বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ইচ্ছিকা পর্ব ০২

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sazzad KR (০ পয়েন্ট)



X # গল্পঃ #ইচ্ছিকা # পর্বঃ ০২ # লেখকঃ #সাজ্জাদ_কেআর ---রায়হানা মাছ কাঁ'টা শেষ হলে তুই ঘরে গিয়ে রেডি হয়ে থাক, দুপুরের দিকে মনে হয় তারা আসবে তোকে দেখার জন্য ---আব্বা! দুপুর হতে এখনো অনেক দেরী। ঘরে গিয়ে বসে থাকার চেয়ে ভালো আমি আম্মার কাজে হাত লাগাই তাহলে কাজগুলো তাড়াতাড়ি শেষ করতে পারবো। ---ঠিক আছে যে কাজ করবি সাবধানে করিস। আজকের দিনে নিজের শরীরে কোন আ'ঘাত তৈরি করিস না ---আব্বা এইগুলা নিয়ে তোমাকে ভাবতে হবে না। আমি সাবধানে কাজ করব ---হুম। ছেলের পরিবারের সাথে সবসময় এমন সুন্দরভাবে কথা বলবি। রায়হানা নিজের মুখে কিছুটা মুচকি হাসি এনে বলল 'আচ্ছা'। যোহরের আযানের একটু আগে সুফিয়া বেগমের রান্নার কাজ শেষ হলো। ছেলে পক্ষের লোকজন গ্রামের বাজারে এসেছে তাই সাইফুর মিয়া তাদেরকে আনতে গিয়েছে। রায়হানাকে দেখতে আসবে এই কথা শুনে ওর বাড়ির পাশের একজন মেয়ে খাদিজা এসেছে রায়হানাকে সাজানোর কাজে সাহায্য করছে, রায়হানাকে হালকা করে সাজিয়ে দিল। কারণ সে দেখতে অনেক সুন্দর গোলগাল মুখ। লম্বা লম্বা চুল। টানা চোখ যেকোন ছেলেকে পাগল করতে বাধ্য। কলেজের অনেক ছেলে রায়হানার পেছনে পড়ে থাকতো মাঝে মধ্য রিলেশন করার জন্যও বলেছে। তবে রায়হানা নিজের বাবার সম্মানের কথা ভেবে কারো সাথে রিলেশনে যাইনি। সে পড়তে চেয়েছিল অনেক পড়তে চেয়েছিল। --- তোকে কোন ছেলে এই সাজে দেখলে নিশ্চিত পাগল হয়ে যাবে। এই সাজে তোকে অনেক সুন্দর লাগছে যেটা বলার মতো না খাদিজা অনেকটা মুচকি হাসি দিয়ে কথাগুলো বলল। রায়হানা মিথ্যা একটা হাসি দিয়ে মাথা নিচু করে ফেলল। খাদিজা রায়হানার ডান কাঁধে হাত রেখে বলল --- মুখটা বাংলার পাঁচ এর মতো করে আছিস কেন? মন খারাপ --- মন খারাপ নয়। এমনি ভালো লাগছে না। --- দেখ আমাকে মিথ্যা বলিস না। মিথ্যা বলা আমার পছন্দ নয়৷ সত্যি করে বল কি হয়েছে, তোকে দেখতে আসছে এটা নিয়ে মন খারাপ রায়হানা ছলছল চোখ নিয়ে খাদিজার দিকে তাকালো৷ চোখ গুলো দেখে যে কেউ বুঝতে ফেলবে সে কি বলতে চায়। --- আরে পাগলী এত ভেঙ্গে পড়ছিস কেন? কেউ দেখতে এলেই বিয়ে হয়ে যায় না বুঝছিস। এইসব নিয়ে চিন্তা করা বাদ দে। দেখবি কিছুই হবে না খাদিজা আরো নানাভাবে রায়হানাকে বুঝাতে লাগল। অনেক বুঝানোর পর মনের ভেতর একটু সাহস পেল। হঠাৎ পাশের ঘর থেকে অনেকগুলো লোকের কথা আওয়াজ শুনতে পাওয়া গেল। তাতে বুঝা যাচ্ছে ছেলে পক্ষের লোকজন এসে গিয়েছে। রায়হানা কিছুটা নার্ভাস ফিল করতে করতে খাদিজার দিকে তাকালো। খাদিজা একটা মুচকি হাসি দিয়ে বলল 'চিন্তা করিস কেন! কিছু হবে না' ছেলেপক্ষের লোকজন বিয়ের দিন-তারিখ ঠিক করছে। রায়হানাকে পছন্দ হয়েছে ওনাদের। যার সাথে রায়হানার বিয়ে ঠিক হয়েছে সে একজন বিজনেসম্যান নাম শাহজাহান। বয়স ২৪-২৫ হবে। রায়হানার বয়স ১৮-১৯ এর মতো। সে সঠিক বলতে পারবে না একেক জায়গায় একেক তারিখ দেওয়া। ---আগামী শুক্রবারে বিয়েটা হয়ে গেলে ভালো হতো। শুভ কাজ যত তাড়াতাড়ি করা যায় তত ভালো। শাহজাহান এর বাবা শাহজালাল কথাটি বললেন। সাইফুর মিয়া রায়হানার দিকে একবার তাকালো। কি যেন জিজ্ঞেস করতে চেয়েও করলো না। ঘাড় ঘুরিয়ে শাহজালালকে বললেন ---আপনাদের যেমন ইচ্ছে। আপনারা যখন বলবেন তখনি বিয়ে দিব ---তাহলে আগামী শুক্রবার থাক। সেদিন এসে আপনার মেয়েকে আমাদের বাড়িতে নিয়ে যাব আগামী শুক্রবার রায়হানার বিয়ে ঠিক করে ছেলেপক্ষ চলে গেলেন। ছেলেপক্ষের কথামতো শুক্রবার করে রায়হানার বিয়ে হয়ে গেল। ------- অচেনা অজানা একটা জায়গা মনের ভেতর কেমন যেন ভয় কাজ করছে রায়হানার। তার সাথে কেউ আসেনি যে মনের ভেতরে একটু সাহস দিবে। যে এসেছে সে অন্য ঘরে রয়েছে। রুমের জানালা দিয়ে বাইরের প্রচন্ড শব্দ আসছে। জানালা বন্ধ করে দিলেই শব্দটা আসবে না। অথচ ওঠে গিয়ে বন্ধ করার সাহস তার নেই। এখানে আসার পর থেকে সব সাহস হাওয়ায় মিলিয়ে গিয়েছে। রাত আনুমানিক কয়টা বলতে পারবে না। রুমের ভেতরে একটা ঘড়ি আছে কিন্তু সেখানে পর্যাপ্ত পরিমাণ আলো না থাকার কারণে সময় দেখা যাচ্ছে না। হঠাৎ দরজার লক খুলে একজন ভেতরে প্রবেশ করলো৷ রায়হানার বুঝতে বাকী থাকলো না কে প্রবেশ করেছে। রায়হানা মনের ভেতর ভ'য় নিয়ে শাহজাহানকে সালাম করে আবার খাটে এসে বসলো। মি.শাহজাহান রুমে থাকা জানালাগুলো বন্ধ করে দিতে দিতে বলল ---জানালাগুলো বন্ধ করতে পারতে না। শহরের সকল শব্দ এই জানালাগুলো দিয়ে রুমের ভেতরে আসে ফলে খুব বিরক্ত বোধ করি। এরপর থেকে জানালা গুলো প্রয়োজন ছাড়া খুলবে না ওকে রায়হানা মাথা নাড়ল। শাহজাহান রায়হানার পাশে বসে এসি অন করে দিল। এসির তাপমাত্রা এত বাড়িয়ে দিল যে রায়হানা কাঁপতে লাগল। ছোট থেকে গ্রামের পরিবেশে বড় হয়েছে সে। এখন এসির বাতাসের সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারছে না। শীতে থরথর করে কাঁপছে। ---এমন থরথর করছো কেন? শীত লাগছে এসি অফ করব। ---হ্যাঁ অফ করলে সবচেয়ে ভালো হয়। আমার অনেক শীত করছে। থরথর করে কাঁপতে কাঁপতে কথাগুলো বলল রায়হানা। শাহজাহান এক সেকেন্ডও দেরী না করে এসি বন্ধ করে দিয়ে রুমের জানালাগুলো পুনরায় খুলে দিল। যেন এসির বাতাসগুলো বের হয়ে যায়। রুমের তাপমাত্রা স্বাভাবিক হওয়ার কারণে রায়হানা কাঁপুনি ঠিক হয়ে গেল। শাহাজাহান আবার জানালা গুলো বন্ধ করে দিয়ে এসে রায়হানাকে বলল ---তোমার একজন বন্ধু আমাকে বলেছিল তুমি নাকি ডাক্তার হতে চাও। ডাক্তারি পড়ার খুব ইচ্ছে তোমার? রায়হানা কিছুটা অবাক চোখে শাহজাহানের দিকে তাকিয়ে বলল ---আমার কোন বন্ধু বলেছে? ---বলেছে একজন তার নামটা না বললাম। কথাগুলো সত্য কিনা সেটা বলো রায়হানা মাথাটা নিচু করে বলল 'হুম'। শাহজাহান মুচকি একটা হাসি দিয়ে বলল ---তুমি চাইলে সংসারের পাশাপাশি নিজের পড়াশুনা চালিয়ে যেত পারো। এইচএসসিতে রেজাল্ট কত? ---রেজাল্ট এখনো দেয়নি। পরশুদিন দিবে। তবে আমার ডাক্তার হওয়ার ইচ্ছে থাকলেও সেটা এখন আর নেই। কারণ সংসারের পাশাপাশি ডাক্তারি পড়া সম্ভব না। শাশুড়ী আম্মা কি বলবে একটু ভাবুন ---সেটা অবশ্য ঠিক তুমি যা চাও সেটাই হবে। ভেবে চিন্তে উওর দিও কেমন। কথাশেষ হতে রায়হানা নার্ভাস ফিল করতে লাগলো। এইবুঝি তার উপর ঝা'পিয়ে পড়বে। শাহাজাহান রায়হানার চিন্তা মাখা মুখ দেখে বলল ---তুমি কিছু নিয়ে চিন্তিত? কি সমস্যা আমাকে শেয়ার করতে পারো রায়হানা কি বলার মতো কোন ভাষা খুঁজে পেল না। কি বলবে। আজ বিয়ে হয়েছে এখন যদি বলে নার্ভাস ফিল হচ্ছে তাহলে নিশ্চয় সে মন খারাপ করবে। নিজের স্বামীর মন খারাপ হোক সেটা রায়হানা একদম চায় না। --- আমি বুঝতে পেরেছি৷ তোমার সবকিছু মেনে নিতে সময় লাগবে তাই না। ঠিক আছে যত সময় লাগে নাও সমস্যা নেই। আমি আজকে সোফায় ঘুমাচ্ছি। তোমার সাথে সবকিছু ঠিকঠাক হলে একসাথে ঘুমাব শাহজাহান এক নাগাড়ে কথাগুলো বলে একটা বালিশ নিয়ে সোফার দিকে যেতে লাগল। তখন রায়হানা শাহজাহানকে থামিয়ে দিয়ে বলল ---আপনি খাটে ঘুমান। আমি সোফায় ঘুমাচ্ছি --- আরে নাহ্। আপনি খাটে ঘুমান আমি সোফায় ঘুমাচ্ছি ---সেটা কেমন করে হয়। এর থেকে ভালো হবে আপনি খাটে আসুন। দুজনে একসাথে ঘুমাব৷ মাঝখানে কোলবালিশ রাখলেই হবে শাহাজাহান মুচকি একটা হাসি দিয়ে খাটের উপর এসে শুয়ে পড়লো। দুজনের মাঝখানে কোলবালিশ। দুমাস হতে চলেছে রায়হানার বিয়ের। দু'মাসে রায়হানা নিজেকে বুঝিয়ে এই পরিবারের সাথে সবকিছু মানিয়ে নিয়েছে। তার সাথে বাসার পাশে একটা ভাসির্টিতে সে ভর্তি হয়েছে। এইচএসসিতে রেজাল্ট অনেক ভালো ছিল। চাইলে পাবলিক ভাসির্টিতে বা মেডিকেলে চান্স পেতে পারত। কিন্তু রায়হানার শাশুড়ী আম্মা সে রাজি ছিল না। যার জন্য ভর্তি হতে পারেনি। এভাবে সুখে শান্তিতেই সংসার কাটছিল রায়হানার৷ স্বামী, শুশুর, শাশুড়ী এদের নিয়ে নিজের জীবন চলতে শুরু করলো। সংসারের পাশাপাশি নিজের পড়াশুনাও চালিয়ে যাচ্ছে। ----------------------------- আজ রায়হানার বিয়ের ৫ম বিবাহবার্ষিকী। দেখতে দেখতে ৫বছর কেটে গিয়েছে এই সংসারের। রায়হানার অনার্স পড়া শেষ হয়েছে আরো একবছর আগে। পড়াশুনা শেষ হওয়ার পর একটা চাকরি পেয়েছিল কিন্তু রায়হানার শাশুড়ী আম্মা রাজি ছিলেন না। রায়হানা চাকরি করবে এই কথা শুনে ওর শাশুড়ী আম্মা বলেছিলেন --- আমি চাইনা আমার ছেলের বউ চাকরি করুক। আমাদের একটা ব্যবসা আছে আমার স্বামী এবং ছেলে যা ইনকাম করছে সেটা দিয়ে আমাদের ভালোভাবে চলে যাচ্ছে। এখন যদি আমাদের বাড়ির বউকে চাকরিতে পাঠায় তাহলে সমাজের লোকজন কি বলবে। এত এত টাকা থাকতেও ছেলের বউকে দিয়ে চাকরি করায়। লোকজনের এমন কথা আমি শুনতে পারব না। নিজের শাশুড়ী এমন নি'ষে'ধাজ্ঞা দেওয়ার জন্য রায়হানা চাকরিতে জয়েন করেনি। নিজের সংসার সামলাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। ঘড়িতে রাত ১১টা। রায়হানা সেজেগুজে বসে খাটের উপর বসে আছে। অপেক্ষা শাহজাহানের। খাটের মাঝখানে রায়হানার একমাত্র মেয়ে ঘুমিয়ে আছে। নাম ইচ্ছিকা। বয়স ২ বছর হতে চলল। মেয়ের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে আবার দেয়াল ঘড়ির দিকে তাকালো রাত ১১ঃ১০ বাজে। এখনো শাহজাহানের কোন খবর নেই। গত একমাস ধরে শাহজাহানের ব্যবহার অনেকটা পাল্টে গিয়েছে। একমাস আগেও শাহজাহানের ব্যবহার অনেক ভালো ছিল। প্রতিদিন রাত ১০টার ভেতর বাসায় ফিরে আসতো। ম'দ, সি'গা'রেট খেত না। কিন্তু হঠাৎ একদিন রাত ১০টা পেরিয়ে গেল শাহজাহানের কোন খবর নেই। সেদিন রাত ১২ টার দিকে বাসায় এসেছিল শাহজাহান। হাতে ম'দে'র বোতল। মুখে সিগারেট টানতে টানতে বাসায় ফিরেছিল। সেদিন শাহজাহানের এমন অবস্থা দেখে রায়হানা অনেক অবাক হয়েছিল কিন্তু সে কিছু বলতে পারেনি। তারপর থেকে রোজ রাতে ম'দ খেয়ে বাসায় ফিরতো। কথায় কথায় রায়হানাকে মার'ধর করতো। নিজের বাবা-মা তুলে গা'লা'গা'লি করতো। এইসব ব্যবহার রায়হানার শ্বশুর-শাশুড়ী দেখলেও তারা শাহজাহানকে কিছু বলতেন না। রাত আনুমানিক ১১ঃ৪৫ এমন সময় বাসার কলিংবেল বেজে ওঠলো। রায়হানা ছুটে গিয়ে দরজা খুলে দিল। দরজার সামনে শাহজাহান একটা মেয়েকে জড়িয়ে ধরে দাঁড়িয়ে আছে। রায়হানা মেয়েটাকে এর আগে কখনো দেখেনি আজ প্রথম দেখছে। শাহজাহানের কোন হুঁশ নেই। আজকেও ম'দ খেয়ে এসেছে সারা শরীর দিয়ে ম'দের গন্ধ। রায়হানা মেয়েটার কাছে থেকে শাহজাহানকে ছাড়াতে যাবে এমন সময় মেয়েটা বলল --- তোমার ধরা লাগবে না। আমি ওকে ভেতরে নিয়ে যাচ্ছি। আজকে আমার বাসায় একটা পার্টি ছিল সেখানে অনেক ম'দ খেয়েছে তাই এমন অবস্থা হয়ে গিয়েছে এটা বলে মেয়েটি শাহজাহানকে নিয়ে গিয়ে ড্রয়িংরুমের সোফায় বসিয়ে দিল। রায়হানা ভেবেছিল অন্তুত আজকের দিনে মানুষটা ঠিকঠাক ভাবে বাড়িতে ফিরবে কিন্তু না। আজকেও সে নে'শা'গ্র'স্ত হয়ে বাড়িতে ফিরেছে। শাহজাহানকে সোফায় বসিয়ে দেওয়ার পর শাহজাহান বলতে লাগল --- আমাকে এই বাসায় নিয়ে এলে কেন?আমার এখানে ভালো লাগছে না। এই রায়হানাকে এখন আর দেখতে ইচ্ছে করে না। সবসময় আমার কথার বাইরে চলাচল করে কথাগুলো বলে শাহজাহান চোখ বন্ধ করে ফেলল। ---তুমি কিছু মনে করো না। আসলে শাহজাহান আজকে অনেক ম'দ ফেলেছে যার জন্য এমন অবস্থা হয়েছে। তুমি ওকে রুমে নিয়ে যাও আমি বাসায় ফিরে যাচ্ছি এই কথাগুলো বলে মেয়েটি হনহনিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে গেল। রায়হানা বাসার দরজা লাগিয়ে দিয়ে শাহজাহানকে রুমে নিয়ে গিয়ে খাটের উপর শুইয়ে দিল এবং নিজে অপরদিক করে শুয়ে গেল। মনের ভেতরে অনেক চাপা কষ্ট নিয়ে শুয়ে আছে অনেক আশা নিয়ে ছিল। আজকের রাতটা অন্তত তার কাছে থেকে ভালো ব্যবহার আশা করেছিল কিন্তু সেটাও তার কপালে নেই। সে জানেনা কি কারণে শাহজাহান এমন নে'শা'গ্র'স্ত হয়ে বাসায় ফিরে। কয়েকদিন আগেও মানুষটা অনেক ভালো ছিল রায়হানার খুব যত্ন নিতো। খেয়াল রাখতো আরো কত কি। খুব হাসিখুশি ভাবে দুজনের সংসার চলছিল জানি না সে সুখের সংসারে কার নজর লেগে গিয়েছে। রায়হানার চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি পড়ছে। বুকের ভেতরের কষ্টগুলো বেরিয়ে আসতে চাইছে কিন্তু পারছে না। গলা ছেড়ে কান্না করতে ইচ্ছে হচ্ছে রায়হানার। এতদিন সে কান্না করেনি তবে আজকে তার কান্না পাচ্ছে। কাঁদতে কাঁদতে কখন ঘুমিয়ে গেল সেটা বলতে পারবে না। সকালে ঘুম ভাংল ইচ্ছিকার কান্নার আওয়াজে। নিজেকে ঘুরিয়ে ইচ্ছিকার দিকে করতেই দেখল শাহজাহান বিছানায় নেই। ঘড়ির দিকে তাকালো সকাল ৭টা বাজে। সে তো এত সকালে ঘুম থেকে ওঠে না। আজকে ওঠলো কেন বা ওঠে গেল বা কোথায়। ওয়াশরুমের দরজা খোলার আওয়াজ পেয়ে সেদিকে তাকালো রায়হানা৷ শাহজাহান গোসল শেষ করে বের হচ্ছে। তোয়ালে দিয়ে মাথা মুছতে মুছতে আয়নার সামনে গিয়ে বলল --- অবশেষে ঘুম ভাংল। আমিতো ভেবেছিলাম আজকে ঘুম ভাঙ্গবে না। রায়হানা কিছুটা অবাক হয়ে বলল --- কি বলতে চাও তুমি? ঘুম ভাঙ্গবে না মানে? --- এমন ম'রা'র মতো ঘুমাচ্ছিলে যে ভেবেছিলাম তুমি বোধয় মা'রা গিয়েছো কোন প্রকার নড়াচড়া ছিল না --- উল্টোপাল্টা কথা বলা বন্ধ করো। কালকে কোথায় ছিলে? --- বিদেশ থেকে আমার এক কাজিন এসেছে যার জন্য ওর বাসায় পার্টি ছিল সেখানে গিয়েছিলাম। আমাকে বাসায় নিয়ে এসেছে কে রূপা। --- মেয়েটাকে চিনি না তাই বলতে পারব না। আমার একটা প্রশ্ন আছে করব? --- হুম করো। এটা বলে শাহজাহান এসে খাটের উপর বসলো। রায়হানা তখন কিছুটা ছলছল চোখ নিয়ে বলল --- আমাকে নাকি তোমার ভালো লাগে না৷ আমি সবসময় তোমার কথার বাইরে চলাচল করি। তোমার কথা শুনি না। শাহজাহান অবাক হয়ে রায়হানাকে বলল --- তোমাকে এইসব কে বলল? --- কে বলবে কালকে রাতে মা"তা'ল অবস্থায় তুমি এই কথাগুলো আমাকে বলেছিলে৷ আমার যদি তোমাকে ভালোই না লাগে তাহলে বিয়ে করেছিলে কেন? --- সেইসব কিছুই না। নে'শার মাঝে ওইরকম একটা দুইটা আবোলতাবোল কথা বের হয়ে আসে। তুমি ওটা নিয়ে ভেব না। যাও আমার জন্য নাস্তা নিয়ে এসো। ততক্ষণ ইচ্ছিকার সাথে খেলি। শাহজাহান রায়হানাকে পাঠিয়ে দিল নাস্তা বানানোর জন্য৷ রায়হানা নাস্তা বানাচ্ছে এবং ভাবছে 'সবকিছু আগের মতো হয়ে গেলে সবচেয়ে ভালো হবে'। সেদিনের মতো সবার জন্য নাস্তা বানালো। যে যার যার মতো নাস্তা করে অফিসে চলে গেল। এভাবে চলতে লাগল। এখন শাহজাহান রোজ রাতে ম'দ খেয়ে বাসায় আসে। একা আসতে পারে না। রূপা ওকে নিয়ে এসে বাসায় রেখে যায়। রায়হানা শুধু এগুলো দেখে কিছু বলতে পারে না৷ মনে মনে বলে 'খুব শ্রীঘই সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে' মনের ভেতর এমন একটা আশা নিয়ে সুখের অপেক্ষা করছিল। কিন্তু সুখ নামের শব্দটা হারিয়ে গেল সেদিন। যেদিন শাহজাহান রূপা মেয়েটাকে বিয়ে করে বাসায় নিয়ে আসে। সেদিন রায়হানার শ্বশুর-শাশুড়ী কেউ কিছু বলেনি। শুধু তাকিয়ে ছিল শাহজাহানের দিকে। তারাও যেন চেয়েছিল তার ছেলে আরেকটা বিয়ে করুক। ---- ড্রয়িংরুমের সোফার উপরে বসে আছে শাহজাহান এবং রূপা৷ রায়হানা এবং ইচ্ছিকা ওদের দুজনের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। রায়হানার শ্বশুর শাশুড়ী উপস্থিত আছেন এখানে। শাহজাহানের হাতে ডি'ভোর্স লেটার। স্বাক্ষর করে দিয়ে রায়হানার দিকে এগিয়ে দিলে বলল --- সেদিন নে'শা অবস্থায় বলেছিলাম না। তোমাকে আর ভালো লাগে না। কথাগুলো একদম ঠিক বলেছিলাম। আগের মতো তোমাক আর ভালো লাগে না। এটা বলার কারণ হলো আমি রূপাকে ভালোবাসতাম। বাট আমাদের সম্পর্ক আব্বু-আম্মু মেনে নিতে চেয়েছিল না তাই তোমাকে বিয়ে করেছিলাম এখন আব্বু-আম্মু রাজি আছে তাই রূপাকে বিয়ে করে তোমাকে ডি'ভো'র্স দিচ্ছি। তুমি আমাকে ভুলে গিয়ে নতুন করে জীবন শুরু করো কেমন এবং মেয়েকে দেখে রেখো। ভালো থেকো। বাইরে গাড়ি দাঁড় করানো আছে ড্রাইভারকে বলে দিয়েছি সে তোমাকে তোমার বাপের বাড়িতে রেখে আসবে। সেদিন ইচ্ছে না থাকার সত্বেও রায়হানাকে ডি'ভোর্স লেটারে স্বাক্ষর করতে হয়েছিল৷ একটা স্বাক্ষরে শেষ হয়ে গিয়েছিল ৫ বছরের সংসার যেটা কিনা তিলে তিলে কষ্ট করে গুছিয়েছিল রায়হানা৷ সেদিন রায়হানা অনেক কথা বলার থাকলেও সে একটা কথাও বলতে পারেনি। কেন যেন তার মুখটা একদম বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। মনে হচ্ছিল তার মুখটা কেউ চেপে ধরে আছে। শাহাজাহান গাড়ির ড্রাইভারকে বলে দিয়েছিল রায়হানাকে যেন তার গ্রামের বাড়িতে দিয়ে আসে। ড্রাইভার সেই মোতাবেক রায়হানাকে বাড়িতে দিয়ে আসে। বাবার বাড়িতে কয়েকমাস থাকার পর পরিবারের থেকে নানারকম কথা শুনতে হয়। সে কথাগুলো যেন না শুনার জন্য নিজের দু'বছরের মেয়েকে নিয়ে ঢাকায় চলে এসেছিল এবং ছোট একটা বাসা ভাড়া নিয়ে সেখানে থাকতে শুরু করেছিল। খুব কষ্ট করে একটা কোচিং সেন্টারে পড়ানোর কাজ নিয়েছিল সেখানে যা বেতন পেত সেটা নিয়ে বাসা ভাড়া দিত নিজে চলতো এবং মেয়ের খরচ বহন করতো। সেই কোচিং ১ বছর চাকরি করার পর কোচিং সেন্টারের নাম অনুযায়ী একটা স্কুল খোলে রায়হানাকে সেখানে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তখন থেকে সে এই কাজ করেই নিজের জীবন চালাচ্ছে। মাঝে মাঝে শাহজাহানের কথা মনে পড়লে খুব ঘৃ'ণা হয়। তার এমন ব্যবহারের জন্য। ৫টা বছর শুধু তাকে ব্যবহার করে গিয়েছে। সেইসব কথা ভাবলেই রায়হানার চোখে জল আসে। রায়হানা চাইলে শাহজাহানের বি'রু'দ্ধে আ'ই'ন'গ'ত ব্য'ব'স্থা নিতে পারতো। সেটা নিয়ে লাভ হলেও সেই বাড়িতে থাকার জায়গা হতো৷ কিন্তু কারো মনে জায়গা হতো না। যেখানে নিজের কোন মূল্য থাকবে না সেখানে থেকে কি লাভ। রায়হানা সবদিক দিয়ে বি'বে'চ'না করে শাহজাহানকে ডি'ভো'র্স দিয়েছে এবং মনে মনে বলেছে শাহজাহান যেখানে থাকুক ভালো থাকুক। ---------------------------------------- --- ইচ্ছিকার কোন খোঁজ পেয়েছিস? --- না আম্মু। আজকে সকালে থা'না'য় গিয়েছিলাম তারা বলল আপনার মেয়েকে খোঁজাখুঁজি চলছে --- আর কতদিন লাগবে বলতো। আজ ১৫ দিন হয়ে গিয়েছে আমার নাতনির সাথে কথা বলেনি। আমার খুব ক'ষ্ট হচ্ছে রে --- কষ্ট কি শুধু তোমার হচ্ছে। আমার কষ্ট হচ্ছে না --- হুমম। আচ্ছা তোকে একটা বলি শুন আজকে মফিজ ঘটক আমাদের বাড়িতে এসেছিল একটা ছেলে আছে। ছেলের পরিবার নাকি তোকে তাদের বাড়ির বউ করে নিতে চায়। তাদের অনেক টাকা-পয়সা আছে। তাদের পরিবার আমার অনেক পছন্দ হয়েছে তুই কি বলিস সুফিয়া বেগমের এমন কথা শুনে রায়হানা রেগে গিয়ে বলল --- হ্যাঁ আবার বড়লোক ঘরে আমাকে বিয়ে দাও। এমনিতে ৭ বছর আগে টাকা দেখে বিয়ে দিয়েছিলে তার শেষ পরিণাম কি হলো ৫ বছর সংসার করার পর আমাকে ডি'ভো'র্স দিয়ে দিল এবং নিজে অন্য একটা মেয়েকে নিয়ে সংসার করতে লাগল। আমার এত বড় ক্ষ'তি দেখেও তোমাদের লজ্জা হচ্ছে না আবার সেই বড়লোক ঘরের সাথে বিয়ে ঠিক করার কথা বলছো। একটা কথা শুনে রাখো আমি জীবনে বিয়ে করব না৷ আমার মেয়েকে নিয়ে সারাজীবন কাটিয়ে দিতে পারব। এরপর থেকে এইসব বিয়ের কথা আমাকে বলবে না ও আমার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করবে না। ভালো থেকো। এটা বলে রায়হানা কলটা কেটে দিল। এমনিতে তার মেয়ের কোন খোঁজ নেই তারউপর নিজের মায়ের এমন বিয়ের কথা যা একদম শুনতে ভালো লাগে না। একবার টাকা দেখে নিজের মেয়েকে বিয়ে দিয়েছিল। সেটাতে ৫ বছর সংসার করার পর ভেঙ্গে গিয়েছে আজকে আবার বড়লোক ঘরের ছেলের সাথে বিয়ে ঠিক করছে। এ জীবন থাকতে আর বিয়ে করব না। কথাগুলো মনে মনে বলে স্কুল থেকে বের হলো। এতক্ষণ স্কুলের মাঠের ভেতর দাঁড়িয়ে থেকে নিজের মায়ের সাথে কথা বলছিল। বাসা স্কুলের পাশে। নিজের বাসার রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলো এমন সময় পায়ের নিচে একটা..................... #চলবে [ভুলক্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। গল্পে রেন্সপন্স করার অনুরোধ করছি, আমি কোন লেখক নয় তাই কোথাও ভুল হলে দ'য়া করে কমেন্টে বলে যাবেন এবং সবাই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ুন। ধন্যবাদ ]


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৮০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ইচ্ছিকা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...