বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

খদ্দের

"শিক্ষণীয় গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X দুর্গন্ধে মা’র কাছে যাওয়া যায় না। দাঁত মুখ খিঁচে দরজায় দাঁড়িয়ে শফিক জিজ্ঞাস করল, “আমি বাইরে যাইতাছি। তোমার কিছু লাগব?” সফুরা বেগমের গলার নীচ থেকে পুরো শরীর প্যারালাইজড। খাওয়া-দাওয়া থেকে শুরু করে তার সব কিছু করে দিতে হয়। পেশাপ-পায়খানা তার বিছানাতেই হয়ে যায়। প্রচুর টাকা দিয়ে বয়স্ক মত এক কাজের মহিলা রাখা হয়েছে। সেও একদিন আসেতো দুইদিন আসে না। এ ব্যাপারে তাকে কিছু বলাও যায় না। কিছু বললেই কাজ ছেড়ে দেবার হুমকি দেয়। চেঁচিয়ে বলে,”বুইড়া মাইনষের গু-মুত আমি পরিষ্কার করমু না। আল্লাগো আল্লা কি গন্নের গন্ন…ওয়াক থুঃ!” শফিকের বাবা মইনুদ্দিন আদুরে গলায় বুয়াকে বলেন,”আরে রাগ কর ক্যান? তোমার সময় সুযোগ মতন আইবা। এক টাইমে আইলেই হইল।” এই বাজারে সাধারণ কাজের বুয়াই যেখানে আকাশের চাঁদ সেখানে একজন প্যারালাইজড মানুষের নোংরা পরিষ্কার করে দেবার জন্য কাওকে পাওয়াটা প্রায় অসম্ভব এক ব্যাপার। গতকাল কাজের বুয়া আসেনি। আজ আসবে কিনা কে জানে। বুয়া’র মোবাইল নাম্বারটা শফিকের ফোনে সেইভ করা নেই। থাকলে কল দেয়া যেত। শফিককে দেখে সফুরা বেগম মলিন হেসে বলেন,”একটু কাছে আয় বাপ।” “আমার তাড়া আছে। একটা মাল ডেলিভারি দিতে এয়ারপোর্ট যামু।” “একটু কাছে আয়না।” বিরক্ত হয়ে শফিক বলল,”ধুর! তোমাকে জিজ্ঞাস করাটাই ভুল হইছে।” বাসা থেকে বেরিয়ে আসে শফিক। এয়ারপোর্টে যেতে হবে। হাতে টিফিন ক্যারিয়ার। সেখানে ডাল-ভাত ছাড়াও ছোট একটা প্যাকেট আছে। দুই নাম্বারি জিনিস কিছু হবে। শফিক পরিষ্কার জানে না। জামান ভাই এয়ারপোর্টে লোকের নাম বলে দিয়েছেন। ডেলিভারি বাবদ পাঁচ হাজার টাকা পেয়েছে শফিক। ডেলিভারি শেষে খিলক্ষেতে লতিফা'র ডেরায় যাবার সময় বাস থেকে বাবাকে দেখতে পেল শফিক। রাস্তার অপর পাশে আখের রস কিনে খাচ্ছিলেন। শফিকের বাবা মইনুদ্দিন নানা রকম ধান্ধা করে টাকা পয়সা রোজগার করেন। এখন ধরেছেন পাথরের কাজ। সাধারণ পাথর নয়। দামী পাথর- চুনি, পোখরাজ… এই ধরণের আর কি। ব্যাবসায়ীরা ভাগ্যের আশায় এগুলো আংটিতে পরে। মইনুদ্দিন সেগুলো যোগাড় করেন। তার পাথরগুলোও বেশিরভাগ সময় দুই নাম্বারি হয়। মইনুদ্দিন ধুরন্ধর লোক। কথার চালে যখন তখন সিমেন্টের টুকরাও হীরা বলে চালিয়ে দিতে পারেন। লতিফা নখে রং মাখছিল। শফিককে দেখে মাথা না উঠিয়েই বলল,”ফোন না দিয়াই আইলেন যে?” “তুমি কি শেখ হাসিনা? ফোন না দিয়া আসা যাইব না?” খিলখিল করে হেসে লতিফা বলে,”কি যে কন? লগে কাস্টমার থাকলে আপনেরে টাইম দিতাম ক্যামনে?” বিছানার উপর এক হাজার টাকার একটা নোট ফেলে শফিক বলল,”পানির ব্যাবস্থা কর।” নোটটার দিকে আড় চোখে তাকিয়ে নেইল পালিশ লাগাতে লাগাতে লতিফা বলল,”পানি ঘরেই আছে। খাড়ান আইনা দিতাছি।” জামার বোতাম ঢিলা করতে করতে বিছানায় বসে শফিক। দুটো গ্লাস আর আধা ভরা বোতল নিয়ে এসে লতিফা বলল,”বরফ নাই। সারাদিন কারেন্ট আছিল না।” বোতলের দিকে তাকিয়ে শফিক জিজ্ঞেস করে,” বিদেশী জিনিশ কই পাইলা?” “একজন দিছে।” “কে? অন্য কাস্টমার?” “হ।" “তোমার বালের পানি খামু না।” “চ্যাতেন ক্যান? ভাল জিনিশ। আমেরিকা থেইক্কা নাকি আনছে। আমি খাইছি।” “বিদেশী মুত তুমি খাও।” ধাক্কা দিয়ে বোতল মেঝেতে ফেলে দিল শফিক। আমেরিকার জিনিশ বলেই হয়ত বোতলটা ভাঙল না। গড়িয়ে বিছানার নীচে চলে গেল। খিলখিল করে হেসে লতিফা বলে,”ছুট পোলাপাইনের মত কাম দেখলে হাসি আসে। খাড়ান দেশি জিনিশ আইন্না দেই।” ঘণ্টা খানেক পর শফিকের বুকের নীচে শুয়ে গল্প করছিল লতিফা। “বুঝলেন, আমার কাছে এক বেডা আসে মাঝে মইদ্দে। এক্কেরে আপনের মতন।” কোমর ওঠা নামায় সুন্দর এক ছন্দ তুলছিল শফিক। দেশি জিনিশ খুব দ্রুত ধরে। লতিফার বকবকানির দিকে তার খেয়াল নেই। “হেও সেকেন্ডের মইদ্দে ছ্যাঁত কইরা উঠে।” “হুম।" কোমরের গতি বৃদ্ধি পায় শফিকের। “আমারে অনেক আদর করে।” “হুম।" জোড়ে শ্বাস ফেলে শফিক। “হেয় দেখতেও আপনের মতন।” “হুম।" কোমরের গতির সাথে পাল্লা দিয়ে ঝরে শফিকের দেহের ঘাম। “তয় ধরেন বয়স অনেক। আমার বাপের বয়সী।” “হুম।" অন্তর্দহ ইঞ্জিনের পিস্টনের মত ওঠা নামা করে শফিকের কোমর। “বুড়া হইলে কি হইব বেডার কোমরের জোর অনেক। উফ মাগোঃ…। ” লতিফার গালে ঠাস করে চড় বসিয়ে দেয় শফিক,”করনের সময় চুপ থাকতে পারস না খানকির ঘরের খানকি!” উঠে দাঁড়িয়ে কোমরে প্যান্ট টেনে তুলে শফিক। তার মুড নষ্ট হয়ে গেছে। মানিব্যাগ থেকে আরেকটি হাজার টাকার নোট লতিফার শরীরে ছুঁড়ে মেরে দিয়ে দরজার দিয়ে বেরিয়ে আসার সময় ধাক্কা লেগে হুরমুরিয়ে বয়স্ক এক লোকের উপর গিয়ে পড়ল শফিক। নিজেকে কোনমতে সামলে নিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়াতেই তারমুখ থেকে আর্তনাদ বেরিয়ে এল,”বাবা!"


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১২০২ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now