বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

কাব্য-কথা(An Indistinct Love)_পর্ব ০১

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Jahid Hasan (০ পয়েন্ট)



X কাব্য-কথা(An Indistinct Love)_ ০১ Written By: Jahid Hasan কফিশপে বসে আছে কাব্য।আজ কিছু বিদেশি ক্লায়েন্টদের সাথে একটা বিজনেস ডিল এর জন্যই পাশের একটা ডুপ্লেক্স ফাইভ স্টার হোটেলে মিটিং ছিল কাব্য-র। কিন্তু মিটিং টা সাকসেস হয়নি। ওর তৈরি করা প্রেজেন্টেশনে বেশকিছু চেঞ্জ করতে বলা হয়েছিল যার প্রোডাক্টেবল কোয়ালিটির মান অনেকটা নিম্নমানের,যা ওর কোম্পানির রেপুটেশনের জন্য ক্ষতিকর।আর সে কোম্পানির এমডি হয়ে কখনো সেটা মেনে নিবে না।তার নিজ হাতে গড়ে তোলা AMCC Groups and Company Ltd.-এর এত দিনের সুনাম সে কখনোই নিজ হাতে নষ্ট করতে পারে না সামান্য কয়েক কোটি টাকার বিনিময়ে।তাই সে ডিল টা ক্যানসেল করে ওখান থেকে চলে এসেছে পাশের কফিশপে।কাব্যকে বাইরে থেকে শান্ত দেখালেও আসলে সে প্রচন্ড পরিমানে রেগে আছে। কাব্য রাগে বিরবির করে বলে উঠে, —""কতবড় সাহস ওদের! আমাকে ওরা কিছু টাকার বিনিময়ে কিনে নিতে চাই।ওই Denish-এর বাচ্চাদের আমি বুঝিয়ে দিব Who is Nirjhor Ariyan Kabbo??"" এইদিকে অনেকক্ষণ আগেই ও ব্ল্যাক কফির অর্ডার দিলেও এখনো না নিয়ে আসায় ওর রাগ চরচর করে বাড়তে শুরু করেছে।রাগের কারনে ওর চোখ দুটো লাল হয়ে গেছে সাথে প্রচন্ড মাথা ব্যথাও শুরু হয়ে গেছে।এই ওর এক সমস্যা। রেগে গেলেই মাথা ব্যথা শুরু হয়ে যায়।তখন চিনি ছাড়া কড়া করে এক কাপ ব্ল্যাক কফি খেলেই একটু রিলিফ পায়। মাথা ব্যথাটা কমে আর এটা ওর অনেক দিনের অভ্যেস।তাই সে রাগের মাথায় এই কফিশপে এসে বসেছিল কফি খেয়ে মাথাটা ঠান্ডা রাখতে। কিন্তু আজ যেন ওর সাথে সবকিছু উল্টোই হচ্ছে, এখন পর্যন্ত কফি না দিয়ে রাগটা যেন আরও বাড়িয়ে দিল। রাগের বশে টেবিলে আঘাত করে বলে উঠলো,—""কফি কি পাওয়া যাবে নাকি আপনারা কাষ্টমারদের এইভাবে বসিয়ে রাখেন??"" কফিশফের ওনার সামনে তাকিয়ে দেখেন দ্য গ্রেইট বিজনেসম্যান দ্য ইউথ আইকন মি. নির্ঝর আরিয়ান কাব্য তার কফিশপে বসে আছেন। সাথে সাথে কাব্য-র সামনে এসে বললো,—""We are extremely sorry sir, আসলে আমাদের কফি ব্লান্ডারে বেশ কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেম দেখা দিয়েছিল তবে এখন সব ঠিক হয়ে গিয়েছে। আমি এখুনি নিয়ে আসছি।"" কফি খাওয়ার পর মাথা ব্যথা যেন কমে আসলো।কফিশপের বাইরের রেস্তোরাঁয় বেশ জটলা বেঁধে আছে।সেখানে বেশ চেঁচামেচি করছে রেস্তোরাঁর মালিক। কাউকে খুব বাজেভাবে গালি দিচ্ছে রেস্তোরাঁর মালিক। কাব্য কফিশপের বাইরে বেরিয়ে এসে দেখলো রেস্তোরাঁর সামনে বেশ জটলা বেঁধে আছে। কাব্য বিরক্তি নিয়ে সেইদিকে তাকালো।বিরক্তিকর ভাবটা আরও বেশি করে মুখে ফুটে উঠল তার। ঘড়ি দিকে তাকিয়ে দেখলো সবে ১১.৪৫ বাজে। কিঞ্চিত ভ্রু জোড়া আরও কুঁচকে এলো।এখন‌ই অফিসে যেতে হবে।অফিসে যেতে গিয়েও কি মনে করে যেখানে জটলা বেঁধে আছে সেখানে ধিরে ধিরে এগিয়ে গেল।কাব্য-র জটলা ঝামেলা কোনদিনও ভালো লাগে না আর কারো ব্যাপারে নাক গলানোও একদমই পছন্দ করে না। তাই চলে যেতে চাইছিল। কিন্তু কেন জানি আজকের জটলা টা খুব করে টানছে ওকে।সে জটলার মাঝে গিয়ে অবাক হয়ে গেলো,এতগুলো মানুষ একজন মেয়েকে ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে কিন্তু কেউ কোন সাহায্য করছে না বরং অনেকেই অনেক আজেবাজে মন্তব্য করছে মেয়েটিকে নিয়ে।আর রেস্তোরাঁর মালিক আরও বাজেভাবে কথা বলছে মেয়েটির উদ্দেশ্যে।যা দেখে কাব্য-র রাগ আবারও বেড়ে গেল। এতগুলো মানুষ মিলে তামশা দেখছে কিন্তু কেউ এগিয়ে গিয়ে সাহায্য করছে না। অবশেষে সে এগিয়ে গিয়ে রেস্তোরাঁর মালিক কে জিজ্ঞেস করলো,–"" কি হয়েছে?"" রেস্তোরাঁর মালিক কাব্য কে দেখে একটু মিইয়ে গেল।বেশ নম্র কন্ঠে বলল,—""খাবার খেয়ে খাবারের টাকা না দিয়েই চলে যাচ্ছিলো।" পাশ থেকে কেউ একজন বলে উঠল,—""টাকা না ধান্দা।এইসব মেয়েদের ভালো করেই চেনা আছে।টাকা না দিয়েই পালিয়ে যেতে চেয়েছিল।"" বেশ কয়েকজন একসাথে বলে উঠল,—""ঠিক বলেছেন ভাই,এদের কাজ‌ই এমন।"" মেয়েটি অপমানে লজ্জায় মাটির সাথে মিশে যেতে চাইছে।চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি পরছে।এরা অনেকক্ষণ ধরে তাকে বাজে কথা বলছে। ইচ্ছে করছে একছুটে এখান থেকে পালিয়ে যায় কিন্তু সে নিরুপায়।তাই মুখ বুজে সবার বাজে কথা শুনছে আর চোখ দিয়ে পানি ঝরছে। সবার কথা শুনে কাব্যের রাগ তরতর করে বাড়তেই আছে।সে চোখ বন্ধ করে নিজের রাগ কন্ট্রোল করছে। কিন্তু ওইসব মানুষের কথায় আর নিজের কন্ট্রোল করতে পারলো না।সে চোখ খুলে তাকালো সবার দিকে।সবাই ওকে দেখে ভয় পেয়ে গেছে। চোখ দুটো লাল হয়ে গেছে যেন এখনই রক্ত ঝরে পরবে। খুব ঠান্ডা কিন্তু দৃঢ় কন্ঠে বলল,—""কাউকে সাহায্য করতে না পারলে তাকে নিয়ে বাজে কথা বলারও অধিকার আপনাদের নেই।"" কথার মাঝে এত দৃঢ়তা ও হিংস্রতা ছিল যে সবাই চুপসে গেল।তারপর রেস্তোরাঁর মালিককে বলল,—""কত টাকা বিল হয়েছে?"" —""পঞ্চাশ টাকা।"" কথাটা শুনে পুরো মেজাজটাই বিগড়ে গেলো।ওর যতটা না রাগ হচ্ছে রেস্তোরাঁর মালিকের উপর তার চেয়ে বেশি রাগ হচ্ছে মেয়েটার উপর।মাত্র পঞ্চাশ টাকার জন্য এতক্ষণ ধরে এতগুলো বাজে কথা শুনছিল মেয়েটা?? —""কিছু টাকার জন্য এরপর এত বাজে ব্যবহার করবেন না আশা করি,অন্তত মেয়েদের সাথে তো ন‌ই।"" তারপর ১০০ টাকা দিয়ে বাকিটা রেখে দিতে বলল। এরপর মেয়েটার চোখ পাকিয়ে কিছু বলতে যাবে তার আগেই যেন স্তব্ধ হয়ে গেল কাব্য।সে এখন‌ যেন তার নিজের মাঝে নাই। একটা বছর কুড়ির যুবতি মেয়ে। মুখখানা পুরো মায়ায় ভরা। পানপাতার মতো ধবধবে মুখখানায় যেন মায়াপরীরা ঘুরোঘুরি করছে। হঠাৎ মেয়েটির চোখে চোখ পড়তেই আবারও চোখ দুটির অতল গহ্বরে তলিয়ে গেল কাব্য। মেয়েটি কান্না করার ফলে চোখ দুটো ফুলে লাল হয়ে আছে। সেই ফোলা ভেজা লাল চোখে তাকিয়ে নিজের সব রাগ ভুলে গেল কাব্য।সম্বতি ফিরে পেয়ে নিজেকে ধিক্কার জানাই মনে মনে বিড়বিড় করে বলে —"'ছিঃ কি করছিস এটা তুই কাব্য!একটা অচেনা অজানা মেয়ের দিকে এইভাবে তাকিয়ে আছিস?"" তারপর আর কিছু না বলে সে সেখান থেকে পার্কিং লটের দিকে রায়। সবাই যে যার মত চলে যায়। মেয়েটা কিছুক্ষণ হতবিহ্বল হয়ে দাঁড়িয়ে থেকে কাব্যর পিছু পিছু যেতে থাকে... [ভুলত্রুটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন] (To be continued..)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২৩২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ কাব্য-কথা(An Indistinct Love)_পর্ব ০৭
→ কাব্য-কথা(An Indistinct Love)_পর্ব ০৬
→ কাব্য-কথা(An Indistinct Love)_পর্ব ০৫
→ কাব্য-কথা(An Indistinct Love)_পর্ব ০৪
→ কাব্য-কথা(An Indistinct Love)_পর্ব ০৩
→ কাব্য-কথা(An Indistinct Love)_পর্ব ০২

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...