বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

জীবনসঙ্গী এবং আমার দৃষ্টিভঙ্গি

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X " জীবনসঙ্গী এবং আমার দৃষ্টিভঙ্গি " সঙ্গী, অতি গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়। কারণ মানুষ একা বাঁচতে পারে না। আর তাই, জড়বস্তুও একটা মানুষের সঙ্গী হয়ে উঠতে পারে, যেকোনো জীবের মতই। গোটা জীবনের জন্য আমরা সাধারণত একজন সহযোগী, সহযাত্রী খুঁজি, আর একেই বলি জীবনসঙ্গী। পাশ্চাত্য সমাজে এক জীবনসঙ্গীর ব্যাপারটা অনেকটা গৌণ হলেও প্রাচ্য সমাজে এটা মুখ্য একটা বিষয় এখনো। সাধারণ বাস্তবতা এমনটা হলেও একটা বিষয়ে আমি ঠিক, সত্য সৌন্দর্য এবং যৌক্তিকতা খুঁজে পাই না। বিষয়টা হচ্ছে, যখন কাউকে জীবনসঙ্গী হিসেবে ভালোবাসা হয় বলে দাবী করা হয়, অথচ তাকে পাওয়া না হলে অপর কাউকে গ্রহণ করা হয়, তখন এতে প্রয়োজন ব্যতীত প্রেম দৃষ্টিগোচর হয় না। অবশ্য আজকাল তো প্রয়োজনকেই প্রেম বলা হয়। কিছু আবেগ থাকে ওতে। প্রয়োজনকে নষ্ট আবেগে আড়াল করে রাখার জন্য। কিংবা কিছু দায়সারা মানবিকতা থাকে। একসময় যেটাকে আত্মিক টান ধরা হতো, সে টানটা তখন কেমন মিইয়ে আসে। আমরা সাধারণরা অথচ এটাকেই প্রেম বলি। কিন্তু, আমি যতটা বুঝেছি, কোনো যথার্থ প্রেমিকের জন্য একজনকে ভালোবেসে অন্য কাউকে গ্রহণ সম্ভব নয়। কারণ, দ্বিতীয় কাউকে গ্রহণ করা মানেই প্রথমজনকে প্রশ্নবিদ্ধকরণ, তার সত্ত্বাকে বলতে গেলে একপ্রকার অপমানকরণ। আবার, দ্বিতীয়জনকেও তেমনি অপমানকরণ, ধোঁকাদান, ব্যবহারকরণ। একই সাথে প্রেমশক্তিকেও তুচ্ছ করা যে, তা প্রয়োজনকে অগ্রাহ্যই করতে জানে না। অথচ লক্ষ্যণীয় বিষয়- স্রষ্টা, যিনি বাতেনি প্রেমের শিক্ষক, তিনি কি আশ্চর্যরকম নিঃস্বার্থ ! মা, যিনি জাহেরী প্রেমের শিক্ষক, তার প্রেমশক্তি কি বিশাল ! হায় ! সে হিসেবে আমরা তবে কোথায় !!!! প্রেমের কথা উঠলেই স্রষ্টা আর মা, এ দুটিকে আমি টেনে নিয়ে আসি কারণ, দৃষ্টান্ত কখনোই দূর্বল জিনিস দিয়ে দেয়া চলে না। উত্তমকেই সর্বদা মাপকাঠি ধরতে হয়, তবেই সত্য পর্যন্ত পৌঁছোনো সহজ হতে পারে। এখন, জীবনসঙ্গীর ব্যাপারে দৃষ্টিভঙ্গি কেমন হওয়া উচিত সে বিষয়ে আসা যাক। এই বিষয়টা নিয়ে ভাবতে গিয়ে আমি, জীবনসঙ্গী হিসেবে বিচার করার ক্ষেত্রে একজন মানুষকে তিনটি সত্ত্বায় পৃথক করে দিয়েছি। যার প্রথমটি দেবসত্ত্বা, দ্বিতীয়টি বন্ধুসত্ত্বা এবং তৃতীয়টি প্রেমিকসত্ত্বা। ইতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকে এই সত্ত্বাগুলোর অস্তিত্ব পৃথকভাবে ভেবে নিলে, সম্পর্কে আবদ্ধ মানুষের জন্য একে অপরের প্রতি যথাযথ সহনশীল ও উদার মানসিকতা তৈরি হয়ে উঠতে পারে সহজেই। যা কিনা সম্পর্ককে সুসম্পর্কে রূপ দিতে সাহায্য করে দ্রুতই। এভাবে ভাবলে, সঙ্গীটিকে যখন দেবসত্ত্বায় সর্বস্ব ধরে নেয়া হবে, তখন আপনাআপনি তার প্রতি মাথা নত হতে বাধ্য। এক্ষেত্রে, নিজস্ব ইতিবাচকতা থেকে সঙ্গীটির উত্তম আচরণগুলোকে দেবসত্ত্বার বৈশিষ্ট্য ধরে তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে উঠা যায়। আবার, যখন সঙ্গীটিকে বন্ধুসত্ত্বায় সর্বস্ব চিন্তা করা হবে, তখন তাকে একজন উত্তম বন্ধুরূপে গণ্য করে সমস্ত বিষয়ে অংশগ্রহণ করতে দিতে দ্বিধা আসবে না। আর, আমাদের জানাই আছে, একজন ভালো বন্ধু বলতে আমরা তাকেই বুঝি, যে তার বন্ধুকে বোঝে এবং তাকে উত্তমের পথে, সুন্দরের পথে চালিত করতে পারে। একইভাবে, সঙ্গীটিকে প্রেমিকসত্ত্বায় সত্ত্বাবান ধরে নিলে, তার প্রতি আচরণও হবে নিষ্ঠ, প্রেমপূর্ণ, সরস। এখন জীবনসঙ্গীটি কোনো ত্রুটি করে ফেললে, মূল সত্ত্বা থেকে অংশীকৃত এই তিনসত্ত্বার কোনো একটিতে সেই ত্রুটির অবস্থান চিহ্নিত করে অপর সত্ত্বা দুটিকে নির্দ্বিধায় মুক্ত রাখা যায়। আর, এর ফলে ত্রুটিপূর্ণ সত্ত্বাটিও অপর সত্ত্বাদ্বয়ের প্রভাবে ক্ষমা পেয়ে যেতে পারে সহজেই। কিন্তু, আমরা এভাবে ভাবি না বলেই, কেউ একটা ত্রুটি করেছে দেখতে পেলেই, তার পুরো সত্ত্বাটাকে একচ্ছত্র দোষী করে, অসহনশীলতা প্রদর্শন করে বসি। একটা কথা তো আমরা এখন প্রায়ই শুনি, বন্ধু প্রেমিক হতে পারে তবে প্রেমিক বন্ধু হতে পারে না। কেউ কেউ তো এটাও বলে যে, বিবাহ পরবর্তী সময়ে বন্ধুত্ব তো থাকেই না, প্রেমও থাকে না। যা থাকে সেসব হচ্ছে শুধুমাত্র নিত্য নৈমিত্তিক দায়বদ্ধ অভ্যস্ততা। অবশ্য একেবারে মিথ্যে নয় কথাগুলো। আমরা আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি যথাযথভাবে তৈরি করতে ব্যর্থ হই বলেই, সম্পর্কগুলোকেও যথাযথ গুরুত্ব দিতে ব্যর্থ হই। অথচ, নিজস্ব এ ব্যর্থতা তুলে দিই, সেই অপরের কাঁধেই। এ ভুলের মূল এটাই যে, আমরা সত্যকে লক্ষ্য বানাই না, লক্ষ্য বানাই বাস্তবতাকে। অথচ বাস্তবতার দিকে দৃষ্টি রেখে একমাত্র সত্যকে লক্ষ্য ও গন্তব্য ধরতে হয়। কিন্তু আমাদের নির্বুদ্ধিতার জন্যই আমরা পরিস্থিতি উতরে যেতে শিখি না, শিখি পরিস্থিতির শিকার হতে। আমাদের প্রত্যেকেই জীবনসঙ্গী হিসেবে উত্তম কাউকে প্রত্যাশা করে। কিন্তু মুশকিল এই যে, তারা নিজেরা কতটা উত্তম সে ব্যাপারে ভাবার কোনো অবকাশ তাদের হয়ই না। এটা কেনো ? মানুষ নিজে যা, তার রূহাংশ তার মতই হতে বাধ্য। স্রষ্টার ওয়াদা এটাই। এবং সাধারণ যৌক্তিকতাও এটাই। নিজে শুদ্ধ হোন, নিঃসন্দেহে শুদ্ধ কেউই আপনার জন্য রয়েছে। আর, শুদ্ধতা আত্মিক বিষয়। সর্বশেষ কথা হিসেবে এটা বিবেচ্য যে, যা সে নিজে নয়, তা অন্যের ক্ষেত্রে কামনা করে কিন্তু, শুধুমাত্র বোকারাই।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮২ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now