বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

কাব্য-কথা(An Indistinct Love)_পর্ব ০৪

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Jahid Hasan (০ পয়েন্ট)



X কাব্য-কথা(An Indistinct Love)_পর্ব ০৪ Written By: Jahid Hasan রাত অনেক হয়েছে। কাব্য তার স্টাডিরুমে বসে বেশ কিছু অফিসিয়াল কাজ করছে।কথা তার পাশেই টেডি নিয়ে আপনমনে খেলা করছে। কাব্য যখন স্টাডিরুমে আসে কথাও তার পিছু পিছু স্টাডি রুমে চলে আসে। কাব্য বাধা দেয়া সত্ত্বেও কথা সেটা শুনেনি কাব্যের পাশে এসে বসে পড়ে টেডি নিয়ে আপনমনে খেলতে থাকে।কাব্য আর দিরুক্তি করে নি। কাজ শেষে কাব্য নিজের রুমে ঘুমাতে যায়।কথাও তার পিছু পিছু রায়। কাব্য অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে কথার দিকে।এই মেয়ের কি কোন কমন সেন্স নাই?? কাব্য থমথমে গলায় বলে উঠে,—"" তুমি আমার রুমে কেন??যাও পাশের রুমে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়।"' কথা কাব্যের পাশ কাটিয়ে বিছানায় গিয়ে বসলো।সে তার টেডি নিয়েই পরে আছে।কাব্য ভেবে পায় না এই মেয়ে কি কিছুই বুঝে না,না সব বুঝেও না বোঝার ভান করে থাকে।কাব্য কথাকে রেখেই পাশের রুমে চলে যায় কিন্তু কথা তো কথায়!!কথাও কাব্যের পিছু পিছু পাশের রুমে এসে চুপটি করে তার টেডি নিয়েই বেডে শুইয়ে পরে। কাব্য অবাকের শেষ সীমানায় পৌছে যায়।সে কি বুঝতে পারছে না, একজন অবিবাহিত ছেলের সাথে একজন অবিবাহিত মেয়ে এক‌ই বিছানায় কখনো ঘুমাতে পারে না?? কাব্যের মুখে বিরক্তির ভাব ফুটে উঠে। কাব্য কিছুক্ষণ কিছু একটা ভাবে তারপর ডেভিল হাসি দিয়ে কথার দিকে এগিয়ে আসে আর বলে,—""দেখ, আকাশে কি সুন্দর চাঁদ উঠেছে।"" কথা কাব্যের কথা শুনে আকাশের দিকে তাকাই। সত্যি আকাশে আজ অনেক সুন্দর চাঁদ দেখা দিয়েছে। —""আজ এই জোৎস্না রাতে তুমি আর আমি দুইজনেই একসাথে এই একলা ঘরে জোৎস্নাবিলাস করব,কি বলো??"" কথাটা বলেই সে কথার মুখের পানে তাকায়। কিন্তু তাকে হতাশ হতে হয়।সে ভেবেছিল এইসব কথা বললে কথা হয়তো ভয় পেয়ে যাবে আর অন্যরুমে ঘুমাতে যাবে। কিন্তু ও কোন প্রতিক্রিয়া বা ভাবক্তি দেখতে পেল না কথার চেহারায়।বরং মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে আছে চাঁদের দিকে।হয়তো আজ পূর্ণিমা??আর চাঁদের আলোয় মায়াবতী মনে হচ্ছে কথাকে। কাব্যের কপাল কুঁচকে এলো।এই মেয়েকে ভয় দেখানোর জন্য‌ই এইসব কথা বলল আর ও চাঁদ দেখতে ব্যস্ত।ও কি বুঝে না কোন এডাল্ট ছেলে মেয়ে একরুমে থাকতে পারে না। সমাজ তা কখন‌ই মেনে নিবে না। কাব্যের মনে হচ্ছে কথা এইসব বিষয়ে কিছুই জানে না। কিন্তু সেইটা কি করে হতে পারে, একটা ২০ বছর বয়সী যুবতি মেয়ে এইসব ব্যাপারে তো ওর খুব সেন্সিটিভ হওয়ার কথা। কোন মেয়েই চাইবে না তার চরিত্রে কোন দাগ পড়ে ??বিশেষত কলঙ্কের দাগ,তবে যে!! কাব্য কিছুই ভেবে পায় না,নিশ্চয়ই এই মেয়ের মাথায় সমস্যা আছে। একে পাবনায় পাঠানো উচিত। কাব্য আবারও পাশের রুমে চলে আসে আর এবার সাথে সাথে দরজা বন্ধ করে দেয়।কথাও ওর পিছু পিছু আসে কিন্তু এসে দেখে দরজা বন্ধ।সে দরজায় কড়া নাড়তে থাকে। কাব্য ভিতর থেকে বলে উঠে,—""আর একটা বারও দরজায় বারি দিবে না। নাহলে সকালে তোমাকে থানায় রেখে আসবো তারপর তোমার বাসার লোকজন তোমায় বাসায় নিয়ে যাবে।কাব্যের কথায় কথা যেন চমকে উঠে।সে আর কড়া নারে না।সে ওই বাসায় ফিরে যেতে চাই না। ওই বাসার সবাই পঁচা সবাই একমাত্র বার্বি ডল ছাড়া। কথা অভিমানী মন নিয়ে কাব্যের গেইটের সামনে দাঁড়িয়ে থাকে।অভিমানে চোখ ছলছল করে উঠে।মনে মনে বলে, —""পঁচা লোক।আমাকে একা রেখে চলে গেল।আমি বুঝি ভয় পায় না?? আপনি খুব পঁচা, খুব পঁচা আপনি। আমার বার্বি ডল ছাড়া সবাই পঁচা, সবাই।বার্বি ডল ক‌ই তুই?? ঝুম তার মায়ের দিকে অগ্নিদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।ওর রাগ যেন কিছুতেই পরছে না।ও এই কারনেই বাইরে যেতে চাইতো না। ঝুম দৃঢ় কন্ঠে জানতে চাইল,—""কথা আপু ক‌ই মা??"" ঝুমের কথায় ঘাবড়ে যায় মিসেস মাহবুব।ও আসলে কখনো ভাবতেই পারেনি কথা এইভাবে বাসা থেকে চলে যাবে।এর আগেও বেশ কয়েকবার বাসা থেকে চলে গিয়েছিল কিন্তু সন্ধ্যা হবার আগেই আবার ফিরে এসেছে। কিন্তু এইবার ২৪ ঘন্টা হয়ে গেছে মেয়েটা ফিরে আসেনি।ঝুমের বাবা জামিল মাহবুব থানায় গেছেন কথার মিসিং রিপোর্ট লেখানোর জন্য। তিনিও ফিরে আসেন নি। —""ঝুম মা,তুই একটু শান্ত হ।আমরা সবাই কথাকে খুঁজে বের করব। তোর বাবা তো গেছে স্টেশন কথাকে সাথে নিয়ে আসবে।আর আমিও আমাদের পরিচিত সবাইকে বলেছি কথাকে কোথাও দেখতে পেলে সাথে সাথে যেন আমাদের জানাই।""আসলে সব দোষ আমার।আমি রান্না ঘরে রান্না করতে ব্যস্ত ছিলাম আর মেয়েটা বাইরে চলে গেছে।বাপ মা মরা মেয়েটা কোথায় আছে কেমন আছে কে জানে??""-বলতে বলতেই ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠেন মিসেস মাহবুব। আসলে তিনি যে কথাকে ভালোবাসেন না তা নয়।যদিও তিনি কথার কাকিমা তারপরও কথাকে নিজের মেয়ের মত ভালোবাসে।আর নিজের মেয়ের মত ভালোবাসে বলেই কথাকে শাসনে শাসনে রাখে।মেয়েটা খুব আইসক্রিম আর চকলেট খেতে ভালবাসে। কিন্তু মেয়েটার যে মেন্টাল হেলথ এইসব খাবার ওর জন্য ক্ষতিকর। তাছাড়া একটু ঠান্ডাতেই ওর টনসিল ফুলে যায় সাথে আছে মাইগ্রেনের সমস্যা।তাই মাঝে মাঝে তাকে কঠোর হতে হয়।আর জামিল মাহবুব‌ও বিষয় টা বুঝে।তাই তিনি স্ত্রীর পক্ষ নেন।বোঝে না শুধু ঝুম।কথা আর ঝুম প্রায় সমবয়সী।একটা ২০ বছর বয়সী মেয়ে এটা বোঝেনা যে কোনটাই ওর আপুর ভালো হবে আর কোনটাই খারাপ হবে।ঝুমের শুধু একটাই কথা ওর আপুর যাই চাই তাই এনে দিতে হবে।তাই তো ও কথার খুবই পছন্দের।কথা ওকে বার্বি ডল বলে ডাকে। ঝুম কে দেখতে সত্যি বার্বি ডল এর মত লাগে। আর জামিল মাহবুব ও মিসেস মাহবুব কে ভালো-বাবা আর ভালো-মা বলে ডাকলেও সবসময় পঁচা ভাবে।কারন একটাই ওকে কড়া শাসনে রাখা।কথাকে বাসার সবাই পছন্দ করলেও পছন্দ করেন‌ না শুধুমাত্র আসমা বেগম। উনার কাছে মনে হয় কথার কারনেই উনার ছেলে আর ছেলের বউ মারা গেছেন। কিন্তু সত্যি টা হলো এতে কথার কোনো হাত‌ই ছিল না।এটা জাস্ট একটা এক্সিডেন্ট। কিন্তু তিনি সেইটা মানতেই চান না। তিনিও কথাকে যে ভালোবাসেন না তা নয় কিন্তু কথা যে তার বাবা-মাকে খেয়েছে তার উপর আবার বোবা মেয়ে। কথাগুলো যখন তিনি ভাবেন তখন সমস্ত রাগ-ক্ষোভ গিয়ে পরে কথার উপর।মাঝে মাঝে কথার গায়ে হাত‌ও তুলে বসেন আসমা বেগম। জামিল মাহবুব ও মিসেস মাহবুব এখানে নিরুপায়।যখন কথাকে তিনি অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন আর মারধর করেন তখন যদি জামিল মাহবুব ও মিসেস মাহবুব কিছু বলতে যান তাহলে প্রথমেই মিসেস আসমা বেগম বলে উঠেন""তোরা তো আর ছেলে হারাস নি,আমি হারিয়েছি আমার ছেলেকে এই মুখপুরির জন্য,তাই কেউ কিছু বলতে আসবি না আমাকে।"" তাই নিরুপায় হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে জামিল মাহবুব ও তার স্ত্রী... [ভুলত্রুটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন] (To be continued...)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২৪৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ কাব্য-কথা(An Indistinct Love)_পর্ব ০৭
→ কাব্য-কথা(An Indistinct Love)_পর্ব ০৬
→ কাব্য-কথা(An Indistinct Love)_পর্ব ০৫
→ কাব্য-কথা(An Indistinct Love)_পর্ব ০৩
→ কাব্য-কথা(An Indistinct Love)_পর্ব ০২
→ কাব্য-কথা(An Indistinct Love)_পর্ব ০১

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...