বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

একজন সাইকো অথবা তার লাল-বেগুনী আকাশ

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)



X ...আমি এখন যেখানে চুপচাপ দাড়িয়ে আছি এটা আমার খুবই প্রিয় একটা জায়গা। কেন প্রিয়, জানিনা। শুধুমাত্র বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রিয়, তারপরে আর না। তেজগাঁও নাখালপাড়ার উপর বা কাছ দিয়ে যে মিনি ওভারব্রীজটা গেছে তার একেবারে মাঝখানে রেলিঙের উপর এক পা ভর দিয়ে ফুরফুরে শীতের বাতাস খাইতেছি আর সূর্য ডোবার আকাশ দেখি। বাহ্ কি সুন্দর। হাতে ইন্টারভিউর ব্যাগ, পকেটে ব্যালেন্সশুন্য মোবাইল আর মোটমাট ৮৫ টাকা আছে। বাসায় ফিরতে ৪০ টাকা খরচ হবে, বাকি থাকবে ৪৫। পরক্ষনেই মনে হল, ইস্! খালি ৪৫ না থেকে যদি ৪৫হাজার থাকত তাইলে এক্ষুনি দৌড়ে সোজা বসুন্ধরা শপিং মলে চলে যেতাম। অতঃপর ১৫হাজারের তিনটা চকমকা শাড়ি কিনে প্রথমটা আম্মুকে দিয়ে বলতাম, "আম্মু এইটা তোমারে ঘুষ দিছি, বিনিময়ে রোজ রাতে আমার মাথায় হাত বুলিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিবা ছোটবেলার মতন।" এরপর দ্বিতীয়তটা ছোটবোনকে দিয়ে বলতাম, "আমি নাকি তোরে কিছু দেইনা? তাইলে এইটা কি দেখ।" এবং সর্বশেষটা ফার্মগেট যে ছাত্রী পড়াই তার বড়আপা রুম্পাকে দিয়ে বলতাম, "আমি জানি আপনি অন্ধ, চোখে দেখেন না, আর কানা বউ নিয়ে সংসার করা তো শতভাগ ভয়ানক ঝামেলা। তাও আমি আপনাকে নিয়ে অতি সাধারণ একটা সংসার করতে চাই, আপনি কি রাজি?" হেহ্ শব্দে হেসে ফেললাম একটু। আমার আগামাথাহীন ভাবনার জন্য হাসলাম। যে ছেলে প্রায় মাসখানেক ধরে ইন্টারভিউর পর ইন্টারভিউ দিয়েই যাচ্ছে অথচ চাকরির কোন নামগন্ধ নাই, সেই ছেলের মগজে অমনসব সুখের ভাবনা আসে কোন সাহসে? ফ্যামিলিতে টানাটানি, ধারদেনায় চৌদ্দজনের কথা শোনা লাগে, ঘরে ঢুকলেই "এইটা আনা লাগবে ঐটা নাই, অমুক শেষ, তমুক আন" এতসব প্রতিনিয়ত দুইকানের ছিদ্র দিয়ে শুনতে শুনতে যে ছেলে প্রায় সাইকো হওয়ার পথে তার মাথায় কেমনে ঐসব বসুন্ধরা সিটি, শাড়ি, সংসার হাবিজাবির উৎপত্তি ঘটে? যেহেতু উৎপত্তি ঘটে গেছেই তার মানে বলা যায়, আমি সাইকো হয়ে গেছি। বাহ্, কি খুশির সংবাদ! এতক্ষন লাল-বেগুনি আকাশ দেখার সাথে কয়েকটা চিন্তার ঘোরে ডুবে ছিলাম তাই বোধহয় কানে কোন শব্দ আসে নাই। এখন ধপাস করে একগাদা চিল্লাপাল্লা শুনতেছি। পিছন তাকাই, ঐ সাইডে দুই রিকশায় চাকা বাজিয়ে দিছে। তর্কাতর্কি আরম্ভ, দর্শকের ভূমিকায় যাত্রিরা। যাকগে, আমার ঐসব দেখে লাভ নাই। আমার এখন যেটা করে লাভ হবে তাইই করি বরং। মোবাইলটা বের করে চটজলদি ব্যালেন্স চেক করলাম। আলহামদুলিল্লাহ্, মিসকল দেয়ার পয়সা আছে। ফাটাফাটি খুশি হয়েছি এমন ভাব করে ফার্মগেটের ঐ ছাত্রীর বাসার নম্বরে কল দিলাম, অর্থাৎ মিসকল। ওদের বাসার ফোনটা বোনদের রুমেই থাকে। টানা দুটো মিসকল দেয়ার পর ব্যাক আসলো। সবুজ বাটন টিপ দিয়ে কানে লাগানোর পর হঠাৎ কেনজানি মনে হল মিসকল দেয়াটা আসোলে ঠিক হয়নি, ধুর। - হ্যালো, হ্যালো কে বলছেন? - জ্বি মানে আমি রাজু। আপনি কে বলছেন? - আমি রুম্পা। আজ পড়াতে আসবেন না? সময় তো হয়ে গেছে। - জ্বি না। সারাদিনে টোটাল তিনটা ইন্টারভিউ নামক ফালতু কর্ম সেরে আমি এখন নাখালপাড়া মিনি ওভারব্রীজের মাঝখানে দাড়িয়ে হাওয়া খাচ্ছি আর লাল বেগুনি আকাশ দেখছি। - তাই? ইন্টারভিউ কেমন হল? - হ্যা ভালই হয়েছে, কিন্তু দৃঢ় আমি আশাবাদী একটাতেও হবে না। - আশ্চর্য, এমন খুশি খুশি ভাবে বলছেন কেন। এটা কোন খুশির কথা? - সাইকো হয়ে গেছি যে, তাই। আপনাকে একটা সত্যি কথা বলি? সরি, একটা না, দুটো সত্যি কথা। - বলেন। - আমি আসোলে আপনার সাথে একটু কথা বলার জন্যই কল থুক্কু মিসকল দিছিলাম। আমার সাথে তো নরম স্বরে কথা বলার কেউ নাই, তাই আপনাকে পাশে বসিয়ে কথার পর কথা বলতে ইচ্ছা করে। আপনি কি আমার কথায় রাগ করলেন? রুম্পার কন্ঠ হঠাৎ প্রচন্ড ধরে আসছে সম্ভবত কিন্তু বুঝতে দেয় না। স্বর নর্মাল রেখেই বলে, এইটা তো একটা সত্যি কথা বলা হল। আরেকটা? - হুম! ওহ্ আরেকটা? উমম আরেকটা যেন কি? - ভুলে গেলে থাক, পরে বইলেন। - আচ্ছা। - দুপুরে খাইছিলেন? - নাহ। ইন্টারভিউর টেনশনে ক্ষুদাই লাগে নাই। বাসায় গিয়ে খাবো। - বাসায় কখন যাবেন? - জানিনা। - লাল বেগুনি আকাশ দেখা এখনো হয়নাই? - রুম্পা! আমার ঐ আরেকটা সত্যি কথা এখন মনে পড়ছে। বলব? - হ্যা বলেন। - ঠিক এখনের মত আপনাকে একদিন পাশে নিয়ে সারা বিকাল সন্ধ্যার লাল বেগুনি আকাশ দেখার আমার খুব ইচ্ছা। কোন সমস্যা নাই, আমি এমনভাবে আপনাকে আকাশের এ টু জেড বিস্তারিত বর্ণনা দিবো যে আপনি ঐ গাঢ় অন্ধকারের মধ্যেই স্পষ্ট দেখতে পাবেন সবকিছু, একদম স্পষ্ট। এবার দেখি আমার কন্ঠ ধরে আসতেছে, চোখ ঘোলা ঘোলা লাগে। এ তো মহাঝামেলা। অবশ্য আমি তো সাইকো হয়ে গেছি, এমন লাগতেই পারে। - রাজু। - জ্বি। - আমার নাম ধরে একটু ডাকবেন? - জ্বি? - আমার নামটা ধরে ডাকেন। তখন যেমন হঠাৎ করে ডাকছিলেন। - রুম্পা। - হ্যা বল। - কিছুনা, রাখি। ফোন কেটে পকেটে ভরে ফেললাম। আর কথা বলতে পারব না, বললেই বুঝে ফেলত আমার কান্না আসতেছে। মেয়েদের বুঝ ক্ষমতা অতি অত্যধিক, অন্তত বিখ্যাত মনীষিরা তাইই বলে গেছেন। তাঁরা যেহেতু বলে গেছেন, আমি তাইলে আর এতে দ্বিমত করার কে, তাইনা? তারা তো আর আমার মত সাইকো ছিল না। সন্ধ্যা হয়ে গেছে পুরোপুরি। আকাশে এখন আর লাল-বেগুনি রঙ নেই, রুম্পার দৃষ্টির মত অন্ধকার ছেয়ে গেছে চারপাশ। এবং আমারও সময় হয়ে গেছে চলে যাওয়ার, যাই। চোখের ঘোলা ভাব অবশ্য এখনো কমেনি, উল্টো বাড়ছে। রাস্তাপাড়ের সময় গাড়ির নিচে না পড়লেই হয়।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২৫৫ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...