বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

পড়ন্ত বিকেলে....

"স্মৃতির পাতা" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Rezmi (০ পয়েন্ট)



X পড়ন্ত বিকেলে... সারাদিন ঝিরিঝিরি বৃষ্টির পর এই মাত্র রোদ উঠল। কিন্তু কালো মেঘগুলো এখনো ঢেউয়ের মতো আকাশ ছেঁয়ে রয়েছে আর সূর্যের লাল কিরণ এসে পড়েছে তার মাঝে। অপূর্ব লাগছে দেখতে! আবহাওয়াটা বেশ শীতল, ঠান্ডা - শীতল হাওয়া এসে গায়ে মাখিয়ে যাচ্ছে। চা নিয়ে বসে পড়লাম বেলকুনির দোলনায়। হাতে প্রিয় হুমায়ূন স্যারের বই। এক কাপ ঘন দুধের চা কিংবা কফি আর প্রিয় লেখকের বই যদি আমার হাতে থাকে তাহলে আমার আর কি লাগে! হুমায়ূন স্যারের লিখা বইগুলো অসাধারণ! আর জাফর স্যারের সাইন্স ফিকশন এর কথা তো বাদই দিলাম! ওনার লিখা মজার গল্প / ভুতুড়ে গল্প গুলোও অতুলনীয়! তাদের গল্প পড়লে মনে হয় যেন সব চোখের সামনেই ঘটছে! এনাদের বই আমি সবচেয়ে বেশি পড়ি। লাইব্রেরিতে এনাদের বইগুলো না পেলে মনটাই খারাপ হয়ে যায়! অন্য লেখকদের বই আমি খুব কমই পড়ি তবে আরিফ আজাদ লেখাও অসম্ভব সুন্দর! ওনার লেখাও অনেক ভালো লাগে আমার। আমার বাসার সামনে একটি পুকুর রয়েছে , পুকুরের মধ্যে সাদা রাজহাঁসগুলো দল বেঁধে নেমেছে সাতে তাদের হলুদ হলুদ পিচ্চি হাঁস। এদের আমি পিচ্চি হাঁসু বলি, কি কিউট এরা! আকাশে দেখতে পেলাম সাদা বকগুলো তাদের ঠোঁটে করে বাঁশের পাতাসহ ডাল নিয়ে যাচ্ছে, আচ্ছা তারা এই বাঁশের ডাল দিয়ে কি করে? তাদের বাসা বানায়? মনে হয়! সেদিন স্কুলে কলেজ ভবনের চার তলা থেকে দেখেছিলাম বিহঙ্গের বাসা। গাছের ডালটি কলেজ ভবনের করিডরের রেলিং এর গা ঘেসে গেছে কিছুটা, ডালটির অগ্রভাগে বিহঙ্গের বাসাটি। সেখানে দুই তিনটি পাখির বাচ্চাও ছিল মা পাখিটি তার বাচ্চাগুলোকে তার ডানা দিয়ে পরম মমতায় আগলে রেখেছে ঠিক যেমন আমাদের মা আমাদের আগলে রাখে। তাদের বাসাটি ছিল অনেক ডালপালা দিয়ে , বড় বাটির মতো কিছুটা। বকদের বাসাও কি ওমন ধরনের হয়? নাকি বাঁশে পাতাসহ ডাল দিয়ে হয়?! ভাববার বিষয়.. কখনো বকের বাসা দেখেনি তাই আরকি মনে প্রশ্ন জাগলো! একবার বকের বাসাটা তাহলে দেখতে হয়! তবেই না বুঝব তাদের বাসা কিসের তৈরী!! আকাশটা বেশ অপূর্ব এক রূপ ধারণ করেছে। এই সময় রংধনু উঠলে কিন্তু মন্দ হতো না! আকাশ ধীরে ধীরে পরিস্কার হচ্ছে। একি...!! এর মধ্যেই আবার ঝিরিঝিরি বৃষ্টি শুরু হলো। কিন্তু রোদও কিন্তু দমে যাই নি, রোদ তার আগের অবস্থাতেই আছে! তারমানে নিশ্চয়ই শিয়ালের বিয়ে হচ্ছে! হি ..হি...হি... শিয়ালের বিয়ের কথা মনে আসতেই মনের মধ্যে ভেসে উঠল ছোটবেলার সেই স্মৃতিগুলো। ছোট বেলায় তো আর ছিল না এতো পড়াশোনা, ব্যস্ততা, প্রাইভেট, কোচিং! তখন স্কুল ছুটি দিতেই চলে যেতাম আম্মুর স্কুলে। ( আম্মু যেই স্কুলে শিক্ষকতা করত, আমার আম্মু আমাদের গ্রামের বাড়ির কাছেই একটি স্কুলে শিক্ষকতা করেন) । আম্মুর কাছে স্কুলের ব্যাগ রেখে ছুটে যেতাম বাহিরে! তখন গ্রামে আমার কতো সই ( বান্ধবী) ছিল। সবার সাথে গ্রামের এখান থেকে ওখানে ছুটে বেড়াতাম! কত ধরনের খেলা খেলতাম! গোল্লাছুট , বউচি, কিতকিত, লাক ঝাক, বরফ পানি, কুমির তোর জলে নেমেছি, এলোন্টি লনটন! আরও কতো কি! মাঝে মাঝে আমরা সবাই মিলে ভুরখাভাত খেতাম। ভুরখাভাত মানে বনভোজন। আমাদের গ্রামে একে আমরা ভুরখাভাত বলতাম। তবে আমাদের এই বনভোজন ছিল একদম আলাদা! আমরা যে কয়জন ছিলাম, আমাদের প্রত্যেকের বাড়ি থেকে একটু করে চাল সংগ্রহ করতাম, আমি আমার ফুপিকে যেয়ে বলতান, ফুপি আমার ভাগের চাল দিয়ে দিত। তারপর সেই সবার চালগুলো একখানে করে আমরা ভাত রান্না করতাম। একজন দাদি ছিল ওনি আমাদের সাহায্য করতেন। ওই দাদির বাড়িতেই আমরা রান্না করতাম। তারপর বাগান থেকে কয়েক প্রকার শাক,বেগুন,পটল, আলু ইত্যাদি সবজি এনে তরকারি রাঁধতাম। ওই দাদি মুরগি পালতো, দাদি আমাদের মুরগির ডিম ভেজে দিত। তারপর রান্না শেষে মাএির বারান্দায় চাটি বিছিয়ে আমরা বসে পড়তাম আর দাদি আমাদের খেতে দিত। কি সুন্দর দিন ছিল ওগুলে! সারাদিন রোদে রোদে ঘুরে বেড়াতাম! নদীর তীরে যেয়ে শিলা নিয়ে আসতাম। সাঁতার জানি না তবুও নদীর তীরের হাঁটুজল পানিতে সাঁতার কাঁটার জেদ ধরে বসতাম! বৃষ্টি আসলে সবাই মিলে বৃষ্টিতে ভিজতে মেমে পড়তাম।যদি বৃষ্টি - রোদ একসাথে দেখা দিত তাহলে একে অপরকে বলাবলি করতাম শিয়ালের বিয়ে হচ্ছে! এখন শিয়ালের গায়ে হলুদ হচ্ছে, একটুপর শিয়ালের বিয়ে হবে! আরও যে কতো কি! আরও যে কতো কাহিনি আছে! কতো যে দুষ্টুমি মজা করেছি! সারাদিন ঘুরাঘুরি করে আম্মুর স্কুল ছুটির সময় চলে আসতাম আম্মুর কাছে তারপর আম্মুর সাথে বাসায় আসতাম। আগে সেই সময় মনে হতো ' কবে যে বড় হবো! ' আর এখন মনে হয় যদি আবার ফিরে পেতাম সেই স্মৃতি বিজারিত সোনালি দিনগুলি! যদি আবার চলে যেতে পারতাম সেই শৈশবে! তারপর সময় ধীরে ধীরে চলে যেত লাগল... বড় হতে লাগলাম। গ্রামে আর বেশি যাওয়া হতো না! গ্রামের সেই বান্ধবীগুলোও হারিয়ে গেল। হারিয়ে গেল সেই সোনালি দিনগুলো! ব্যস্ত হয়ে পড়লাম স্কুল - পড়াশোনা, কোচিং, প্রাইভেট নিয়ে! এখন আর গ্রামে খুব বেশি যাওয়া হয় না, বছরে দুই তিনবার! সেটাও শুধু ঈদের সময়গুলোতে। গ্রামে গেলে মনে যায় সেই দিনগুলোর কথা, এখন আর সেই বান্ধবীগুলোও নেই, অনেকের তো বিয়েও হয়ে গেছে! এসব ভাবতে ভাবতে কখন যে আমার চা খাওয়া শেষ হয়ে গেছে বুঝতেই পারিনি! শূন্য কাপে চুমুক দিয়ে বসে আছি, কেবলই বুঝতে পারলাম সেটা! কোন যে জগতে হারিয়ে যাই! বাহিরে তাকিয়ে দেখি বৃষ্টি পরাও বন্ধ হয়ে গেছে, সূর্যও ডুবে গেছে কিন্তু আলো আলো ভাবটা এখনও আছে। দোলনা থেকে উঠে ঘরে যাবো ঠিক তখন-ই দেখতে পেলাম দূর আকাশে কিছু সাদা মেঘের পাশে রংধনু উঠেছে, সাত রঙা রংধনু! কি অপরূপ! যাক! আমার মনের আশাটা তবে পূর্ণ হলো............. ( বিঃদ্রঃ অনেকদিন পর গল্প লিখলাম....কিছু ভুল-ত্রুটি হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখিয়েন দয়া করে।)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৬৮ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...