বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অবহেলা থেকে ভালোবাসা (পর্ব ০৩) লেখনীতে - #Sazzad_KR

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sazzad KR (৩ পয়েন্ট)



X গল্প - #অবহেলা_থেকে_ভালোবাসা (পর্ব ০৩) লেখনীতে - #Sazzad_KR --'চিন্তা করিস না আল্লাহ এর বিচার করবে এবং আমিও তোর আসল রুপ বের করব তখন সবাই দেখবে কে খারাপ আর কে ভালো' মেসেজটা পাঠিয়ে দিয়ে ফোনটা অফ করলো তারপর ব্যাগের ভেতরে রেখে দিয়ে হাঁটা শুরু করলো। যত সময় যাচ্ছে তত মাথার এবং শরীরের ব্যাথা বাড়ছে, এভাবে অনেকক্ষণ হাঁটার পর ব্যাথা গুলো আরো বেড়ে গেল, ভাবলো রেস্ট নিবে তাই সামনের একটা বসার বেঞ্চ দেখতে পেল। কিন্তু সেখানে যাওয়ার আগেই সাজ্জাদ জ্ঞান হারিয়ে পড়ে গেল, নির্জন রাস্তার পাশে দীর্ঘ সময় ধরে পড়ে আছে সাজ্জাদ৷ এই রাস্তার আশে পাশে কোন বাড়ি-ঘর নেই চারিদিকে শুধু গাছ আর গাছ৷ কেউ বেশি যাতায়াত করে না, সাজ্জাদের শরীরের কাঁটা জায়গা গুলো দিয়ে র*ক্ত ঝড়ছে৷ কিছু কিছু জায়গায় বন্ধ হয়েছে, এতকিছুর মাঝে জ্ঞান ফিরে আসার কোন নাম গন্ধ নেই৷ হঠাৎ করে সেই রাস্তা দিয়ে শহিদুল ইসলাম যাচ্ছিলেন। শহিদুল ইসলাম এই শহরের বড় বড় বিজনেসম্যানদের ভেতর একজন, তিনি এই রাস্তা দিয়ে বেশি যাতায়াত করেন না কিন্তু আজকে কি যেন ভেবে এদিক দিয়ে যাচ্ছেন৷ গাড়ি করে যাওয়ার সময় রাস্তার পাশে কাউকে পড়ে থাকতে দেখে ড্রাইভার জামাল কে বললেন --'জামাল ভাই গাড়িটা থামান!' জামাল ভাই গাড়ি থামিয়ে শহিদুল ইসলামের দিকে তাকিয়ে বলতে লাগল --'স্যার কোন সমস্যা হয়েছে নাকি?' শহিদুল ইসলাম নিজের হাত দিয়ে সাজ্জাদের দিকে ইশারা করে বললেন --'ওখানে কেউ একজন পড়ে আছে চলেন গিয়ে দেখি' --'স্যার ওখানে না যাওয়াটা আমাদের জন্য ভালো হবে, হয়তো কোন পাগল শুয়ে আছে' শহিদুল ইসলাম ড্রাইভারের কথায় কর্ণপাত না করে গাড়ি থেকে নামলেন। তারপর আস্তে আস্তে সাজ্জাদের দিকে অগ্রসর হতে লাগলেন, সাজ্জাদের কাছাকাছি এসে শরীরে স্পর্শ করে দেখলেন এখনো জীবিত আছে কিন্তু শরীরে অনেক জায়গা দিয়ে র*ক্ত বের হচ্ছে, এখনি হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে নাহলে নাও বেঁচে থাকতে পারে৷ শহিদুল ইসলাম দেরী না করে ড্রাইভার জামালকে উদ্দেশ্য করে বলতে লাগলেন --'জামাল ভাই গাড়িটা এখানে নিয়ে আসেন৷ ছেলেটাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে, আরো দেরী হলে বাঁচানো সম্ভব হবে না' জামাল ভাই সাজ্জাদের কাছাকাছি গাড়ি নিয়ে এলেন তারপর দুজনে মিলে সাজ্জাদকে গাড়িতে শুইয়ে দিয়ে, রাস্তায় সাজ্জাদের জামাকাপড়ের ব্যাগ পড়ে ছিল শহিদুল ইসলামের চোখে পড়া মাএই ওনি ব্যাগটা নিয়ে গাড়িতে রেখে দিয়ে এবং সামনে ড্রাইভারের সাথে বসে পড়লেন৷ পেছনে সাজ্জাদকে শুয়ে রাখা হয়েছে যার জন্য জায়গা নেই, জামাল ভাই ড্রাইভিং সিটে বসে বললেন --'স্যার আমরা এখন কোথায় যাব?' --'আমার হাসপাতালে নিয়ে চলুন ছেলেটাকে চিকিৎসা করাতে হবে' জামাল ভাই বাড়তি কোন কথা না বলে গাড়ি ড্রাইভিং করতে লাগলেন৷ প্রায় ১০ মিনিট পর শহিদুল ইসলামের হাসপাতালের সামনে এসে পড়লেন৷ গাড়ি থামিয়ে কয়েকজন লোকের সাহায্য সাজ্জাদকে ভেতরে নিয়ে গিয়ে ইমারজেন্সিতে ভর্তি করলেন৷ শহিদুল ইসলাম বড় মাপের বিজনেসম্যান হওয়ায় তিনি হাসপাতাল, স্কুল-কলেজ অনেক কিছু তৈরী করে দিয়েছেন৷ ইমারজেন্সি কেবিনের সামনে একটা চেয়ারে বসে আছেন শহিদুল ইসলাম এবং ড্রাইভার মালেক, শহিদুল ইসলামের শার্টে কিছুটা র*ক্ত লেগে গেছে, মালেক ভাই সেগুলো দেখে বললেন --'স্যার আপনার শার্টে র*ক্ত লেগে গেছে?চলুন আপনাকে বাসায় নিয়ে যায়' --'ডাক্তার সাহেব বের হওয়ার পর বাসায় যাব' --'তাহলে আপনার জন্য খাবার নিয়ে আসি?বিকেল হতে চলল এখনো কিছু খান নি' --'মালেক ভাই আপনাকে তো বললাম ডাক্তার বের হওয়ার পর বাসায় যাব ছেলেটার জন্য চিন্তা হচ্ছে' --'আপনি চিন্তা করবেন ছেলেটার কিছু হবে না' শহিদুল ইসলাম কিছু বললেন না চুপ বসে থাকতে লাগলেন, ৩০ মিনিট পর ডাক্তার বের হলো। শহিদুল ইসলাম ডাক্তারের কাছে গিয়ে বলল --'ছেলেটা কেমন আছে?' --'আপনি চিন্তা করবেন না ছেলেটা এখন বিপদ মুক্ত তবে মাথায় একটু বেশি ক্ষ*ত দেখলাম। ভারী কিছু দিয়ে আ*ঘা*ত করার ফলে এমনটা হয়েছে' ডাক্তারের কথা শুনে শহিদুল ইসলাম চিন্তায় পড়ে গেলেন! প্রশ্নবোধক চাহনিতে ডাক্তারকে বললেন! --'মাথার আঘাতের জন্য কি কোন সমস্যা হবে?' --'তেমন সমস্যা হবে না ওষুধ লিখে দিব। নিয়মিত খাওয়ালে ঠিক হয়ে যাবে' --'ছেলেটাকে বাসায় নিয়ে যেতে পারব কবে?' --'সেটা জ্ঞান ফেরার পর বলতে পারব' --'ওও আমরা দেখা করতে পারি কি?' --'এখন দেখা করতে পারবেন না৷ যখন জ্ঞান ফিরবে তখন দেখা করবেন তাই হবে' কথাগুলো বলে ডাক্তার চলে গেলেন৷ ড্রাইভার জামাল ভাই ডাক্তারের সকল কথা শুনছিল৷ যখন ডাক্তার চলে গেলেন তখন তিনি বললেন --'স্যার তাহলে চলুন বাসায় চলে যায়!পরে নাহয় আবার আসবেন' --'হ্যাঁ চলুন!ছেলেটা জ্ঞান ফিরলে আসব' --'আচ্ছা তাহলে চলুন' ড্রাইভারকে নিয়ে শহিদুল ইসলাম বাসায় চলে গেলেন।বাসায় প্রবেশ করা মাএ শহিদুল ইসলামের স্রী নুর জাহান বেগম শার্টে লেগে থাকা রক্ত দেখে বললেন --'তোমার শার্টে র*ক্ত লেগে আছে কেন?কোথাও আ*ঘা*ত পেয়েছ নাকি?' শহিদুল ইসলাম নিজের শরীরে থাকা শার্ট খুলতে খুলতে বললেন --'সেটা অনেক বড় ঘটনা।খাওয়ার সময় বলব' --'ঠিক আছে তুমি ফ্রেশ হয়ে এসো আমি খাবার দিচ্ছি' শহিদুল ইসলাম ফ্রেশ হওয়ার জন্য গেলেন৷ শহিদুল ইসলামের পরিবারে তিনি,, তার স্রী এবং তার একটা মেয়ে৷ এই নিয়ে তার পরিবার, শহিদুল ইসলাম ফ্রেশ হওয়া শেষে খাবার টেবিলে এসে আজকের ঘটে যাওয়া ঘটনা তার স্রী কে বললেন সব কিছু শুনে তার স্রী বলল --'ছেলেটা এখন কেমন আছে?' --'ডাক্তার বললো ভালো আছে কিন্তু জ্ঞান ফিরবে কখন সেটা বলতে পারছে না' --'ওও ছেলেটার জ্ঞান ফিরলে আমাদের বাসায় নিয়ে এসো কেমন' --'হুম ' --'সামিয়াকে দেখছি না?' (সামিয়া ওনার মেয়ের নাম) --'ওর রুমে শুয়ে আছে' --'খাবার খেয়েছে?' --'হ্যাঁ একটু আগে খেয়ে গিয়েছে' --'আচ্ছা' তারপর তিনি খাবার শেষ করে নিজের রুমে গিয়ে বিশ্রাম নিতে লাগলেন৷ ২দিন পর সাজ্জাদের জ্ঞান ফিরলো৷ জ্ঞান ফেরার পর নিজেকে হাসপাতালের কেবিনে অনেকটা অবাক হয়ে মনে মনে বলতে লাগল --'আমি এখানে কেন?আমার যতদূরে মনে আছে আমি রাস্তায় ভেতর অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলাম!নিশ্চয় আমাকে কেউ নিয়ে এসেছে কিন্তু সে কে?' সাজ্জাদের মাথায় এইরকম প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিলো৷ ঠিক সেই সময় ডাক্তার কেবিনে প্রবেশ করলেন৷ সাজ্জাদ জ্ঞান ফিরেছে দেখে তিনি শহিদুল ইসলামকে কল করে জানিয়ে দিলেন৷ তারপর সাজ্জাদের কাছে গিয়ে বললেন --'এখন কেমন লাগছে?' সাজ্জাদ ডাক্তারের অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল --'আপনি কে?' --'আমি এই হাসপাতালের একজন ডাক্তার আপনার চিকিৎসা গুলো আমি করছি' --'ওওও আমি এখানে কিভাবে এলাম?আমার যতদূর মনে আছে আমি রাস্তায় পড়ে ছিলাম' --'হ্যাঁ আপনাকে আমাদের স্যার নিয়ে এসেছে। তিনিই আপনার চিকিৎসা করিয়েছেন' --'আপনাদের স্যারের নাম কি?' --'ওনি আসছে তার কাছে থেকে সব জেনে নিয়েন৷ আপনার এখন রেস্টের দরকার তাই ঘুমিয়ে পড়ুন' কথা শেষ হতেই ডাক্তার চলে গেলেন৷ সাজ্জাদ চোখ বন্ধ করে বিশ্রাম নিতে লাগল। অন্যদিকে শহিদুল ইসলাম তার অফিসের কাজ শেষ করে ড্রাইভারকে নিয়ে হাসপাতালে এলেন। তারপর ডাক্তারের সাথে দেখা করলেন, ডাক্তার ওনাকে নিয়ে সাজ্জাদের কেবিনে প্রবেশ করলেন৷ এদিকে কেবিনে কারো উপস্থিতি টের পেয়ে সাজ্জাদ চোখ খুলে দেখল ডাক্তারের সাথে একটা লোক দাড়িয়ে আছে, লোকটাকে দেখে সাজ্জাদ কিছু বলতে যাবে তার আগেই ডাক্তার বলল --'ওনি শহিদুল ইসলাম বড় একজন বিজনেসম্যান। ওনি আপনাকে নিয়ে এসেছে৷ আপনারা দুজনে কথা বলুন আমি চলে যাচ্ছি' কথাগুলো বলে ডাক্তার চলে গেলেন৷ শহিদুল ইসলাম সাজ্জাদের পাশে বসলেন তারপর বলতে লাগলেন? --'তোমার নাম কি?' --'জ্বি সাজ্জাদ কেআর' --'তোমার ওই অবস্থা হয়েছিল কেমন করে?' সাজ্জাদ একটা দীর শ্বাস ফেলে বলল --'সেটা অনেক কাহিনী পরে নাহয় বলব' --'আমার হাতে অনেক সময় আছে এখনি বলো' --'সত্যি শুনবেন?' --'হ্যাঁ শুনব৷ শুরু থেকে শেষ পযন্ত বলো কি হয়েছে' সাজ্জাদ ওর সাথে ঘটে যাওয়া সমস্ত ঘটনা খুলে বলল। সবকিছু শুনে শহিদুল ইসলাম বলল --'তোমার সাথে অনেক খারাপ হয়েছে!যেহেতু তোমাকে বাসা থেকে বের করে দিয়েছে? এখন তুমি থাকবে কোথায়?' --'এগুলো নিয়ে আমার চিন্তা নেই একটা ব্যবস্থা হয়ে যাবে' --'তুমি যদি কোন সমস্যা নাহয় তাহলে তুমি আমার বাসায় থাকতে পারো' --'আরে না আপনি যা করেছেন এটাই অনেক এখন আপনার বাসায় গিয়ে থাকলে এটা খারাপ দেখাবে' --'খারাপ দেখাবে কেন?আমার কোন ছেলে নেই আমি ব্যবসার কাছে বাইরে যায় বাসায় শুধু আমার স্রীর এবং মেয়ে থাকে। এখন একজন ছেলে বাসায় থাকা দরকার' --'আমাকে ভাবতে দিন' --'ভাবতে হবে না তুমি আমার বাসাতেই থাকবে এটাই ফাইনাল এর বিরুদ্ধে কোন মতামত শুনতে চায় না' জোর করার কারণে সাজ্জাদ মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ বলল। এটা দেখে শহিদুল ইসলাম মুচকি হাসি দিয়ে বলল --'তুমি শুয়ে থাকো আমি ডাক্তারের সাথে কথা বলে আসছি' সাজ্জাদ হ্যাঁ জানালো। শহিদুল ইসলাম কেবিন থেকে বের হয়ে ডাক্তারের কাছে গেল৷ এদিকে সাজ্জাদ মনে মনে বলতে লাগল --'এ যুগে এমন মানুষ পাওয়া খুবই কঠিন৷ আমাকে চিকিৎসা করালো আবার থাকার জন্য নিজের বাসায় নিয়ে যাচ্ছে, এমন ভাবছে যেন আমি তার নিজের আপন কেউ' এতক্ষণে শহিদুল ইসলাম ডাক্তারের সাথে কথা বলা শেষ করে এসেছে৷ কেবিনে প্রবেশ করে সাজ্জাদকে ভাবতে দেখে বলতে লাগলেন? --'এত কি ভাবছো?' সাজ্জাদ নিজেকে কিছুটা সামলে নিয়ে বলল --'না কিছু না?' --'ডাক্তারের সাথে কথা বলে এসেছি কালকে তোমায় বাসায় নিয়ে যাব৷ আজকের দিনটা শুধু হাসপাতালে থাকতে হবে' --'ঠিক আছে' --'আমার জরুরী কিছু কাজ আছে তাই চলে যাচ্ছি কালকে এসে তোমাকে নিয়ে যাব' --'আচ্ছা' --'নিজের খেয়াল রেখো বায়' সেদিনের মতো শহিদুল ইসলাম চলে গেলেন। পরেরদিন সকাল বেলা হাসপাতাল থেকে সাজ্জাদকে নিয়ে বাসায় এলেন৷ বাসায় সামনে এসে সাজ্জাদকে নিয়ে কলিংবেল বাজালেন৷ তখন সামিয়া দরজা খুলে দিয়ে সাজ্জাদকে দেখে বলল.......... #চলবে ভুল-ত্রুটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ রইলো সবাই লাইক কমেন্ট করে নিজের মতামত জানিয়ে যাবেন৷ ধন্যবাদ


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ১৪৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অবহেলা থেকে ভালোবাসা (পর্ব ০২) লেখনীতে - #Sazzad_KR

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...