বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

মেডুসা - অবিশপ্ত সর্পরুপী দানবী

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Riazul Islam Ahad(guest) (৮ পয়েন্ট)



X #মেডুসা লেখক : Riazul Islam Ahad পৌরাণিক কাহিনীগুলোতে সবচেয়ে বেশিবার যে শব্দটি উচ্চারিত হয় সেটি হল- অভিশাপ। দেব-দেবী আর পুরোহিতের অভিশাপে ইতিহাসের কত নায়ক আর নায়িকার জীবনে নেমে আসে সীমাহীন দুর্গতি, তা বলে শেষ করা যায় না। সামান্য কথাতেও দেবতারা চটে যান, আর বাকি জীবন তাদের অভিশপ্ত হয়ে কাটাতে হয়। এমনই এক অভিশাপের কথা নিয়ে আজকের আয়োজন।  সর্পকেশী মেডুসা- গ্রীক মিথলজির এই দানবীর কথা কে শোনেনি? তার চোখে চোখ পড়লেই সব পাথর হয়ে যায়, এতই ভয়ানক তার দৃষ্টি। হলিউডের সিনেমাClash of the Titans (২০১০) এ মেডুসাকে দেখানো হয়েছে বেশ নিখুঁতভাবে। পার্সিয়াসের হাতে বধ হয়, আর নিজে হয় দানব ক্র্যাকেনকে বধ করার অস্ত্র। কিন্তু সিনেমায় আসল ঘটনার কত পরিবর্তনই তো হয়। পুরাণ অনুসারে মেডুসা আসলে কে ছিল? কী করে মারা যায় সে? মনে করা হয় গ্রীক মিথলজির আর সব দানব-দানবীর মতো মেডুসার জন্মও দিয়েছিল টাইফন আর একিডনা দম্পতি। এরা নিজেরাও ছিলেন দানব-দানবী। মেডুসারা ছিল তিন বোন। এর মাঝে সে সবচেয়ে ছোট। বড় দুই বোন অমর হলেও মেডুসা ছিল মরণশীল। এই তিন বোনকে একসঙ্গে বলা হত গর্গন। অনিন্দ্যসুন্দরি মেডুসা বাস করত পৃথিবীর একদম উত্তরে, যেখানে কখনো সূর্য দেখা যেত না। অনেক ছোটবেলাতেই নিজেকে দেবী অ্যাথেনার সেবায় উৎসর্গ করেছিল স্বর্ণকেশি মেডুসা। তাই ধর্মযাজিকা হিসেবে নিয়োজিত হয়েছিল দেবীর মন্দিরে।একবার তার সাধ হয় সূর্য দেখার। দেবী অ্যাথেনার কাছে অনুমতি চাইতে গেল। কিন্তু দেবীর মর্জি বলে কথা। স্রেফ না করে দিল। মেডুসার মনে মনে খুব রাগ হল। রেগে মেগে বলেই ফেলল, এতদিন ধরে নিষ্ঠার সাথে পূজা করার পরেও তাকে যেতে না দেওয়ার কারণ নিশ্চয়ই ঈর্ষা, কেননা মেডুসা যে অপরূপ সুন্দরী। মেডুসার এহেন মন্তব্যে এথেনা ভয়ানক ক্রুদ্ধ হয়ে গেলেন। তিনি তাকে অভিশাপ দিলেন, যে রূপ নিয়ে তার এত অহংকার, সে রূপই হারিয়ে যাবে। শুধু তাই নয়, তার দিকে যে তাকাবে সে নিষ্প্রাণ পাথরে পরিণত হয়ে যাবে। সাথে সাথে মেডুসার দুধে-আলতা গায়ের রং বদলে সাপের মতো সবুজ হয়ে যায়। চামড়া হয়ে যায় আঁশটে। মাথার ঘন চুল পরিণত হয় হাজার হাজার বিষাক্ত সাপে, কোমর থেকে নিচ পর্যন্ত সাপের লেজে বদলে যায়। চোখ দুটো হয়ে যায় আশ্চর্য রকম শীতল। রূপ হারিয়ে ভয়ানক কুৎসিত মেডুসা দুঃখে আর হতাশায় মন্দির ছেড়ে চলে গেল অনেক দূরে। মানসিক শান্তি লাভের আশায় ঘুরে বেড়াতে লাগল গহীন জঙ্গলে। মাথা থেকে সাপ খসে পড়তে লাগল মাটিতে। কথিত আছে, সেটি পড়েছিল আফ্রিকায় এবং এর পর থেকেই আফ্রিকা বিষাক্ত সাপদের অন্যতম একটি আবাসস্থল হয়ে দাঁড়ায়। সেরিফোস দ্বীপের রাজা পলিডেকটাস ছিলেন অত্যন্ত ধূর্ত প্রকৃতির লোক। এই দ্বীপেই বাস করত পার্সিয়াস। একবার রাজা তার এক বিশাল ভোজসভায় পার্সিয়াসের সামনে গর্গন তিনবোনের গল্প করলেন। এ কথাও বললেন যে কেউ যদি তিন বোনের একজনের মাথা তাকে কেটে এনে দিতে পারত তবে তিনি খুব খুশি হতেন। এদিকে ভোজসভায় সব অতিথি অনেক মূল্যবান উপহার এনেছিল রাজার জন্য, এক পার্সিয়াসই কিছু আনেনি। এটি ছিল রীতিমত অপমান। তরুণ পার্সিয়াস তখন উঠে দাঁড়িয়ে বলল, এখানকার সব থেকে মূল্যবান উপঢৌকন সে এনে দেবে রাজার জন্য, তা হল গর্গন মেডুসার কাটা মাথা। কথিত আছে, পার্সিয়াসের সুন্দরী মা ড্যানির ওপর রাজা পলিডেকটাসের দৃষ্টি ছিল অনেকদিন ধরেই। পার্সিয়াসের উপস্থিতিতে তা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। তাই কৌশলে পার্সিয়াসকে তিনি সরিয়ে দেন, কেননা মেডুসার মাথা আনতে গেলে সে যে আর কোনদিন ফিরে আসবে না- এ তো অবধারিত। পার্সিয়াস বেরিয়ে পড়লেন এই অসম্ভব কাজটি সম্পন্ন করতে। কিন্তু একা এই কাজটি করা সম্ভব? প্রায় অসম্ভব কাজটি করতে পার্সিয়াসের পাশে ছিলেন জ্ঞানের দেবী অ্যাথেনা স্বয়ং, আর দেবতাদের বার্তাবাহক হার্মিস। তারা পার্সিয়াসকে শিখিয়ে দিলেন বেশ কিছু কৌশল, আর দিলেন বিশেষ কিছু জিনিস। অ্যাথেনা তাকে দিলেন নিজের বুকের পাতলা বর্ম (মতান্তরে ব্রোঞ্জের একটি ঢাল), হার্মিস তাকে দিলেন একটি তরবারি আর হেডিসের জাদুর টুপি- যা পরলে পুরোপুরি অদৃশ্য হয়ে থাকা যায়, জাদুর থলি, যার ভেতরে যেকোন কিছু আঁটানো যায়। হার্মিস তাকে আরো দিলেন পাখাওয়ালা এক জোড়া জুতো, যা পরে যেখানে খুশি যাওয়া যায়। এতকিছু পেয়ে পার্সিয়াসের মনে বল পেল, মেডুসাকে হত্যা করা এখন তার কাছে আর কোনো ব্যাপারই নয়। বিশাল পথ পাড়ি দিয়ে মেডুসার দ্বীপে এসে পৌঁছুল পার্সিয়াস। গর্গনরা তিন বোনই থাকত এখানে। দেবী অ্যাথেনা পার্সিয়াসকে মেডুসা কোনটি তা চিনিয়ে দিলেন, কারণ অন্য দুই বোন ছিল অমর। তিনি তাকে আরও বললেন, মেডুসার দিকে যেন সে কোনভাবেই সরাসরি না তাকায়। কারণ তাতে সে পাথর হয়ে যাবে। তাই তিনি চকচকে ব্রোঞ্জের সেই ঢালের মাঝে মেডুসার প্রতিফলনের দিকে তাকে চোখ রাখতে বলেন। পার্সিয়াস জাদুর জুতো জোড়া পায়ে পরে উড়ে উড়ে সেই ঢালের দিকে তাকিয়ে মেডুসার দিকে লক্ষ রাখতে লাগল। একসময় মেডুসা এসে পড়ল তার হাতের নাগালে, সে ঢালের দিকে তাকিয়ে তলোয়ারের এক কোপে মেডুসার মাথা কেটে ফেলল। ঢাল থেকে চোখ না সরিয়েই মেডুসার মাথাটি মুঠি করে ধরে জাদুর থলেতে ঢুকিয়ে ফেলল। অন্য দুই বোন মেডুসার এই পরিণতি খেয়াল করে তাকে ধরবার আগেই জাদুর টুপি আর জুতোর সাহায্যে সেখান থেকে পালিয়ে গেল। পার্সিয়াস সেরিফোস দ্বীপে ফিরে গিয়ে রাজা পলিডেকটাসকে উপহার দিল মেডুসার কাটা মুণ্ডু। রাজা তাতে বেশ খুশি হলেন। আর রাজা পলিডেকটাস মেডুসার সেই কাটা নিয়ে রেখে দেয়। তার রাজ্যের জাদুঘরে। মেডুসার মাথা পেয়ে যেমন রাজা পলিডেকটাস খুশি হয়েছিল তেমনি আরো অনেকে খুশি হয়েছিল বিশেষ করে দেবী অ্যাথেনা। কারণ মেডুসা এখন আর কাউকে পাথরের মূর্তি করতে পারবে না। একদিন সকালে রাজা পলিডেকটাস তার জাদুঘরে যায় পরিদর্শন করতে। সেখানে গিয়ে সে দেখতে পায় তার কন্যা সেখানে মূর্তি হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। রাজা কিছুই বুঝতে পারল না এটা কি করে হলো। তাই তিনি তার কন্যার মূর্তিকে ভালো ভাবে দেখতে থাকে। তখন সে খেয়াল করে যে তার কন্যার মেডুসার সেই কাটা মুন্ডুর চোখের দিকে তাকানো ছিল। সমাপ্ত।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ১১৯ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...