বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
“ভাইয়া, এই ভাইয়া, ভাইয়া। উঠ বলতেছি। সারারাত নেটে বসে থাকবে আর সকাল হলে আমাকেই ডেকে উঠাতে হবে। উঠবি নাকি পানি ডালবো! উঠ বলছি”
এই শুরু হয়ে গেল আনিকার চেঁচা-মেচিঁ! আর কি ঘুমিয়ে থাকা যায়? প্রতিদিন সকালে মাথার চুল ধরে টানা-টানি করে আমাকে ডেকে তোলার দায়িত্ব ওর। চুল টেনে কাজ না হলে এক গ্লাস পানি ডেলে দেয়ার অনুমতি আছে। সবই আম্মুর দেয়া নির্দেশ।
দিনের অন্য সব কাজে ফাঁকি দিলেও, এই কাজটা নিয়মিত সময় অনুযায়ী করে আনিকা। অভ্যস্ত হয়ে গেছি, তাই আর আগের মত পানি ডেলে উঠাতে হয় না। চুল ধরে টান দিলেই উঠে যাই। ঘুম ঘুম কন্ঠে বললাম;
- তুই যা, আমি উঠতেছি।
- উঠতেছি মানে? দশটা থেকে এক্সাম ওনার, আর এখন বাজে নয়টা। পড়ে পড়ে ঘুমানো হচ্ছে? পানি ডাললাম কিন্তু।
- আরে তাইতো, আজ তো পিজিক্স এক্সাম! চশমাটা পাচ্ছিনা। একটু খুঁজে দেনা।
- পারব না। আজকেও বারান্দায় ফেলে এসেছিস? আমারো এক্সাম আছে, গেলাম।
বিচানা ছেড়ে উঠে বারান্দা থেকে চশমা এনে ফ্রেশ হয়ে নিলাম। সব কিছু গুছিয়ে, তাডা-হুডো ঘড়ির দিকে তাকিয়েই বুঝে গেলাম আজ আর ব্রেক ফাস্ট করা যাবে না। এক কথায় দৌড় দেয়ার মত করে রুম থেকে বেরিয়ে পডলাম। পেছন থেকে আবারো আনিকার ডাক;
- কিরে ভাইয়া, না খেয়ে যাচ্ছিস যে?
- আজ আর সময় নেই রে।
- আগেই বলেছি রাত জেগে নেটে বসে থাকিস না। নে হা কর, আমি খাইয়ে দিচ্ছি।
- ঠিক আছে আর পাকামু করতে হবে না। তৈরি হয়ে স্কুলে রওনা দে। (খেতে খেতে বললাম)
- ভাইয়া আনিস কিন্তু।
- পারব না, টাকা নাই।
- প্লিজ প্লিজ আমার লক্ষী ভাইয়াটা।
তিন ঘন্টার এক্সাম শেষে বেশ ফুরফুরে মেজাজে হল থেকে বেরুলাম। অন্যান্য দিন হলে এতক্ষনে ক্যান্টিনে দৌড় দিতাম। আমি যে বড় খাদক টাইপের লোক। কিন্তু আজ যেন ক্ষুদা বাবাজি দেখা দিল না। ছোট্ট বোনটার আদর করে খাইয়ে দেয়া দুই টুকরো বেড এখনো মনে হয় ঠিক-ঠাক ভাবেই পেটে আছে।
দুপুরে বাসায় ফিরে ফ্রেশ হয়েই খাবার টেবিলে ভৌঁ দৌড় দিলাম। বাহ্ আমার ফেবারিট টমেটো ভর্তা করা হয়েছে। নিশ্চয়ই আমার সুবিদাবাদী বোনটার কাজ। আনন্দে এক চক্কর নেচে দিতে ইচ্ছে করছে আমার। নিজেকে সংযত রেখে আনিকার খাওয়ার দিকে চেয়ে রইলাম;
- কিরে এমন করে তাকিয়ে আছিস কেন?
- টমেটো ভর্তা কে করেছে রে?
- কেন, আমি।
- আমাকে একটু দেনা প্লিজ।
- উহু, একদমই না। চুক্তি অনুযায়ী কাজ করেছিস?
- ক্যাটবেরি চকলেট? এনেছি তো!
- ওলে আমার গুলু গুলু ভাইয়াটা, এই নে। আমার জন্য একটু রাখবি কিন্তু।
- একদমই না। ডেস্কের উপর থেকে চকলেট টা নিয়ে কেটে পর। আর আমার খাওয়ার দিকে একদম চেয়ে থাকবি না।
রাতে ড্রয়িং রুমে পায়ের উপর পা তুলে বেশ আয়েশ করে টিভি দেখছিলাম। কিছুক্ষনের মধ্যেই আরাম হারাম হয়ে গেল। রিমোটের উপর আক্রমন;
- এই ভাইয়া, রিমোট দে টিভি দেখব।
- টিভি তো চালুই আছে। দেখতে নিষেধ করেছে কে?
- ইয়াক্! ডিস্কভেরি মানুষে দেখে? দেখ দেখ খবিশটা কেমন সাপ দিয়ে লাঞ্চ করছে!
- ইন্ড়িয়ান সিরিয়াল থেকে তো ভাল।
- তোর মোবাইলে দেখলাম একটা মেসেজ্ এসেছে। কি সব জানু পানু লিখা। রিপ্লে করে আসলাম। রুমে গিয়ে দেখে নে।
- কিইইই? তুই আমার মোবাইল দরলি কেন? কি লিখেছিস? কখন লিখেছিস? অন্য কিছু পড়স নাই তো?
- উফ্ ঘ্যান ঘ্যান না করে, রিমোট টা দিয়ে কেটে পর তো!
হাঁফাতে হাঁফাতে রুমে আসলাম। কোন অঘটন ঘটিয়ে দেয়নি তো আবার! কাঁপা কাঁপা হাতে মোবাইল দরলাম। অতঃপর মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়লাম। গত কয়েক দিনের চ্যাট হিস্টোরি সব পড়ে পেলেছে হিটলারনীটা। আসন্ন বাঁশটা টের পেলাম। আজ থেকে হয়তো নতুন আঙ্গিকে ব্ল্যাক মেইল হতে হবে।
মাঝে মাঝে ভেবে পাইনা, বড়টা আসলে কে? আমি নাকি আনিকা? শাসনটা আসলে কে কাকে করে? আমি আনিকাকে নাকি আনিকা আমাকে? থাক না, বড় হয়েও মিষ্টি বোনটার আদুরে শাসন খেয়ে যাচ্ছি। সেটাই বা কম কিসের!!
.
.
[] সাইবার ক্রিমিনাল []
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now