বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
জীবন চক্র
ইমরান হোসেন
জীবনেরও নাকি চক্র আছে। চারটি জীবনের ব্যবচ্ছেদ করবো আজ। ধৈর্য্য নিয়ে দেখুন, পড়ুন।
ব্যবচ্ছেদ নম্বর এক.
আকরাম খন্দকার ও কামরুন নাহার সুইটি বিয়ে করেছেন আট বছর হলো। এমন রোমান্টিক দম্পতি আর দ্বিতীয়টি নেই। দুজন দুজনকে ছাড়া শেষ কবে থেকেছেন মনেই করতে পারেন না।
আকরাম সাহেব ব্যবসায়ী। অঢেল টাকা পয়সা না থাকলেও যা আছে তা দিয়ে আরাম আয়েশে বাকি দিনগুলি কাটাতে পারবেন। ব্যবসায়ের কাজে আকরাম সাহেব যতদূরেই যান না কেন স্ত্রী তার সাথে থাকতেই হবে। এমনো হয়েছে ব্যবসায়ী ক্লায়েন্টদের কাছে যাওয়ার সময়ও স্ত্রীকে নিয়ে গেছেন।
অনেক সুখী এ দম্পতি আজ হাজির হয়েছেন গাইনি বিশেষজ্ঞ ডাঃ জোহরা খানমের চেম্বারে। এত সুখ তবুও কি যেন নেই। একটা শূণ্যতা বিরাজ করে চার রুমের বিশাল ফ্লাটে। কতবার কামরুন নাহার বলেছেন আবার বিয়ে করতে। কিন্তু করেন নি।
আগেও অবশ্য জোহরা খানম কামরুন নাহারকে পরীক্ষা নিরীক্ষা করেছেন। পরীক্ষা করেছেন আকরাম সাহেবকেও। সব কিছু স্বাভাবিক। কিন্তু বাচ্চা কেন যে হচ্ছে না, আল্লাহ মালুম।
আজ আইভিএফ করবেন ডাঃ জোহরা। একটা শেষ চেষ্টা করে দেখা যাক। বিখ্যাত সেই উক্তির মত, ‘বাচ্চারা দম্পতির জীবনে আলো নিয়ে আসে, যে আলো কোনোদিন বন্ধ হয় না।’ সেই আলো আনার প্রচেষ্টা আজ।
ব্যবচ্ছেদ নম্বর দুই.
আব্দুর রব। গ্রামের নিম্ন নিম্নবিত্ত ঘরের এক বর্গা চাষী। স্ত্রী কুলসুম। অভাবের সংসারে মাত্র সাতটি সন্তান। চার ছেলে, তিন মেয়ে। সবার ছোট ছেলেটি মায়ের বুকের সাথে লেপ্টে থাকে সবসময়।
পরিবার পরিকল্পনা কি জিনিস রবও বুঝেন না। আর কুলসুমও মাসিকের হিসাব রাখতে পারে না। তাই প্রতি বছরেই সংসারে নতুন আলো আসে। আর রবের মুখ অন্ধকার হয়ে যায়।
অথচ বড় মেয়ে হবার সময় রবের খুশি আর ধরছিল না। প্রতি রাতে বউয়ের পেটে মাথা রেখে বাচ্চার সাথে গল্প করতো। ‘কবে আসবি তুই। তাড়াতাড়ি আয়। ওই বৌ, আর কতদিন?’ কান ঝালাপালা হয়ে যেত কুলসুমের। এখনো ঝালাপালা হয়। যখন মাগি বলে গালিগালাজ করে রব, মরে যেতে ইচ্ছা করে।
গ্রামের এক ভাবি বলেছে, উপজেলা সদর হাসপাতালের ডাক্তারের কাছে গেলে এবারের আলোটি শেষ করা যাবে। বাইরে বসে আছে রব। ভিতরে কাঁদছে কুলসুম। ডাঃ মুকুন্দরাম আলোটি শেষ করছেন। আর বাইরে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে আব্দুর রব।
ব্যবচ্ছেদ নম্বর তিন.
মোহাম্মদ আলীর তিন ছেলে মেয়ে। ছেলে দুটি যমজ। বড় ছেলে জগ্ননাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স মাস্টার্স কমপ্লিট করে বেসরকারী একটি কলেজে প্রভাষক পদে যোগ দিয়েছে এই তো তিন মাস হলো। ছোট ছেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ কমপ্লিট করেছে। এখন ব্যাংকে চাকরি করছে উচ্চ বেতনে।
সবার ছোট মেয়ে। নামকরা মেডিকেল থেকে পাশ করেছে। ইন্টার্নশিপ শেষ করেছে কিছুদিন হলো। গোপনে বিয়ে করেছে এক হিন্দু ছেলেকে। তিন মাসের গর্ভবতী। এই খবরটি আলী সাহেব শুনেছেন দুইদিন আগে। স্ত্রীকে নিয়ে রংপুর শহরে এসেছেন আজ। মেয়েকে নিয়ে গেছেন শালার বাসায়।
অনেক বুঝিয়ে, সত্যি বলতে ইমোশনালি ব্ল্যাকমেইল করে রাজি করিয়েছেন মেয়েকে, বাচ্চাটি নষ্ট করবেন। মেয়ে কাঁদছে খুব। কিন্তু মেয়ের চোখের জলের চেয়ে সামাজিকতা বড় জিনিস। ডাঃ বিজন মালাকারের সাথে আগেই যোগাযোগ করেছেন। বাচ্চাটি আজ রাত এগারোটায় ডাক্তারের বাসাতেই খুব গোপনে হত্যা করবেন।
ব্যবচ্ছেদ নম্বর চার.
পথে ভিক্ষা করছে পঙ্গু মোর্শেদ। তেঁজগাও বস্তিতে থাকেন স্ত্রী আর দুই মেয়েকে নিয়ে। সারাদিন ভিক্ষা করে যা পান তা দিয়েই বস্তির এ ঘর আলোকিত করেন বাচ্চাদের সাথে।
অন্যের বাসায় কাজ করা বৌয়ের প্রতিদিনের মত হতাশার কথা শোনেন আর ছোট মেয়েটিকে বুকে নিয়ে হাসেন। বলেন, ‘তুই যে কি বলিস বৌ! আমার মেয়ে তো রাজ রানী। দেখিস তুই, দুইটা রাজপুত্রের সাথে বিয়ে দিব আমার মেয়েকে। অনেক ধুমধাম করে।’ ততক্ষণে ক্লান্ত পরিশ্রান্ত বৌ ঘুমের দেশে। নাক ডেকে জানান দিচ্ছে রাজার রাজ্য দূর বহুদূর।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now