বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
এক....
যা ভাবছিলাম তাই হলো। একদল মেয়ের বৈঠকখানায় ঠাট্টাতামাসার রোল পড়েছে। তাদের মজার আহার আমি। একবার তারা আমাকে দেখছে আবার ফিসফিস করে কি যেন বলে হেসে উঠছে। সাতার জানি না। মনে ভয় খুব;পড়ে যাবো না তো। না' না' করেও নদীর পানি তে চোখ যাচ্ছে। আর এতেই গলা শুকিয়ে কাঠ। আর এই বদ মেয়েগুলা আমার মজা নিচ্ছে।
এক সময় খেয়াল করলাম পাশে বসা থাকা আফসিন রেগে আগুন। এই মেয়ে রেগে যাচ্ছে কেনো বুঝলাম না!! অবশ্য রেগে না যাওয়ার তো কারন দেখছি না। আমি তো ওর স্বামী। আর তাকে কেউ রীতিমতো ইনসাল্ট করছে, রেগে যাওয়াটাই স্বাভাবিক।
আফসিন আমাকে অবাক করে দিয়ে উঠে মেয়েগুলোর দিক গেলো। কয়েকমিনিট সবাইকে বড্ড শায়েস্তা করলো। মেয়েগুলো কে দেখলাম ভয়ে চুপসে গেছে। এরপর ওদের মুখে একটা শব্দও শুনতে পাইনি।
.
আফসিনের সাথে আমার বিয়েটা আম্মার চাওয়াতে হয়েছে। বর্ষার বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর থেকে এতোটা ভেঙ্গে পড়েছিলাম যে, মানুষের মুখে পাগল ডাকও আমায় শুনতে হয়েছে। কিন্তু আমার জন্য অন্যকেউ বিশেষ করে আমার আম্মা কষ্ট পাক কখনো চাই নি। এই না চাওয়া থেকে আফসিন কে বিয়ে করা। কিন্তু আম্মাকে কষ্ট না দিতে গিয়ে আফসিনের সাথে যে আমি অন্যায় করছি মাথায় আসেনি। বুঝটা হয়েছে কিছুদিন আগে। যখন শত চেষ্টা করেও বর্ষা কে ভুলতে পারিনি। তাই ঠিক করেছি শ্বশুরকুল এসে এর একটা ফয়সালা টানবো।
.
ভাবনার আড়ালে খেয়াল করলাম আফসিন আমার ডান হাত শক্ত করে ধরে রেখেছে। আমাদের মাঝে আর দুটো সাধারন দম্পতির মতো সম্পর্ক কখনো ছিল না। তাই আফসিন আমার হাত ধরাতে অবাক ই হয়েছি বটে। আমি তাক লাগার মতো আফসিনের দিক চেয়ে দেখলাম। আফসিন তার পরওয়া না করে জিজ্ঞেস করলো, এখনো কি আগেকার মতো মনে হচ্ছে?? ভয় করছে??
খেয়াল করলাম, সত্যি এখন আর ভয় লাগছে না।
ফেরিঘাটে নেমেই দেখি শালাবাবু আর শ্বশুরমশায় এই গরমে দাঁড়িয়ে ঘাম ছড়াচ্ছে। শালাবাবু আমাদের দেখামাত্র দৌড়ে এসে, ব্যাগ আমার কাছ থেকে নিয়ে নিলো।
.
বিয়ে হওয়ার পর এই প্রথম নিজেকে জামাই জামাই লাগছে। আফসিন বাবাকে দেখে নিজেকে সামলাতে পারলো না। বাবাকে জড়িয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগলো। বিয়ের পর এই প্রথম বাবাকে স্বচক্ষে দেখছে, ইমোশনাল হয়ে পড়বে এটাই স্বাভাবিক।
শ্বশুর মশায়কে আঙ্কেল ডাকবো কি না আমিও বাবা ডাকবো এ নিয়ে মনে দ্বন্দ্ব চলছিল। এর মাঝে আরেক আপদের আগমন হলো। শ্বশুর মশায় আমাদের গাড়ি তে করে যেতে বলছে। আর উনি ছেলেকে নিয়ে রিক্সায় আসবেন। কথাটা ভাবতে মনে খটকা লাগলো। একে তো আমাদের জন্য অপেক্ষা করে কম ঘাম ঝরাতে হয়নি। তারপর এই রোদে বয়স্ক লোকটা রিক্সায় যাবে আর আমি ইসির গাড়িতে, এতো ছোটো মনের হয়ে আমি যাই নি।
.
আফসিন তো মায়ের কাছে আমার চেয়েও আপন হয়ে গেছে বিয়ের হওয়ার পর থেকে। আর বাবা কে তো মাথায় তুলে রাখে। এ যুগের বউ যদি শাশুড়ি কে মায়ের সমান ভালবাসতে পারে তাহলে আমি জামাই হয়ে শ্বশুর মশায় কে বাবা ডাকলে খুব একটা ক্ষতি হবে মনে হয় না।
বাবা কে যখন বললাম আমি আর শালাবাবু রিক্সায় করে আসছি ; উনি মানে না। পরে আমার জোরাজুরি তে গাড়িতে উঠে পড়লেন। আফসিনের এতে মুখে খুশি হওয়ার ছাপ লক্ষ্য করলাম। তার সাথে কোথাও যেন এক খারাপ লাগা ছিল । এই মেয়ের আমার সাথে রিক্সায় করে যাবে বলে মন করছিল না তো!!!
.
নাস্তা করে হতে না হতে শালাবাবু জেদ ধরলো ভিডিও গেম খেলবে। অনেকক্ষণ ধরে শালাবাবু আমাকে হারানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে। পারছে না। যদিও খেলি না বহুদিন ধরে। তবু হাতের ধাড় টা রয়ে গেছে। শুনেছি খাওয়াদাওয়ায় লজ্জা করা বোকামি। আর আমি এমনি বোকা। লজ্জা করে নাস্তা খাওয়া হয়নি বলা যায়। ক্ষুধা পেয়েছে বড্ড। শাশুড়ি মা সেই সকাল থেকে নাকি রান্নাঘরে। আর এই দুপুরবেলা পর্যন্ত রান্না করে যাচ্ছে। বয়স হয়েছে উনার। ভাবতে খারাপ লাগছিল। কিন্তু উনাকে বড্ড প্রাণচঞ্চল দেখেছি। মেয়ের জামাই এর জন্য এসব করে বড্ড খুশি তিনি। কিন্তু এতো ভালবাসা সত্যি কি আমার প্রাপ্য!!
.
ক্ষুধা আমার একদম সহ্য হয় না। মাথা চিটচিট করা শুরু করে। এখন শালাবাবুর উপর অকারণে রাগ হচ্ছে। কিসের এতো গেম খেলা!! ভয় করছে; ক্ষুধার তাড়নায় না আবার ওকে কথা শুনিয়ে বসি।
.
হুট করেই আফসিন হাজির। হাতে ট্রে তে করে কি যেন এনেছে। পাশে টেবিলে একটা প্লেটে রুটি আর গোস্ত ভুনা সাজিয়ে আমার পাশে বসলো। রুটি এক টুকরো নিয়ে গোস্তের অল্প ঝোলে ভিজিয়ে মুখের কাছে এগিয়ে দিলো। এই মেয়ে জানলো কি করে আমার ক্ষুধা পেয়েছে!!! আমাকে পুরোপুরিভাবে জানবে এ সুযোগও তো নেই। এই তো কদিন হলো আমার বিয়ের। তাতেই আমার সব ভঙ্গিমা জেনে গেলো।
.
কি হলো খান?? নাহলে আমার ভাইটার উপর দিয়ে ঝড় টা যাবে হু।
.
এবারো বিস্মিত আমি। আমার মনের কথা জানলো কি করে!! ক্ষণেক্ষণে মেয়েটা আমায় অবাক করেই চলেছে।
শালাবাবু শত করেও আমাকে হারাতে পারছে না। আফসিন আমাকে খাওয়াচ্ছে আর ভাইকে চিয়ারআপ করছে।
হুট করে কি যেন মনে হলো, গাড়িটা বা দিকে ঠেলে দিলাম। এতেই ক্রাশ হলো আমার গাড়িটা। হেরে গেলাম। শালাবাবু খুশিতে পাগল। তার সাথে আফসিনও যোগ হলো। দুই ভাইবোন কে একসাথে অনেক ভালো লাগছিল। হাসির ফাকে আফসিন আমার দিক কেমন চোখে যেন তাকালো। যেন বুঝতে পেরেছে কাজটা আমার ইচ্ছে করে করা।
.
দুই.......
.
সন্ধে হওয়ার পর বোর হতে শুরু করলাম। তখনি শালাবাবু বলল ওর সাথে বাইরে থেকে ঘুরে আসতে। একবার ভাবলাম আফসিন কেও নিয়ে যাই। কিন্তু পরে মন সায় দিলো না। কাটাক না কিছু সময় বাবা আর শাশুড়ি মার সাথে।
.
আমরা ফুটপাথ দিয়ে হাটছি।
স্মোক করার তাড়নায় গলা শুকিয়ে কাঠ হওয়ার মতো অবস্থা। শালাবাবু সাথে থাকায় ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও পারছি না।হুট করে শালাবাবু বলল, দুলাভাই! আপনার মুখ এতো ফ্যাকাসে লাগছে যে!!! সিগারেট এনে দেই?? প্রবলেম নেই। আমি কিছু মনে করবো না।
এই লোকগুলোর বিহেভিয়ারের যথেষ্ট বিস্মিত আমি। প্রত্যেক জন্য আমায় অবাক করেছে। সবাই যেন আমাকে শতবর্ষ ধরে চিনে।
.
সিগারেটে প্রথম টান দিতে মনটা তরান্বিত হয়ে গেলো। সতেজ লাগছে বহুত। শালাবাবু তখনি বলল, দুলাভাই! কখনো কি মনে হয় না আপুনি আপনাকে বহুদিন ধরেই চিনে??
আমি মাথা নাড়লাম।
শালাবাবু মুচকি হাসলো। বলল, আপনি আসার পর থেকে আমার এমন মনে হচ্ছিল। ক্ষণেক্ষণে সবাই আপনাকে অবাক করে চলেছি। আচ্ছা বর্ষা আপু কেমন আছেন?? এখনো কথা হয় তাই না?
থমকে দাঁড়ালাম আমি। এর আগপর্যন্ত সব কাহিনী আমাকে এতোটা ভাবায়নি। বর্ষা সম্পর্কে তো আফসিন কেও জানাই নি। তাহলে শালাবাবু জানলো কিভাবে।
.
শালাবাবু আমার চুপ থাকা দেখে আবার বলল, আপুনির সাথে আপনার বিয়েটা অনেক আগ থেকে ঠিক ছিল। পরে শোনা গেলো কারো সাথে আপনার সম্পর্ক আছে। তাই আপুনির বলাতে কেউ বিয়ের কথা আপনাকে বলেনি। আপনি যদি বর্ষা আপুকে সত্যি ভালোবেসে থাকেন আপুনি আপনার মাকে রাজি করাতো। কিন্তু এরমাঝে বর্ষা আপুর নাকি বিয়ে হয়ে যায়। আপুনি কখনো চায়নি বর্ষা আপুর জায়গা নিতে। পরে আপনার মায়ের রিকুয়েস্ট করাতে আপুনি বিয়েতে রাজি হয়।
আমার অপরাধ বোধ আরো গাঢ় হলো শালাবাবুর কথায়। একটা মেয়ে যে কি না শুরু থেকে আমার কথা ভেবেছি সবসময় তাকে ইগনোর করে গেছি। বললাম, বুঝলে তো; কিছু মানুষ হয় যারা চিরকাল একজন কে সব ভালবাসা বিলিয়ে দেয়। পরে যতোই কেউ জীবনে আসুক না কেন সে আর ভালবাসতে পারে না।
- দুলাভাই, ভালবাসা তাকেই যায় যে তার মর্ম বুঝে। আচ্ছা আপনি তো জব করতেন তখন। হোক না বেতন অল্প। বর্ষা আপু তাহলে কেনো আপনাকে বিয়ে করলো না? সে তো আপনাকে নাকি ভালবাসে!!!
.
আমার মুখ থেকে কোনো কথা বের হলো না। সত্যি বলতে এর উত্তর আমার কাছে জানা নেই। বর্ষা সত্যি চাইলে আজ আমার হতে পারতো। কিন্তু কোনো কারণ ছাড়াই নিজেকে একসময় আমার থেকে দুরে ঠেলে দিয়েছিল।
শালাবাবু আমার কাছে চেয়ে জ্বলন্ত সিগারেট হাতে নিলো। একটা টান নিতে কাশতে কাশতে বেহাল দশা। একটু পর নিজেকে সামলে নিয়ে বলল, জানেন তো দুলাভাই; আমিও একসময় চেইন স্মোকার ছিলাম। রোজ দুতিন প্যাকেট মামুলি ব্যাপার ছিল। আর এর আগপর্যন্ত আমি সিগারেট হাতেও নিয়ে দেখিনি। এখন আপনাকে একটা ভালবাসার ম্যাজিক দেখাই। তাহলে সব বুঝবেন।
শালাবাবু ফোন বের করে কাকে যেন কল দিলো। এরমাঝে সিগারেটে আরেকটা টান দিলো। ওপাশে হয়তো কল ধরেছে। শালাবাবু তখনি কেশে উঠলো। মোবাইলটা স্পিকারে দেয়া। ওপাশ থেকে ঝাঁজালো কণ্ঠে শাসনীয় বাণী ভেসে আসছে। মেয়েটা হয়তো বুঝতে পেরেছ শালাবাবু স্মোক করেছে। কোনোমতে তাকে সামলে শালাবাবু বলল, আরে হালকা হাতকাটা গেছিলো তাই বাইরে আসা এতেই এক বন্ধু জোর করে স্মোক করালো।
এবার ওপাশ থেকে চিন্তিত সব কথা শুনা গেলো। মেয়েটা বারবার বলছে কতটুকু কাটা গেছে? কেমনে কাটা গেলো?? মেয়েটার মন যে ভার হয়ে গেছে তা বলার অবকাশ রাখে না। ভালবাসার এমন দৃষ্টান্ত ভালোই লাগছে। শেষে মেয়েটি বলল, আচ্ছা কি খাবে বল??
শালাবাবু বলল, হুট করে সুর পাল্টানো হচ্ছে যে!!!
- আরে না তোমার হাত কাটা গেছে। না জানি কতো খানি রক্ত ঝরেছে!! তুমি বলো না।
শালাবাবু মজাক করে বলল, তুমি নিজের হাতে বানালে তো বিষও খেয়ে নিবো প্রিয়।
এতে আবার শুরু হলো মানঅভিমানের খেলা। মেয়েটা প্রিয় মানুষের মুখে মরণের কথায় আবার ক্ষেপেছে। শালাবাবু আবার লেগে পড়লো মেয়েটাকে বুঝাতে।
.
শালাবাবুর কথা বলা শেষ। চুপচাপ আবার হাটা শুরু করলাম। শালাবাবু বলল, জানেন তো দুলাভাই! পৃথিবীর সব জিনিসের দুটি সত্ত্বা থাকে। আপনাকে যেমন বর্ষা আপু ঠকিয়েছে। আবার দেখেন না আমার এখনি কিছু হয়ে যাক তনয়া নিজেকে সামলাতে পারবে না। আমি বলছি না যে কাউকে ভুলে যেতে কিংবা জোর করে ভালবাসতে। আমি বাস্তবিক হতে বলছি; যে আপনার ভালবাসা, অনুভূতির আসল হকদার তার মর্যাদা করতে বলছি। দুলাভাই একটা কথা মনে রাখবেন, নিজের সুখের জন্যই কিন্তু মানুষ জীবন থেকে চলে যায়। পরে আবার যদি ফিরে আসতে চায় সেখানেও নিজের সুখের কথা ভাবে। এরা স্বার্থপর ছাড়া কিছুনা।
শালাবাবুর কথায় শুরু তে তিক্ততা থাকলেও বুঝার আছে। বর্ষা তো বিয়ের শুরু দিনগুলো কখনো আমায় স্মরণ করেনি। এরপর যখনি স্বামী অগ্রাহ্য করা শুরু করলো আমার সাথে আবার কন্টাক্ট শুরু করে দিলো। আমাকে নাকি এখনো ভালবাসে। ভালবাসে বলেই হয়তো অন্যের সন্তানের মা হয়তো!!! আহা কি ভালবাসা। আমাকে ভুলতে না পেরে চার সন্তানের জননী হবে একসময়। তবু বলবে আমায় ভুলতে পারেনি। না ভুলতে পারার কি দৃষ্টান্ত। ভালবাসে ঠিকি ই কিন্তু সেই ভালবাসাটা শুধু নিজেকে নিয়ে। এরা বেতনের চেকে কয়টা শূন্য আছে তাকে আগে মুল্য দেয় আত্মার অমান্য করে। পরে সবকিছু থেকেও নিজেকে একা পেয়ে ভুলটা বুঝতে পারে। তবু তখনো নিজের কথাটাই ভাবে।
.
অনেকক্ষণ হাটার পর শালাবাবু একটা ছোট্ট রেস্তোরায় নিয়ে গেলো। টক দইয়ের শরবত খাওয়াতে। জিনিস টা খেতে যথেষ্ট ভালো। আমি আরেক চুমুক দিয়ে বললাম, আচ্ছা তোমার আপুনি কে নিয়ে কিছু বল তো।
শালাবাবু এ কথায় অবাক হলো মনে হয়। পরে আমার দৃঢ়তা দেখে খুশি হলো বড্ড। হাসি মুখেই বলল, আপনাকে তো আপুনি অনেক আগে থেকে পছন্দ করে। এজন্য কতো জনের যে মন ভেঙ্গেছে।
আমি বললাম, আরে বল কি!!
- ঠিক তাই। আপুনি সব্বাই কে বলে রাখতো ওর বিএফ আছে। আর এতে ফায়দা হতো আমার। সব্বাই আমার কাছে এসে তোষামোদ করতো সেটিং করে দিতে। আমিও সুযোগের অসৎ ব্যবহার করে কতো কিছু যে হাতিয়েছি।
শালাবাবুর কথায় হেসে ফেললাম। হাসতে হাসতে বললাম, এখন যদি আমি বলি তোমার আপুনির সাথে সেটিং করিয়ে দেও। ওর সম্পর্কে সব বল তাহলে কি আমার কাছেও সুযোগের অসৎ ব্যবহার করবে নাকি!!!
শালাবাবুও এবার হেসে উঠলো। আজ আর শালাবাবু কে ছাড়ছি না। আফসিন আমাকে নিয়ে ঠিক কি ভাবে সব জেনে নিবো। ছোটবড় সব চাওয়া পূরণের রাস্তা হবো।
.
তিন....
.
প্লান অনুযায়ী আমার নিয়ে আসা সব শার্টের বোতাম নষ্ট করা শেষ। এখন আফসিন আসলে শার্ট না থাকার কথা বললে হলো। কিছু সময় পর আফসিন রুমে আসলো। কালো শাড়ি, কপালে ছোট্ট করে টিপ, হাতে রংবেরং এর চুড়ি, সাথে হিজাব পড়া একদম আমার মনের মতো হয়েছে।
মুখ ফসকে বলেই ফেললাম, আমার হৃদয় এমনিতে সফট। যা লাগছে তোমায়; না জানি কখন হৃদকম্পন থেমে যায়। এখন তো ফুল স্পিডে দৌড়াচ্ছে।
আফসিন কে দেখলাম লজ্জায় মাথা নিচু করেছে। এতে মেয়েটার মায়াময়ীতা কয়েক গুন বেড়ে গেছে। বললাম, হয়েছে লজ্জা আর পেতে হবে না। শার্টগুলো কোনোটাই পড়ার মতো না। এখন কি হবে??
আফসিন শার্টগুলো হাত নেড়ে দেখে নিলো। বলল, আমি কি করবো এখন??
- কেনো আমার জন্য যে শার্ট গুলো বানিয়ে রেখেছ ওগুলো কি করবে??
আফসিনের চোখ দেখলাম পানিতে টলমল করছে। আমি ওয়ারড্রব খুলে দেখি কয়েকটা শার্ট আছে। আফসিনের আবার নীল রং পছন্দ। তাই নীল প্রিন্টের শার্টটা পড়ে নিলাম। আফসিন তখনো জিজ্ঞাসু চোখে চেয়ে রয়েছে। এতো অবাক কেনো হও হু। এতদিন মায়ের সাথে ঠিকি যোগাযোগ করে ছেলের খবর রেখেছ। শরীর থেকে শুরু করে ভালোমন্দ সব জেনে নিয়েছ। আড়ালে ভালবেসে গেছো। আজ আমি নাহয় তোমায় খানিক অবাক করলাম
.
আফসিনের প্রিয় জায়গাতে এসেছি। নদীর পাড়ের এই জায়গাটাতে আরো অনেক লোকের সমারোহ। বিশেষ করে কাপল দের। আসার সময় রিক্সার মাঝখানে চেষ্টা করলে আরেকজন কে বসানো যেতো। একসময় আমি দূরদূর থেকেছি। এখন আফসিন করছে। নদীর পাড়ে বসে পানিতে দুপা রেখে চুপ করে আছি। দেখি মেয়েটা কতক্ষণ চুপ করে থাকে। একটু পর আফসিন পানিতে পা রাখলো। আসমানের দিক তাকিয়ে বলল, আকাশের এই নীল রং আমার বড্ড পছন্দের।
শুরু হয়ে গেলো আমাদের কথাকলি।
.
রাতের বেলা আফসিন বিছানা করছে। তখন ঝুম বৃষ্টি এলো। আফসিন থেকে থেকে বাইরে তাকিয়ে দেখছে। জানি মেয়েটার বৃষ্টি বিলাস করার ইচ্ছে অনেক। তাও আবার আমার সাথে। আমি কবিগুরুর গান গাইবো আর আফসিন নাচবে। মধুর এক মুহূর্ত হবে তখন। আফসিন এবার আমার দিক তাকালো। যেন বলছে, যাবে আমার সাথে? আমি মুচকি হেসে মাথা নাড়লাম। মেয়েটা বাচ্চার মতো ফিক করে হেসে উঠলো। আমার হাত টেনে নিয়ে যাচ্ছে। গন্তব্য এখন ছাদ।
.
আমারো পরাণো যাহা চায়!
তুমি তাই! তুমি তাই গো!!!
.
আমার গান গাওয়া শুনে আফসিন বিস্মিত। গানের তালে ওকে নাচতে বললাম। আবার শুরু হলো আমার গান সাথে আফসিনের নাচ। এতক্ষণ আমি বৃষ্টিতে ভিজি নি। একসময় বৃষ্টিতে শরীর ছুয়ে আফসিনের কাছে গেলাম। আফসিন তখনো নেচে চলেছে। ঘায়েল হওয়া চোখে ওকে দেখছি আমি। থামালাম আফসিন কে। পিছন থেকে কমড়ে হাত দিয়ে কাছে টেনে নিলাম। সে কি গভীরতা আফসিনের চোখে! সেখানে শুধু আমাকে নিয়ে যতো ভাবনা। আমরা এতো কাছাকাছি কখনো আসিনি। ওকে একটা চুমো খেতে বড্ড মন করছিল। আফসিনও যেন তাই চাচ্ছে।
.
সকাল সকাল বেড়িয়ে পড়েছি। আমার তো মনে ভয় গেঁথে গেছে। আফসিনের মন আবার না বাবার বাড়িতে লেগে যায়। নদীর উপর দিয়ে আবার চলেছি। কিন্তু আমার আর ভয় করছে না। আমার সাথে যে আমায় ভালবাসে সেই মানুষটি আছে। আজ ভয় পাচ্ছি না দেখে মেয়েটা হাতে হাত রাখছে না। বদ মেয়ে একটা। অভিমানী সুরে বললাম, আমি আজো কিন্তু ভয় পাচ্ছি।
আফসিন আমার ছেলেমানুষি কথায় হেসে ফেললো। হাসেন হাসেন। আমি ওর হাত টেনে কাছে আনলাম। হাতদুটো শক্ত করে ধরে রেখেছি। যখন ওর ঘাড়ে মাথা রাখতে যাবো আবার মেয়েটার চোখ পানিতে টলমল করছে। চোখ রাঙ্গালাম আমি। মেয়েটা হাসার চেষ্টা করলো। নুয়ে পড়া চোখেরজল মুছে দিলাম। নাহ নিজের সুপ্ত সব অনুভূতি কে আর বাধা দেয়া যাবে। তার জন্য তো একদমি না যার চোখের পানির প্রতিটি কণায় আমার হক। আমাকে নিয়ে যতো ভালবাসা!!
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now