বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

শেষ ইচ্ছা

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X এক.. আমি: দোস্তো ওই মেয়ে দুটার পিছন পিছন চল। সাকিল: রিক্সার মেয়ে দুটা??? আমি: হুম বাইক ধীরে চালাবি কেমন। সাকিল: তোর মতলবটা কি বলতো??? আমি: কি আবার! মেয়ে দুটার বাড়ি কোথায় সেটা দেখবো। সুযোগ পেলে ফোন নাম্বার নিবো। সাকিল: অভ্র তুই না দুদিন আগেই ছ্যাকা খাইলি! আমি : ওই শালা খাইনি , দিছি বুঝলি। সাকিল: কেন??? আমি: কেন তুই জানিস না। সাকিল: ওহহহ ভাবি তো আমার সাথে মিশতে নিষেধ করেছিল তাই না। ভাবির কথা মানলে কি হতো???? আমি: থাপ্পড় দিয়ে গাল লাল করে দিবো শালা। আর ভাবি কি হু??? ওই বদ মেয়ের নামও মুখে নিবি না। ভবিষ্যৎ এ আমার বউও যদি এমন কোনো কথা বলে তাহলে তালাক দিয়ে দিবো। সাকিল: হেসে হেসে- বন্ধুর প্রতি বেশি ভালবাসা ভালো না। আমি: চুপচাপ বাইক চালাবি নাহলে ধাক্কা দিয়ে ফেলাই দিবো। সাকিল: আচ্ছা বাবা, চুপ করলাম। কিছুক্ষণ পর....... সাকিল: দোস্তো, দেখ সাইকেলগুলো আমাদের কাটিয়ে যাচ্ছ। আমি: তো কি হইছে??? ইজ্জতে লাগি নাকি শালা। সাকিল: ঠিক না নয়। একটা কথা বলতো,রিক্সায় তো দুটা মেয়ে। একা দুটা মেয়ে কি করবি??? আমি: ধুর বেটা। গোলাপি ড্রেস তোর ভাবি আর মোটা করে মেয়েটা আমার ভাবি। সাকিল: না লাগবে না আমার। আমার যে একটা আছে ওটাতেই হবে। তবে একটা কথা না বলে পারলাম না। তুই একটা সেল করা ফিস আমানে সেলফিস আরকি! আমি: কান্নার ভান করে- দোস্তো আমি আবার কি করলাম???? সাকিল: তুই ময়দা সুন্দরিটাকে বেছে নিয়ে আমাকে কি না ছোট্ট হাতির বাচ্চার গলায় ঝুলিয়ে দিলি। ওওওতো আমাকে চাপ দিলে আমি ভর্তা হয়ে যাবো রে। সাকিলের কথা শুনে দুজনে হেসে ফেললাম। তখনি রিক্সার ময়দা সুন্দরি মেয়েটা বলল,দুটোয় ইডিয়েট! আমি: দোস্তো ওই মেয়েটা কি বললো রে???? সাকিল: না জানার ভান করে- কই কিছু না তো। আমি: চুপ কর। আমি শুনছি কি বলছে। আমাকে না হয় ইডিয়ট বলবে, তোকে কেন ইডিয়ট বলল! তুই বাইকটা রিক্সার পাশে নিয়ে যা। সাকিল: না যাবো না। আমি বাইকের স্পিড বাড়াচ্ছি। আমি: আমি কিন্তু বাইক থেকে লাফ দিবো। বাইকের স্পিড কিন্ত কম বেশি কিছু হবে না। সাকিল: এই না না আমি নিয়ে যাচ্ছি। মেয়ে দুটোকে বেশি কিছু বলবি না কিন্তু। আমি: আচ্ছা প্রমিস। অতঃপর সাকিল রিক্সার পাশে বাইক নিয়ে গেল। রিক্সাওয়ালা আমাদের দিকে কেমন করে যেনো তাকালো। তাই আমি বললাম,"মামা এই নেও গোল্ডলিফ আর চুপচাপ রিক্সা চালাও। আপুর সাথে কিছু কথা আছে"। রিক্সাওয়ালা মামা একটু হেসে সিগারেট নিয়ে আপন মনে রিক্সা চালাতে লাগলো। এবার মেয়ে দুটোর দিকে তাকিয়ে দেখি দুজনে ভয়ে চুপসে গেছে। মনে মনে একটু খারাপ লাগছিল। তখন সাকিল আমার কানে বলল,দেখ মেয়ে দুটা ভয় পেয়েছে। থাক না কিছু বলার দরকার নেই। আমি: আমার মনও তাই বলছে। আচ্ছা একটু শুধু মজা করবো। আবার মেয়ে দুটার দিক ফিরে তাকিয়ে বললাম,আপু ঠিকই বলছো আমরা ইডিয়ট। তবে আমাদের চিনলে কেমন করে???? নিশ্চয় তুমিও ইডিয়ট। আমার কথা শেষ হতেই সাকিল আর আমি দুজনে হেসে ফেললাম। পাশে দেখি রিক্সাওয়ালা মামাও হাসছে। সাকিলবাইকের স্পিড বাড়িয়ে দিলো,গন্তব্য এখন নদীর পাড়। সাকিল আর আমি সেই ছোট্ট বেলা থেকে বন্ধু। ষ্কুল জীবনে সাইকেলে করে অনেক ঘুরাঘুরি করেছি। কিন্তু এখন দুজনে যখন জীবন গড়তে ব্যস্ত তখন আর আগের মত ঘুরাঘুরি করা আর খুব একটা হয় না। সাকিল একটা ভালো বেতনে চাকরি করে। আর আমি চাকরির পিছনে না ছুটে বাবার ব্যবসাটাকে বড় পরিসরে গড়তে লেগে পড়েছি। তাই ছুটির দিনগুলো ছাড়া আর আগের মত ঘুরা হয় না। সাকিলের বাবা নেই। সাজেদা আন্টিকে নিয়ে সাকিলের পরিবার বলতে গেলে। আর আমার সবাই আছে মা বাদে। হুম এখানে ভূল বললাম সাকিলের মা সাজেদা আন্টি আমাকে কখনো মায়ের কমতি অনুভব করতে দেয়নি। "অভ্র নেমে পড়, নদীর পাড়ে এসে গেছি হঠ্যাৎ সাকিলের ডাকে বাস্তবে ফিরলাম। নদীর দুপাড়ে উচু করে পাহাড় ন্যায় বাধ দেওয়া আছে। আর দুপাড়ে হরেক রকমের গাছ লাগানো। প্রকৃতির এ সৌন্দর্যের বর্ণনা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। আর সাকিল সাথে আমার আড্ডাবাজি এখানে জমে। আর পাশেই জামিল ভাইয়ের দোকান। দুজনে নদীর পাড়ে বসে পড়লাম। সাকিল বলল,কিরে কি ভাবছিস???? আমি: তেমন কিছু না রে( পকেট থেকে সিগারেট বের করলাম কথাটা বলেই) সাকিল: ওই তোর হাতে সিগারেট কেন???? তাই তো বলি রিক্সা ওয়ালা মামাকে তুই কোথা থেকে সিগারেট দিলি। আমি: দোস্তো প্লিজ। তুই নিষেধ করার পর পাচঁ ছয় মাস হচ্ছে সিগারেট টানি না। আজ মন আনচান করছে রে। আজ শুধু সিগারেট টানতে দে। এরপর আর টানবো না। সাকিল: আম্মাকে বলে দিবো কিন্তু! আমি: করুন ভাবে- প্লিজ প্লিজ প্লিজ দোস্তো। সাকিল: আচ্ছা একটাই শুধু। আমি: জড়িয়ে ধরে- থ্যাংক ইউ দোস্তো। সাকিল: হুম হইছে, ছাড় এবার। একটু পর.... আমি: সিগারেট এগিয়ে দিয়ে- এই নে। সাকিল: তুই জানিস আমি সিগারেট টানা ছেড়ে দিছি। তোর ভাবি নিষেধ করেছে। আমি: আরে ভাবি দেখছে নাকি! সাকিল: না রে দোস্তো। তোর ভাবি আমাকে যথেষ্ট বিশ্বাস করে। ও না দেখলেও আমি এমন কাজ করতে পারবো না যাতে ওর বিশ্বাসের অসম্মান হয়। তাছাড়াও আমি নিজের কাছেই ছোট হয়ে যাবো রে। আমি: তোর কাছে আমার অনেক শেখার আছে রে। এরপর দুজনে চুপ করে রইলাম। আমি সিগারেটে একটা জোড়ে টান দিয়ে বললাম,দোস্তো শুনছিস??????? সাকিল: হুম বল। আমি: তোকে একটা কথা বলবো বলবো বলে আজো বলা হয় নি। সাকিল: কি কথা বল। আমি: তুই তো ভাবি কে দেখিস নি আর ভাবি তোকেও। ভাবি দেখতে যদি ভালো নয় তাহলে। না দেখে ভালবাসা! কেমন করে সম্ভব????? সাকিল: দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে- অভ্র জানিস তোর ভাবি আর আমি আজ পর্যন্ত একে অপরকে ভালবাসি কথাটি বলিনি। কেন জানিস???? কারন আমরা একে অন্যের মনের অনুভূতিটা বুঝি। আমাদের পছন্দ অপছন্দ একদম ভিন্ন। তারপরেও জানিস মেয়েটা আমার পছন্দগুলোকে নিজের পছন্দ হিসেবে গ্রহন করেছে। অ্যাসেজের গানের লিরিক্স ও কিছুই বুঝে না। তারপরেও সারারাত গান শুনে পরদিন বলবে জানো আমি না অ্যাসেজের এই গানটা শুনেছি। আমি গাইছি তুমি কি শুনবে। আমি কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে সাকিলের কথা শুনছি। সাকিল আবার বলল, তোর ভাবির অজান্তে একবার ওর পরিবার বিয়ে টিক করেছিল আর ভাবি একথা জানার পর কি করেছিল জানিস???? ছুড়ি নিয়ে সরাসরি আঙ্কেলের সামনে দাড়িয়ে বলেছিল, কারো মুখে যদি আর একবারও বিয়ের কথা যদি শুনি তাহলে নিজেকে শেষ করে দিবো। এরপর তোর ভাবির পরিবার এ পর্যন্ত বিয়ের নামও মুখে তোলেনি। আর একথা পরেরদিন ও আমাকে এমন ভাবে হেসে বলছিল যেন কিছুই হয়নি। তোকে একটা বাস্তব প্রমান দিচ্ছি। এই নে ফোন, তোর ভাবিকে ফোন করে বল সাকিলের খারাপ কিছু হয়ে গেছে তারপর কলটা কেটে দিবি কেমন। আর ঠিক দশ-পনের মিনিট পর বেশি হলে আধ ঘন্টা পর কল দিয়ে জানতে পারবি তোর ভাবি হসপিটালে ভর্তি আছে। আমি: না থাক। তোর উপর আমার যথেষ্ট বিশ্বাস আছে। সাকিল: জানি রে। আমি নিজেই একরকম তোর ভাবিকে টেস্ট করার জন্য নাটক করি। আর যা হওয়ার তাই ঘটে। যে মেয়েটা আমার জ্বর হয়েছে শুনলে কান্নাকাটি শুরু করে দেয়,কাশি শুনলে চিন্তায় নানান প্রশ্ন করা শুরু করে দেয় সে যদি দেখতেও খারাপ হয় তাহলে কি খুব বড় ক্ষতি হয়ে যাবে। আচ্ছা তুই কি মনে করিস এমন মেয়েও আবার আছে নাকি???? নিশ্চয় কল্পনাও করতে পারিস নি। আমিও বিশ্বাস করতে পারতাম না কখনো যদি তোর ভাবি আমার জীবনে না আসতো। এখন বল এই মেয়ের রুপের কথা চিন্তা করে কি ভাল না বেসে পারা যায়?????? আমি কোনো মতে মাথা নেড়ে সম্মতি জানালাম। তখনি সাকিলের ফোনে কল আসলো। সাজেদা মা কল দিছিল। এখন বাসা ফিরে যেতে হবে। সাকিল আবার বাইল স্টার্ট দিলো আর আমি পিছনে বসে পড়লাম। সাকিল ছেলেটাকে কখনো কখনো আমার মানুষ মনে হয় না???? মানুষ আবার এতো ভালো হয় নাকি! কিন্তু না ধীরে ধীরে সাকিলের সাথে মিশে বিশ্বাস করতে হয়েছে না অমানুষ যেমন আছে তেমনি কিছু ভালো মানুষও আছে। আর তারজন্যই হয়তো দুনিয়াটা আজো টিকে আছে। দুই........ সাকিলের সাথে যোগাযোগ টা একটু কমিয়ে দিছি। টুকটাক কথা হয় ফোনে কিন্তু আগের মত আড্ডা দেয়া হয় না। আড্ডা দেয়া অবশ্য আমি নিজেই করতে চাই নি যদিও সাকিল অনেক করে বলে। কেননা ছেলেটা অনেক পরিশ্রম করে। আর যে সময়টুকু অবসর পায় ভাবিকে সময় দেয়। আর আমার সাথে আড্ডা দিতে গেলে ভাবিকে হয়তো যথেষ্ট সময় দিতে পারবে না। সাকিল ছেলেটা এরকমি। আমার সাথে আড্ডা দেয়ার সময় কোনো হুশ থাকে না, কখন দিন কখন রাত সময় অসময় সবকিছু। আর তাই সাকিল যে আমার সাথে আড্ডা দিলে ভাবিকে সময় দিতে পারবে না তা আমি ভাল করেই জানি। কিছুদিন আগে সাকিল হয়তো আমার লুকোচুরি ঠিক বুঝতে পেরেছিল। ছেলেটা নিশ্চুপ হয়ে গেছিল সেদিন। শুধু একটা কথাই বলেছিল, যেদিন তোর এই শালাকে পাশে পাবি না ঠিক তাকে মিস করবি। আমি কিছুই বলেনি তখন,শুধু একটু হাসার ব্যর্থ চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু আজ সাকিলের সাথে দেখা করবো। জমিয়ে আড্ডা দেয়া যাবে। মনে মনে খুব খুশি লাগছে না এতদিনের মনে লুকিয়ে থাকা কথাগুলো ওকে বলে অন্তত হালকা হওয়া যাবে। তাছাড়াও আজ সাকিলের বার্থ -ডে। সাকিল আবার জন্মদিন পালন করা একদম সহ্য করতে পারে না। শুধু বাড়িতে দাওয়াত করে বন্ধুদের খাওয়ায়। আর ওর বন্ধু মানে তো আমি আর কি! কিন্তু সাকিলকে কোনোদিন বার্থ -ডে গিফট নিতে রাজি করাতে পারিনি। কেমন ছেলে একটা! সাকিল বলে কি না আপনজনকে গিফট দিতে আবার অকেশন লাগে নাকি। এরপর আর কি বলার থাকে বলুন????? এখন সাকিলের বাসার নিচে বাইক নিয়ে অপেক্ষা করছি। কিন্তু সাকিল শালার আসার নামই নেই। আমি জানি সাকিলের দেরি হচ্ছে কেন। সাকিল কোন শার্টটা পড়বে,জিন্স পড়বে না গ্যাবরেটিং প্যান্ট পড়বে,কোন কালারের পড়বে সব ভাবি থেকে কথা বলে জেনে নিচ্ছে এখন। মাঝে মাঝে ভেবে পাই না সাকিল হয়তো ভিতরের ছোট প্যান্টও ভাবির পছন্দ মত পড়ে। কি জানি বলা যায় না। আসলে যারা প্রেম করে তাদের ব্যাপার স্যাপার আমার মত সাধারন সিঙ্গেল পোলার বুঝা বড় দায়। বলতে গেলে অনেকটা মুশকিল। কিছুক্ষণ পর..... সাকিল: কিরে অভ্র কি ভাবছিস????? (ভাবনায় বিভর থাকায় সাকিল যে কখন নিচে আমার সামনে এসেছে বুঝতে পারিনি। তাই হঠ্যাৎ সাকিলের কথায় একটু ঘাবড়ে গেলাম) আমি: একটু হচকচিয়ে- ওই শালা এমনিতে দেরি করে আসছিস তাই কথা কম। নে বাইক স্টার্ট দে। সাকিল: হু করছি তো। আমি: বাইক চলন্ত অবস্থায়- দোস্তো একটা সত্য কথা বলবি???? সাকিল: ওওওই আমি কি মিথ্যা কথা বলি নাকি! আমি: চুপ কর! বেশি বুঝিস কেন???? আচ্ছা তুই ভাবির পছন্দমত ড্রেসআপ করেছিস তাই না???? আর তুই না নীল রং দুনজরে দেখতে পারিস না,তাহলে নীল শার্ট পড়ছিস যে???? সাকিল: হুম সব তোর ভাবির পছন্দমত। আর নীল রং টা তোর ভাবির প্রিয়। আমি সাকিলের কথা শুনে বোকাবনে গেলাম। হবোই বা না কেন যে ছেলেটা নীল কালারের ড্রেস দেখলে ক্ষেপে যেত আজ সেই ছেলেটাই নীল কালারের শার্ট পড়েছে। আর সাকিল তো কখন ড্রেসআপ দিকে এতটা খেয়াল করতো না,আর আজ সেই ম্যাচিং করে কাপড় পড়েছে। সত্যি ভালবাসা তুই সব পারিস বটে। সাকিল আবার বলা শুরু করল, জানিস দোস্তো তোর ভাবিকে রিলেশনের পর থেকে কিছুই দিতে পারিনি। নিজের মধ্যেই একটা খারাপ লাগা কাজ করতো এ নিয়ে। কিন্তু তোর ভাবি এ নিয়ে কোনো অভিযোগ করেনি আর করবেও না। এদিক থেকে যদি ছোটখাটো বিষয়ে তোর ভাবির পছন্দের কথা খেয়াল করি তাহলে মনে মনে একটু হলেও তোর ভাবি খুশি হবে। সাধারন ভাবে যদি ভেবে দেখিস এই ছোটখাটো বিষয় গুলো লুতুপুতু কিংবা ঢং টাইপ ভাববে অনেকে। কিন্তু তা না নয়। এই যে তোর ভাবির পছন্দের দিকটা খেয়াল রাখি তাতে তোর ভাবির আমার থেকে কিছু না পাওয়ার কথাটা একটু ঢেকে রাখবে। আসলে সম্পর্ক গুলো এভাবে পালন করতে হয়। সেটা যেকোনো সম্পর্ক হতে পারে। তোর তেমন কিছু দেওয়ার সামর্থ্য নেই এটা বড় কথা নয়। তুই তোর ভালবাসার মানুষকে খুশি করার জন্য কি করতে পারিস সেটাই দেখার বিষয়। ফুলের টবে পানি দিলে যেমন গাছটা সতেজ থাকে,নতুন প্রাণ ফিরে পায় ঠিক সম্পর্ক গুলাও এরকমি। এই ছোটো বিষয় গুলোই সম্পর্কের জন্য ফুলের সেই পানি দেওয়ার মত কাজ করে। সাকিলের কথা শুধু শুনেই যাচ্ছি। ছেলেটা প্রতিটা সম্পর্ক এতো ভালো করে পালন করে বুঝিয়ে বলার মতো নয়। সাকিল: হালকা ধাক্কা দিয়ে- কিরে কি ভাবছিস???? নেমে পড়,নদীর পাড় এসে গেছি। সাকিলের কথায় বাস্তবে ফিরলাম। কিছু না বলে মুচকি হেসে নেমে পড়লাম বাইক থেকে। আজ এখানে কিছুটা ভিড় মনে হচ্ছে। অতো কিছু না ভেবে সাকিল আর আমি ঘাসের উপর বসে পড়লাম। আমি বারবার থুথু ফেলছিলাম আসলে অনেকসময় মুখে চকলেট না থাকলে আমার এমন হয়। হঠ্যাৎ সাকিল বলল,দাড়া আমি মি. ম্যাংগো আনছি"। ছেলেটা এমনি সবসময় আমার মনের কথা বুঝতে পারে। আর আমি কি তার ধারের কাছেও যেতে পারলাম না। সাকিল গোমড়া মুখে চকলেট নিয়ে ফিরে এলো। সাকিল: চকলেট এগিয়ে দিয়ে - নে চকলেট। আমি: চকলেট নিয়ে- তোর আবার কি হলো???? সাকিল: আর বলিস না জামিল ভাইয়ের ছেলের নাকি ষ্কুলের বেতন বাকি আছে। আর আগামীকাল নাকি পরীক্ষা। আমি; কিন্তু এখানে তোর মন খারাপের কি আছে???? সাকিল: আরে বোকা জামিল ভাইয়ের কাছে এখন টাকা নেই। আমি: চল আমরা দিবো। সাকিল: না জামিল ভাই এভাবে টাকা নিবে না। আমি জামিল ভাইকে ভাল করে চিনি। আচ্ছা এমন কিছু করা যায় না যাতে জামিল ভাই টাকা নিতে বাধ্য থাকে। কথাটি বলে সাকিল নিজেই ভাবতে লাগলো। একটু পর বলল,আইডিয়া! আজ আমার নাকি বার্থ - ডে তোর মনে আছে?????? আমি: কি যে বলিস না তুই! তুই রাগ করবি দেখে এ প্রসঙ্গ তুলিনি। সাকিল: আচ্ছা বাদ দে চল আজ ট্রিট দিবো। সাকিলের কথা শুনে আমার মাথা ঘুরে গেলো। যে ছেলেটা এতবছরে যা করেনি তা করতে চলেছে তাও আবার অন্যের জন্য। প্রথমে ভেবেছিলাম সাকিল শুধু আমাকে ট্রিট দিবে। কিন্তু আমার ভ্রম ভাঙ্গলো একটুপর। সাকিল একে একে নদীর পাড়ে আসা সবাইকে জামিল ভাইয়ের দোকান থেকে কোন না কোন কিছু কিনে দিলো। আর সব বিল ওহ নিজেই দিলো। আমি দিতে চাইলেও নেয়নি। জামিল ভাই সাকিলের উদ্দেশ্য বুঝতে পেরে প্রায় কেদেই দিলেন। আর আমাদের চা না খাওয়ায় ছাড়লেন না। সাকিল আর আমি চায়ের কাপ নিয়ে নদীর পাড়ে আবার দুজনে বসে পড়লাম। সাকিল বলল,অভ্র???? আমি: হুম বল। সাকিল: হুম আমার গিফট কোথায়???? আমি: না শুনার ভান করে - কি বললি আবার বলতো???? সাকিল: আমি গিফট চাই তোর কাছে। আমি: কি রে তুই ঠিক আছিস তো????? না ভাবির প্রেমে পাগল হয়ে গেছিস??? তুই নিবি তুই! সাকিল: অতো কথা বাদ দে। গিফট দিবি কি না বল???? আমি: আচ্ছা বাবা দিবো। তোর কি গিফট চাই বল। সাকিল: উমমম অন্য কোনোদিন ভেবে বলব। আমি যা চাইবো তাই কিন্তু দিতে হবে প্রমিস কর। আমি: আচ্ছা বাবা নে প্রমিস করলাম। সাকিল: খুশি হয়ে- চল আম্মা মনে হয় আমাদের জন্য ওয়েট করছে। যেতে হবে এখন। আমি: হুম চল। নদীর পাড় থেকে সাকিলের বাসায় চলে আসলাম। ওখানে রাতের খাওয়া করে আমি আমার বাসায় ফিরে আসলাম। ফ্রেশ হয়ে শুয়ে পড়লাম। তখনি সাকিলের কল আসল। আমি: হুম হ্যালো সাকিল বল। সাকিল: চুপ কর। আগে বল আমার মানিব্যাগে এতটাকা কোথা থেকে আসলো???? আমি: আমি রাখছি। সাকিল: কেন রাখছিস??? আমার তো এখন টাকার প্রয়োজন নেই। আমি: চুপ শালা। সাজেদা মা বলল তুই নাকি বেতনের প্রায় সব টাকা খরচ চালানোর জন্য তার হাতে দিছিস। আর তোর কাছে যত টাকা ছিল জামিল ভাইকে দিয়ে দিলি। এখন তো পুরো মাস পড়ে আছে তা চলবি কেমন করে???? হুম সাকিল: আচ্ছা টাকা নিবো একশর্তে??? আমি: কি শর্ত আমি জানি। আমি কোনো টাকা ফেরত নিতে পারবো না। তোর কিছু করার আছে??? সাকিল: অভ্র তুই কিন্তু..... সাকিলকে আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে কল কেটে দিলাম। সাকিল প্রতিমাসে সাজেদা মাকে কিছু টাকা রেখে পুরো বেতন হাতে দেয়। হাতখরচের সেই অল্প টাকা আবার দুনিয়ার মানুষের সাহায্য করতে খরচ করে দেয়। তাই আমি চুপ করে সাকিলের মানিব্যাগে টাকা রেখে দেই। যে সবার জন্য সার্বিক সাহায্য করে বেড়ায় তার জন্য তো এতটুকু করা যেতেই পারে। তিন...... সাকিলের সাথে এরপর আর কথা হয়নি। এভাবে চলে যায় বেশ কদিন। আজ হঠ্যাৎ সাকিল ফোন দিয়ে নদীর পাড়ে দেখা করতে বলে। এখন নদীর পাড়ে বসে আছি। সাকিলকে আজ অন্যরকম লাগছে। শুকিয়েও গেছে অনেক। মুখে সর্বত্র চিন্তার ছাপ তা দেখে আমি বললাম, অভ্র কি হয়েছে তোর???? এ কি চেহারা বানিয়েছিস তোর???? ভাবির সাথে কি কিছু হয়েছে????? সাকিল: না রে তেমন কিছু না। তোর ভাবির সাথে রোজ কথা হয়। তোর ভাবি তো আমার সাথে দেখা করতে চায়। আমি: তা দেখা করছিস না কেনো??? সাকিল: দেখা করবো যদি কপালে থাকে। তোকে যার জন্য ডেকেছিলাম শুন,আমি কিছুদিনের জন্য দেশের বাইরে যেতে হবে। আমি: কেনো??? কেন যাবি বাইরে??? সাকিল: হুম ফিরে এসে সব বলব। সিগারেট টানবি???? আমি: ওর কপালে হাত দিয়ে- তুই ঠিক আছিস তো! সাকিল: কেন কি মনে হচ্ছে??? আমি ঠিক আছি। যা জামিল ভাইয়ের দোকান থেকে সিগারেট ধরায় নিয়ে আয়। আমি: না আমি পারবো না। আমি জানি তুই মন থেকে বলছিস না। সাকিল: তুই এতটুকু কথা মানবি না! কি আর করার???? সিগারেটে আগুন ধরায় নিয়ে আসলাম। শেষ কবে সাকিল স্মোক করেছিল আমার মনে নেই। সাকিল সিগারেটে একটা জোড়ে টান দিয়ে বলল, অভ্র তোর দেয়া প্রমিস মনে আছে????? আমি: হুম আছে। তোর কি লাগবে বলল। সাকিল: শ্রীঘই চাইবো। তুই কিন্তু মানা করতে পারবি না! আমি: আচ্ছা ঠিক আছে। যা চাইবি তাই দিবো। সাকিল: চল উঠি। অনেক কাজ বাকি আছে। আমি: আচ্ছা চল। সাকিলকে সেদিন বাসায় রেখে আসার পর কিছুদিন যোগাযোগ আর হয়নি। তবে সাজেদা মার সাথে কথা হয়েছে। সাকিল নাকি রওনা দিয়ে দিছে আমার সাথে কথা বলার পরের দিনেই। আরো কিছুদিন পর........ রাতের খাওয়া করে একটু আরাম নিচ্ছিলাম। তখনি সাজেদা মা কল দিল। আমি: হ্যালো মা! সাজেদা মা: অভ্র তুই জ্বলদি স্কয়ার হাসপাতালে চলে। কথাটি বলেই সাজেদা মা কল কেটে দিল। সাজেদার মার কন্ঠে কি যেন এক চাপা কষ্ট অনুভূত হলো। সাকিলের কিছ হয়নি তো। আমি অতো আর না ভেবে হাসপাতালের জন্য রওনা হলাম। হাসপাতালে গিয়ে দেখি সাজেদা মা কেবিনের বাইরে বসে কান্না করছে। আমি দৌড়ে সাজেদা মার কাছে গেলাম। তখনি একজন নার্স কেবিন থেকে বের হয়ে বলল,অভ্র কে???? রোগী তার সাথে কথা বলতে চায়। জলদি করুন, অপারেশনের জন্য দেরি হয়ে যাচ্ছে। নার্সের কথা শুনে আমার মাথা ঘুরে গেলো। কি বলল নার্স???? কার অপারেশন হবে????সাকিলের? ??? "অভ্র কেবিনে যাও,সাকিল তোমার অপেক্ষা করছে। সাজেদা মার কথায় কেবিনে গেলাম। বেডে শুয়ে আছে সাকিল। মুখে অক্সিজেন মাস্ক পড়া। কি হয়েছে সাকিলের???? সাকিল তো আমাকে কিছু জানায়নি,এমনকি সাজেদা মাও কিছু বলেনি। আমাকে কেবিনে ডুকতে দেখামাত্র সাকিল অক্সিজেন মাস্ক খুলে শুয়ে থাকা থেকে বসে গেল। সাকিল: মুচকি হেসে- কেমন আছিস অভ্র???? আমি: আমার কথা বাদ দে। কি হয়েছে তোর???? আর কিসের অপারেশন হবে তোর???? আমাকে কিছু জানাসনি কেনো???? সাকিল: এত্তো উত্তেজিত হচ্ছিস কেনো। সব বলব তোকে। আয় আমার কাছে বসে পড়। আমি কিছু না বলে সাকিলের কাছে গিয়ে বসলাম। তখনি সাকিল বলল,আমার ব্রেইন টিউমার হয়েছে অভ্র। আমি হয়তো আর বাচবো না। সাকিলের কথা শুনে আমার মাথায় বাজ ভেঙ্গে পড়ল। নিজের অজান্তে চোখ দিয়ে দুফোটা পানি পড়ল। আপুনির যখন বিয়ে হয়ে যায় তখন আমার চোখ দিয়ে একফোঁটা পানি বের হয়নি। কিন্তু এখন কাঁদতে ইচ্ছে করছে খুব। সাকিল আবার বলা শুরু করল,আসলে আমি মাদ্রাজ গেছিলাম,ওখানে ডাক্তার দেখাতে। কিন্তু ডাক্তার পরিষ্কার জানিয়ে দেয় অপারেশন সফল হওয়ার নিশ্চয়তা এক ভাগও নেই। তাই ভাবলাম মরতেই যদি হয় তাহলে নিজ দেশেই মরা যাবে। তাছাড়াও তোর সাথে অনেক কাজ বুঝিয়ে দেয়ার আছে আমার। সাকিলের কথা শুনে কি বলব আমি ভেবে পাচ্ছিলাম না। আমি যেন অবশ হয়ে গেছি। কিছু বলতে যাবো তাও যেন বলতে পারছিলাম না। গলায় যেন কিছু আটকে গেছে তাও কোনো মতে সাকিলকে বললাম, তুই এমন কিভাবে করতে পারলি??? আমাকে একটুও জানানোর প্রয়োজন বোধ করলি না! সাকিল: তুই আমাকে ভূল বুঝিস না অভ্র।তাহলে আমি সহ্য করতে পারবো না। আমি চাইনি তুই আমার জন্য ভেঙ্গে পড়িস। আমার কাছে বেশি সময় নেই অভ্র। তোর ওয়াদার কথা মনে আছে তো???? আমার গিফট দিবি না,পূরণ করবি না আমার শেষ ইচ্ছে???? আমি: কি যাতা বলছিস তুই! তোর কিছুই হবে না। সাকিল: নারে আমি আর বাচবো না। আমার মন বলছে। তুই আমার শেষ ইচ্ছে পূরণ করবি কি না বল। আমি: আচ্ছা বল কি তোর শেষ ইচ্ছে। কিন্তু তুই আগে এমন আজেবাজে কথা বলা বাদ দে। সাকিল: অভ্র আমি সত্যি বলছি। আচ্ছা তোর ভাবি যদি শুনতে পারে আমি আর বেচে নেই তাহলে ওহহহ নিজেকে শেষ করে দিবে।( আমার হাত ধরে) দোস্তো প্লিজ তুই ওকে আপন করে নে। তুই না হয় আজ থেকে সাকিল। আমি: হাত সরিয়ে দিয়ে- কি যাতা বলছিস তুই! এ কেমন করে হয়। আর তোর কিছু হবে না আমি বলছি। সাকিল আবার কিছু বলতে যাবে তখনি সাজেদা মা কেবিনে ডুকলো। তখনি সাকিল বলল,আম্মা অভ্রকে বল না আমার কথায় রাজি হতে। আর অভ্র তুই কি তোর ওয়াদার কথা ভূলে গেছিস??? আমি যদি তোর বন্ধু হয়ে থাকি তাহলে আমার শেষ ইচ্ছে তোর পূরণ করতে হবে। সাজেদা মা: অভ্র খোকার শেষ ইচ্ছে টা অন্ততপক্ষে পূরণ কর বাবা। আমি: তা কেমন করে সম্ভব সাজেদা মা! ভাবিকে এমন করে ধোকা দেয়া হবে না???? সাকিল: কেন সম্ভব নয়। আর আমি জানি তোর জীবনে অন্যকোন মেয়ে নেই। ওকে আপন করে নে অভ্র। ওর যদি কিছু হয়ে যায় আমি মরেও শান্তি পাবো না রে। কথাটি বলেই সাকিল কেমন জানি করতে লাগলো। আমি দৌড়ে বাইরে গিয়ে ডাক্তার ডেকে আনলাম। আমি কেবিনে ডুকতেই সাকিল আমার হাতে একটা ডায়েরি দিয়ে বলল,আমি জানি তুই আমার শেষ ইচ্ছে পূরণ করবি। তোর ওয়াদা ভঙ্গ করবি না। এই ডায়েরিতে ওর সম্পর্কে সব লেখা আছে। তাড়াতাড়ি ওর সাথে দেখা করিস। আজ থেকে তুই সাকিল। ওকে বলা আছে আমি কিছুদিন যোগাযোগ করতে পারবো না। তোর যদি কিছু সময় লাগে নিতে পারিস। আর আম্মার খেয়াল রাখিস দোস্তো । আমাকে ভূল বুঝিস না,আমি সহ্য করতে পারবো না রে। একনিশ্বাসে কথা গুলো বলে সাকিল আবার কেমন জানি করতে লাগলো। ডাক্তার তাৎক্ষনিক সাকিলকে মাষ্ক পড়িয়ে দিলো। সাজেদা মা আর আমাকে ডাক্তার বাইরে পাঠিয়ে দিল। বর্তমানে মনের ভিতর যে ঝড় বয়ে যাচ্ছিল তা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। কিছুদিন পর..... আজ জুম্মার দিন। সাকিলের কবর যিয়ারত করলাম। ছেলেটা সত্যি বলেছিল সেদিন আর কথা হয়নি সাকিলের সাথে। সাকিলের দেয়া ডায়েরি পড়া শেষ। ডায়েরির প্রতিটি পাতায় আরশিয়ার কথা লেখা আছে। হ্যা মেয়েটার নাম আরশিয়া,যাকে সাকিল অফুরন্ত ভালবেসেছিল। আরশিয়ার সাথে এখনো দেখা করিনি। মানসিকভাবে এখনো প্রস্তুত হয়নি। সাকিল যে আমার পাশে নেই এখনো তা মেনে নিতে পারিনি। সাকিলকে আজ সত্যি খুব মিস করছি। সাকিলের কবর যিয়ারত করে বাসায় গেলাম। এখন আমি সাজেদা মায়ের সাথে থাকি। আজ মাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে হবে। সাকিলের সেই কথা এখনো মাথায় ঘোড়পাক খায়,দোস্তো মায়ের খেয়াল রাখিস। হুম মার খেয়াল রাখি আমি দোস্তো। মাকে ডাক্তার দেখিয়ে বাসায় ফিরে আসলাম। ডাক্তার মাকে টোটাল বেড রেস্ট করতে বলেছে। তাই আমি মাকে বিছানায় শোয়ায় দিয়ে রাতের খাবার আনতে গেলাম। মাকে আমি নিজ হাতে খাওয়ায় দিচ্ছিলাম। খাওয়ার মাঝেই হঠ্যাৎ মা কেদে উঠলো। মা এমন প্রায় করে। তাই আমি কিছু না বলে মায়ের চোখের পানি মুছে দিলাম। তখনি মা বলল,অভ্র তুই কি সাকিলের শেষ ইচ্ছে পূরণ করবি না???? সাকিল আমার কাছে কখনো কিছু চায়নি আরশিয়ার বিষয় ছাড়া। বাবা তুই সাকিলের কথাটা মেনে নে। সাকিল কিন্তু মেয়েটাকে সত্যি ভালবাসতো।আরশিয়ার যদি খারাপ কিছু হয়ে যায় তাহলে সাকিলের আত্মা শান্তি পাবে না বাবা। মায়ের কথায় আমি কোনো জবাব দিলাম না। একটুপর মায়ের মাথা টিপে দিতে লাগলাম। কিছুক্ষণ পর মা ঘুমিয়ে গেল। রুমে এসে সাকিলের ফোনটা অন করলাম। আরশিয়ার নাম্বারে একটা মেসেজ দিলাম,আগামীকাল দেখা হচ্ছে। চার....... আরশিয়ার বাসা রংপুর শহরে। আমি একা যেতে চাইলাম কিন্তু মা রাজি হলো না। তাই মাকে নিয়েই রংপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম সকাল সকাল। ঠিক সন্ধ্যা বেলা রংপুর পৌছে গেলাম। আরশিয়ার বাসার কাছেই একটা হোটেলে রুম বুকিং করলাম। যে কয়দিন রংপুরে আছি এখানে না হয় থাকা যাবে। সেদিন আর আরশিয়ার সাথে কথা বলিনি। পরেরদিন আরশিয়ার বাসার দিক গেলাম। সাকিল যে ডায়েরি দিয়েছিল, তাতে আরশিয়ার বিষয়ে সব লেখা ছিল সব। আরশিয়ার বাসার সামনের দোকানটায় বসে পড়লাম। আরশিয়াকে কল দিলাম। আরশিয়া কল রিসিভ করে বলল,হ্যালো। আমি: কেমন আছো তুমি??? তোমাদের বাসাটা কিন্তু দেখতে বেশ ভালো। আরশিয়া আমার কথা শুনে বেশ ক্ষানিক চুপ করে রইল। আরশিয়ার বাসাটা চার তলা। ঠিক মিনিট দুয়েক পর ৩য় তলার বেলকনিতে একটা মেয়েকে আসতে দেখলাম। মেয়েটার চোখ যেন কাকে খুচ্ছিল। এ মেয়েটাই তাহলে আরশিয়া। আরশিয়া দেখতে ফর্সা না হলেও মুখে কি যেন মায়া ছিল। আমি হাত তুলে ফোনে বললাম, কাকে খুছজেন ম্যাম???? আরশিয়া আমাকে দেখতে পেলো। আমার কথার জবাবে কিছু বলল না আরশিয়া। ওর চোখদুটি কেমন জানি চিকচিক করছিল। মুখে এক স্বর্গীয় উজ্জ্বলতা দেখতে পেলাম। হয়তো মেয়েটা খুব খুশি হয়েছে। তখনি আমি বললাম,বিকেল


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৪০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অতৃপ্ত শেষ ইচ্ছা
→ আলেক্সান্ডারের শেষ ইচ্ছা ও একটি অমূল্য শিক্ষা
→ মহাবীর আলেকজান্ডারের শেষ ইচ্ছা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now