বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

কালো ছেলে

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X কালো ছেলে লেখক:-Hosain Ahmed(অভিমানি ছেলে) - - টিং টিং টিং ফোনের শব্দে ঘুম ভাঙ্গে সজীবের।ফোন স্কিনে ভেসে ওঠে তাঁর চিরচেনা নাম রুমা।ফোনটা রিচিভ করতে সে বিন্দুমাএ দেরী করেনা। রুমা:-শুভ সকাল। সজীব:-শুভ সকাল। রুমা:-এখন ওঠে নামাজে যাও। নামাজ থেকে এসে আমাকে ফোন দিবে বুঝেছো।এখন আমিও নামাজ পড়বো।আর আজকে একটা ছবি দিবে বুঝেছো।এখন বাই। সজীব:-ওকে বাই। সজীব ফোনটা রেখে সজীব চিন্তায় পড়ে গেলো সে তাঁর ছবি রুমাকে দিবে কীনা।আগে নামাজ পড়ে আসি তাঁরপর ব্যাপারটা ভাবা যাবে মনে মনে কথাটা বললো সজীব।আপনারা ভাবছেন একটা মেয়ে ছবি চাইছে এতে ভাবার কী আছে।ভাবার অনেক কিছু আছে কারণ সজীব দেখতে কালো।অন্য আর দশটা ছেলের মত সে অত স্মাটও না। নামাজ শেষকরে বাড়িতে এসে সজীব রুপাকে ফোন দিলো।একবার রিং হবার সাথে সাথেই ফোনটা রিচিভ হলো। সজীব:-কী করো। রুমা:-বসে আছি তুমি। সজীব:-সেম। রুমা:-এখন ফেবুতে এসে তোমার কয়েকটা ছবি দাওতো। সজীব:-ভালো ছবি তোলা নেই পড়ে দিবোনে হ্যাঁ।(সজীব ব্যাপারটা এড়িয়ে যেতে চাইছে) রুমা:-যা তুলা আছে তাই দিবে।আজ যদি তুমি আমাকে ছবি না দাও তাহলে আর কোনদিন আমার সাথে কথা বলবেনা। সজীব:-তোমার ছবি আমাকে দিবেনা? রুমা:-আগে তোমার ছবি দেখবো তাঁরপর আমার ছবি দিবো। সজীব কী বলবে বুঝতে পারেনা।সে রুমার সাথে কথা না বলে থাকতে পারবেনা। সজীব ভালো ভাবেই বুঝতে পারছে তাঁর ছবি দেখার পর রুমা আর কখনো তাঁর সাথে যোগাযোগ করবে না।কিন্তু তাঁর কিছু করার নেই।ফেবুতে গিয়ে সে ছবিগুলো রুমাকে দিলো।অপর দিকে রুমা ছবিগুলো দেখে অবাক হয়ে গেলো কারণ সজীব দেখতে খুব কালো।তাঁর মত সুন্দরী একটা মেয়ে কীনা এ রকম গেয়ো ভুতকে ভালবেসেছে এটা ভাবতেই তাঁর কেমন লাগছে।কিছুক্ষণ পড়ে সজীব রুমাকে ফোন দেই রুমা ফোনটা রিচিভ করেনা।কয়েকবার ফোন দেবার পর যখন রুমা ফোনটা ধরলো না তখন সজীব বুঝতে পারলো কেনো রুমা ফোনটা ধরছে না।সজীব রুমাকে একটা মেসেজ পাঠায়---- আমাকে দেখে তোমার পছন্দ হয়নি এটা আমি বুঝতে পারছি কিন্তু বিশ্বাস করো আমি তোমাকে সত্যিই ভালবাসি।তুমি এখন হয়তো আর চাইবেনা আমার মত গেয়ো ভুতের সাথে রিলেশন রাখতে।ঠিক আছে আমি আর তোমাকে বিরক্ত করবোনা।ভালো থেকো।বাই ইতি সজীব। (((মেসেজটা দিয়ে সজীব ফোনটা বন্ধ করে রাখে।অঝোরে কাঁদতে থাকে আর বলতে থাকে হে আল্লাহ কেনো তুমি আমাকে এত কালো বানালে।ছোটবেলা থেকে আমাকে সবাই কেনো এত অবহেলা করে।আমিওতো মানুষ।যাকে নিয়ে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখলাম তাঁকেও কেনো কেঁড়ে নিলে।)) কিছুক্ষণ পর রুমা দেখতে পায় সজীব তাকে মেসেজ পাঠিয়েছে। রুমা সজীবের মেসেজটা দেখে।সে কী করবে কিছুতেই ভেবে পাইনা।তাঁরমত একটা সুন্দরী মেয়ের সাথে এরকম ছেলেকে কেউ মেনে নিবেনা।অকেনক্ষণ ভাবার পর রুমা সিদ্ধান্ত নেয় সে সজীবকেই ভালবাসবে তাঁতে যা হবার হবে।সে সজীবকে ফোন দেয় কিন্তু সজীবের ফোনটা বন্ধ দেখায়।এভাবে অনেকবার ফোন দেয় প্রতিবারই ফোনটা বন্ধ পায়।রুমা ফেবুতে ঢুকে দেখে সজীবের আইডি ডিএকটিভেট।রুমা বুঝতে পারে সজীব কেনো এসব করছে।রুমা কী করে সজীবের সাথে যোগাযোগ করবে সেই চিন্তায় পাগলের মত হয়ে যাই।অপরদিকে সজীব শুয়ে শুয়ে কাঁদছে।তাঁর খুব কষ্ট হচ্ছে।সজীবের অতীতের কথাগুলো আজ খুব মনে পড়ছে।সজীব একদিন তাঁর নাম্বারে টাকা লোড দিতে যাই।দোকানদার একটা সংখ্যা ভুল করে টাকগুলো অন্য নাম্বারে পাঠিয়ে দেই।সজীবের ফোনে টাকা না আসলে সে আবার লোডের দোকানে যাই।দোকানদারকে সে জিঙ্গেস করে তাঁর টাকাটা এখনো লোড দেয়নি কেনো।দোকানি বলে তিনিতো অনেক আগেই টাকা দিয়ে দিয়েছে।সজীব বলে টাকা তাঁর ফোনে আসেনি।দোকানী নাম্বারটা আবার বলতে বলে।দোকানি বলে আপনার নাম্বারটা ভুল হইছে।শেষে ১ জায়গাই ২ হয়ে গিছে।সজীবের খুব রাগ হয় দোকানির উপর।সজীব আবার টাকা লোড দিয়ে বাড়িতে এসে ওই নাম্বারে ফোন দেয়।একটা মেয়ে ফোনটা রিচিভ করে। একটা মেয়ে:-হ্যালো কে বলছেন।মেয়েটির কন্ঠটা শুনেই সজীব টাসকি খাই।এত সুন্দর কারো কন্ঠ হতে পারে তাঁর জানা ছিলনা) সজীব:-আপু আমাকে আপনি চিনবেন না।আপনার নাম্বারে ভুলে টাকা চলে গেছে আপনি যদি টাকাটা ফেরত দিতেন তাহলে খুব ভালো হতো। মেয়েটি:-ওমা তাই।ভুলে যখন চলে এসেছে তখনতো আর ফেরত পাবেন না।তবে আজকে যদি আমাকে হাঁসাতে পারেন তবে আপনার টাকা ফেরত পাবেন। সজীব মনে মনে ভাবে একোন মেয়ের পাল্লায় পড়লাম রে বাবা।তবুও সজীব মেয়েটিকে অনেক কিছু বলে হাঁসানোর চেষ্টা করলো কিন্তু পারলো না। সজীব:-আমি আপনাকে হাঁসাতে পারবোনা আমার টাকা ফেরত দিন। মেয়েটি:-ঠিক আছে দিবো।আজতো আমার কাছে টাকা নেই কালকে দিবো। সজীব:-ঠিক আছে।বাই এভাবেই তাঁদের কথা শুরু। পরেরদিন সজীব আবার মেয়েটিকে টাকার জন্য ফোন দেয়।সেদিন মেয়েটি টাকা দিয়ে দেয়।এরপর কিছুদিন পর সজীব কী মনে করে আবার মেয়েটির নাম্বারে ফোন দেয়।মেয়েটিও ফোনটা রিচিভ করে।সেদিন তাঁদের মধ্যে কিছুসময় কথা হয়।এরপর থেকে মাঝে মাঝেই তাঁদের কথা হতো।আস্তে আস্তে দুজন দুজনার সম্পর্কে জানতে পারে।মেয়েটির বাড়ি ছিলো ঢাকা আর ছেলেটার বাড়ি কুষ্টিয়া।মেয়েটি নাম ছিলো রুমা।রুমা ছিলো উচ্চ পরিবারের মেয়ে আর সজীব ছিলো মধ্যবিত্য পরিবারের সন্তান।সজীব সব সময় রুমাকে সব কিছু শেয়ার করতো।সজীব আর রুমা দুজনই অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে পড়তো।আস্তে আস্তে তাঁদের বন্ধুত্ব গাড় হতে থাকে।কোন লেখক যেনো বলেছিলো একটা ছেলে আর মেয়ে বেশিদিন বন্ধু থাকতে পারেনা।একসময় না একসময় তাঁরা ভালবাসার সম্পর্কে জরাবেই।তাঁদের ক্ষেএেও তাই হলো।একসময় দুজন দুজনার প্রেমে পড়ে যায়। তাঁরপর থেকে শুরু হয় তাঁদের নতুন পথচলা। **সজীব সজীব*** সজীবের আম্মার ডাকে সে বাস্তবে ফেরে। সজীবের আম্মা:-কিরে ঘরটা এভাবে অন্ধকার করে রেখেছিস কেনো।খেতে আয়। সজীব:-তুমি যাও আমি আসছি।। অপরদিকে রুমা সজীবের সাথে যোগাযোগ করতে না পেরে পাগলের মত হয়ে গেছে।রুমার একসময় মনে পড়ে একদিন সজীব তাঁকে তাঁর এক ফ্রেন্ডের নাম্বার দিয়েছিলো।রুমা জলদি ডায়রি থেকে নাম্বারটা খুজে সেই নাম্বারে ফোন দেয়।ফোনটা রিচিভ হবার সাথে সাথে রুমা:-আপনি কী সজীবের ফ্রেন্ড। ছেলেটি:-হ্যাঁ কিন্তু আপনি কে। রুমা:-আমি রুমা।আমাকে একটু সজীবের সাথে যোগাযোগ করিয়ে দিন প্লিজ। ছেলেটি:-ও আপনি।ঠিক আছে আমি সজীবের বাড়িতে গিয়ে আপনাকে ফোন দিচ্ছি। এখন রুমার কিছুটা ভালো লাগছে কারণ সে সজীবের সাথে যোগাযোগ করতে পারবে। কিছুক্ষণ পর। সজীবের বন্ধুর নাম্বার থেকে ফোন আসলো।ফোনটা রিচিভ করার পর। ছেলেটি:-সজীবের সাথে কথা বলুন।(সজীবের কাছে ফোনটা দিয়ে) রুমা:-এই তুমি ফোন অফ করে রেখেছো কেনো।আর আমার সাথে কোন যোগাযোগ করোনা কেনো। সজীবgjচুপ রুমা:-তুমি আজই ঢাকাতে আসবে।আমি তোমার বিকাশ নাম্বারে টাকা পাঠিয়ে দিচ্ছি সেটা তুলে আজই ঢাকা রওনা দিবে।ফোনটা তোমার বন্ধুর কাছে দাও। সজীবের বন্ধু:-বলেন। রুমা:-আপনি সজীবকে নিয়ে আজই ঢাকাতে আসবেন।কোথায় আসতে হবে আমি পরে সব জানাবো। *****৬ ঘন্টা পর***** সজীব ও তাঁর বন্ধু এখন বসে আছে একটা লেকের ধারে।রুমা এখানেই তাঁদের আসতে বলেছে।কিছুক্ষণ পর পরীর মত দেখতে একটা মেয়ে সজীবের সামনে এসে দাঁড়ালো।সজীব বুঝতে পারলো এটাই রুমা কারণ ভালবাসার মানুষটির নিশ্বাসের শব্দেও বুঝা যাই এটা তাঁর ভালবাসার মানুষ।সজীব একদৃষ্টিতে রুমার দিকে তাঁকিয়ে আছে।তাঁর চোখের পলক যেনো কিছুতেই পড়তে চাইছেনা।রুমাও একদৃষ্টিতে তাঁকিয়ে আছে।সজীবের বন্ধু ওদের কথা বলতে বলে অন্যদিকে চলে গেলো।রুমাই প্রথমে বলতে শুরু করলো রুমা:-তোমার ছবি দেখার পর ভেবেছিলাম তোমার সাথে আর রিলেশন রাখবো না কিন্তু পরে ভেবে দেখলাম তোমাকে ছাড়া আমি থাকতে পারবো না। সজীব:-আমাকে পরে ছেড়ে চলে যাবেনাতো। রুমা:-ছেড়েই যদি যাবো তবে কী আজকে এখানে আসতে বলতাম এই বলেই রুমা সজীবকে জরিয়ে ধরলো।সজীবও রুমাকে শক্ত করে জরিয়ে ধরলো।দুজনের চোখ দিয়েই পানি পড়ছে।এটা দুঃখের কাঁন্না না।এটা দুজন দুজনকে আপন করে পাবার কান্না।বেঁচে থাকুক তাঁদের ভালবাসা। - সমাজে কালো ছেলে এবং কালো মেয়েগুলোকে আমরা সবসময় একটু বেশিই অবহেলা করি।আমাদের সবার উচিত তাঁদের কে অন্য আর দশটা মানুষের মত ভালবাসা।কালো বলে তাঁদের ধিক্কার না দেওয়া।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১২১৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ কালো ছেলে...........
→ কালো ছেলে
→ কালো ছেলে
→ কালো ছেলে
→ কালো মতো ছেলেটা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now