বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বাবা

"শিক্ষণীয় গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান নাফিজ আহমেদ (০ পয়েন্ট)

X পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বাবা লেখকঃ নাফিজ আহমেদ,, ছোট বেলা থেকে বাবার ইচ্ছা ছিল তার ছেলেকে আলিম হিসাবে গড়ে তুলবেন। সেই জন্যই আমার বয়স যখন তিন বছর মতো প্রতিদিন নামাজে আমাকে মসজিদে নিয়ে যেত। তখন আমি নামাজ সম্পর্কে খুব বেশি ওয়াকিবহাল ছিলাম না। সকলে মসজিদে নামাজ আদায় করত। আর আমি দৌড়ে দৌড়ে অন্যদের নামাজে ব্যাঘাত ঘটাতাম। এই জন্য যে বাবাকে কতবার মুসল্লীদের চোখ গরম শুনতে হয়েছে, তার কোন ইয়ত্তা নেই। এরপরও বাবা তার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপায়িত করবার জন্য প্রতিদিন আমাকে মসজিদে নিয়ে যেত। বাবা তার অন্তরে এই চিন্তা পোষণ করত যে, বাচ্চাদের শৈশবে যেই কাজে অভস্ত্য করা হয় তারা বড় হয়েও সেই কাজের প্রতি অনঢ় থাকে। বাবা আমাকে খুবই ভালোবাসত। আমার বাবা আমাকে আরবি পড়া শিখানোর জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা মসজিদের হুজুরের কাছে উপবিষ্ট থাকত। সে নিজেও আমার সাথে পড়ত। আমার অনেক ভালোই লাগত৷ বাবা তেমন কোন বড় কাজ করত না। কোন রকম দুই বেলা দুমুঠো খাবার জোগাড় করত। হঠাৎ একদিন বাবা কাজের জন্য বাড়ি থেকে বাহির হয়েছে, এমনত অবস্থায় কোথা থেকে একটা বড় গাড়ি এসে বাবাকে চাপা দিল। স্থানীয় লোকজন বাবাকে হাসপাতালে নিয়ে গেল। আমরাও কিছুক্ষণ পরে জানতে পারলাম। সঙ্গে সঙ্গে এক মুহূর্ত অপেক্ষা না করে আমি এবং আমার মা রওনা হলাম হাসপাতালের দিকে। বাবাকে তখন অপারেশন থিয়েটারে রাখা হয়েছে।তার খুব কঠিন অপারেশন চলছিল। কোনরকম ভাবে আমরা কিছু সময় অতিবাহিত করলাম। ডাক্তার অপারেশন থিয়েটার বাহির হয়ে এসে আমাদেরকে অবগত করল রোগীর অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। তখন আমরা বাবার সাথে দেখা করার জন্য তার নিকটবর্তী হলাম। আমি অবলোকন করলাম যেই বাবা আমার সুখের জন্য মুহূর্তের পর মুহুর্ত চোখের পাতা দুটি উন্মুক্ত রেখেছে। শত ঘুমকে উপেক্ষা করেছে শুধু আমার জন্য সেই ব্যাক্তি এখন দুই চোখ বদ্ধ করে হারিয়ে গেছে এক ভিন্ন ধরণীতে। আমি তাকে দেখে আবিষ্কার করলাম যে মা পাখিটা যেমন সারাটাদিন আহার জোগাড় করে ক্লান্ত স্লান্ত হয়ে নীড়ে ফিরে। একটু বিশ্রামের সুযোগ পেলেই ঘুমের দেশে হারিয়ে যায়। ঠিক তদ্রূপ আজ আমার বাবা ঘুমের দেশে হারিয়ে গেছে। একটু পরে বাবার চোখ খুলল। আমি তখন অনেক খুশি হলাম। বাবা আমাকে তার নিকটে ডেকে তার সেই স্বপ্নের কথা স্মরণ করে দিলেন। অর্থাৎ তিনি যে আমাকে আলিম হিসাবে দেখতে চেয়েছিলেন সেটার। আমার মাকেও ডেকে কি যেন ফিসফিস করে বলল। আমি শুনতে পেলাম না। কিছুক্ষণ পর বাবা আমাদেরকে এক দুঃখের চাদরে আবৃত করে চলে গেলেন অনেক দূরের কোন এক জগতে। আমরা তখনো এক নাগারে বাবার জন্য কেঁদে যাচ্ছিলাম। বাবার দাফন কাফন করে বাড়িতে ফিরলাম। বাবার সেই স্বপ্নকে পূরণ করার জন্য সম্মুখে অগ্রসর হলাম। একদিন মাকে জিজ্ঞাসা করলাম বাবার মৃত্যুর আগে তোমার সাথে কি বলছিল। মা আমাকে যা বলল আসলেই আমি অবাক হয়ে গেলাম। মা বলল তোর বাবা বলেছিলেন আমার ছেলে যেন বড় হয়ে একজন ভালো আলিম হয়। আমার বাবা তার জীবনের শেষ নিশ্বাস ত্যাগের আগেও তার এই ইচ্ছাটা ব্যাক্ত করে গেল। আসলেই আমি মনে করি আমার বাবা পৃথিবীর সেরা বাবাদের মধ্যে অন্যাতম একজন।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৬৮ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now