বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ভাই এবং ভাই ♥

"শিক্ষণীয় গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Abdur Rahman (০ পয়েন্ট)



X বড় ভাইয়ের কাছে বাইকের চাবিটা চাওয়াতে ভাবী মুখের উপরে বলে দিলেন,'বাইক দেয়া যাবে না।' আমি আর হা হু না বলে চলে আসলাম। ভাবী নিষেধ করতেই পারে। কারন ভাইয়াকে বাইকটা তার শ্বশুর গিফট করেছে। তাই সে ডিরেক্ট নিষেধ করে দিলো। মনের মাঝে কিছুটা কষ্ট পেয়ে আমি তার রুম থেকে বের হয়ে আসলাম। বাসায় আর না দাঁড়িয়ে চুপচাপ আমার কাজে চলে গেলাম। আমার বড় ভাই বিয়ে করেছেন দুই মাসের মত হলো। ভাইয়া ভালো একটা কোম্পানিতে চাকরি করেন। আমার বাবা নেই চার বছরের মত। বাবা আমাদের ছেড়ে যাওয়ার পরে ভাইয়া আমাদের সংসারের হাল ধরেছেন। তার ইনকামের টাকাতেই আমাদের সংসার চলে। ভাইয়া কখনো নিজের জন্য কিছু কিনে নাই। আগে আমাকে কিছু কিনে দিয়ে তারপরে নিজের জন্য কিছু কিনেছে। আর আমি অনার্স সেকেন্ড ইয়ারে পড়াশোনা করছি। পড়াশোনার পাশাপাশি আমি নিজেও কিছু একটা করার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু ভাইয়া বললেন আমার পড়াশুনা আগে। সে যতদিন আছে তাতেই চলে যাবে। আমি আর ভাইয়ার উপরে কথা বললাম না। কারন ভাইয়া আমাকে আগলে রেখেছে। বাবা মারা যাওয়ার পরে ভাইয়া খুব প্রেশারের মাঝে পরে গিয়েছিলেন। কারন তখন ভাইয়া সবে মাত্র পড়াশোনা শেষ করেছেন। সে তখনো জবে জয়েন করেননি। তারপরে একটা কোম্পানিতে ভালো পজিশনে জব পেলেন। আমাদের আর পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি। যা করেছেন সবই ভাইয়ার চেষ্টায় করেছেন। ভাইয়া আমাকে আর আমার মাকে দেখাশোনা করতে লাগলেন। আজ আমার কলেজে একটা জরুরি কাজ ছিলো। ভাইয়া যেহেতু বাসায় তাই তার বাইকের চাবিটা আমি চেয়েছিলাম। আমি সচারাচর ভাইয়ার বাইকের চাবি চাই না। কারণ যখন কোনো কাজে ভাইয়ার বাইকটা আমাকে দিয়ে কোথাও পাঠাতেন তখন ভাবী অন্য নজরে তাকাতেন। এটাই স্বাভাবিক। কারণ বাইকটা তার বাবার বাড়ি থেকে দিয়েছেন ভাইয়াকে চলাফেরা করার জন্য। সেখানে ভাবী তো বাইকটা যত্ন করে দেখেশুনে রাখবেন। আর তাছাড়া কোনো কিছু বাবার বাড়ি থেকে নিয়ে আসলে তার যন্তটা ভালোভাবেই করা হয়। একটু আগলে রাখার চেষ্টা করে। সেখানে ভাবীর কোনো অন্যায় আমি খুঁজে পেলাম না। ভাইয়া বিয়ে করার কিছুদিনের মাঝেই আমি বুঝতে পেরেছিলাম ভাইয়ের ইনকামে চলার আশাটা ছেড়ে দিতে হবে। আর তাছাড়া আমি যথেষ্ট বড় হয়েছি কোনো কিছু করার সক্ষমতা আমার আছে। তাই আমিও চেষ্টা করছি কিছু একটা করার জন্য। যেকোনো মেয়ে'ই তার স্বামীকে নিয়ে আলাদা থাকতে চাইবে। তাদের স্বামীর সাথে আলাদা ভাবে থাকতে চায় কিংবা স্পেশাল ভাবে সময় কাটাতে চায়। তারা চায় একটা সংসার নিজের মত করে সাজাতে। সংসারে নতুন নতুন জিনিস কিনে ঘরটা সাজিয়ে রাখতে। আমি এখানে ভাবীর কোনো দোষ খুঁজে পাচ্ছি না। সব কিছুই পজিটিভ ভাবে নেওয়ার চেষ্টা করছি আর জব খুঁজতে চেষ্টা করছি। রাতে পাশের রুম থেকে ভাইয়া আর ভাবীর কথপোকথন শুনতে পেলাম। ভাইয়া ভাবীকে বললেন... - নিশি আমি তোমাকে নিয়ে বেশ হতাশে দিন পাড় করছি। - কেমন? ঠিক বুঝতে পারছি না। - তুমি সকালে ওভাবে আচরন না করলেও পারতে। আবির তো আমার ভাই। আমি ছাড়া ওর আর কে আছে বলো? বাবা তো আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। - রায়ান দেখো, বাইকটা আমার বাবা গিফট করেছে। আমি তো বাইকের যত্ন নিতে পারি তাই না? আর যদি ও কোনো অ্যাক্সিডেন্ট করতো,কি অবস্থা হত ভেবে দেখেছো? ওতো ছোট মানুষ। বাইকের ক্ষতি হলে তোমারই টাকা খরচ হতো। এত কিছুর কি দরকার বলো? - শাট আপ! মুখে যা আছে তা'ই বলে যাবে তা তো হবে না। একটা কথা ভেবে রেখো আবির আমার ছোট ভাই। ও ওর ভাইয়ের কাছে যেকোনো কিছু আবদার করতেই পারে। এখানে তুমি কিছু বলতে পারো না। ও যদি কোনো ভুল করে তার জন্য আমি আছি শাসন করার জন্য। এখানে তোমার কিছু বলার থাকে না। আমি পরবর্তীতে চাইবো না তুমি এমন কিছু করো কিংবা বলো যাতে আমার ভাই অথবা আমার মা কষ্ট পায়। এটা আমি সহ্য করতে পারবো না। ভাইয়া একটু মেজাজ নিয়েই রুম থেকে বের হয়ে গেলেন। ভাইয়ার কথা শুনে আমার চোখের পানি আটকে রাখতে পারলাম না। ভাইয়া আমাকে এতটা ভালোবাসেন তা আমি আগে কখনো অনুভব করিনি। আজ আমার ভাইয়ের কথা শুনে চোখের পানি না ফেলে আর পারলাম না। দুইদিন ভাবী খুব চুপচাপ ছিলেন। ঠিকমত খাওয়া দাওয়া করেনি। এমনকি কারো সাথে ঠিক মত কথাও বলেনি। ভাইয়াও ভাইয়ার নিজের মত রইলেন। চার দিনের দিন আমাদের বাসায় মেহমান এসেছে ভাবীর বাসা থেকে। আমি মায়ের কাছে জানতে পারলাম তাদের নাকি ভাইয়া আসতে বলেছে। ভাইয়া আমাকে নিয়ে বাইরে বের হয়ে গেলেন। আমাকে বাইরে নিয়ে যাওয়ার পরে অনেক অনেক অবাক হলাম। আমার জানা ছিলো না এরকম ভাইয়া কারো থাকতে পারে। ভাইয়ার কার্যকলাপ দেখে আমার বুকটা ফেটে যাচ্ছিলো। যদি পারতাম রাস্তায় বসে চিৎকার দিয়ে কাঁদতাম। নিশ্চুপ ভাবে কেঁদেই চলছি। বাইকের পিছনে বসে ভাইয়াকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আছি। হুহু করে কান্না করছি। ভাইয়া আমাকে কড়া শাসনে বললেন... " আবির ছেলেমানুষীর মত এমন করছিস কেন। এখানে কান্নার কি আছে। আমি কেনো কাঁদছি তা পরে বলছি। আমি ভাইয়ার মাঝেই ডুবে রইলাম। আমার ভাবনায় শুধুই ভাইয়া। আমরা দুইভাই যখন বাড়ির উঠানে গেলাম সবাই আমাদের দিকে অবাক হয়ে রইলেন। ঘর থেকে বের হয়ে এসে মা আর ভাবীর পরিবার সহ আমাদের দুইভাইয়ের সামনে এসে দাঁড়ালেন। ভাবী কিছু বলতে যাবে তখনই তাকে থামিয়ে দিয়ে তার শ্বশুরকে বললেন.... - বাবা আমায় ক্ষমা করবেন। আমি শুরুতেই আপনাদের সকলের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। আমি জানি আপনি কষ্ট পাবেন,কিন্তু আপনি যতটা কষ্ট পাবেন তারচেয়ে হাজার গুন কষ্ট পেয়ে বসে আছি। এই যে নতুন বাইকটা দেখছেন এটা আমার ভাই আবিরের বাইক। আমি আর ও গিয়ে কিনে নিয়ে আসলাম। আর আপনারা যে বাইকটা দিয়েছিলেন,ওইটা আজই আপনারা নিয়ে যাবেন। আমি চাইনা আপনাদের কোনো কিছুই আমার এই বাসায় থাকুক। আপনাদের মেয়েকে আমার কাছে দিয়েছেন এটাই অনেক কিছু। আমি ওকে খুব আগলে রাখবো। তাতে কোনো কমতি থাকবে না। কিন্তু আপনাদের কিছুই আমি চাই না। আর বিয়ের সময় বলেছিলাম আমার কিছুই লাগবে না।তবুও আপনারা জোর করে দিয়েছিলেন। নিশি আপনাদের দেওয়া বাইকের জন্য আবিরকে কষ্ট দিয়েছে। তাই আমি আপনাদের সব কিছু ফিরিয়ে দিতে চাচ্ছি। অ্যাগেইন সর‍্যি! ভাবছেন এটা আমি আবেগের বসত করেছি। কিন্তু যা ভাবেন না কেন আমার আপত্তি নাই। আমার ভাইয়ের চাওয়া পূরণ করা আমার দ্বায়িত্ব। আমার বাবা বেঁচে থাকলে হয়তো বাবার কাছেই চাইতো। বাবা যেহেতু নাই সেহেতু আমিই আমার ভাইয়ের সব। আমার পড়াশোনার জন্য বাবা অনেক টাকা নষ্ট করেছেন। সেই টাকার ভাগ কিন্তু আমার এই ছোট ভাইটাও। তাই ও যতদিন কিছু না করতে পারবে ততদিন আমি আছি। আমার ভাইয়ের উপর আমার আস্থা আছে। ও যথেষ্ট ভালো ছেলে। আর হ্যা আবির যতদিন চাকরি না করবে ততদিন আমি আমার মা এবং ভাইকে নিয়েই থাকবো। ততদিনে যেনো নিশি কোনো কথা না বলে। আমার এই সিদ্ধান্ত যদি আপনারা আর নিশি না মানতে পারেন। তাহলে আপনারা বিকল্প সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। আপত্তি নাই।" ভাইয়ার কথা শুনে আমি আর সেখানে স্থির ভাবে দাঁড়াতে পারলাম না। আস্তে করে রুমে গিয়ে চোখের পানি ফেলছি। ভাইয়া আমাকে শাসন করতেন ঠিক আছে,কিন্তু এতটা ভালোবাসবেন আমি ভাবতেই পারিনি। #সমাপ্ত


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৮৮ জন


এ জাতীয় গল্প


Warning: mysqli_fetch_array() expects parameter 1 to be mysqli_result, boolean given in /var/sites/g/golperjhuri.com/public_html/story.php on line 344

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...