বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

কাউন্ট ড্রাকুলা-০৩

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X কাউন্ট ড্রাকুলা" লেখক : ব্রাম স্টোকার অনুবাদক : তন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায় ---------------------------- ৩ য় পর্ব ১৮ ই মে।। রৌদ্রালোকে ঝলমল করছে আমার ঘর। আবিষ্কারের নেশায় মেতে উঠলাম। সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আমার সময়। আমার জীবনের ব্যাপ্তি ক্রমশই সঙ্কুচিত হয়ে আসছে। ঈশ্বর, আমার সহায়তা কর। মৃত্যু যখন এত কাছে তখন বাঁচার ক্ষীণতম সুযোগের অবহেলা করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। ১৯ শে মে।। গতরাতে কাউন্ট আমায় তিনটি চিঠি লিখতে বলেছেন.... আমি ঠিক করেছি, একটিতে আমি লিখব আমার এখানের কাজ শেষ হতে চলেছে, আর একটিতে লিখব, দিনকয়েকের ভেতর বাড়ি ফিরছি, এই সংবাদটুকু থাকবে আর তৃতীয়টির বিষয়বস্তু হবে দূর্গ ছেড়ে আমি বিসত্রিস পৌঁছেছি। ২৮ শে মে।। ক'দিন হল লক্ষ্য করছি একদল বেদে পেছনের বাগানে আস্তানা গেড়েছে। ঈশারায় ওদের একজনকে কাছে ডাকলাম এবং একটুকরো সোনার সঙ্গে খাম দুটি নীচে ফেলে দিলাম। ভাবে ভঙ্গিতে বুঝিয়ে দিলাম আমার চিঠি দুটি ডাকে দিতে হবে। রাজি হল সে এবং খাম দুটি তার টুপির নীচে রাখল। একটি চিঠি লিখেছি সর্টহ্যান্ডে, মিস মীনাকে ( প্রসঙ্গত জানিয়ে রাখি সে আমার বাগদত্তা), আর একটি ইংরেজীতে আমার অফিসে। সন্ধ্যার আঁধার ঘনাল। কাউন্ট এলেন। মুখ তার গম্ভীর, থমথমে। আমার পাশে এসে বসলেন। যে চিঠি দুটি সকালে বেদেকে দিয়েছিলাম ডাকে দেবার জন্য তাঁর হাতে সে দুটি খাম। সর্টহ্যান্ডে লেখা চিঠি তিনি বুঝতে পারলেন না, তাই ছিঁড়ে ফেললেন। অপরটি আগাগোড়া পড়ে তিনি বললেন, " আমার বন্ধুত্ব, অতিথিসেবা আর সহৃদয়তার প্রতি এ ধরনের হীন বিশ্বাসঘাতকতাকে ক্ষমা করা যায় না, বুঝলেন মিঃ হার্কার? কিন্তু আপনি আমার প্রিয়তম বন্ধু। আপনার প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়াই আমার কর্তব্য। আপনাক্ব বড় ক্লান্ত দেখাচ্ছে, যান, শুয়ে পড়ুন।" ৩১ শে মে।। ভাগ্যিস, একটা পেন্সিল, ডায়েরী আর দুটি খাম রেখেছিলাম পকেটে! দিনলিপি লিখতে বসে দেখি আমার লেখার অন্যান্য সরঞ্জাম সব উধাও। আমার পালিয়ে যাবার পথ বন্ধ করার জন্য কত বিচিত্র পথই না তিনি অবলম্বন করেছেন। ১৭ ই জুন।। সকালে দাঁড়িয়ে আছি বারান্দায়। চাবুকের শব্দে চেয়ে দেখি, দুটি ঘোড়ার গাড়ি এল। গাড়িতে অনেকগুলো চৌকনো বাক্স রয়েছে। যে বেদেটিকে আমি চিঠি ডাকে দিতে দিয়েছিলাম, আমার দিকে আঙুল দেখিয়ে সে কি যেন বলল। অন্যান্য বেদেরা হাসল। ২৪ শে জুন।। ঘুম থেকে উঠে হাতমুখ ধুচ্ছি। যন্ত্রণা কাতর এক স্ত্রীলোকের করুন আর্তনাদ কানে এল। জানলার কাছে গিয়ে দাঁড়ালাম। সে বলছে, " রাক্ষস, আমার ছেলেকে ফিরিয়ে দে। " আছড়ে পড়ছে সে মাটির বুকে। দূর্গ থেকে কাউন্টের কর্কশ কণ্ঠস্বর শোনা গেল। অনেকগুলি নেকড়ে ছুটে গেল এবং তাদের আক্রমণে মূহুর্তের ভেতরেই সেই রমণীর নিষ্প্রাণ দেহ মাটিতে লুটিয়ে পড়ল। হিংস্র পশুরা তার মৃতদেহ ছিঁড়ে ছিঁড়ে খেতে লাগল। দরজা খুলে বাইরে যাবার চেষ্টা করলাম, কিন্তু দরজা বাইরে থেকে বন্ধ। ২৫ শে জুন।। আজ সকালে ছাদে দাঁড়িয়ে নিজের অসহায় অবস্থার কথা ভাবছিলাম। হঠাৎ দেখি কাউন্ট টিকটিকির মতো খাড়া দেওয়ালের গা বেয়ে নামছেন। আমিও তাঁকে অনুসরণ করলাম এবং নীচে নামলাম কাউন্টের ঘরে। শূন্য ঘর, ভ্যাপসা গন্ধ। বিভিন্ন দেশের এবং বিভিন্ন যুগের স্বর্ণমুদ্রার বিরাট স্তুপ রয়েছে ঘরের ভেতর। তাতে পুরু হয়ে ধূলো জমে রয়েছে। কিছুটা এগিয়ে একটা দরজা, ভেজানো রয়েছে। ঠেলা দিতেই খুলে গেল। বিরাট এক সুড়ঙ্গ পেরিয়ে একটা গুপ্ত কবরখানা। ছোট বড় প্রায় পঞ্চাশটি কফিন রয়েছে ঐ কবরখানায়। কম্পিত হাতে বড় কফিনটার ডালা খুলে অবাক হয়ে তাকিয়ে দেখি....কফিনের ভেতর কাউন্ট ড্রাকুলা শুয়ে রয়েছেন! যেন ঘুমিয়ে রয়েছেন। লাল ঠোঁট দুটি দেখলে মনে হয় না তিনি মৃত। কিন্তু নিশ্বাস প্রশ্বাস একেবারেই বন্ধ। বুকের সামান্য ওঠাপড়া বোঝা যাচ্ছে না। মূহুর্তের জন্য হতবুদ্ধি হয়ে গিয়েছিলাম। তারপর উদভ্রান্তের মতো ছুটতে ছুটতে নিজের ঘরে ফিরে এসেছি। ২৯ শে জুন।। সন্ধ্যায় কাউন্ট এসে বললেন, " বন্ধু, আগামীকাল আমাদের বিচ্ছেদ ঘটবে। আপনি আবার আপনার সুন্দর ইংলন্ডে ফিরে যাবেন। " আমি বললাম, " আজই যদি যাই?" " আজ আমার গাড়ি একটা বিশেষ কাজে আটকে রয়েছে।" " গাড়ির প্রয়োজন নেই, হেঁটেই যেতে পারব।" " আপনার মালপত্র?" " মালপত্র পড়ে থাক।" কাউন্ট বললেন, " বেশ তো, আজই চলুন। আপনার ইচ্ছার বিরুদ্ধে এক মূহুর্তও আপনাকে আটকাতে চাই না।" কাউন্টের পিছু পিছু আমিও নীচে নেমে এলাম। উন্মুক্ত তোরণ। মুক্তির আনন্দে আমার শিরায় শিরায় চাঞ্চল্য। সহসা কাউন্ট বলে ওঠেন, " ঐ শুনুন।" কাউন্টের নির্দেশে শত শত নেকড়ে চিৎকার করে উঠল। জয়ের আনন্দে কাউন্টের চিত্ত প্রফুল্ল, নৈরাশ্যে আমার কান্না পাচ্ছে। এই প্রেতপুরী থেকে বেরিয়ে যাবার সব পথই বন্ধ। নিজের ঘরে ফিরে এলাম। দরজার কাছে কাউন্টের গলা শোনা গেল, " এখনও সময় হয়নি। আগে আমার পালা, তারপর তোমাদের।" এগিয়ে গিয়ে দেখি, সেই তিন সুন্দরী নারী ধূলিকণার আকার ধারণ করে চাঁদের আলোর মাঝে মিলিয়ে গেল। ৩০ শে জুন।। মোরগের ডাকে সকালের আগমন সূচিত হচ্ছে। আমার হাতে সময় অল্প। কাউন্টের সেই ঘরে প্রবেশ করলাম।বিরাট কফিনটার কাছে একটা কোদাল পড়ে আছে। কফিনের ডালা খুললাম। নবযৌবনো উদ্দীপনায় কাউন্টের মুখে আনন্দ উপচে পড়েছে। তাঁর সাদা গোঁফ আর পাকা চুল কালো হয়েছে, ঠোঁটের দুপাশে জমাট বাঁধা রক্ত, কিছুটা চিবুক বেয়ে গড়িয়ে পড়েছে নীচে। আমার হৃদস্পন্দনের দ্রুত শব্দ শুনতে পাচ্ছি। কাউন্ট নির্বিকার। প্রশান্তির ঘুমে আচ্ছন্ন। সারা রাত দাপিয়ে বেড়ান রক্তের সন্ধানে। তাঁর ক্ষুধা-তৃষ্ণা মেটাতে রক্তই অপরিহার্য। সেই তিন সুন্দরী নারীর মতো কাউন্টও রক্তপান করেছেন। মানুষের রক্ত। রক্তপিপাসু ড্রাকুলা! আমি নিজেকে প্রস্তুত করে কোদালটা তুলে নিয়ে প্রচণ্ড শক্তিতে ঘা বসালাম কাউন্টের মুখে। কিন্তু একি! আমার হৃদস্পন্দনের ক্রিয়া হল ডবল। এ কি দেখছি আমি! এত বড় একটা কোদালের আঘাতে কাউন্টের মুখটা থেঁতলে বীভৎস হয়ে যাবার কথা, কিন্তু সে তো দূর, কোথাও এতটুকু ফাটল না, কাটল না, সামান্যতম আঁচড়ও কোথাও পড়ল না। এ কি করে সম্ভব! এক্ষুনি, এক্ষুনি এই পিশাচপুরী থেকে পালাতে হবে। নইলে মৃত্যু অবধারিত। এখনই, এই মূহুর্তে। আমি ছুটে ওপরে উঠে আসতে লাগলাম। ওপরের ঘরে এসে আমি হাঁফাতে লাগলাম। একটু ধাতস্থ হয়ে সবার আগে ভূগর্ভস্থ সিঁড়ির দিকের দরজাটা আগে বন্ধ করে দিলাম। দরজায় পিঠ দিয়ে দাঁড়িয়ে হাঁফাতে লাগলাম। গলাটা শুকিয়ে একেবারে কাঠ হয়ে গেছে। একগ্লাস জল এই মূহুর্তে খুব দরকার। কিছুক্ষণ পর একটা কেমন ঘড়ঘড় করা বিশ্রী শব্দে আমি সচকিত হয়ে উঠলাম। আবার কোন নতুন বিপদ আসছে ভেবে আমার গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠতে লাগল। কিছুক্ষণ শব্দটা শোনার পর মনে হল, শব্দটা আসছে বাইরের রাস্তা থেকে। আস্তে আস্তে আমি এগিয়ে গেলাম জানলার কাছে। দেখি, সেই বেদের দল একটা ঘোড়াগাড়ি নিয়ে এসে এই দূর্গের সামনে থামল। তারপর তারা দলবেঁধে দূর্গের ভেতর ঢুকল। কিছুক্ষণ পর দেখি, একটু আগে ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গের কবরখানায় দেখা সেই বড় বড় কফিনগুলো টেনে হিঁচড়ে বাইরে নিয়ে আসছে। বেদেগুলোকে দেখে মনে হল, সেগুলো বইতে যেন খুবই কষ্ট হচ্ছে ওদের। আমি নিশ্চিত, ঐ কফিনগুলোর কোন একটির মধ্যে কাউন্ট ড্রাকুলা আত্মগোপন করে রয়েছেন। কফিনগুলো ঘোড়াগাড়িতে তোলা শেষ হলে গাড়ি আবার চলতে শুরু করল। আমি প্রমাদ গুনলাম, শয়তান কাউন্ট ড্রাকুলা এবার চলেছে কোথায়? ইংলন্ডে? ওর কারফ্যাক্স নামক জমিদারিতে? ছিনিমিনি খেলবে এবার ইংলন্ডের শান্তিপ্রিয় মানুষগুলোর জীবন নিয়ে? না, এ হতে দেওয়া যায় না, কিছুতেই না। আমি চিৎকার করে ডাকতে লাগলাম ওদের। কিন্তু বেদেগুলোর কানে তা প্রবেশই করল না। একসময় তারা দৃষ্টির আড়ালে চলে গেল। না, আমায় বসে থাকলে চলবে না। আমায় এখান থেকে পালাতেই হবে, যে করে হোক। ছাদের একপাশে খানিকটা দড়ি পড়েছিল। রেলিঙের একপ্রান্তে ঐ দড়ি বেঁধে ঝুলতে ঝুলতে রাস্তায় নেমে পড়লাম। সন্ধ্যার আগেই আমায় স্টেশনে পৌঁছতে হবে, যে করে হোক। অভিজাত আর্থারের বাগদত্তা লুসির সঙ্গে মীনার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব। কৈশোর থেকেই তারা পরস্পর পরস্পরের কাছে মনের কথা বলেছে, একসঙ্গে ঘুমিয়েছে, একই সঙ্গে হেসেছে, কেঁদেছে। ৯ ই মে মীনা লুসিকে একটা চিঠি লিখে জানিয়েছে যে জুলাইয়ের শেষে সে লুসিদের বাড়ি কয়েকদিন থাকবে। হাসি আনন্দে কাটবে তাদের দিনগুলো। সেই সঙ্গে মীনাও তার একটানা শিক্ষকতার শ্রান্তি থেকে মুক্তি পাবে। জোনাথনের কাজে সহায়তা করতে পারবে বলে মীনা শর্টহ্যান্ড শিখছে। সম্প্রতি জোনাথনের একটা চিঠি পেয়েছে মীনা। আজব দেশ ট্রানসিলভ্যানিয়ার আজব গল্প শোনার প্রতীক্ষায় দিন গুনছে সে। রমণীয় প্রাকৃতিক পরিবেশে লুসিদের ছোট্ট বাড়ি দূর থেকে দেখায় ছবির মতো। যতদূর দৃষ্টি যায় শুধু সবুজ আর সবুজ। ছোট্ট নদী এসক বয়ে চলেছে আপন মনে। এখানের দ্রষ্টব্য স্থানগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল হুইটবাই এবির ধ্বংসস্তূপ। এই ধ্বংসস্তূপকে কেন্দ্র করে রহস্যময় অনেক কাহিনী প্রচলিত। স্তুপের মাঝে একটি জানলার ধারে নাকি দাঁড়িয়ে থাকে শুভ্রবসনা ফরসা একটি মেয়ে। চোখে তার অশুভ ইঙ্গিত। শহরটিতে রয়েছে একটা পুরনো গীর্জা, সুন্দর সবুজ মাঠ, আর একটি কবরস্থান। কিছুটা নীচে বন্দর। ভালো লাগে অজানা অচেনা মানুষগুলোকে দেখতে, জাহাজের বাঁশি আরর সমুদ্রের অবিশ্রান্ত জল কল্লোল শুনতে। লুসিদের বাড়ির কাছেই ডক্টর সিউয়ার্ডের মানসিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র। সিউয়ার্ডের চোয়াল শক্ত, কপাল প্রশস্ত। তিনি খুব ঠাণ্ডা মেজাজের লোক, তবে তাঁর কিছুটা স্নায়ুদৌর্বল্য আছে বলে মনে হয়। সিউয়ার্ডের উন্মাদ আশ্রমের সবচেয়ে রহস্যময় রোগী হল রেনফিল্ড। বয়স তার বাহান্ন। কখনো উদভ্রান্তের মতো হাসে, আপন মনে কথা বলে, কখনো ইয়া বড় বড় চোখ করে তাকায়। রেনফিল্ড সম্পর্কে সিউয়ার্ড মন্তব্য করেছেন....প্রফুল্ল মানসিক প্রকৃতি, বর্ণনাতীত দৈহিক সামর্থ্য, অস্বাভাবিক উত্তেজিত হয়ে ওঠে, কখনো কখনো আসে বিষন্নতা। রেনফিল্ডের চিন্তায় ডাঃ সিউয়ার্ডের ঘুম আসে না, ঘুমের ওষুধ খেতে হয়। মীনার ডায়েরী ১ লা অগস্ট।। চব্বিশ জুলাই এসেছি লুসিদের বাড়ি। দেখতে দেখতে কেটে গেল ছ'টা দিন। রোজই এখানে, কবরখানা সংলগ্ন মাঠে এসে বসি। অন্যদিন লুসি সঙ্গে থাকে, আজ একাই এসেছি। সকালে বিকেলে ছেলেমেয়েরা এখানে খেলা করে, বুড়োবুড়িরা গল্প করেন। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে মাঠ ফাঁকা হয়ে যায়। জোনাথনের কথা ভাবছিলাম। লুসির জন্যেও চিন্তা হয়। আগামী শরতে তার বিয়ে। এদিকে তার মা মিসেস ওয়েস্টের্ণার হার্টের অসুখ। জানিনা আজ সবকিছুই কেন এমন ধূসর লাগছে। ধূসর পাহাড়, ধূসর মেঘ, ধূসর মানুষ। নি:সঙ্গ ধূসর এক দ্বীপে আমি যেন নির্বাসিত। 'দি ডেইলি গ্রাফ' পত্রিকার শীর্ষদেশে পরিবেশিত হয়েছে নিম্নলিখিত সংবাদ.... হুইটবাই ৮ ই অগস্ট : উন্মত্ত ঝড়ের তান্ডবে সারা শহরটা মৃত্যুর মতো ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে। ক্ষুব্ধ সাগরে বিপদের ঝুঁকি নিয়ে যে জাহাজগুলো দাঁড়িয়েছিল সেগুলোর অবস্থা আশঙ্কাজনক। ক্যাপ্টেনরা উদভ্রান্ত, যাত্রীরা ভীত, খালাসীরা দিশেহারা। আকস্মিক বিপদে সকলেই অসহায়, কিংকর্তব্যবিমূঢ়। ৯ অগস্ট।। প্রচণ্ড ঝড়ের মাঝে একটা মালবাহী জাহাজ এল এবং নোঙর করল। কাদা ভর্তি, কফিনের মতো দেখতে পঞ্চাশটা বড় বড় কাঠের বাক্স ছাড়া আর কোনও মালপত্র ছিল না ঐ জাহাজে। জাহাজটি ৬ ই জুলাই দুপুরে অসীম সমুদ্রের বুকে পাড়ি দিয়েছিল। একটি অস্বাভাবিক লম্বা ও বিবর্ণ লোককে জাহাজের ভেতর সন্দেহজনকভাবে চলাফেরা করতে দেখে নাবিকদের ভেতর চাপা উত্তেজনা দেখা দিয়েছিল। অনুসরণ করলে কোথায় যেন সে মিলিয়ে যায়। লোকটি কে? কোথা থেকে এল? ক্যাপ্টেনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে একজন নাবিক ভয়ার্ত কন্ঠে বলে, " আমি জানি এই বাক্সগুলোর কোন একটিতে সে রয়েছে। গত রাতে তাকে এই পর্যন্ত আসতে দেখেছিলাম। তারপরেই অদৃশ্য হয়েছিল সে। আমায় অনুমতি দিন আগামীকাল প্রতিটি বাক্সই আমি খুলে দেখব আর বের করব সেই ভূতুড়ে লোকটিকে", উত্তেজনায় নাবিকটি দাঁতে দাঁত চাপল।" কোনওকিছু না বলেই ফিরে গেলেন ক্যাপ্টেন। কয়েকদিন ধরে জাহাজে খালাসীদের কোনও সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। একটার পর একটা খালাসী প্রত্যেকদিন গায়েব হয়ে যাচ্ছে জাহাজ থেকে, রহস্যময় ভাবে। একরাশ এলোমেলো চিন্তা তাই ক্যাপ্টেনের মনকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে। আকস্মিক এই প্রাকৃতিক দূর্যোগ, কুয়াশার চাদরে ঢাকা সমুদ্র আর রহস্যের মাঝে তিনিও হয়ত একদিন মৃত্যুকে বরণ করে নেবেন। মীনার ডায়েরী ৮ ই অগস্ট।। লুসির সে লাবন্য আর নেই। নিদারুণ চাঞ্চল্যে সে অসঙ্গত কথা বলে, সহসা রেগে ওঠে। আজ লুসি বিছানায় শুয়ে ছিল। তাকে বললাম, " চল ঘুরে আসি।" লুসি রাজি হল। বেলাভূমিতে বরফের মতো সাদা ফেনা চকচক করছে। চোখে পড়ছে একটা শূন্য জাহাজ। কয়েকজন লোক সমুদ্রের তীর থেকে একটা মৃতদেহ তুলে নিয়ে কবরের দিকে যাচ্ছে। লুসি তাদের জিজ্ঞেস করল, " আচ্ছা, উনি কিভাবে মারা গেলেন? " একটি লোক উত্তর দিল, " এই মৃত ভদ্রলোক ঐ শূন্য জাহাজের ক্যাপ্টেন। এনাকে কেবিনঘরে মৃত অবস্থায় আমরা পেয়েছি। সারা শরীর একেবারে চকের মতো সাদা আর মুখেচোখে কেমন অস্বাভাবিক আতঙ্কের ছাপ। কিভাবে মারা গিয়েছেন জানি না। জাহাজটিতে কোনও খালাসীরও সন্ধান পাওয়া যায় নি। " আমি বললাম, " অদ্ভুত ব্যাপার তো!" লোকটি বলল, " অদ্ভুত মানে! রীতিমতো রহস্যজনক! " (চলবে) ----------- ।। একাকী কন্যা ।।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৬ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now