বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

কাব্য-কথা(An Indistinct Love)_পর্ব ০৩

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Jahid Hasan (০ পয়েন্ট)



X কাব্য-কথা(An Indistinct Love)_পর্ব ০৩ Written By: Jahid Hasan —""কাফিয়া তাসনিম কথা।"" কাব্য নাম শুনে কথার দিকে বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকে।কত সুন্দর একটা নাম কথা!হয়তো ওর বাবা মা ওর মুখ থেকে কথার ফুলঝুড়ি শুনতে চেয়েছিল তাই হয়তো ওর নাম কথা রাখা হয়েছিল। কিন্তু সৃষ্টিকর্তার কি নির্মম পরিহাস! মেয়েটি হয়তো জন্ম থেকেই কথা বলতে পারে না। কাব্য মেয়েটির দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়েই আছে। মেয়েটির প্রতি তার মনের কোঠায় একটু একটু করে ভালোলাগা বাড়তেই আছে। এইভাবে চলতে থাকলে হয়তোবা ওর মন ওর অজান্তেই মেয়েটিকে ভালবেসে ফেলবে,যা ও হতে দিতে পারে না।ওর মেইন ফোকাস এখন বিজনেস আর ওর এবং ওর বিজনেস এর মাঝে ও কাউকে এ্যালাও করবে না।তাই সে মেয়েটির দিক থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নেয়। তারপর আবারও শান্ত কন্ঠে প্রশ্ন করে—""বাসা কোথায় তোমার??"" কথা যেন প্রথমে ঘাবড়ে যায়।তারপর নিজেকে সামলে নিয়ে একটা টেডি স্মাইল দিয়ে ডানে বামে মাথা ঝাঁকায়। কাব্য আবার সচকিত হয়ে প্রশ্ন করে—""কি তুমি তোমার বাসার এড্রেস জানো না?"" কথা এবারো একটা টেডি স্মাইল দিয়ে নোট প্যাডে কিছু লিখলো তারপর কাব্যের দিকে এগিয়ে দিল। কাব্য লেখা গুলো পড়া শুরু করল—""আসলে আমি বাসা থেকে আইসক্রিম খেতে বের হয়েছিলাম। আমাকে কেউ আইসক্রিম খেতে দেয় না শুধু বকা দেয়, সবাই খুব পঁচা। তাই আমি বাসা থেকে বের হয়েছিলাম নিজে আইসক্রিম কিনে খাবো বলে।আর তারপর আমি বাসা হারিয়ে ফেলি।"" কাব্য কথার কথা শুনে অবাক হয়ে যায়। ওর কথা শুনে কাব্য হাসবে না কাঁদবে কাব্য নিজেই তা বুঝতে পারছে না।এতবড় একটা মেয়ে আইসক্রিম খাবার জন্য এমন একটা কাজ করতে পারে কাব্য সেটা ভেবে পায় না, তার চেয়েও বড় কথা মেয়েটা বাসা থেকে বের হয়ে বাসার এড্রেস ভুলে গেছে। কাব্য নিজের কপাল দুই আঙ্গুল দিয়ে স্লাইড করতে করতেই আনমনে বলে—""হাউ স্ট্রেইঞ্জ! এতবড় মেয়ে আইসক্রিম খেতে এসে বাসা থেকে হারিয়ে যায় কিভাবে??আর ওর বাবা-মাই বা কেমন??মেয়েকে একা একা ছেড়ে দেয়।"" কথাটা নিচু স্বরে বললেও কথা সেটা শুনতে পাই।আর সাথে সাথে ওর মুখটা মলিন হয়ে যায়। কাব্য কথার দিকে তাকিয়ে ভাবে হয়তো বাসার কথা মনে পড়ছে তাই মুখ টা এতো টা মলিন। কিন্তু ওই মলিন মুখটা দেখেই কাব্য বুকের বাম পাশে একটা চিনচিনে ব্যথা অনুভব করে। কাব্য আরিয়ানকে ফোন দিয়ে ওর আর কথার মাঝে যা কিছু হয়েছে সবকিছু জানাই। সবকিছু শুনে আরিয়ান বলে—""আমি কিছুক্ষণের মধ্যেই তোর বাসায় আসছি।"" —""ঠিক আছে,আয়।" কাব্য আর কথা কাব্যের বাসায় আসে। কিছুক্ষণ পর আরিয়ান আর জোহায়ের‌ও কাব্যের বাসায় আসে। —""কিরে দোস্ত, শুনলাম তুই নাকি ভাবীসাহেবাকে বাসায় নিয়ে এসেছিস।তা ক‌ই আমাদের ভাবী??"" –""কিরে জোহায়ের‌ও আসবে বলিস নি তো??ডাক্তার যদি এইভাবে ফ্রি টাইমপাস করে তাহলে রোগীর কি হবে?? আর কোথাকার ভাবি ও তোর??মেয়েটা জাস্ট ঠিকানা হারিয়ে ফেলেছে তাই তাকে বাসায় এনেছি। ওর পরিচয় পাওয়া গেলে ওকে বাসায় পৌছে দেয়া হবে।""কাব্য প্রশ্ন করে। —""আমি তো আর তোর মত রোবট না।তাই মাঝে মাঝে আমি টাইম পাস করি।""—জোহায়ের নিজের যুক্তি উপস্থাপন করে। ""থাম তোরা, কাব্য মেয়েটিকে ডেকে নিয়ে আয়। আমাকে আবার থানায় ব্যাক করতে হবে। খুব ইম্পর্ট্যান্ট একটা কেস ডিসল্ভড হয়ে আছে। তাড়াতাড়ি তা সল্ভ করতে হবে,যত দ্রুত সম্ভব।"" কাব্য কথাকে উপরের রুমে রেখে এসেছিল।কথা রুমের একপাশে একটা টেডি বিয়ার দেখতে পায়,সেটা নিয়েই সে খেলছিল। কাব্য রুমের সামনে এসে থমকে যায়। কথাকে একদম বাচ্চা মেয়ের মতো লাগছে টেডির সাথে খেলতে দেখে।আর মুখে সেই মিষ্টি হাসিটা লেগেই আছে। কাব্য নিজেকে সামলে নিয়ে কথাকে নিয়ে নিচে নেমে এলো। আরিয়ান আবারও সবকিছু শুনে নিল সকাল থেকে কাব্য আর কথার মাঝে কি কি ঘটেছে। কাব্য আর কথার কথা মন দিয়ে শুনছিল জোহায়ের‌ও। কথার কথা আচরণ দেখে জোহায়ের বেশ চিন্তিত হয়ে পরেছে। কিছু একটা সমস্যা নিশ্চিত আছে এর মধ্যে কিন্তু সে ধরতে পারছে না।নাকি যা সে ভাবছে তা পুরোপুরি ভুল??জোহায়ের এর চিন্তার মাঝেই আরিয়ান বলে উঠল,—""আমি রিপোর্ট লিখে নিব।আর যথাসাধ্য চেষ্টা করব ওর পরিবারের কোনো খোঁজ বা কোনো ক্লু পেলে তোকে অবশ্যই জানানোর। আর তুই ওর কাছ থেকে কোন কিছু জানতে পারলে আমাকে ইনফর্ম করিস।আজ তাহলে আমরা আসি। ভালো থাকিস তোরা। আমরা মিষ্টি ভাবি।"" —""ভাবি মানে??আর এই মেয়েটা এখানে থাকবে কেন?? তুই নিয়ে তা ওকে।তুই একজন পুলিশ ইনচার্জ,ওর তো তোর হেফাজতে থাকার কথা??"" —""আরে মজা করে ভাবি ডেকেছি।তুই এত সিরিয়াস হচ্ছিস কেন??ভাবি ডাকলেই তো সে আর তোর বউ হচ্ছে না। আর তুই ঠিক বলেছিস, কথার আমার হেফাজতে থাকার কথা। কিন্তু দেখ মেয়েটা প্রথমত কথা বলতে পারে না। দ্বিতীয়ত থানায় চোর ডাকাতের বসবাস সেখানে যদি ওর কোন ক্ষতি হয়ে যায়।আর আমি তো ওকে বাসায় নিয়ে যেতে পারবো না।কারন তুই তো জানিস আব্বু আম্মু আবার ভুল বুঝে ওদের পছন্দ করা মেয়ে নেহার সাথে আমার বিয়ে দিয়ে দিবে। আর ওই ন্যাকা মেয়েকে তো আমার সহ্য হয় না।ওর সাথে বিয়ে হলে তো আমার লাইফ তেজপাতা।তার চেয়ে যতদিন ওর পরিবারকে খুঁজে না পাচ্ছি ও তোর কাছেই থাক।ও তোর কাছে ভালো থাকবে,সুখে থাকবে। "" আরিয়ানের কথাটা শুনে মনের কোণে প্রশান্তির হাওয়া বয়ে গেলেও মুখে বিরক্তিকর ভাব ফুটিয়ে তুলল কাব্য। এতক্ষণ পর্যন্ত কথাকে বেশ ভালোভাবেই পর্যবেক্ষণ করছিল জোহায়ের।তারপর বলে উঠল—""ভালো‌ থাকবেন ভাবি। আবারও আসবো আপনাকে জ্বালাতে।"" এরপর মুখে একটা দুর্বোধ্য হাসির রেখা ফুটে উঠল জোহায়েরের মুখে আর দুইজনেই বেরিয়ে গেল বাসা থেকে।অন্যদিকে কাব্য কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল কথার নিষ্পাপ মুখের দিকে... [ভুলত্রুটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন] (To be continued...)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২৬৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ কাব্য-কথা(An Indistinct Love)_পর্ব ০৭
→ কাব্য-কথা(An Indistinct Love)_পর্ব ০৬
→ কাব্য-কথা(An Indistinct Love)_পর্ব ০৫
→ কাব্য-কথা(An Indistinct Love)_পর্ব ০৪
→ কাব্য-কথা(An Indistinct Love)_পর্ব ০২
→ কাব্য-কথা(An Indistinct Love)_পর্ব ০১

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...