বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

শিগব (পর্ব-৪)

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান উৎস বিশ্বাস (০ পয়েন্ট)



X কিছুদিন পরে এক বিকালে তৃষার সাথে দেখা হয় স্বপনের। তৃষার চেহারায় কেমন যেন একটা অসুস্থ ভাব চলে এসেছে। হাঁটছে এলোমেলোভাবে। দেখে মনে হচ্ছে দাঁড়াতে ও যেন খুব কষ্ট হচ্ছে। স্বপন : কি হয়েছে তোমার? : মৃত্যুর প্রহর গুনছি। : ছিঃ! কি বলছ এসব! : বদমাশটা আবার এসেছিল। বলেছে আমি ওর সাথে না গেলে আমাকে আর বাঁচিয়ে রাখবে না। : ও তোমাকে বাচিয়ে রাখবে, তৃষা। কারন তোমার মাধ্যমেই ও মুক্তি পাবে। তোমাকে সাধারনভাবে মেরে ফেললে শয়তানটা মুক্তি পাবে না। : ঠিক বুঝতে পারছিনা। : আমি আনোয়ারের কাছে গিয়েছিলাম। তুমি তো জান এসব বিষয়ে আনোয়ারের আগ্রহের কথা। : তুমি আনোয়ার ভাইয়ের কাছে গিয়েছিলে! : হ্যাঁ তৃষা। তুমি একদম চিন্তা করবে না। আমি তোমাকে জীবন দিয়ে রক্ষা করব। আর আনোয়ার তে অছেই। তোমাকে এখন শক্ত হতে হবে। শিগবটার সাথে কথা বলতে হবে। :এটা কিভাবে সম্ভব? : অবশ্যই সম্ভব। তুমি শিগবটার সাথে কথা বলে বের করবে ওর কবরটা কোথায়। : আমি পারব না। আমার ভয় করে। :“তোমাকে পারতেই হবে, তৃষা, পারতেই হবে।” স্বপনের বুকে মাথা রেখে তৃষা বলে,“আমি চেষ্টা করব, স্বপন । আমি চেষ্টা করব।” সেদিন বিকালটা ওর খুব ভালো কাটল। সকল দুঃস্বপ্নকে দূরে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করল। হলে ফেরার পথে হঠাৎ তৃষা স্বপনকে ফিসফিস করে বলে উঠে, “আমি না তোমাকে খুব ভালবাসি।” :আমি জানি।” হাসতে হাসতে বলল স্বপন। :এভাবে সারাজীবন অমাকে আগলে রাখবে। ঠিক আছে? :ঠিক আছে।” তৃষা তার রুমের সামনের বারান্দায় চুপচাপ দাড়িয়েছিল। হঠাৎ বিপাশার সাথে দেখা হলো। বিপাশা উৎফুল্ল গলায় বলল, “তৃষা জানিস তো আজ পূর্নিমা। আজ সারারাত অনেক মজা করব। সাদিয়া, রুপা, সাথী, শিমু সবাই মিলে আড্ডা হবে। আর আজ সিগারেট খাওয়ার ট্রাই করা হবে।” বিপাশার কথা শুনে বুকের ভেতর ধক করে উঠে তৃষার। আজ পূর্নিমা?!!! তবে কি আজ শিগবটা আসবে? তৃষা যদি বেশি মানুষের সাথে থাকে তবে শিগবটা নিশ্চই আসবে না। বিভিন্ন চিন্তায় আচ্ছন্ন হয় তৃষা। যে করে হোক শিগবের সাথে কথা বলে জানতে হবে ওর কবর কোথায়। এই প্রথম শিগবের সাথে দেখা করার ব্যাপারে এক ধরনের উত্তেজনা কাজ করে তৃষার মধ্যে। বিপাশার দিকে তাকিয়ে তৃষা বলল, “না রে বিপাশা। আজ রাতে কোন মজায় আমি নেই। আমার শরীরটা একটু ও ভাল নেই। আজ আমি নিজের ঘরে দরজা বন্ধ করে ঘুমাব।” সন্ধ্যা হতেই নিজের রুমে চলে আসে তৃষা। রক্তে রক্তে শিহরণ হতে থাকে। স্বপনকে ফোন করে তৃষা। : স্বপন আজ না পূর্নিমা। : আমি জানি তৃষা। : ভয় লাগছে স্বপন। : কোন ভয় নেই তৃষা। : যদি আমার কিছু হয়ে যায় তবে তুমি............. : ছি:! বোকা মেয়ে! এসব বোলো না। তোমার কিছু হবে না। উল্টো ওই শয়তানটা মরবে।” রাত বারোটার বেশি বাজে। তৃষা তার রুমে খাটে বসে বই পড়ছে। পড়া মাথায় ঢুকছে না। মূলত কোন একটা কিছু নিয়ে ব্যস্ত থাকার চেষ্টা করছে তৃষা। হঠাৎ কেউ তৃষার কাধে হাত রাখল। শীতল একটা হাত। তৃষার সমস্ত শরীর কাঁপুনি দিয়ে উঠে। পিছনে ফেরার সাহস পায় না তৃষা। শিগবটা সামনে এসে বসে, “চলো...........। যেতে হবে............ ।” : কে তুমি? কে??? : আসগর। আসগর আমি। আসগর............। : কোথায় থাক তুমি? : কেন? কেন?? ..............। : তোমার সাথে যেতে বলছ অথচ আমাকে কিছুই বলবে না। : পিরোজপুর। মঠবাড়িয়া, পাতাকাটা গ্রাম। মঠবাড়িয়া..........পাতাকাটা.......... : না । না । অমি যাব না।” শিগবটা প্রচন্ড জোরে তৃষাকে আঘাত করে। তৃষার ঠোট কেটে রক্ত পড়তে থাকে। শিগবটা তৃষার গলা চেপে ধরে। উচু করে ফেলে এক ঝটকায়। যন্ত্রনায় চিৎকার করতে চায় তৃষা। কিন্তু গলা দিয়ে কোন শব্দ বের হতে চায় না। শিগবটা বলতে থাকে, ‘মেরে ফেলব। মেওে ফেলব...। চল.....চল.....।” তৃষাকে দেওয়ালের উপর আছড়ে ফেলে শিগব। প্রচন্ড ব্যাথায় জ্ঞন হারিয়ে ফেলে তৃষা। রাত দুইটার দিকে তৃষার ঘরে আলো জ্বলতে দেখে উকি দেয় বিপাশা। বিপাশা দেখতে পায় তৃষার মাথা শরীর রক্তাক্ত। একটা চিৎকার দেয় বিপাশা। তৃষাকে নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকা মেডিকেলে। ঠিক রাত তিনটায় স্বপনের ঘুম ভেঙ্গে যায়। ঘরে একটা বোটকা গন্ধ পায় স্বপন। ঘরটা কেমন যেন আশ্চর্য রকম শীতল। স্বপনের কেমন যেন একটা আতংকের অনুভূতি হতে থাকে। ডিমলাইটের আবছা আলোয় স্বপন দেখতে পেল কেউ তার খাটের দিকে এগিয়ে আসছে। মূর্তির মত স্থির হয়ে যায় স্বপন। নি:শ্বাস আটকে যায় ওর। ও বুঝতে পারে শিগবটা এসছে। স্বপন কিছু বুঝে উঠবার আগে শিগবটা স্বপনের উপর ঝাপিয়ে পড়ে। স্বপন শক্তি খাটায়। কিন্তু শিগবের শক্তির সাথে পেরে ওঠে না। স্বপনকে এলোপাতাড়ি অঘাত করতে থাকে শিগব। যেন একটা আক্রেশের বিষ্ফোরন ঘটেছে। স্বপন: দূর হ.........। চলে যা.............. ।” ঝাটকা মেরে শিগবটাকে সরিয়ে দেয় স্বপন। শিগবটা উঠে দাড়ায়। স্বপনও লাফ দিয়ে উঠে পড়ে। স্বপন টেবিলের উপর রাখা টেবল ল্যাম্পটা হাতে তুলে নেয়। সজোরে শিগবের মাথায় আঘাত করে। শিগবটা কিছুটা পিছু হাঠে। এমন সময় স্বপনের মায়ের কন্ঠ শোনা যায়। “স্বপন, বাবা তোর কি হয়েছে? এত শব্দ কিসের?” শিগবটা হঠাৎ কোথায় যেন মিলিয়ে যায়। স্বপন বুঝতে পরে শিগবটা এই ঘরেই আছে। কি শক্তি শিগবের! পুরো শরীরটা নাড়িয়ে দিয়ে গেছে। প্রচন্ড দুর্বল লাগতে থাকে স্বপনের। রাতটা মায়ের কোলে মাথা রেখে কাটায়, ও। স্বপনের কি হয়েছে বুঝতে পারেনা মা । তবে এটুকু বুঝতে পারেন তার ছেলে বড় কোন বিপদে পড়েছে। সকালে বিপাশার ফোন পেয়ে পাগলের মত ঢাকা মেডিকেলে ছুটে যায় স্বপন। তৃষার কিভাবে এতবড় জখম হলো হলের কোন মেয়ে তা বুঝতে পারে না। তবে স্বপন পুরো ব্যপারটাই বুঝতে পারে। নিশ্চয়ই কাল রাতে তৃষার কাছে শিগবটা এসেছিল। ক্রোধে, রাগে ফেটে পড়ে স্বপন। তৃষার মাথা, হাতে, পায়ে ব্যান্ডেজ। কথা বলার শক্তি নেই। স্বপন তৃষার কাছে গিয়ে বসে। “ তৃষা, একি অবস্থা তোমার।” চোখে পানি চলে আসে স্বপনের। তৃষা হাসার চেষ্টা করে। বহুকষ্টে স্বপনকে ডাকে তৃষা, “স্বপন.........।” : বলো তৃষা। : পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার পাতাকাটা গ্রাম............। : মানে ?! : ওখানেই শিগবটার কবর। : কি বললে? সত্যি?!! : হ্যাঁ। কাল রাতে আমি জেনেছি...........।” : আচ্ছা আচ্ছা। তোমার আর কথা বলার দরকর নাই। বিশ্রাম নাও।” ডাক্তারের সাথে কথা হয় স্বপনের। ডাক্তার অভয় দিয়ে বলেন “ ভয়ের কিছু নেই। দুদিন পরেই রিলিজ করে দেব।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৪০২ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...