াকে একটা গল্প শোনাবে।তার অতীত ভালোবাসার গল্প।জয়ারও অতীত আছে।
বিয়ে অনেক বড় ব্যাপার।
ব্যাপারগুলো জেনে নেয়া ভালো।
দিনশেষে যখন বাড়ি ফিরেছে দুজন। দুজনেরি মনে হচ্ছিলোঃ ঈশ দিনটা কত্ত ছোট!!
রাতে জয়া ফোন দিয়ে বলে আমি আইস্ক্রিম খাবো!! মাথা ঘুরতেছে, বমিও হইছে
- ছিঃ ছিঃ
> ইউ আর সো মিন।এটা খুব খারাপ জোক ছিলো।
- হাহা।
> দাড়াও আসতেছি তোমার বাসায়
-না না আব্বু আছে!
> আসবোই
- প্লিজ।
দরজায় নক করতেই ইরফানের বাবা দরজা খোলে আর জয়া বলেঃ "আপনার ছেলে বলে আপনি নাকি উনাকে ঘর থেকে বের করে দিতে পারেন না।"
ইরফান ট্রাউজার পড়া ছিলো।
ইরফানের বাবা টেনে এনে বের করে দিয়ে বললেনঃ
গেট লস্ট।
দরজা লাগানোর সাথে সাথে জয়া আর ইরফান দুজনেই হেসে ফেলে!!
_ লিখাঃ কাব্যপ্রেমী রিফাত।
[[বিঃদ্রঃ অল্প কথায় বলুন আপনার গল্প, হতে পারে সেই গল্পের কাহিনী নিয়ে আমার পরবর্তী গল্প]]
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now