বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ট্রয়ের যুদ্ধ (পর্ব - ০১

"পৌরাণিক গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান সাইমন জাফরি (০ পয়েন্ট)



X বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দরী নারী ছিলেন হেলেন,যিনি ছিলেন জিউস ও লিডার কন্যা এবং ক্যাষ্টর ও পোলাক্সের বোন। তার এমনই রূপ-সৌন্দর্য ছিলো যে গ্রিসের প্রতিটি তরুন রাজকুমারই তাকে বিয়ে করতে চাইলো। যখন তার পাণিপ্রার্থীরা বিয়ের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেওয়ার জন্য তার প্রাসাদে জড়ো হলো তখন তারা সংখ্যায় এত বেশি ছিলো এবং এতসব ক্ষমতাশালী পরিবার থেকে এসেছিলোযে আপাত বিবেচনায় হেলেনের পিতা ( হেলেনের মায়ের প্রকৃত স্বামী) , রাজা টিন্ডারিউস , তাদের মাঝ থেকে একজনকে নির্বাচন করতে গিয়ে ভয় পেয়ে গেলেন , এই কারনে যে অন্যরা হয়তো জোট বেধে তার বিরুদ্ধে চলে যাবে। তাই সবার কাছ থেকে নিয়ে নিলেন একটি অনড় অঙ্গীকার যে, যে ই হেলেনের স্বামী নির্বাচিত হোক না কেনো অন্যরা সেটি সমর্থন করবে। সবাই মেনে নিলো কেননা প্রত্যেকেই আশা করছিলো যে সে নিজেই নির্বাচিত হবে। এবং তারা প্রতিঞ্জা করলো যে কেউ হেলেনকে অপহরন করতে এলে তাকে দেওয়া হবে চরম শাস্তি। রাজা টিন্ডারিস পছন্দ করলেন আগামেমননের ভাই মেনেলাউসকে এবং তাকে স্পার্টার রাজাও বানালেন। একটু পিছনে ফিরে তাকাই। প্রেম ও সৌন্দর্যের দেবী ভালো করেই জানতেন কোথায় খুঁজে পাওয়া যাবে মর্তের সবচেয়ে সুন্দরী নারীটিকে। ইনোনীর দুর্ভাগ্যের কথা একবারো চিন্তা না করে তিনি তরুন মেষপালককে পাঠিয়ে দিলেন স্পার্টাতে, যেখানে মেনেলাউস ও হেলেন তাকে তাদের অতিথিরূপে সাদরে গ্রহন করলেন। অতিথি ও আতিথ্যদানকারীর মধ্যে সম্পর্ক ছিলো অতি চমৎকার। এই বন্ধনে পূর্ণ আস্থা রেখে মেনেলাউস প্যারিসকে রেখে গেলেন তার গৃহে এবং রওনা দিলেন ক্রিটের উদ্দেশ্যে। কিন্তু প্যারিস ভেঙে দিলেন সেই পবিত্র সম্পর্কটি। মেনেলাউস ফিরে গিয়ে দেখলেন হেলেন নেই ; তিনি পুরো গ্রিসের কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করলেন। সকল দলপতিই সাড়া দিতে বাধ্য ছিলেন। সবাই সোৎসাহে এগিয়ে এলেন ট্রয়কে ধুলোয় মিশিয়ে দিতে। কিন্তু শীর্ষস্থানীয় দুজনকে পাওয়া গেলো না; তারা ছিলেন ইথাকা দ্বীপের রাজা অডিউস এবং সমুদ্র উপদেবী থেটিসের পুত্র একিলিস কে। অডিউস ছিলেন গ্রিসের অন্যতম বুদ্ধিমান ও দ্বায়িত্বশীল মানুষ। কিন্তু একজন বিশ্বাসভঙ্গকারী নারীর জন্য তিনি নিজ পরিবার ও দেশকে ছেড়ে অন্যদেশে এক রোমান্টিক অভিযানে যেতে চাইলেন না। তাই তিনি পাগলের ভান করতে লাগলেন এবং সেনাবাহিনীর দূতকে ফাকি দেবার জন্য রাজা হয়েও তিনি মাঠে লাঙ্গল চড়াচ্ছিলেন এবং বীজের পরিবর্তে লবন বপন করছিলেন। কিন্তু দূতটিও ছিলো সুচতুর। সে অডিউসের ছোট পুত্র সরাসরি লাঙ্গের গতিপথের সামনে এনে রাখলো। সাথে সাথে অডিউস তার লাঙ্গল সরিয়ে ফেললেন এবং প্রমান হয়ে গেলো যে তিনি সম্পুর্ণ সুস্থ। একিলিসকে আটকে রেখেছিলেন তার মা। উপদেবীটি জানতেন যে একবার ট্রয়ে গেলে তার পরিণতি হবে মৃত্যু। তিনি একিলিসকে নারীবেশ ধারন করতে বাধ্য করলেন এবং লুকিয়ে রাখলেন মেয়েদের মাঝে। অডিউস এলেন তাকে খুজতে। ফেরিওয়ালার ছদ্মবেশে তিনি গেলেন রাজপ্রাসাদে এবং সাথের ঝোলায় করে নিয়ে গেলেন চমৎকার গহনা এবং কিছু অস্ত্র। অন্যান্য বালিকাদের সাথে একিলিসও আসলেন এবং তিনি আগ্রহ দেখালেন অস্ত্রের প্রতি। তখন অডিউস তাকে চিনে ফেললেন এবং নিয়ে গেলেন সেনাছাউনিতে। একটি বিশাল নৌবহর তৈরি হয়ে উঠলো। এক হাজার জাহাজ নিয়ে চললো গ্রিক দলটিকে। তারা মিলত হলো অলিসে, যে স্থানটি ছিলো তীব্র বায়ু প্রবাহ ও মারাত্নক স্রোতে আক্রান্ত। উত্তর-বায়ু প্রবাহ চলা পর্যন্ত পাল তোলা অসম্ভব হয়ে পড়লো। এবং দিনের পর দিন এ অবস্থা চলতেই থাকলো। সৈন্যদল মরিয়া হয়ে উঠলো। ভবিষৎবক্তা ক্যালকাস ঘোষণা করলেন যে, আর্টেমিস (শিকারি দেবী, তিন কয়মারি দেবীর মাঝে অন্যতম) রাগান্বিত। কেননা তার প্রিয় বন্য প্রাণীগুলোর অন্যতম একটি খোরগোশকে তার শাবক সহ হত্যা করেছে গ্রিকরা। আর্টেমিসের ক্রোধ কমানোর উপায় হলো সেনাদলের সর্বাধিনায়ক আগমেমননের কনিষ্ঠা কন্যা, ইফিজিনিয়াকে উৎসর্গ করা। এটি সকলের কাছেই ছিলো এক ভয়ংকর ব্যাপার। তবুও আগমেমনন তা ই করলেন কেননা এটি না করলে সৈন্যদলে তার গ্রহনযোগ্যতা এবং ট্রয় জয় করে গ্রিসকে বিজয়ি করার জন্য তার আকাঙ্খা বিপন্ন হয়ে পড়তো। তিনি যুদ্ধকে সাহায্য করার জন্য নিজ সন্তানকে হত্যা করার দুঃসাহস দেখালেন। তিনি ডেকে আনলেন তার কন্যাকে আর তার স্ত্রীকে লিখে পাঠালেন যে , তাদের কন্যার সাথে একিলিসের শুভ বিবাহের আয়োজন করা হয়েছে। কিন্তু যখন সে তার বিবাহ অনুষ্ঠানে এলো তখন তাকে হত্যার জন্য নিয়ে যাওয়া হলো বেদিতে এবং তার সকল মিনতি– পিতা, পিতা বলে চিৎকার , তার নবীন প্রাণ এসব কিছুই স্পর্শ করলো না নিষ্ঠুর যুদ্ধন্মাদদের। সে মৃত্যবরণ করলো এবং উত্তর বায়ুপ্রবাহ থেমে গেলো এবং প্রশান্ত সমুদ্রে গ্রিক জাহাজগুলো আবার যাত্রা করলো। যখন তারা ট্রয়ের অন্যতম নদী সিময়েসের উৎসে পৌছালো,যিনি প্রথম তীরে পা রাখলেন তিনি ছিলেন প্রতেসিলাউস। এটি ছিলো অত্যন্ত সাহসী একটা কাজ কেননা ভবিষৎবক্তা বলেছিলেন যে , যিনি প্রথম ভূমি স্পর্শ করবেন তিনিই প্রথম মৃত্যু বরণ করবেন। কাজেই যখন প্রতেসিলাউ ট্রোজানদের তীরবিদ্ধ হয়ে মারা গেলেন গ্রিকরা তাকে এমন ভাবে সম্মান জানালো যেনো তিনি কোনো দৈব চরিত্র এবং দেবতারাও তাকে যথেষ্ট সমীহ করলেন। হার্মিস (জিউসের বার্তাবাহক) তাকে তুলে আনলেন মৃতদের মাঝ থেকে ,তার শোকে মুহ্যমান স্ত্রী লাওডামিয়াকে দেখানোর জন্য। লাওডামিয়া তাকে দ্বিতীয়বার হারাতে চাইলেন না। যখন তিনি আবার ফিরে গেলেন পাতালরাজ্যে তার স্ত্রীও তার সহযাত্রী হলেন ; সে বেছে নিলো আত্মহত্যার পথ।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৫৮৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ট্রয়ের যুদ্ধ (শেষ পর্ব)
→ ট্রয়ের যুদ্ধ (পর্ব - ০৩)
→ ট্রয়ের যুদ্ধ (পর্ব - ০২)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...