বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

মায়া :রহস্যময় এক গোপনসভ্যতা (পর্ব-১)

"পৌরাণিক গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান সাইমন জাফরি (০ পয়েন্ট)



X কলম্বাস যখন আমেরিকা আবিষ্কার করেন তারও এক হাজার বছর আগে তাদের উত্থান,যখন প্যারিস ছিলো নিতান্তই সাধারন একটা গ্রাম।তারা জংগল কেটে কেটে আধুনিক শহর তৈরী করেছিলো,তারা পাথর দিয়ে বানানো বল দিয়ে এক অদ্ভুদ খেলা খেলত যা তাদের বেঁচে থাকা বা মারা যাওয়া নির্ধারন করতো।তারা তাদের রক্ত বিসর্জন দিতো নিজেদের মঙ্গলকামনায়,তারা জীবন সাজাতো কল্পিত স্বর্গকে অনুসরন করে।তাদের লেখাগুলো ছিলো এক রহস্যময় পাজল যা মানুষ এখনো বুঝতে পারেনি।শেষ পর্যন্ত মানুষ জানতে পারলো কারা ছিলো তারা।তারা ছিলো সেই সব মানুষ যারা মনে করতো ঈশ্বর তাদের শষ্যদানা থেকে সৃষ্টি করেছে।তারা মায়া। আমেরিকান পর্যটক নাম জন লয়েড ষ্টিফেনএক নৌ অভিযাত্রায় এসে মায়া সভ্যতা খুঁজে পান যার নাম কোপান।তখন পর্যন্ত মায়া সম্পর্কে প্রায় কিছুই জানা ছিলোনা।ষ্টিফেন অনেক কিছু খুঁজে পেলেন।হাজার বছর ধরে মাইলের পর মাইল মাটির নীচে চাপা পড়েছিলো নিদর্শনগুলো।ষ্টিফেন অভিভূত হয়েছিল মায়া রহস্য দেখে।কে তৈরী করেছিলো এই শহর?কী হয়েছিলো এখানে?এই সমযটুকুতে ষ্টিফেন এবং এক ইংরেজ চিত্রকর ফ্রেডরিক কেটারউড ধ্বংশ হয়ে যাওয়া এই শহরে বর্ননা প্রাথমিকভাবে লিপিবদ্ধ করেন।তিন বছর পর ষ্টিফেন এবং কেটারউড উত্তরখন্ডে মায়ার আরো একটি শহরের খোঁজ পান,নাম ইয়োকাটান।ইয়োকাটানে তারা উক্সমাল এবং চিচেন ইটজা ঘুরে দেখেন।চিয়াপাস নামক জায়গায় গিয়ে তারা খুঁজে পান ‘পালানকে’ নামক আরো একটি মায়া শহর।তখনো তাদেরকে একটি প্রশ্নই বিদ্ধ করতে লাগলো,কারা ছিলো এই অভাবনীয় উন্নত সভ্যতায়? মায়া সভ্যতার বিস্তৃতি হন্ডুরাস থেকে শুরু হয়ে এল সেলভেডর এবং দক্ষিনে গুয়েতেমালা থেকে বিলিজ এবং উত্তরে মেক্সিকো পর্যন্ত।মায়া সভ্যতা মোট একশোটি সভ্যতার নিদর্শন প্রকাশ করে এবং প্রত্যেকটি সভ্যতারইরয়েছে নিজস্ব ইতিহাস।মায়াদের মূলভূখন্ডকে বিশেষজ্ঞরা ‘ক্লাসিক’ বলেন এবং তা দক্ষিনের নিম্মভূমিতে অবস্থিত।এটাই সেই জায়গা যাকে ঘিরেই আমার আজকের এই লেখা। প্রথমে শুরু করবো ‘কোপান’ থেকে।এখন কোপানকে আগের মতো সাজিয়ে তোলার কাজ চলছে।বিল ফ্লাশ কোপান পুর্নগঠনের দায়িত্ব থাকা একজন পরিচালক।তিনি বলেন-কোপান হচ্ছে মায়াদের তৈরীকৃত সবচেয়ে জাকজমকপুর্ন।এটা খুবই তাত্‍পর্যপূর্ন কারন এটা মায়াদের সবচেয়ে বড় শহর।অবশ্য এরচেয়েও বড় শহর অনাবিষ্কূত থাকতে পারে।কোপানে এমন কিছু অবিশ্বাস্য কারুকাজ,ভাস্কর্য,শিল্পকলা,প্রকৌশলাও জ্যার্তিবিদ্যার নিদর্শন পাওয়া গিয়েছে যা মায়াদের উন্নত জাতিসত্বারস্বীকৃতি দেয়।কোপান প্যারিসের মতই একটি সাংস্কৃতিক শহর ছিলো। প্রতিবছর কয়েকশ কর্মী এবং বিশেষজ্ঞরা চেষ্টা করছেন কোপানকে আগের মতো সাজিয়ে তুলতে।পাথরের পর পাথরে গড়ে তোলা এই কীর্তির গল্প এখনোঅজানা।একেকটা ভাস্কর্য্য তৈরী করতে ব্যাবহার করা হয়েছিলো ত্রিশ হাজারেরও বেশী পাথরের ব্লক।কিন্তু বিশ্বাসযোগ্য কোনো নকশা না থাকাতে বিশেষজ্ঞদের বেশ কষ্ট হচ্ছে।তারা ক্ষয়ে যাওয়া নিদর্শনগুলো থেকে প্রকৃত কাঠামো অনুমান করে কাজ চালাচ্ছেন।কিন্তু এই সীমাবদ্ধতা থাকা সত্বেও ফ্যাশের বিশেষজ্ঞ দল প্রায় এক হাজার ভাস্কর্য্য এবং দশটি দালান আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হন।এক হাজার পূর্বে কোপান কেমন ছিলো তা প্রতি বছরই স্পষ্ট থেকেস্পষ্টতর হচ্ছে। ক্লাসিক মায়ারা ধাতু ব্যাবহারে বেশ নিরুত্‍সাহী ছিলেন।তাবা মাটি,পাথর,গাছের গুড়ি দিয়ে তৈরীকৃত জিনিসপত্র ব্যাবহার করতো।এজন্যই শহরগুলোতে কোনো স্বর্ন বা স্বর্নজাতীয় ধাতু পাওয়া যায়নি।১৯৯২ সালে রবার্ট শেরার কোপানে মায়া রাজপরিবারের একটি সমাধি খুঁজে পান।সমাধিতে পাওয়া গেলো কিছু পাথরেরতৈরী পাত্র।এই পাত্রগুলো খুবই গুরুত্ব বহন করে এদের গায়ে আঁকা অভূতপূর্ব চিত্র আর সাংকেতিক লেখাগুলোর জন্য।8০ বছর আগে মায়াবিদরা অল্প কিছু মায়া সংকেত পড়তে সক্ষম হন।এখন তারা প্রায় অর্ধেক মায়া সংকেত পড়তে পারেন।ডেভিডস্টুয়ার্ট একজন বিশ্ববিখ্যাত মায়াবিদের সন্তান এবং বিশ্বের শীর্ষসাংকেতিক বর্নবিদ।তিনি উদ্ধারকৃত সাংকেতিক লেখা সংবলিত পাত্রগুলো নিয়ে গবেষনা করে বলেন -মায়ারা বেশ জাকজমকপূর্ন ছিলো এবং তাদের জীবন ছিলো নানা আচার ব্যাবস্থায় পরিপূর্ন।এক ধরনের মায়া লেখা চিরতরেহারিয়ে যায়।১৬শ শতকে যখন স্প্যানীশ ধর্মযাজকেরা যখন এখানে আসেন তখন তারা প্রায় একশ বাঁধাই করা বই(কোডেসিস) খুঁজে পেয়েছিলেন।কিন্তুতারা এগুলো পুড়িয়ে ফেলেন। আজ মাত্র চার প্রকার কোডেসিস টিকে আছে,কিন্তু এই চারটি কোডেসিসই সাহায্য করছে সত্যিকারের মায়াদের সম্পর্কে জানতে।জ্যার্তিবিদ্যা সর্ম্পকিত কিছু বই পাওয়া যায় যাতে প্রমানিত হয় জ্যার্তিবিদ্যা সম্পর্কে মায়ারা বেশ আধুনিক ধারনাই রাখতো।সাধারন কিছু গানিতিক গননায় তারা বের করতে পারতো হাজার বছর আগে এবং হাজার বছর পরে গ্রহ নক্ষত্রের অবস্থান কেমন হবে।তারা জানতো বিশ্ব ব্রম্মান্ড অসংখ্য ছোট বড় গতিশীল গ্রহের সমন্বয় এবং পৃথিবী বৃত্তাকারপথে ঘুরছে।এমনকি তারা সূর্যগ্রহনের দিনক্ষন আগে থেকেই বলে দিতে পারতো।তারা তাদের আচার অনুষ্ঠান গুলো সময়ের সাথে সাজাতে পারতো।মায়ারা পাথরের পাতলা প্লেটে তাদের গুরুত্বপূর্ন আচার অনুষ্ঠানেরদিন তারিখ লিপিবদ্ধ করে রাখতো।এই প্লেটগুলো বড় বড় পাথরের ব্লকে সাঁটানো থাকতো আর এই ব্লক গুলো একটারপর একটা বসিয়ে উঁচু সিঁড়ির স্তম্ভ্য তৈরী করা হতো।একেকটা ব্লক একেকটা সংকেত ধারন করতো।এই স্তম্ভ্যগুলোর কিছু কিছু অংশ এখনো রয়ে গিয়েছে।বারবারা ফ্যাস একজন ভাস্কর্য্যবিদ।তিনি প্রায় বারশো সংকেত লিপিবদ্ধ করেন।একদিন হয়তো এই সংকেত গুলোই বলে দিবে কি ছিলো কোপান শহরের ইতিহাস। কিছু সংকেত এগুলোর আকৃতির জন্য সহজেইবোধগম্য।যেমন মায়ারা গাছ বোঝাতে আস্ত একটা গাছই এঁকে রাখতো।একটি পাথরের সংকেত থেকে জানা যায় কোপানের প্রথম রাজা ছিলেন ২০০ খ্রীষ্টাব্দে।প্রথম রাজার অভ্যুত্থানেরও অনেক আগে মায়ারা উর্বর কোপান ভ্যালীতে বাস করতো।তারাতাদের জীবনকে প্রকৃতির নিয়মে সঁপে দিতো,তারা গাছ লাগাতো,ফসল ফলাতো,জন্মোত্‍সব করতো আবার মৃত্যু পরবর্তী অনুষ্ঠানও করতো।কিন্তু ৪০০ খ্রীষ্টাব্দে যখন রোম বিভক্ত হতে শুরু করে তখন এই জনপদেও পরিবর্তন আসে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৭১১ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...