বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

কাব্য-কথা(An Indistinct Love)_পর্ব ০৬

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Jahid Hasan (০ পয়েন্ট)



X কাব্য-কথা(An Indistinct Love)_পর্ব ০৬ Written By: Jahid Hasan আরিয়ান এখনও চোখ মুখ শক্ত করে দাঁড়িয়ে আছে।রাগে তার নাকটা পুরো লাল হয়ে আছে। মনে হচ্ছে নিজের চুল নিজের হাতে ছিঁড়ে ফেলতে।মেয়েটা কাল থেকে একের পর এক সিনক্রিয়েট করেই চলেছে। আইরাত আপাতত ওর বাসা থেকে চলে গেছে কিন্তু ওর চরিত্রের উপর মিথ্যা কলঙ্কের দাগ দিয়ে গেছে।আরিয়ানের হাতে কাঁচের গ্লাস টা আরিয়ানের হাতের চাপে ভেঙে যায় আর ভাঙা কাঁচ গুলো আরিয়ানের হাত রক্তাক্ত করে ফেলে। হাতের রক্তগুলো ফ্লোরে টপটপ করে পরছে। কিন্তু আরিয়ানের কোন ভাবান্তর হয় না।শুধু অগ্নিচক্ষু দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে বাইরের গেইটের দিকে। সকালবেলা কথা ঘুম থেকে উঠে দেখে সে কাব্যের রুমে শুয়ে আছে।কথা পাশে তাকাতেই কাব্য কে দেখতে পাই,তার পাশে বসে আছে আর বেশ কিছু ফাইল চেক করছে। কাব্য কে পাশে দেখেই ঠোঁটের কোণে মিষ্টি একটা হাসির রেখা ফুটে উঠে। পরক্ষনেই কাল রাতের কথা মনে পড়ে যায় আর ঠোঁটের কোণের হাঁসি মিলিয়ে যায়।কথা একরাশ অভিমান নিয়ে কাব্যের দিকে তাকিয়ে থাকে। হঠাৎ করেই ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে কেঁদে উঠে কথা। কাঁদতে কাঁদতেই মনে মনে বলে, —""পঁচা লোক।রাতে আমাকে একাই বাইরে রেখে চলে আসে। আমি বুঝি ভয় পায় না??থাকব না আমি এখানে।আমি বার্বি ডলের কাছে যাব।"" কাব্য বেশ মনোযোগ দিয়ে তার অফিসের ফাইল গুলো রি-চেইক করছিল।আজ ও আর‌ও একটা বড় ডিল সাইন করতে যাচ্ছে।তাই ফাইল গুলো আবার রি-চেইক করে নিচ্ছে। কিন্তু হঠাৎ কথার কান্না শুনে কাব্য ভরকে যায়।কোমল কন্ঠে বলে, —""কি হয়েছে কান্না করছ কেন?? দাঁড়াও আমি নোট টা নিয়ে আসি।তুমি নোটে লিখ কি হয়েছে তোমার??কেন কাঁদছ??"" কথা অভিমানে মুখ ফিরিয়ে নেয় অন্যদিকে। কাব্য হতভম্ব হয়ে যায়।মনে মনে বলে,—""কি প্রবলেম এই মেয়ের??একে তো কথা বলতে পারে না তার‌ওপর একটু পর পর মুখ ফুলিয়ে কাঁদতে শুরু করে।"" কাব্য আবার প্রশ্ন করে,—""তোমার কি বাসার সবার জন্য মন খারাপ করছে?? তুমি কি বাসায় যেতে চাও??"" বাসার কথা শুনে কথা আবারও ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠে।সে মাথা ঝাকাতে গিয়েও পারে না।কেন জানি, তার সহজ সরল মন টা বলছে এখানে থাকলেই সে ভালো থাকবে।এই বাসাটায় ওর কাছে ভালো লাগছে।কত বড় বাসা!ওর বাসাও এত বড়‌ই হবে। কিন্তু ওখানে একটা শয়তান বুড়ি থাকে।আর একটা রাক্ষস থাকে যে সবসময় ওকে মেরে ফেলতে চাই। রাক্ষস টা কেমন চোখে যেন তার দিকে তাকিয়ে থাকে সেটা ভালো লাগে না তার।যেদিন কাব্যের সাথে ওর দেখাই হয় সেদিন রেস্তোরাঁয়‌ও সবাই ওর দিকে ওই রাক্ষস টার মত তাকিয়ে ছিল।আর কিসব আজেবাজে কথা বলছিল।সে সেইসব কথা বুঝতে না পারলেও ওই শয়তান বুড়ি ওকে মারধর করতো তখন এইসব কথা বলতো। শয়তান বুড়ি নাম টা বার্বি ডল দিয়েছে।ওর দাদুভাই আসমা বেগমকে শয়তান বুড়ি নামে ডাকে বার্বি ডল আর ওর ফুফাতো ভাই সজীব কে ডাকে রাক্ষস নামে।তাই কথাও তাদের শয়তান বুড়ি আর রাক্ষস বলে ডাকে। শয়তান বুড়ি টা রাক্ষস টাকে খুব ভালবাসে।এর কারণ‌ও আছে।আসমা বেগমের দুই ছেলের দুই টা মেয়ে।বড় ছেলের একমাত্র মেয়ে কথা আর ছোট ছেলের একমাত্র মেয়ে ঝুম।আর তার বড় মেয়ের বড় ছেলে সজীব ও ছোট সাঝ।আসমা বেগম মনে করেন ছেলেরাই বংশের হাল ধরতে পারে।তাই তো সজীব কে তিনি নিজের কাছে রেখেছেন। সজীব কে তিনি খুব ভালবাসেন। সজীবের কোন দোষ ওনার চোখে পরে না। উল্টো সব দোষ হয় কথা আর ঝুমের।এইতো সেদিন কথাকে রাক্ষস টা জাপতে ধরে মেরে ফেলতে চাইছিল।সেই কথা কেঁদে কেঁদে ঝুম কে লিখে দেয়। তার যে সতিত্ব হরণ করতে চেয়েছিল সেটা তার এই অবুঝ মস্তিষ্কে না ঢুকলেও ঝুম ঠিকই তা বুঝতে পেরেছিল।সে রাগে লাল হয়ে সেখান থেকে আসমা বেগমের কাছে যায় আর এর একটা বিহিত চাই। কিন্তু আসমা বেগমের চোখে উনার নাতির কোন দোষই ওনার চোখে পরে না। উল্টো নিজের দুই নাতনির চরিত্র নিয়ে কথা বলে। আজেবাজে গালি দিতে থাকেন। এমনকি কথার উপর অকথ্য নির্যাতন‌ও শুরু করেন।এইসব নিয়ে জামিল মাহবুব ও মিসেস মাহবুব কিছু বলতে গেলে তাদের‌ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ দিতে শুরু করেন। তাদের নাকি ছেলে জন্ম দেওয়ার ক্ষমতা নেই।তারা আঁটকুড়ে। তাদের সজীবের প্রতি হিংসা হয় তাই দুই মেয়েকে লেলিয়ে দেয় সজীবের পেছনে।সাথে কশম‌ও দেন উনাকে যদি কেউ বাধা দেয় তাহলে উনার মরা মুখ দেখবে।এই কথা শোনার পর জামিল সাহেব ও উনার স্ত্রী লুকিয়ে চোখের জল ফেলা ছাড়া কিছুই করতে পারে না। সেদিন অনেক মারে কথাকে। এমনকি সজীব‌ও ওর গায়ে হাত তুলে‌। কথা এই অত্যাচার সহ্য করতে পারছিল না।ওর ইচ্ছে করছিল এই অত্যাচারের চেয়ে মরে গেলেই ভালো হতো। কেন ওর বাবা মা ওকে এই পৃথিবীতে একা রেখে চলে গেল।ওকে সাথে নিয়ে গেলে কি এমন ক্ষতি হতো।ও চিৎকার করে বলতে চাইছে ,—""আমাকে এই নিষ্ঠুর পৃথিবীতে একা রেখে গেলে কেন বাবা! আমার যে এই অত্যাচার সহ্য হচ্ছে না।"" কিন্তু কথার কান্না ছাড়া মুখ দিয়ে একটা কথাও বের হলো না। শুধু চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি গড়িয়ে পড়া ছাড়া আর কিছুই বলতে পারলো না।তার কলিজা যেন ফেটে যাচ্ছে কথা বলার জন্য কিন্তু সে কথা বলতে পারছে না।আর ঝুম কে অন্য রুমে বন্ধ করে রেখেছিল। ঝুম সশব্দে দরজায় বারি দিতে দিতে চিৎকার করে বলছিল,—""আমার আপুকে মেরো না তোমরা।ও মরে যাবে।ওতো কথাও বলতে পারে না।সব দোষ আমার, আমার সব দোষ।ও তো অবুঝ শিশুর মতো।ও তো এসবের কিছুই বুঝে না।তোমরা আমাকে মারো আমি সব দোষ করেছি আমি বিচার দিয়েছি।ওই নির্দোষ মেয়েটাকে আর মেরো না। আমার আপুটাকে আর মেরো না।""ঝুম কাঁদতে কাঁদতে হিচকি তুলে ফেলেছে।সে হাঁটু মুড়ে বসে পড়ে নিজের চুল ছিঁড়তে ছিঁড়তে কাঁদতে থাকে।তার কলিজা টা ছিরে যাচ্ছে।তার জন্য তার আপুর উপর এত অত্যাচার। ঝুম কাঁদতে কাঁদতে বলে,—"" আমায় ক্ষমা করে দিস আপু, আমার জন্য তোকে এত কষ্ট সহ্য করতে হচ্ছে। এইদিকে জামিল মাহবুব দুই মেয়ের আহাজারি আর সহ্য করতে পারছেন না। নিজেকে তার ব্যর্থ বাবা মনে হচ্ছে। তাই তিনি বাসা থেকে বেরিয়ে গেলেন।আর মিসেস মাহবুব রান্নাঘরে মুখ আঁচলে ঢেকে কেঁদেই চলেছেন।কান্না করতে করতেই বলে উঠলেন,—"" আমাকে ক্ষমা করবেন দাদা,ক্ষমা করবে ভাবি। আমি আমার কথা রাখতে পারি নি। আমাদের কথাকে আমি ভালো রাখতে পারি নি।"" কথা নিষ্তেজ হয়ে পরলে সজীব মারধর বন্ধ করে আর বাইরে বেরিয়ে যায়।আর আসমা বেগম নিজের রুমে যায়।এই সুযোগে মিসেস মাহবুব ঝুমের রুমের দরজা খুলে দেয়।ঝুম একদোড়ে কথার রুমে চলে যায়। কিন্তু মিসেস মাহবুব সেখানেই দাঁড়িয়ে থাকে।কোন মুখে যাবে সে কথার রুমে।যাকে দেখে রাখার কথা দিয়ে কথা রাখতে পারে নি, তার সামনে কোন মুখে দাঁড়াবে সে??তার নিজের উপর লজ্জা হয় সে তার দায়িত্ব এটটুকুও পালন করতে পারে নি। চোখের জল মুছে মিসেস মাহবুব রান্নাঘরে যায় রান্না করতে... [ভুলত্রুটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন] (To be continued...)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২০৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ কাব্য-কথা(An Indistinct Love)_পর্ব ০৭
→ কাব্য-কথা(An Indistinct Love)_পর্ব ০৫
→ কাব্য-কথা(An Indistinct Love)_পর্ব ০৪
→ কাব্য-কথা(An Indistinct Love)_পর্ব ০৩
→ কাব্য-কথা(An Indistinct Love)_পর্ব ০২
→ কাব্য-কথা(An Indistinct Love)_পর্ব ০১

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...