বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অভিশপ্ত ডায়েরী-০৫

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)



X “অভিশপ্ত ডায়েরী” (পর্ব-৫) By : সামিয়া আহমেদ । আমার আব্বু বলল,“আপনি এমন কেন বলছেন? আপনি যদি আমাদের যেকোন সাহায্য করতে পারেন,প্লিজ করুন।”আমি ঐই বিষয়ে সবকিছু জানিনা কিন্তু একজন আছে যে আপনাকে সাহায্য করতে পারবে। আব্বু বলল,“কে সে?আপনি কি আমাকে তার কাছে নিয়ে যাবেন?”ফাদার বলল,“তিনি একজন প্রিস্ট।তিনি খুব বৃদ্ধ তাই চার্চে আসেন না।চার্চের পিছনের একটি ছোট বাসায় থাকে।চলেন আমি আপনাদের তার কাছে নিয়ে যাই।”আমরা তার সাথে সাথে চলতে লাগলাম চার্চের পিছনে।যেয়ে দেখলাম পুরাতন দিনের একটি আউট হাউস।ফাদার আমাদের বললেন,“আপনারা এখানে অপেক্ষা করুন।আমি আসছি।”কিছুক্ষণ পর তিনি আবার আসলেন এবংআমাদের ভিতরে আসতে বললেন।আমরা ভিতরে যেয়ে দেখলাম প্রায় ৮০ বছরের একটি বৃদ্ধ লোক হুইলচেয়ারে বসে আছে।আমার আব্বুকে দেখে তিনি ফাদারকে বললেন,“ইনি কি সেই ব্যক্তি যার কথা তুমি আমাকে একটু আগে বলেছিলে?”ফাদার বললেন,“জ্বী,তিনিই সেই সাহায্যপ্রার্থী।”আমার আব্বু তাকে সব ঘটনা বলল। আমি তাকে সেই ডায়েরীটাও দেখালাম।তিনি ডায়েরীটা দেখে ভীষণ চিন্তিত হয়ে পড়লেন এবং বললেন,“এটি অভিশপ্ত,ভীষণ অভিশপ্ত তোমরা এই ডায়েরী কেন নিয়ে আসলে?”আব্বু বললেন,“আপনি এই ব্যাপারে কিছু জেনে থাকলে,প্লিজ বলুন।”প্রিস্ট বললেন,“ঠিক আছে।প্রায় ১০০ বছর আগে আজকের দিনের ডেনভার শহরের বেশিরভাগ স্থানই ঘন জঙ্গল ছিল।এখানে খুবই কম জনবসতি ছিল।সেই সময়ও এই চার্চ ছিল।অনেক দূরদূরান্তে থেকে মানুষ আসতো।তখন এখানে এক নতুন দম্পতি আসলো।তার মধ্যে মেয়েটি রাশিয়া থেকে এসে এসেছিল।তার নাম মিয়া ছিল আর ছেলেটির এলেক্স।তৎকালীন সময়ে আমেরিকা-রাশিয়া পরস্পর বিরোধী হওয়ায় এখানকার স্থানীয়রা তাদের খুবই অপছন্দ করতো। তাদেরকে কেউ কোন উৎসবেও নিমন্ত্রণ দিত না।সবাই এড়িয়ে চলতো।তবুও তারা দুজন অনেক সুখে ছিল কারণ তারা একে অপরকে অনেক ভালবাসতো।কিন্তু মাঝে মাঝে এলেক্স খুবই মনমরা হয়ে যেত এখানকার মানুষের ব্যবহার এর জন্য তখন মিয়া তাকে বুঝাতো,সান্ত্বনা দিত যদিও মিয়াও খুব কষ্ট পেত।কারন সানডেতে সে যখন চার্চে যেতো অনেকেই বিরুপ মন্তব্য করত। একদিন এলেক্স খুব অসুস্থ ছিল।মিয়া খুবই চিন্তিত হয়ে উঠলো।সেই সময় অনেক রাত ছিল তাই মিয়া পাশের এক ডাক্তার এর বাসায় গেল।সেদিন ডাক্তারের স্ত্রী বাসায় ছিল না।মিয়া ডাক্তারকে যেয়ে বলল, “আমার স্বামী এলেক্স খুব অসুস্থ এবং প্লিজ আমাকে সাহায্য করুন।”ডাক্তার মিয়াকে বলল,”যে আমি তোমাকে আমি কেনইবা সাহায্য করব আর আমিইবা কি পাবো?”মিয়া বলল,“আমার পক্ষে যা সম্ভব তাই করে আমি আপনাকে সাহায্য করব,প্লিজ এখন চলুন।”ডাক্তার বলল,“ঠিক আছে। তুমি যখন এত অনুরোধ করছো আমি তোমাকে সাহায্য করব।কিন্তু তার আগে আমার একটি কাজ করে দিতে হবে।”মিয়া বলল,“অনেক অনেক ধন্যবাদ। আপনি বলুন,আমি এক্ষণি করে দিব।”ডাক্তার বলল,“আমার স্ত্রী জেনিফার বাসায় নেই তাই আজ রাতটি তুমি আমার সঙ্গ দিলে কেমন হয়?”মিয়া খুবই বিস্মিত হয় আর ভাবে পৃথিবীটা খুবই নির্দয়ী। একজন অপরজনের অসহায়ত্মকে কাজে লাগিয়ে নিজের স্বার্থ উদ্ধারে সর্বদাই তৎপর।ডাক্তার বলল,“কি ভাবছো?ইউ ডন্ট হাভ মাচ্ টাইম।টেল মি আর ইউ রেডি অর নট ?”এই বলে সে এক গ্লাস স্কচ দিলো মিয়াকে । মিয়া তার হাত থেকে গ্লাসটি নিলো আর তার চেহারায় স্কচ ঢেলে দিল।আর বলল ,“তোমার মত মানুষের জন্য আজ সমগ্র মানবজাতি কলঙ্কিত।কিন্তু এখনো পৃথিবীতে ভালো মানুষ আছে এবং তাদের সাথে ইশ্বর আছে।”এই বলে মিয়া চলে গেল।কিন্তু ডাক্তারটি সাথে সাথে ফন্দি আটল তার অপমানের বদলা নেয়ার জন্য।সে বলল,“আমাকে মাফ কর,মিয়া।যা বললাম সব নেশার ঘোরে।চল আমি তোমার সাথে চলি।”অগত্যা কোন উপায় না পেয়ে মিয়া রাজি হল।বাসায় পৌছে ডাক্তার এলেক্সকে পরীক্ষা করতে লাগল।সে মিয়াকে বলল,“আমাকে একটু গরম পানি এনে দাও।”মিয়া তাই কিচেন যেয়ে স্টোভেগরম পানি চড়াল।ততক্ষণে ডাক্তার জ্ঞানহীন অবস্থায় পরে থাকা এলেক্সের বুকে ছুরি মারল।আর তার রুমের ড্রয়ারে কালো জাদুর একটি বই রেখে পালিয়ে গেল। (চলবে)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১২ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...