বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

শান্ত ছেলে

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোঃআলমামুন আলম আরজু (০ পয়েন্ট)



X -একটা জিনিসই আমি বুঝতে পারি না ও আমাকে দেখলেই দৌড় মারে কেনো। - কার কথা বলিস? - শান্তর কথা বলি। - ও! নিশ্চই কোনো কারন আছে। - কি কারন থাকতে পারে? ক্লাস ফাইভে থাকাকালিন সময় ৫টা চিঠি দিয়েছিলো। আমি স্যারকে ওর চিঠিগুলা দেখিয়েছিলাম সেদিন স্যারের কেলানি খেয়ে এইযে পালালো এই থেকে আমাকে দেখলেই পালায়। - তুইও আরো বড় বেকুব। বোকার ডিম একটাকে নিয়ে আলোচনা করছিস। - তুই বুঝবিনা। বুঝলে আজ তোরে খোজে পাওয়া যেত না। - বুঝিনা শান্তকে কিছু বললে তোর এতো লাগে কেন? - আমার আবার লাগতে যাবে কেন? এমনিতেই বলছিলাম। - অনেক দেরী হয়ে গেছে।আমি চললাম। - আচ্ছা যা।আমিও গেলাম। - শান্ত কি হইছে তোর? - কিছুনা। - তো দৌড়াস কেন? - ওই ও আমার সামনে..... - কে সামনে? বল ভয় পাইছিস কিছু? - না তোমারে বলবো কেন? যাও নিজের কামে। একজন শান্ত।নাম আগে বলা হয়েছে।ছেলেটা ছোট থেকেই একপ্রকার বোকা। কারো সাথে দরকার ছাড়া কথা বলেনা। অন্যজনের নাম হলো মেঘলা। মেঘলাকে একবার লাভলেটার দিয়েছিলো।মেঘলা সেদিন রাগে টিচারকে সেটা দেখিয়ে দেয়।টিচার সেদিন তাকে ওভার বাউন্ডারি মারে। শেষে মেঘলাও শান্তকে পরে দেখে নেবে বলে শাসিয়ে যায়। সেই থেকে মেঘলাকে দেখলেই পালিয়ে যায়। কিছুদিন মেঘলার রাগ থাকলেও শান্তর পালিয়ে যাওয়াটা দেখে দেখে রাগ কমে যায় এবং কোনো এক সময় আসে যেসময়টায় শান্তকে তার ভালো লেগে যায়। ভালো লাগলেও বলতে পারে না।কারন শান্ত তাকে দেখা মাত্রই ভেগে যায়। দিনের পর দিন যায় বোকা শান্তকে সে খুজে বেরায়।আর মেঘলাকে দেখলেই শান্ত দৌড়ে গিয়ে কোথায় যেন হারায়।যখন মেঘলার দৃষ্টি দৌড় দেখে পুরায় তখন সে নিজেকে গৃহউদ্দেশ্যে ফিরায়। কম সময়টা আমি দেব না পুরাতে এখন এসব বলায়।আমি এখন চেষ্টা করবো কিভাবে গল্পটা এগিয়ে যায়। দুজন এখন যতেষ্ট বড় হয়ে গেছে।আজ বাদে কাল বিয়ে দেয়ার সময় এসে গেছে। এদিকে বোকা শান্তকে ভাগে আনার নিত্যনতুন ফাদ বের করছিলো মেঘলা।কোনো ফাদেই পা দিচ্ছিল না শান্ত।যতই বোকা হোক মেঘলাকে দেখলেই সে পালাবে এটাই কনফ্রাম। রাতে বালিশে মাথা রেখে মেঘলা ভাবতে শুরু করলো কি করে শান্তর সামনে যাওয়া যায়। অনেক ভেবে বের করলো যে বোরকা পড়া অবস্তায় শান্ত মেঘলাকে কোনোদিন দেখেনি।তাই চিন্তে পারবেনা। তাই বোরকা পড়েই যাবে শাম্তর সামনে। যেই ভাবা সেই কাজ। পরদিনই শান্তর সামনে বোরকা পড়ে হাজির হলো।তারপর....... - এইযে শুনছেন?(মেঘলা) - কাকে বলছেন?(শান্ত।) - আপনাকে। - কেন? - এদিকে আসেন না। - না। - কেন? - আমি মেয়েদের ডরাই। - আমি কিছু করবনা এদিকে আসেন। শান্ত চারদিকে ভালোভাবে তাকালো।তারপর বোরকা পড়া মেঘলার সামনে এসে....... - বলেন। - আমাকে পৌছে দেবেন? - কই? - সামনে। - না। - কেন? - ওখানে মেঘলা আছে। - কে মেঘলা? - মেঘলা....... এরপর চুপ হয়ে গেলো শান্ত। এরপর........ - আপনি কই যাবেন?যান আমি যাবো না। - প্লিজ প্লিজ প্লিজ........ চলুন আমার পথঘাট চেনা নেই। - মেঘলা আসতে পারে। - কে মেঘলা? - খুব ভয়ংকর! - কি?! - খুব বিপদজনক। - কি? - আমাকে পেলেই মারবে। আমি যাবনা আপনি জান। - চলুন আমি আছি। মেঘলা আসলে আমি ফাইট করবো মেঘলার সাথে। - টিক বলছেন? - টিক বলছি। এরপর হাটা শুরু করলো দুজন।শান্ত এক পা এগুচ্ছে আর চারদিক ভালোভাবে দেখছে! এই বুঝি মেঘলা এলো রে.......... এদিক ওদিক তাকিয়ে....... - আমার ভয় হচ্ছে। - আমি আছিতো। - আপনি জানেন না মেঘলা কি ভয়ঙ্কর আমাকে দেখলেই টিকই মারতে চলে আসবে। - আরে দুর মারবেনা। আমার সাথে চলুন। - না আমি আর যাবো না ভয় করছে। - ভয় পাও কেন এতো? আমি আছিনা সাথে? এক সময় মেঘলা শান্তকে চলে যেতে বললো। এবং এর আগে বললো, মেঘলা পথে পৌছাবার আগে দৌড়ে চলে যান। শান্ত দিলো এক দৌড়।ডানে বায়ে না তাকিয়ে এক দৌড়ে হারিয়ে গেলো বোরকার আড়ালে লুকিয়ে থাকা মেঘলার চোখের আড়াল হয়ে গেলো সে। পরেরদিন আবার একি সময় বোরকা পড়ে শান্তর সামনে হাজির হলো।তারপর...... এই ছেলে এদিকে আসেন। - না যাবনা। - আরে আসেন। - না - আসেন বলছি ধমক খেয়েই শান্ত বোরকা পড়া মেঘলার সামনে আসলো।এসে...... - আমার সাথে চলেন। - না। - আসেন নইলে মেঘলাকে ডাক দেব কিন্তু। - না। - তাহলে আসেন। - কই? - আমার সাথে। - কোথায়? - চুপ করে আসেন নইলে আমিও মেঘলার মতো মারবো! চুপ করে শান্ত ওদিকে চলতে লাগলো। কয়েকদিন মেঘলা এভাবে ছদ্ধবেশে চলাচল করলো শান্তর সাথে। কয়েকদিন পর মেঘলা তার ফুফুর বাড়িতে চলে যায় বেড়াতে। ফলে এ ক'দিন দেখা হয়নি শান্তর সাথে মেঘলার। শান্ত রোজ রাস্তায় এসে খোজ করে মনে মনে মেয়েটাকে।বোকা যে বোকাই! আজ পর্যন্ত মেয়েটার নাম জিজ্ঞেস করলো না। আজকে মেঘলা ফিরে এসেছে।মেঘলা ফিরে আসতেই বোরকাটা পাল্টে আগের সেই লালচে রঙের বোরকা পড়ে বের হলো। আজকে সে তার পরিচয় দিয়ে দিবে শান্তর কাছে এই নিয়ত করে বের হলো। এবং হয় ক্ষমা চাইবে নয়তো শান্তকে বলে দেবে তার জমানো কথাটা। রাস্তা যখন রোজকার মতো নিরিহ হলো তখন বোরকা পড়া মেঘলার জন্য ওপেক্ষা করতে লাগলো সেই লাটিমগাছের নিচে। হঠাৎ মৃদু কাশির আওয়াজে পেছনে ফিরে তাকালো। তাকিয়ে দেখে তার সেই বোরকা ওয়ালী। সাথে সাথে শান্ত বলে উঠলো........ - কই গেছিলা তুমি? - বেড়াতে গেছিলাম। - আমাকে বলে যাওনাই কেন? জানো এখানে এসে আমি কত ভয় পাই যদি মেঘলা চলে আসে? - মেঘলাকে এতো ভয় পাও কেন? - ও আমাকে মারতে বলেছে। - কবে বলেছিলো? - ছোটবেলায়। - ছোটবেলায় বলেছিলো বলে তুমি এতোবছর ধরে ভয় পাও ওকে? - তুমি জানো না ও আস্ত গুন্ডি একটা।দেখলেই ভয় পাই আমি ওকে। - ওওও! তো কেমন আছো বললেনাতো? - এই রে একদম মনে ছিল নাতো! দাড়াও বলছি কেমন আছো? - হা হা.... ভালো। - হাসলে কেন? - আচ্ছা এখন যদি মেঘলা আসে কি করবে? - আসছে নাকি? ওরে বাবা কি বিপদজনক! আমি তোমার পেছনে লুকাবো। - তাই? মেঘলাকে কি ভালোবাসো তুমি? - হ্যা বাসি।আগে আমাকে লুকাতে দাও। কথাটি শুনে মেঘলা নিজের মুখের পর্দাটা তুলে দিয়ে শান্তর শার্টের কলার ধরে বললো...... - তাহলে আমাকে ভয় পাস কেন? - বিপদজনক! ওরে বাচাও বাচাও বাচাও.... - চুপ। ভয় পেয়ে চেঁচাতে শুরু করে দিলে মেঘলার এক ধমকে একদম চুপ হয়ে গেলো।তারপর..... - আমাকে এতো ভয় পাওয়ার কারন কি? - তুমি আমাকে মারবে বলেছিলে।ছেড়ে দাও আমাকে আর বলব না। - কি বলবেনা। - তোমাকে আর ভালোবাসবনা চিঠিও দেব না এবারের মতো ছেড়ে দাও মেরোনা আমাকে।শার্ট ছিড়ে গেলে মা মারবে। - আগে বলো আমাকে ভালোবাসো কি না? - মা! মা! মা! - ওই চুপ। বল নইলে টেঙ ভেঙ্গে দেব। - (চুপ) - সত্যি করে বলো আমাকে ভালোবাসো? - মারবে নাতো? - না মারব না। - ভালোবাসি। - তাহলে এতদিন পালাইছিলে কেন? - তুমি যদি মারো তাই। - ওরে বোকা........আচ্ছা আগের কথা তুলে নিলাম আর মারব না। - তাহলে চলো।মাকে বলতে হবেতো। - না এখন না। - আমাকে ছাড়ো শার্ট ছিড়ে যাবে। মেঘলা শান্তকে ছেড়ে দিয়ে....... - প্রপোজ করো। - আমি পারিনা। দেখলেন কি পরিমানের বলদ "শান্ত ছেলেটি"'? - টিক আছে ওটা না হয় বিয়ের পড়ে শিখিয়ে দেব। এখন বাড়ি যাও। - যাই? - যাও। - যাই। - হ্যা যাও। - আসি। - ওকে। - ভালো থেকো। - তুমি ভালো থেকো। - কালকে আসবে? - না। - আচ্ছা তুমি না আসলে আমি আসবো।এসে কি করবে? - এখানে বসবো। - বসে? - ওপেক্ষা করবো। - কার জন্য? - তোমার জন্য। - আমিতো কালকে আসবনা। - মনে ছিলো না। - আচ্ছা আসি আজকে। - আমিও আসি আজকে। হা হা! অবশেষে শান্ত ছেলেটা ও জিএফ পেলো!


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ১৩০ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...