বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বিস্মৃ‌তির অত‌লে হা‌রি‌য়ে যাওয়া এক প্রখ্যাত অধ্যাপক দেবেন্দ্রনাথ ব্যানার্জি

"স্মৃতির পাতা" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান B M Yusuf Ali (guest) (১৭৫ পয়েন্ট)



X বিস্মৃ‌তির অত‌লে হা‌রি‌য়ে যাওয়া এক প্রখ্যাত অধ্যাপক দেবেন্দ্রনাথ ব্যানার্জি ........................................................................... বি এম ইউসুফ আলী : কয়েকদিন আগের ঘটনা। ফেসবুক খুলতেই চোখে পড়লো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের নতুন চেয়ারপার্সনের দায়িত্ব গ্রহণ সম্পর্কীত একটি খবর। নতুন বিভাগীয় প্রধান হয়েছেন অধ্যাপক ড. তাসনিম আরেফা সিদ্দিকী। তিনি আমার সরাসরি শিক্ষক। অনার্স থার্ড ইয়ারে তিনি "Comparative politics (206)" কোর্সটি আমাদেরকে পড়িয়েছিলেন। ম্যাডামের আগে প্রফেসর ফেরদৌস হোসেন স্যার ছিলেন বিভাগীয় চেয়ারম্যান । তিনিও আমার শিক্ষক। একই ইয়ারে প্রফেসর ফেরদৌস হোসেন স্যার " International Politics(204)" এর কোর্স টিচার ছিলেন। দুজনই অত্যন্ত নামকরা শিক্ষক। যাহোক, এই খবরটি দেখে মনে পড়ে গেল এই ডিপার্টমেন্টের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রফেসর দেবেন্দ্রনাথ ব্যানার্জির কথা। যিনি ডি এন ব্যানার্জি নামেও অনেকের কাছে সমধিক পরিচিত। এই খ্যাতনামা অধ্যাপকের নাম এই প্রজন্মের অনেকেই শুনেছেন কি না সন্দেহ আছে। শুনলেও তাঁর সম্পর্কে বিস্তারিত জানা নেই তাদের। অধ্যাপক দেবেন্দ্রনাথ ব্যানার্জি ১৮৯৫ সালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের হুগলি জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। ছিলেন ঢাকা কলেজের অর্থনীতির শিক্ষক। ১৯২১ সালে ১ জুলাই তিনটি ফ্যাকাল্টির ১২টি ডিপার্টমেন্ট নিয়ে যাত্রা শুরু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় । এই ১২টি বিভাগের মধ্যে অন্যতম ছিল Economics and Politics. এই বিভাগেই নিয়োগ দেওয়া হয় ঢাকা কলেজের অর্থনীতির বিখ্যাত এই শিক্ষক প্রফেসর দেবেন্দ্রনাথ ব্যানার্জিকে। অধ্যাপক ডি. এন. ব্যানার্জি একাধারে ছিলেন অর্থনীতিবিদ এবং আইনবিশারদ ও রাজনৈতিক অর্থনীতির অধ্যাপক। ১৯২২ থেকে ১৯২৩ সাল পর্যন্ত বুদ্ধিজীবী সহযোগিতা সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক কমিটির (ICIC) সদস্য ছিলেন। রাজনৈতিক অর্থনীতি বিভাগের প্রধান ছিলেন ১৯৩৫ থেকে ১৯৩৬ পর্যন্ত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের ১৯৩৭ সালের ১৫ জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত সভায় গৃহিত সুপারিশ মতে নির্বাহী পরিষদ বা এক্সিকিউটিভ কাউন্সিল রাজনৈতিক অর্থনীতি বিভাগকে বিভক্ত করে “অর্থনীতি বিভাগ" ও "রাজনীতি বিভাগ” নামে দুটি স্বতন্ত্র বিভাগ সৃষ্টির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এই সিদ্ধান্ত মতে ১৯৩৮ সাল হতে রাজনীতি (Politics) বিভাগ নামে একটি স্বতন্ত্র বিভাগ কার্যক্রম শুরু করে। এই বিভাগটিই আজ রাষ্ট্রবিজ্ঞান (Political Science) বিভাগ নামে পরিচিত। নতুন চালু হওয়া রাজনীতি বিভাগের প্রধান (অধ্যক্ষ) নিযুক্ত হন অধ্যাপক দেবেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রতিষ্ঠাকালীন এই বিভাগের অন্যান্য শিক্ষক ছিলেন অজিতকুমার সেন (এ কে সেন), ড. অক্ষয়কুমার ঘোষাল (এ কে ঘোষাল), ড.অবনীভূষণ রুদ্র (এ বি রুদ্র) এবং অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক। সকলেই পরবর্তিকালে খ্যাতিলাভ করেছিলেন। শিক্ষার্থীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় শিক্ষক ছিলেন অধ্যাপক দেবেন্দ্রনাথ ব্যানার্জি। ক্লাসে তিনি ধীরস্থির ভাবে বক্তৃতা দিতেন। কঠিন কঠিন ইংরেজি বানান ও কোটেশনগুলো লিখে দিতেন। এমনভাবে তিনি ক্লাসে লেকচার দিতেন যে ছাত্রদের লাইব্রেরি ওয়ার্ক করা লাগতো না। ক্লাসেই পড়া মুখস্থ হয়ে যেতো। প্রফেসর ডি এন ব্যানার্জির পিএইচডি ডিগ্রি ছিল না। তারপরেও একজন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতি লাভ করেছিলেন। তৎকালীন ভারতের সমসাময়িক রাজনৈতিক সমস্যা নিয়ে স্টেটসম্যান এবং বিভিন্ন পত্রিকায় প্রবন্ধ লিখতেন। শোনা যায় ভারতের রাজনৈতিক দল কংগ্রেসের হাইকমান্ড নানা রাজনৈতিক সংকটে তার পরামর্শ নিতেন। কঠোর নিয়মনীতির অনুসারী অধ্যাপক দেবেন্দ্রনাথ ব্যানার্জি বেশকয়েক বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ছিলেন। তার সময়ে কোনো ছাত্ররা ছাত্রীদের সাথে কথা বলতে হলে পূর্বানুমতি নিতে হতো। তার সম্মুখেই কথা বলা লাগতো। যেমন কঠোর ও কঠিন মানুষ ছিলেন তেমনি কট্টর ব্রাহ্মণ ছিলেন। ছেলেমেয়ে একসাথে পড়াশোনা একদমই পছন্দ করতেন না। নিজের মেয়েকেও তাই পড়তে দেননি। প্রফেসর ডি এন ব্যানার্জি জগন্নাথ হলের পঞ্চম প্রাধ্যক্ষ ছিলেন। যদিও তাঁকে চতুর্থ স্থায়ী প্রভোস্ট হিসেবে গণ্য করা হয় । ১৯৪৭ সালের ৫ আগস্ট থেকে ১৯৪৮ সালে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র ৯ মাস তিনি এ দায়িত্ব পালন। এ সময়ে তেমন উল্লেখযোগ্য কিছুই হয়নি। ১৯২১-৪৭ সালের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষক গবেষণায় নিয়োজিত ছিলেন। তাঁরা মৌলিক বিষয়ে আর্টিক্যাল ও পুস্তক রচনা করেন। তাদের মধ্যে অন্যতম প্রফেসর দেবেন্দ্রনাথ ব্যানার্জি। তিনি ব্রিটিশ ভারতের সংবিধান বিশেষজ্ঞ ছিলেন। সেইসাথে ছিলেন পশ্চিমা ধাঁচের গণতন্ত্রের প্রতি বিশ্বাসী এবং পূর্ব বাংলার মুসলমানদের রাজনীতি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। ভারতবর্ষের শাসনতন্ত্রিক ইতিহাস সম্বন্ধে বহু মূল্যবান গ্রন্থ রচনা করে আন্তর্জাতিক খ্যাতিলাভ করেন। তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য পুস্তক এবং প্রবন্ধগুলো হচ্ছে : (১) The Indian Constitution and Its Actual Working. (২) East Pakistan: A Case-study in Muslim Politics. (৩) Indian Constitutional Documents, 1757-1947: 1858-1917 (৪) Early Administrative System of the East India Company in Bengal. (৫) Early Land Revenue System in Bengal and Bihar: 1765-1772 (৬) The Draft Constitution of India: A Critique. (৭) The Reforms Scheme: A Critical Study. (৮) Our Fundamental Rights: Their Nature and Extent, as Judicially. (৯) Partition Or Federation?: A Study in the Indian ConstiIndia.nal Problem. (১০) Problem of Party Government in India.(১১)The Future of Democracy, and Other Essays: Studies in Political Theory and Practice. (১২) Ministers and the Law of Sedition in India. (১৩) The Problem of Residuary Powers in India. (১৪) Some Economic and Financial Aspects of the new Indian Constitution. ১৯৪৭ সাল। ব্রিটিশ শাসনের ১৯০ বছরের অবসান ঘটে পাকিস্তান ও ভারত নামে দুটি রাষ্ট্রের জন্ম হয়। অনেক হিন্দু শিক্ষক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে কলকাতা ও ভারতের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেন। অনেকেই আবার ছেড়ে যাওয়া প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এর পেছনে কয়েকটি কারণ ছিল যেমন- পেশাগত ও গোষ্ঠীগত স্বার্থ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৫ বছর চাকরি মেয়াদ ছিল। সেখানে ভারতের বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬০ বছর পর্যন্ত চাকরির সুযোগ ছিল। তাছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মান ও মর্যাদা বেশি থাকায় তাঁরা সেখানে সহজেই চাকরি পেয়ে যান। এই যখন অবস্থা অধ্যাপক দেবেন্দ্রনাথ ব্যানার্জি তার ক্লাস পূর্ব ও পশ্চিম বাংলার সীমানা হওয়া উচিত পদ্মানদী বলে মন্তব্য করেন। এতে উপস্থিত মুসলমান শিক্ষার্থীরা মৃদু প্রতিবাদ করে শ্রেণিকক্ষ থেকে বেরিয়ে আসেন। যদিও পরে বুঝতে পারেন এমন মন্তব্য করা তাঁর উচিত হয়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবনের এটিই ছিল তাঁর সর্বশেষ ক্লাস। ১৮৫৭ সালের ২৪ জানুয়ারি স্থাপিত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রায় ১০০ বছর পর ১৯৪৮ সালে সেখানে রাষ্ট্রবিজ্ঞান চালু করা হয়। আর সেখানেই চলে যান রাষ্ট্রবিজ্ঞানের এই বিখ্যাত পণ্ডিত শিক্ষক ও বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক দেবেন্দ্রনাথ ব্যানার্জি। সেখানেও তিনি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান। দেবেন্দ্রনাথ ব্যানার্জি যেন বিস্মৃ‌তির অত‌লে হা‌রি‌য়ে যাওয়া এক যশস্বী ও খ্যাতিমান অধ্যাপক। তথ্য সূত্র : ১. The History of the University of Dacca : M A Rahim ২. আমাদের সেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়- সম্পাদনায় আশুতোষ ভট্টাচার্য ৩. চোখের দেখা প্রাণের কথা, ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই কনভেনশন (আনিসুজ্জামান সম্পাদিত), ঢাকা ১৯৯৮, পৃষ্ঠা ১৩৯-৪১ ৪. যাত্রিক,১৯২১-২০২১, শতবর্ষ সংখ্যা, পৃষ্ঠা-১৪৮ ৫. দেশ রূপান্তর - ২৪ নভেম্বর ২০২১ সংখ্যা ৬. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রন্থিত ইতিহাস-ড. রতন লাল চক্রবর্তী ৭. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ উচ্চশিক্ষা- সৈয়দ আবুল মকসুদ ৮. শতকের পথে গৌরবোজ্জ্বল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়- সৈয়দ রেজাউর রহমান সম্পাদিত বি এম ইউসুফ আলী : রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষক এবং ঢাবি'র রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্স ১৯৯২-৯৩ সেশনের সাবেক শিক্ষার্থীদের সংগঠন DUPSAA-MSS'93 এর সাধারণ সম্পাদক।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২৪ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...