বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
এক সৃতিময় দিন
লেখকঃ নাফিজ আহমেদ,,
গ্রামের পাশে মেঠো পথের ধারে কে যেন এক মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। শেষ বিকালের নিঃশেষ গগনকে নিজের খুব কাছ থেকে অবলোকন করছে। আমি একটু এগিয়ে গেলাম তার দিকে। আমিও তার সাথে পড়ন্ত বিকালে ডুবে যাওয়া আকাশকে এক সাথে দেখছি। আমি অবলোকন করলাম মেয়েটি যেন গভীর ভাবনার দেশে বিভোর হয়ে গেছে। আমি এই গ্রামে নতুন এসেছি। রাস্তা ঘাট তেমন চিনি না৷ তার সাথে একটু মিত পরিচিত হওয়ার চেষ্টা করলাম। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম। আপনার নাম কি? উত্তরে সে বলল সামিয়া। আমি বললাম সামিয়া নামের অর্থ কি? সে বলল মহৎ,শ্রেষ্ঠ, দামী, মূল্যবান ইত্যাদি। তারপর দুইজনের সম্পর্কে একটু জানাজানি হলো।অতঃপর আমি তাদের সুন্দর সুশৃঙ্খল পরিবেশে গড়ে ওঠা গ্রামকে ঘুরে দেখার জন্য আবেদন ব্যাক্ত করলাম। সে আমার মিনতিটা মঞ্জুর করে আমাকে তাদের ছোট্ট গ্রামটা ঘুরে দেখাল। রাস্তার পাশেই অবস্থিত এক দাখিল মাদ্রাসা। সে বললো আমি এই মাদ্রাসায় লেখাপড়া করতাম। কতই না বন্ধু-বান্ধবীদের সাথে একত্রিত হয়ে আড্ডা দিয়েছি। স্যারের ক্লাস ফাঁকি দিয়ে বান্ধবীরা সবাই একসাথে কমন রুমে গিয়ে পাঁচ গুটি খেলায় লিপ্ত হয়েছি। সে যেন এক অন্য রকম অনুভূতি। কিন্তু সময় আজ আমাকে এমন এক স্থানে দাঁড় করিয়েছে যে আমি হাজার বার চাইলেও সেইসব বান্ধবীদের সাথে দেখা হয় না। হয়তোবা কোন একদিন ঝুরঝুরে বয়ে যাওয়া বৃষ্টির মধ্যে দেখা হবে। সে বলে উঠবে সামিয়া কেমন আছিস? তা এখন কি করছিস। এইযে এইটা আমার মেয়ে। ব্যাস এখানেই অন্তিম হয়ে যাবে কথাবার্তা। হয়তো একটু বেশি হলেও মনে পরে যাবে ক্লাসরুমে করা সেই দুষ্টুমি গুলো। আসলে ঐ জীবনটা আর কখনো ফিরে পাব না। কোন একদিন পড়ন্ত বিকালে রাস্তার মোড়ে দেখা হবে এবং একটু মোলাকাত হবে অতিতের মধুমাখা সৃতিগুলো একটু সৃতিচারণ হবে। ব্যাস এখানেই শেষ। আর হয়তো কখনো শেষ বিকালের আকাশটা এক সাথে দেখার সুযোগ হবেনা। আমরা আর একটু এগিয়ে চলি। আসলে তাদের গ্রামটা অনেক সুন্দর। গ্রামের একপাশে মাঠ আর মাঠ। রাস্তার মোড়ে এক বিরাট গাছ। সেখানে একটু বসার জায়গা। পাশেই অবস্থিত নলকূপ। সব কিছু মিলে পরিবেশটা আসলেই অনেক মনোমুগ্ধকর। সবকিছু ঘোরা ফেরা করে অবশেষে আমি বাড়িতে ফিরব কিন্তু সে যেন আমাকে বিদায় দিতে চাই না। সে যেন তার চোখের ভাষায় বলতে চাই
দূরের ঐ অচিনপুরের অজানা রাস্তা দিয়ে কে যেন হেঁটে পাড়ি দিচ্ছে নিজ গ্রাম থেকে। যদি একটু এগিয়ে তাহার সাথে সঙ্গ দিতাম তাহলে নুয়ে যাওয়া হতাশা একটু দূর হতো। তারপরও বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে আমি তার সাথে দেখা করতাম।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now