বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
গল্প - "আমি ও পিয়াস"
~~~~~~~~~~
ঘুম ভাংগার আগেই কানে আওয়াজ এলো ,
-- দরজাটা বন্ধ করে দাও।
.
চমকে উঠেই আমি বসে আবিরের চলে যাওয়া দেখলাম। তারপর দরজাটা বন্ধ করলাম। আবির আমার স্বামী। বিয়ে হয়েছে প্রায় তিন মাস হয়েছে,কথা বার্তায় আমরা স্বাভাবিক। প্রয়োজন ছাড়া তেমন কথা বলা হয় না।
মাঝে মাঝে চিন্তা করি ঘটনাটা অন্য রকম হতে পারত,যেমন খুব ভোরে উঠে আমি আবিরের জন্য নাস্তা বানিয়ে খুব সুন্দর করে ওকে ঘুম থেকে জাগাতে পারতাম। ভেজা চুল,হাত ভর্তি কাচের চুড়ি,গায়ে সুগন্ধীতে ওকে মাতাল করে দিতে পারতাম। ঠিক অফিসে যাবার সময় ওর গলাটা জড়িয়ে ধরে বলতে পারতাম,তাড়াতাড়ি চলে আসবে কিন্তু! অথবা কোন একদিন সকালে উঠে ওর সেই দিনের পড়া শার্ট লুকিয়ে রেখে বলতে পারতাম _--- এক দিন অফিসে না গেলে এমন কি হয়! থাকো না প্লিজ আজ আমার সাথে!
.
না এমন কিছুই হয়না,কেন জানি আমি পারি না। বিয়ের আগে আমি বার বার বলেছিলাম ,আমি পারব না ,আমাকে দিয়ে হবে না ঘর সংসার। কিন্তু আমার মা কথাটা শুনেনি। আবির কেও বলেছিলাম ,উত্তরে ও বলেছিল -- ভরসা রাখো ,আমি মানিয়ে নিতে শিখাবো।
.
আচ্ছা আমি মাঝে মাঝে ভাবি আবির আমাকে মানিয়ে নেয়া শিখাচ্ছে?! তবে স্বামী কেন ও আমার টিচার হলেই ভাল হতো। সেই বিয়ের দিন থেকেই আমি তার পাশে গিয়ে কোন দিন বসিনি,কখনো জানতে চাইনি তার শরীর খারাপ কি না!কিন্তু ছেলেটা কখনো আমার সাথে সামান্যতম মেজাজ খারাপ করেনি। শুনেছি ভালবাসার নাকি অনেক ধরন থাকে,হয়ত সে আমাকে ভালবাসে।
.
২/
.
সেইদিন বারান্দায় দাড়িয়ে আছি,নীচের রাস্তার দিকে দেখছিলাম,কত্ত মানুষ কত্ত তাদের কাজ। সারা দিন আমার আলস্যে কাটে ,সারাদিনে কোন মানুষ নেই যার সাথে একটু কথা বলবো। তাই ঘরের ভেতর ঘুড়ে ফিরেই কাটাই।
.
একি! একটা পরিচিত মুখ লাগছে ,রিকশায় করে যাচ্ছে আমার বাসার সামনের রাস্তা দিয়ে। হ্যাঁ পিয়াসই তো ,আমি চমকে উঠলাম,বুকের ভেতরে ঠিক কলিজায় কে জানি মোচড়া দিলো|আমি চিৎকার করে ডাকতে চাইছিলাম -- পিয়াস,পি..য়া..স! কিন্তু কেন জানি পারলাম না। পুরনো ডায়েরি থেকে পিয়াসের নাম্বার বের করলাম,তারপর অনবরত কল করলাম ,কিন্তু নাম্বারটা বন্ধ বলছে। যদি কখনো ভুলেও নাম্বারটা অন করে এই ভেবে আমি মেসেজ পাঠিয়ে রাখলাম।
.
বিষন্নতায় আজ আরো ঘিরে ধরেছে আমায়। ভার্সিটি লাইফের পুরো সময়টা কেটেছে আমার পিয়াসের সাথে। সিনিয়র ভাই ডিপার্টমেন্টের, তাই প্রথম প্রথম ভয় পেতাম। একদিন আমাকে ক্যাম্পাসে ঢোকার পথে দাড়া করালো ,বলল
.
--- তুমি মুনিয়া না?
--- না ভাইয়া আমি ,অর্পিতা।
--- রাইট অর্পিতা,বাবা ----,মা ----,দুই ভাই এক বোন। জন্ম --সিলেটে। বাসায় একটা খরগোশ আছে? রাইট!
--- আমি হা হয়ে ওনার মুখের দিকে তাকিয়ে রইলাম।
--- মশা যাবে।
--- মানে?
--- মুখটা বন্ধ করতে বললাম।
--- ওকে।
--- আরে ওকে মানে ,এক প্যাকেট বেনসন কিনে দাওতো।
.
এবার আমি ভয়ে ভয়ে ব্যাগ থেকে পাচঁশো টাকার নোটটা বের করে এগিয়ে দিলাম,ওই সময় পিয়াসের সাথে আরো কয়েকজন ছিল। আমি আর কথা না বাড়িয়ে চলে গেলাম।
ওই দিন সারাটা দিন আমার কেমন জানি কেটেছে,এমন উড়নচন্ডী ছেলে ক্যাম্পাসে আছে আমার জানা ছিল না। তবে অবাক হয়েছিলাম,ও আমার পারিবারিক তথ্য কি করে পেলো।
.
যাই হোক পরের দিন ,আবার আমাকে পেছন দিক থেকে ডাকলো
.
-- হেই ,মিস
আমি ঘুড়ে তাকাতেই বলল,
-- টাকা...
ওর কথা শেষ না হতেই আমি বললাম সাথে সাথেই, আজ দিতে পারব না,টাকা নাই সাথে।
এবার কাছে এগিয়ে এলো ,আমার সামনে কিছু টাকা ধরে বলল, এক প্যাকেট বেনসনের দাম এতো নয়,তাই তোমার বাড়তি টাকা ফেরত দিতে এলাম।
----লাগবে না ফেরত দেয়া,আপাতত যে কয়টা প্যাকেট হয় সেই কয়টা কিনে নিন।
.
বলেই আমি চলে এলাম। কয়েক মাস পরে পিয়াস আমাকে প্রপোজ করলো,আমার বন্ধুরা বলল, ছেলে খারাপ না,স্টুডেন্টও ভাল,একটু পাগলামী করে আরকি। আমি প্রথমে পাত্তা দিতাম না,কিন্তু কেন জানি ধীরে ধীরে আমি পিয়াসের ওপর দূর্বল হয়ে পড়লাম। তারপর ..... . পিয়াস একদিন বলল ,চলো বিয়ে করি।
--সিরিয়াসলি?
---হুম সিরিয়াসলি,আমি একটা জবে জয়েন করব নেক্সট মান্থে ,বাসায় এখন জানাবো না। তোমার তো ফাইনাল আর তিনটা সেমিস্টার বাকি। পরে না হয় একটু গুছিয়ে তারপর সবাইকে জানাবো।
--- কিন্তু আমার বাসায় জানলে আমার সমস্যা হবে।
---আরে গাধী কেউ জানবে না,ধরো আমি জব পাওয়ার পরে ছোট্ট একটা বাসা নিয়েছি,আর খুব ইচ্ছা করছে তোমার হাতের রান্না খাবো,তখন যদি তুমি ওই বাসায় আসা যাওয়া করো তবে লোকে অথবা বন্ধুরা খারাপ বলবে,তাই বেটার বিয়ে করে নেয়া।
.
ওর কথাটা যৌক্তিক মনে হয়েছে,তাই বিয়েটা সেরে নিলাম। দু'জনার কারো বাসায় কেউই জানতো না। আমার বাসায় যখন আমার মা জানতে পারে তখন আমি দুই মাসের অঅন্ত:স্বত্বা। মা আমাকে প্রথমে বলেছিল সুইসাইড করতে নইলে সেই নাকি সুইসাইড করবে। আমি চেস্টা করেছিলাম কিন্তু পারিনি। পিয়াসের ফোন বন্ধ পাই, যে দিন ও বাড়ী চলে যায়। সব বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ করেছি কেউ বলতে পারেনি পিয়াস কোথায়! এক বন্ধুকে পাঠিয়ে ছিলাম পিয়াসের বাড়ীর ঠিকানায় ,ও ফিরে এসে বলেছিল পিয়াস নাকি ফেরার পথে গাড়ী এক্সিডেন্টে মারা গেছে।
.
কতবার আমি শুধু মাত্র পিয়াসের কবরটা দেখতে যেতে চেয়েছিলাম,কিন্তু আমার মা আমাকে যেতে দেননি। আমাকে একটা নার্সিং হোমে নিয়ে বাচ্চাটা নষ্ট করতে হয়েছিলো। এই সব ঝামেলার কারনে আমার আর ফাইনাল এক্সামটাও দেয়া হলো না।
.
৩/
.
আসলে কিছু সময়ের পরে অতীত আরো ঝেকে বসে মনে,চাইলেই ভুলে থাকা যায় না। এখন আমার লাইফে হাসি,আনন্দ কিচ্ছু যায় আসে না। কোন কিছুতে মন ও টানে না। সে দিন বারান্দা থেকে রিকশায় যেতে দেখলাম লোকটাকে। হ্যাঁ আমি ঠিকই দেখেছি,ওটা পিয়াস!মন কে বার বার বোঝানোর চেস্টা করি,ওটা পিয়াস নয় !ওটা অন্য কেউ। ঠিক তেমনি আরো একদিন দেখলাম রিকশায়,এবার আমি ঠিক করলাম পিছু নিব। আমার বাসা থেকে কয়েকটা বাসা পাড় হয়ে একটা গলি,ও সেই গলির মাথায় গিয়ে একটা বাড়ীর তিন তলার ফ্ল্যাটে ঢুকে গেলো। কিছু সময় পরে আমি ওই ফ্ল্যাটের কলিংবেল বাজাতেই পিয়াস দরজাটা খুলে দিল। পেছনে আমার বয়সী বা ছোট হবে এমন একটি মেয়ে দাড়িয়ে। আমাকে দেখে চমকে উঠেছিল পিয়াস। খুব সুন্দর করে হাসি দিয়ে বললাম,
--- কি চমকে গেলে ,পিয়াস ভাই!
.
তখনো পিয়াসের মুখে ম্লান হাসি,আমি বললাম, --পাশের ফ্লাটে এসেছি ,আমার কাজিন থাকে ওখানে। পিয়াস ভাইকে দেখেই ভার্সিটির কথা মনে পড়ে গেলো,তাই চলে এলাম।
.
এবার পিয়াস আমাকে বলল,
--হ্যাঁ এসো ভেতর,বসো। পরিচয় করিয়ে দেই আমার বউ ,ও আমার ছোট চাচার মেয়ে। এত তাড়াহুড়ো করে বিয়েটা হয়ে গেলো যে কাউকে জানাতে পারিনি।
.
ওদের বাসায় ছোট্ট একটা বাচ্চা ,এক বছর বয়স হবে। কয়েক বার বাচ্চাটার মুখের দিকে তাকালাম,ওই বাচ্চাটা আমার হতে পারত। মনে পড়ে গেলো অবাঞ্চিত সন্তান বলে আমি আমার সন্তান কে নিজ হাতে মেরে ফেলেছি হাসপাতালে গিয়ে। নাহ আর বেশি সময় বসতে পারিনি ওদের সাথে। সৌজন্য বিদায় নিয়ে বাসায় চলে আসলাম।
.
৪/
.
পরের দিন খুব ভোরে ঘুম থেকে জাগলাম। আজ আমি শাড়ী পড়েছি,দু হাত ভর্তি চুরি। পাউরুটি ছেকে টেবিলে রেখেছি সাথে জেলির বয়ামটাও। আজ আমি আবির কে ঘুম থেকে জাগাবো,তাই আস্তে আস্তে রুমে ঢুকলাম,হাতটা আবিরের চুলের ভেতরে আলতো করে বুলাতে লাগলাম। আবির চমকে উঠে আমার দিকে তাকিয়ে আছে বাকশুণ্য হয়ে। আমি বললাম,
.
-- ওঠো ফ্রেশ হবে,আমি নাস্তা নিয়ে ওয়েট করছি।
আবির আমার হাতটা মাথার কাছ থেকে সরিয়ে বলল, আজ আমার অফিসে না গেলে হয় না?
আমি খুব লজ্জা ভংগীমায় বললাম, নাহ,একদম না।
উত্তরে আবির ---- দেখো জ্বর জ্বর লাগছে।
.
বি:দ্র:তাকেই ভালবাসুন যে ,আপনাকে সন্মান দিতে জানবে!
.
লেখা - -ছন্নছাড়া অর্পিতা
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now