বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ভয়ংকর_ভালবাসা

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান অজানা বালক (৩০ পয়েন্ট)



X আগামীকাল রুপার বিয়ে।রুপা আমার গার্লফ্রেন্ড। ১০ম শ্রেণীতে পড়ে। আমরা সেইম ইয়ার। অল্প বয়সেই দুজন দুজনার প্রতি দুর্বল হয়ে পড়েছিলা। আমাদের রিলেশনের আজ দুই বছর পুর্নতা লাভ পেল। কি অদ্ভুদ আজকে রিলেশনের বয়স দুই বছর পুর্নতা পেল অথচ আগামীকাল রুপার বিয়ে। দুইবছর বললেও ভুল হবে। কারন অনেক দিন থেকেই রুপাকে পছন্দ করতাম রুপাও সেটা জানে। কিন্তু ঠিক দুই বছর আগে আজকের এই দিনে রুপাকে আমি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রফোজ করেছিলাম। . রুপা আমার প্রফোজাল যখন গ্রহন করেছিল। আমার যে কি আনন্দ হয়েছিল বুঝাতে পারব না। বাবার পকেট থেকে চুরি করা টাকা দিয়ে বন্ধুদের মিলে পার্টি দিয়েছিলাম। এই দিনটা ছিল আমার আনন্দের কয়েকটা দিনের মধ্যে একটি।রুপার সাথে আমার এই দুই বছরের রিলেশন যেমন আনন্দের ছিল ঠিক তেমনি অনেক করুন কাহিনীও ছিল। আমি সারাক্ষন মোবাইল নিয়ে পড়ে থাকতাম জন্য আম্ম প্রায় আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলেছিল বাবা মোবাইল চাপিস না এত। একদিন মোবাইলে তোকে শেষ করে দিবে । আমাকে অনেক রিকুয়েস্ট করেছিল। এমন কি আমার পা পর্যন্ত ধরেছিল মোবাইল না চাপার জন্য। কিন্তু আমি সেসময় মায়ের কথা শুনি নাই। কারন ওই সময় আমার মায়ের ভালবাসার থেকে রুপার ভালবাসাটাকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলাম। আম্মুকে ফাকি দিয়ে টেবিলে বই রেখে ওর সাথে ম্যাসেঞ্জারে চ্যাট করতাম। এভাবে দুইবছরের প্রত্যেকটা দিনেই আমরা রাত জেগে দুইজনে প্রেমে অন্ধ হয়ে গিয়েছিলাম।আমরা আবেগের বশবর্তী হয়ে মান অভিমান করে অনেক ভয়ংকর কাজও করেছিলাম। একবার তো রুপার ভালবাসার পরীক্ষা দিতে গিয়ে আমার জীবনটাই শেষ হয়ে গিয়েছিল প্রায়। ১৩ টা ঘুমের ট্যাবলেট খেয়ে রংপুর মেডিকেলে ভর্তি হয়েছিলাম। রুপাও অবশ্য ঘুমের ট্যাবলেট খেয়েছিল।রুপাও আমাকে কম ভালবাসে নি। আমার জন্য প্রাই কাদত। আমরা এতএত দুজনার প্রতি দুর্বল জয়ে পড়েছিলাম যে দুজনে হাত কেটেছিলাম। রুপা প্রায় পারিবারিক কারনে সুইসাইড করতে চাইত। কিন্তু আমি ওকে বুঝিয়ে বলতাম। ওর বুকে সাহস দিতাম। আমারো পারিবারিক সমস্যা ছিল তাই আমিও সুইসাইড করতে চাইতাম মাঝেমধ্যে। কিন্তু রুপা আমাকে সাহস দিত বুঝিয়ে বলত ঠিক আমি যেভাবে বুঝিয়ে বলতাম ওকে । আমি ওর কথা শুনতাম। . আজ আমার খুব অবাক লাগছে। আমাদের এত দিনের ভালবাসা, এতদিনের ত্যাগ, এতদিনের আশা, এত দিনের পথ চলা,সারা রাত জেগে কথা বলা, কোচিং ফাকি দিয়ে একসাথে ঘুরতে যাওয়া, এত এত রোমান্টিক স্মৃতি সব কিছুকে বিসর্জন দিয়ে রুপা কিভাবে অন্যের সংসারে আলোর প্রদীপ জ্বালাবে.? খুব অবাক লাগছে যে ভালবাসার জন্য দুজনে রক্ত ঝরিয়ে হাত কাটলাম সেই মেয়েটা আজ অন্যের সংসারে চলে যাচ্ছে। . ভাবছেন রুপা কেন অন্যের সংসারে চলে যাচ্চে? এর কারন তার বাবা মা এত দিনে আমাদের রিলেশনের কথা জেনে গেছে। তাই রুপার পরিবার থেকে রুপাকে অনেকটা জোর করেই বিয়ে দেওয়া হচ্চে। রুপাকে আমি অবশ্য বলেছিলাম চলো পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করি। রুপা বলত না এতে আমার আম্মু খুবই কস্ট পাবে। তুমি আমার আম্মুকে চিন না সুইসাইড করবে আমি পালিয়ে বিয়ে করলে। আমি আমার আম্মুকে এজন্য কস্ট দিতে পারব না কখনো। . আচ্ছা রুপা যে আম্মু আমার জন্য পায়ে পড়েছিল , যে আম্মু আমার জন্য নামাজে বসে প্রায় কাদত, সেই আম্মুকে কি আমি কম কস্ট দিয়েছি? যার জন্য এত এত করলাম সে যদি অন্যের কাছে চলে যায় তবে এজীবন রেখে লাভ কি.? না এই জীবন আমি আর চাই না। আমি মরব।হ্যা আমি মরব। তবে শুধু আমি না আমার ভালবাসা কে নিয়ে মরব। . তাই প্লানমত রুপাকে নিয়ে একটা জংগলে আসলাম।রুপার হাত পা বেধে রেখেছি। শারীরিকভাবে অত্যাচার করে যাচ্ছি। রুপার খুব কস্ট হচ্ছে। কস্ট তো আমারো হচ্ছিলো,যখন রুপা আমাকে ছেড়ে অন্য একজনের ঘরে সংসার পাততে যাচ্চিলো। না আর সময় নাই। রুপার মৃত্যু আর কয়েক মিনিটের মধ্যেই হবে। পকেট থেকে ধারালো ছুরি বের করে রুপার গলায় ঘ্যাচ ঘ্যাহ করে করে টান দিলাম। রুপার দেহটা মাটিতে নেতিয়ে পড়লো। রুপা মৃত্যযন্ত্রনায় ছটপট করছে। আমি আরাম করে বসে রুপার মৃত্যুদৃশ্য দেখতে লাগলাম। #অজানা_ছেলে


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৪১০ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...