বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

কাউন্ট ড্রাকুলা-০৪

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X "কাউন্ট ড্রাকুলা" লেখক : ব্রাম স্টোকার অনুবাদক : তন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায় --------------------------- ৪ র্থ পর্ব ১১ ই অগস্ট, রাত তিনটে।। জোনাথনের চিন্তায় ঘুম আসছে না মীনার। লোকটা সেই যে ট্রানসিলভ্যানিয়া গেছে, আজ অবধি ফেরার নাম নেই! সন্ধ্যেবেলায় মীনা, লুসি আর লুসির মা মিসেস ওয়েস্টের্না বেড়াতে বেরিয়েছিল, একটি হোটেলে রাতের খাওয়া সেরে বাড়ি ফিরল। শুতে শুতে রাত এগারোটা বাজল। মাঝরাতে লুসির শয্যা শূন্য মনে হল। এত রাতে সে কোথায় গেল? অঘোরে ঘুমোচ্ছেন লুসির মা। আচমকা তাঁকে জাগানো ঠিক নয়। মৃদু পায়ে দরজা খুলে বাইরে বেরিয়ে এল মীনা। তার দৃঢ় বিশ্বাস, কবর সংলগ্ন মাঠে, যেখানে তারা রোজ বসে গল্প করে, সেখানেই লুসিকে পাবে। মীনা যা ভেবেছিল, ঠিক তাই। প্রতিদিন যে বেঞ্চটায় তারা বসে সেই বেঞ্চে শুয়ে আছে লুসি। চাঁদের আলোয় মোটামুটি পরিষ্কার সব দেখা যাচ্ছে। আচমকা মীনা চমকে উঠল। দেখল, কবরখানার দিক থেকে সর্বাঙ্গে কালো ওভারকোটে ঢাকা একটা অস্বাভাবিক লম্বা লোক এগিয়ে এসে লুসির ওপর ক্রমশ ঝুঁকে পড়ছে। টুপিতে লোকটার মুখ এমনভাবে ঢাকা যে মুখের বেশীরভাগটাই ঢাকা পড়েছে। লুসি ওখানে কি করছে? ঐ লোকটাই বা কে? মীনা চিৎকার করে ডাকল, " লুসি! এই লুসি!" ভীষণ চমকে উঠে সেই রহস্যময় লোকটি এদিকে তাকাতে লাগল। মীনার দিকে নজর পড়তেই হিংস্র হয়ে উঠল তার চোখমুখ। মীনার দিকে কয়েক মূহুর্ত বন্য বরাহের মতো হিংস্র দৃষ্টিতে চেয়ে থেকে আস্তে আস্তে সরে গিয়ে একটা বড়সড় সমাধিস্তম্ভের পেছনে গা ঢাকা দিল। মীনা এবার দৌড়ে এল লুসির কাছে। দেখে, লুসি অজ্ঞান হয়ে বেঞ্চের ওপর লুটিয়ে পড়ে আছে। লুসির গলার দিকে নজর পড়ল। চমকে উঠল মীনা। সেখানে দুটো রক্তাক্ত ক্ষতচিহ্ন। মীনা ভাবল, সেফটিপিনের আঁচড়েই বোধহয় ক্ষত হয়েছে। অনেক চেষ্টার পর লুসির চেতনা ফিরিয়ে আনতে পারল মীনা। লুসির জ্ঞান ফিরে এলে মীনা তাকে বলল, " বাড়ি চলো। " শিশু যেমন বিনা বাক্যব্যয়ে মায়ের আদেশ পালন করে, লুসিও তেমনি তার আদেশ পালন করল। উঠে বসল সে এবং বাড়ি যাবার জন্য প্রস্তুত হল। শুধু বলল, " মনে করতে পাচ্ছি না কিভাবে এখানে এলাম। মীনা, মাকে এ ব্যাপারটা জানাস নে ভাই।" ১৩ ই অগস্ট।। কি সুন্দর জ্যোৎস্না! যতদূর দৃষ্টি যায় শুধু আলো আর আলো, সাদা আলোর বন্যা। লুসি নিশ্চিন্ত মনে ঘুমোচ্ছে। জানলার দিকে চোখ পড়তে চমকে উঠল মীনা, দেখে একটা অতিকায় বাদুড় জানলার কাঁচে পাখা ঝাপটাচ্ছে। মীনার উপস্থিতিতে বিরক্ত হয়ে আলোর স্রোতে সাঁতার কাটতে কাটতে সেটি অসীম শূন্যতার মাঝে হারিয়ে গেল। ১৪ ই অগস্ট।। গোধূলির আলো পড়েছে ঘরে। ভিজে ভিজে একটা গন্ধ আসছে। লুসির মাথা ধরেছে। শুয়ে আছে। তার মুখটি কেমন ফ্যাকাসে। একসময় সে বলে ওঠে, " পড়ন্ত রোদের মতোই তার চোখদুটো লাল।" অবাক হয়ে তাকে জিজ্ঞেস করল মীনা, " কার চোখ?" লুসি চুপ করে রইল। ১৯ শে অগস্ট।। হাসপাতাল থেকে জোনাথনের খবর জানিয়ে মীনাকে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন সিস্টার আগাথা। ক্রমে ক্রমে সুস্থ হয়ে উঠছে জোনাথন। ট্রানসিলভ্যানিয় ার ভয়ার্ত কোনও অভিজ্ঞতাই তার মানসিক অসুস্থতার কারণ। আচ্ছন্ন অবস্থার মধ্যে সে মাঝেমাঝে চিৎকার করে বলছে, " নেকড়ে....রক্ত....আমায় বাঁচাও...."। স্টেশন মাস্টারের রিপোর্ট থেকে জানা গেছে, জোনাথন দৌড়ে এসে দাঁড়িয়েছিল টিকিট কাউন্টারের সামনে। হাঁফাতে হাঁফাতে বলেছিল, " টিকিট দিন, দেরী করবেন না। " ক্লাউসেনবার্গ থেকে সে ট্রেনে চেপেছিল। মীনা চিঠি পাওয়া মাত্রই চলে গেল। কয়েকদিন পর লুসি মীনার কাছ থেকে একটা চিঠি পেল। মীনা লিখেছে..... " প্রিয় লুসি, হুইটবাই স্টেশনে আমায় ট্রেনে তুলে দেবার পর থেকে নিশ্চয় তুই আমার চিঠির জন্য অপেক্ষা করছিস, তাই না? তোর কাছ থেকে বিদায় নেবার পর যা ঘটেছে, তার বিবরণ দিচ্ছি। স্টেশন থেকে নেমে চিন্তিত মনে স্বাস্থ্যনিবাসের উদ্দেশ্যে যাত্রা করি। জোনাথনকে আর চেনাই যায় না। দীর্ঘদিন রোগে ভুগে সে শীর্ণ, দুর্বল। বালিশের তলা থেকে একটা ডায়েরী বের করে আমার হাতে দিয়ে বলল, এই নাও। এটা তোমার কাছেই রাখো। ইচ্ছে হলে পড়ো, কিন্তু আমায় শুনিও না। আমি বললাম, তুমি সুস্থ হয়ে ওঠো, তারপর পড়ব। সিস্টার আগাথা আমায় বাইরে ডেকে নিয়ে গেলেন। তিনি বললেন, ভয়াবহ কোনও অভিজ্ঞতার ফলে জোনাথন অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। এখন সে অনেকটা সুস্থ, তবে দূর্বল। সব ঠিক হয়ে যাবে, কোনও চিন্তা কোরো না।" আমি বললাম, " আপনার আন্তরিক সেবা শুশ্রুষায় জোনাথন সুস্থ হয়েছে। আপনার কাছে আমি চিরকৃতজ্ঞ। " একটু হেসে সিস্টার আগাথা বললেন, জোনাথনের কাছে শুনেছি, তুমি তার বাগদত্তা। ইংলিশ মিশন চার্চের পুরোহিতকে খবর পাঠিয়েছি, এক্ষুনি তিনি এসে পড়বেন এবং এখানেই তোমাদের বিয়ে হবে। আজ এখানেই শেষ করি, কেমন? প্রীতি ও শুভেচ্ছা নিস। ইতি মীনা রাত বারোটা বাজার সাথে সাথে জানলার কাছে ফতফত করে কিসের একটা শব্দে ঘুম ভেঙে গেল লুসির। জানলার সার্শিতে শানিত নখে কে যেন আঁচড় কাটছে। কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছিল, জানে না। দুঃস্বপ্নে মাঝেমাঝে জেগে উঠছিল। লুসি আজ ক্লান্ত। দূর্বলতায় তার হাত কাঁপছে। আজকাল আয়নায় নিজের মুখ দেখে নিজেই চমকে ওঠে সে। ভাবে, তার এরকম রক্তশূন্য মুখ দেখলে আর্থার নিশ্চয় ভয় পেয়ে ডাক্তার ডাকতে ছুটত। ৩১ শে অগস্ট।। এলবেমালে হোটেল থেকে আর্থার একটি চিঠি লিখেছে ডঃ সিউয়ার্ডকে.... ' লুসি অসুস্থ। দিনদিন সে কেমন রক্তশূন্য হয়ে যাচ্ছে। আপনি তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন।' আর্থারের অনুরোধে ডাঃ সিউয়ার্ড যত্ন সহকারে লুসিকে পরীক্ষা করলেন। কিন্তু প্রাথমিক পর্যায়ে কোনও অসুখ তাঁর নজরে পড়ল না। পরামর্শ করার জন্য ডাঃ সিউয়ার্ড তাঁর অধ্যাপক ডাঃ ভ্যান হেলসিংয়ের কাছে সবকিছু জানিয়ে একটি চিঠি দিলেন এবং আর্থারকে সবকিছু জানালেন। প্রফেসর হেলসিং নামকরা চিকিৎসক এবং জ্ঞানী ব্যক্তি। তাঁর শিরা উপশিরা যেন ইস্পাতের তৈরি আর মেজাজ বরফগলা নদীর চেয়েও ঠাণ্ডা। হেলসিং এসে লুসিকে নানাভাবে পরীক্ষা করলেন। লুসির রক্তশূন্যতা অস্বীকার করার উপায় নেই। লুসিকে অনেক প্রশ্নও জিজ্ঞেস করলেন, কিন্তু লুসি যেন মুখে কুলুপ এঁটে বসে রয়েছে। লুসির গলায় একটা ভেলভেটের ফিতে প্রথম থেকেই বাঁধা অবস্থায় ছিল। হেলসিং ডাঃ সিউয়ার্ডকে নির্দেশ দিলেন, গলার ফিতেটা খুলে দেওয়ার জন্য। ফিতেটা খুলতেই তাঁর চোখের সামনে ভেসে উঠল রহস্যময় দুটো ছিদ্র। ছিদ্রদুটো দেখামাত্রই ডাঃ হেলসিংয়ের মুখেচোখে নেমে এল এক নিদারুণ আতঙ্কের ছাপ। সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে তিনি ডাঃ সিউয়ার্ডকে বললেন, " করছ কি সিউয়ার্ড! এই মূহুর্তে লুসিকে রক্ত দিতে হবে। জানি না সে বাঁচবে কিনা।" " রোগটা কি হয়েছে, ধরতে পারলেন স্যার?", ডাঃ সিউয়ার্ড জিজ্ঞেস করলেন। ভ্যান হেলসিং বললেন, " যথাসময় বলব। শুধু লুসিকে এখন একমূহুর্ত চোখের আড়াল করা চলবে না আর তার ঘরে এক গোছা রসুনফুল রেখে দাও। তার গলার ক্ষতস্থানের কাছেও একগোছা রসুনফুল বেঁধে দিও। তুমি ডাক্তার এবং আমার সেরা ছাত্র। তোমার মন বিশ্বাস করতে চাইবে না। কিন্তু জেনে রেখো ধরাছোঁয়ার বাইরেও একটা জগৎ আছে। " ডাঃ সিউয়ার্ড বললেন, " রক্ত দেওয়ার ব্যবস্থা এখুনি করছি স্যার, কিন্তু রসুনফুলের ব্যাপারটা ঠিক বুঝলাম না।" একটু হেসে হেলসিং উত্তর দিলেন, " সবকিছুই একসময় পরিষ্কার হবে।" ( ক্রমশ) ------------- ।। একাকী কন্যা ।।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৮ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now