বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
প্রথম প্রেম
সবসময় আব্বু বলতেন ক্লাশের সবচেয়ে ভদ্র,
মেধাবি ছেলেটি যেন আমি হই কিন্তু হতো
তার বিপরীত। ক্লাশ সেভেনে পড়তাম,
ক্লাশমেটদের একটি অংশের মাঝে তুমুল
জনপ্রিয় আবার আরেকটি অংশ একশো হাত
দূরে থাকতো। কালাম স্যার আমাদের গনিত
পড়াতেন তাকে আমরা ভয়ংকর কালাম স্যার
বলে ডাকতাম। কেন যেন কালাম স্যার ক্লাশে
প্রবেশের সাথে সাথে আমাকে খুজতো
পানিশমেন্ট দেয়ার জন্য । আমাকে পানিশমেন্ট
দেয়ার সময় সবাই হাসলেও তরু উদাস নয়নে
তাকিয়ে থাকতো । গনিত বইটা হারিয়ে
যাওয়ায় তরুকে বলি - তোর বইটা আমাকে
দিয়ে দে। সাথে সাথেই তরু বই দিয়ে দেয়। ঐ
দিন কালাম স্যার কেন যেন মারাত্মক রেগে
ছিলো। ক্লাশে এসেই বই আনার অপরাধে
তরুকে পানিশমেন্ট দিলো। স্বার্থপরের মতো
আমি তাকিয়ে তরুর চোখে পানি দেখলাম
দেখলাম। বিবেকের দংশন চেয়ে বড় শাস্তি
মনে হয় পৃথিবীতে নেই।
প্রথমবারের মতো তরুর মায়া মায়া চেহেরা
আর স্নিগ্ধ দৃষ্টি দিয়ে সহজেই আমার মন
কেড়ে নিলো । তরুর রুপে আগুন ঝড়ায় না
বরং তার মাধুর্য ছড়িয়ে পড়ে আমার হৃদয়ে ।
কিভাবে যেন আমার ছেলেমানুষিগুলি হাওয়া
হয়ে গেল। তরু যেখানে প্রাইভেট পড়তো
আমিও সেখানে পড়া শুরু করলাম। তারপর
একসাথে একসাথে স্কুল , প্রাইভেটে যাওয়া
আসা , সুযোগ পেলেই একজন আরেকজনের
দিকে তাকিয়ে থাকার মতো ভালবাসার
খুনসুটি লেগেই থাকতো । জন্মদিনে তরুর
দেয়া গিফ্টের প্যাকেট আজও খোলা হয় নি।
আমিও টিফিনের টাকা জমিয়ে ওর জন্য অ
কিনতাম । কেন যেন আমার ভালো লাগতো
তরুর জন্য কিছু কিনতে । আমরা প্রায়ই স্কুল
ফাকি দিয়ে ক্যান্টনমেন্ট লেকে ঘুরে বেড়াতাম।
ভালবাসার মানুষটির হাত ধরে ঘুরে বেড়ানো
পৃথিবীর অন্যকোন সুখ শ্রেষ্ঠ সুখ। মাথা ভর্তি
ছিলো আলোথালু বাদামি রঙ্গের চুল , খাড়া
নাক, গভীর গভীর দুটি চোখ, পাতলা ঠোট...
তরুর দিকে তাকালো পৃথিবীর সমস্ত সৌন্দর্য
স্লান হয়ে যায়। বিকেলে হাত ধরাধরি করে
হাটতাম আর ভবিষ্যতের স্বপ্ন বোনতাম,
প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে ছিলাম সারা জীবন
একসাথে থাকবো। বাবার বদলি হওয়ায় আমি
চলে আসি ঢাকায়। সময়ের। সাথে সাথে
আমাদের ভালোবাসাটা হালকা হতে শুরু
করে। প্রথম কয়েকমাস আমাদের নিয়মিত
কথা হতো । হঠাৎ একদিন ফোন বন্ধ পাই,
এখনো নম্বরটিতে ডায়াল করি। জানিনা তরু
এখন কোথায় আছে, কেমন আছে। জীবনের
পথে চলতে চলতে তোমাকে খুজি বেড়াই।
যেখানেই থাকো, ভাল থেকো।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now