বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

উন্মাদ

"মজার গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান PRINCE FAHAD (১৫০১ পয়েন্ট)



X (১) সকাল থেকে বাড়িতে মিতুর সারা নেই। মিতু বাড়ি থেকে পালিয়ে গেছে এটা জানার পর মিতুর বাবা তার সন্ধানে না গিয়ে যেটা করলেন সেটা আশ্চর্যজনকই বটে। প্রথমেই তিনি চলে গেলেন মিতুর বেস্টফ্রেন্ড নীরুর বাসায়। সেখানে গিয়ে যা দেখলেন তাতে দুইয়ে দুইয়ে চার করলেন খুব সহজে। নীরু বাসায় নেই। তার ধারণা মিতু পালিয়ে গেছে নীরুর সাহায্যে। কেবলমাত্র নীরুই দিতে পারবে মিতুর সন্ধান। নীরুদের বাসায় আসার পর থেকে তিনি হুলুস্থুল বাঁধিয়ে দিয়েছেন। নীরুর বাবা মা অনেক কষ্টে মিতুর বাবাকে বুঝাতে সক্ষম হয়েছেন যে নীরু এ ব্যাপারে কিছুই জানে না। "ভাই, আপনি তো জানেনই কয়েকদিন পর নীরুর বিয়ে। দুইদিন আগে নীরু তার খালার বাসায় গেছে বিয়ের আগে কয়েকটা দিন কাজিনদের সাথে কাটিয়ে আসার জন্য।" "বেশ তাহলে আজই আসতে বলুন তাকে। তার আসার আগ অবধি আমি এখানেই অপেক্ষা করব।" (২) নীরু মায়ের সাথে ফোনকলে কথা বলে দ্রুত ব্যাগ গোছাতে আরম্ভ করল। শুধু বুঝতে পেরেছে তার প্রিয় বান্ধবী মিতু বাড়ি থেকে পালিয়ে গেছে। এছাড়া মায়ের কোনো কথাই তার বোধগম্য হলো না। আঙ্কেল কেন এই মূহুর্তে মিতুকে না খুঁজে তাকে খুঁজছে? পুরো ব্যাপারটা বোঝার জন্য আজই তাকে বাসায় ফিরতে হবে। এক সপ্তাহ পর বিয়ে। দুটো দিন খালাতো বোনদের সাথে কাটাতে এসেও থাকা গেল না মিতুর জন্য। নীরু মোবাইল হাতে নিয়ে ফেইসবুকে লগ ইন করল। গার্লস গ্রুপে একটা পোস্ট করল, " আপুরা আমার বান্ধবী বাড়ি থেকে পালিয়ে গেছে আঙ্কেল তাকে না খুঁজে আমাকে খুঁজছে। আমি এখন কী করব আপুরা?" পোস্টটা এখনও এপ্রুভ হয়নি। নীরু ব্যাগ নিয়ে রওনা হলো বাড়ির উদ্দেশ্যে। (৩) "তুমি কি সত্যিই কিছু জানো না?" মিতুর বাবার দ্বিতীয়বার জিজ্ঞেস করল নীরুকে। নীরুকে মুখে কিছু বলল না মাথা নাড়াল কেবল। বাড়িতে আসার পর থেকে তার গম্ভীর কথাগুলো অচেনা লাগছে যেন। আঙ্কেল কখনোই এভাবে তার সাথে কথা বলেন না। "আমার কাছে ব্যাপারটা অদ্ভুত লাগছে নীরু। তুমি মিতুর ছোটবেলার বন্ধু অথচ ও এত বড় একটা ব্যাপার তোমাকে জানাল না? এটাই সত্যি নাকি তুমি মিথ্যে বলছ। আমার ধারণা মিতু যা করেছে তোমাকে জানিয়ে করেছে।" নীরু এবারও উত্তর দিল না। তার নিজের কাছেই অবাক লাগছে মিতুর কাজটা। মিতু যেভাবে বাড়ি থেকে জামাকাপড় আর গয়নাগাটি নিয়ে উধাও হয়েছে তাতে এটা নিশ্চিত যে সে পালিয়ে গেছে। তার মোবাইলও সুইচড অফ। মিতুর এই কাজের চাইতেও অবাক লাগছে মিতুর বাবা,চাচাদের আচরণ। তারা এই মুহূর্তে মিতুকে না খুঁজে নীরুকে জেরা করছে। নিজেকে ধাতস্থ করে নীরু বলল, "এটা আপনার ভুল ধারণা আঙ্কেল। এমন অনেক কিছুই আছে যেটা মিতু আমাকে জানিয়ে করেনি। মিতুর যে একটা সম্পর্ক আছে সেটাও প্রথমে আমি জানতাম না। " বলে নীরু জিভ কাটল। কানে কানে কে যেন বলল, "তুই তো দেখছি মিতুর চেয়ে বড় গাধী।" "তার মানে তুমি স্বীকার করছো মিতুর সম্পর্কের ব্যাপারে তুমি প্রথমে না জানলেও পরে জেনেছো" "জেনেছিলাম অনেক পরে। কিন্তু ওর বাড়ি থেকে পালানোর ব্যাপারে সত্যিই আমি জানি না আঙ্কেল। আপনি খামোখা আমায় দোষারোপ করছেন।" আঙ্কেল কিছুটা শান্ত হলেন। নরম গলায় বললেন, "বুঝতে পেরেছি। কিন্তু তুমি কি মিতুকে খোঁজার ব্যাপারে কোনোভাবে আমাদের সাহায্য করতে পারবে? আফটার অল মিতু তোমার কাছের বান্ধবী। ওর ক্ষতি হোক তা নিশ্চয়ই তুমি চাও না।" " মিতুর অন্য একটা নাম্বার আছে আমার কাছে। ওর সেই পছন্দের মানুষের সাথে কথা বলার জন্য এই নাম্বারটাই ব্যবহার করত। ওর আলাদা একটা মোবাইলও ছিল। আমি এই নাম্বারে চেষ্টা করতে পারি।" "বেশ, তবে স্পিকারে অন করে কথা বলবে।" নীরু মিতুর নাম্বারে ডায়াল করলো। এবং দুবার রিং হওয়ার পর মিতু রিসিভ করল। "নীরু কোথায় তুই? চিন্তায় আমাদের মাথা খারাপ হয়ে যাচ্ছে।" " আমি ইমনকে নিয়ে পালিয়েছি বিয়ে করে তবেই ফিরব।" "মানে?" "মানে খুবই সোজা। তোর বিয়েতে দুজন একসাথে যাব বলেই এই প্ল্যান করেছি আমি। দুদিন আগে তো তোকে বলেছিলাম বিয়ের তারিখ পিছিয়ে দে। অন্তত মাসখানেক যদি তোর বিয়ের তারিখ পেছানো যেত তবে বাবাকে রাজি করিয়ে পারিবারিকভাবে বিয়ে করতাম। তারপর ইমনকে নিয়ে তোর বিয়েতে যেতাম। কিন্তু তা তো হলো না। তাই পালিয়ে এলাম। মোটকথা বিয়ে আমি করবই। আমার বেস্টফ্রেন্ডের বিয়েতে আমার বর থাকবে না। তা হবে না, তা হবে না। আমি তোকে কথার দিয়েছিলাম তোর বিয়েতে জামাইসহ উপস্থিত থাকব। এই মিতু কথার খেলাপ করেনা বুঝেছিস? " নীরু হতভম্ব। আঙ্কেলের দিকে তাকিয়ে বুঝল তারও একই অবস্থা। "তুই কাজটা একদমই ঠিক করিসনি মিতু। তোর কারণে আজ আঙ্কেল মৃত্যুর সাথে কাবাডি খেলছেন। একদফা লুডু খেলা শেষ।" এবার আঙ্কেলের দ্বিতীয়দফা অবাক হওয়ার পালা। বড় বড় চোখ করে এদের কথা শুনছেন। " কি হয়েছে বাবার?" "তুই পালিয়ে গেছিস শুনে তিনি হার্ট অ্যাটাক করেছেন।" আঙ্কেলের মুখ দেখে মনে হচ্ছে তিনি নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছেন না। বলছে কি মেয়েটা এসব! "মিতু তুই বাড়ি ফিরে আয়। দেখ ইমন গেলে ইমন পাবি। কিন্তু আঙ্কেলের যা অবস্থা তাতে...." "আমি ফিরছি এক্ষুনি।" (৪) আঙ্কেল স্বাভাবিকভাবে নীরুর সাথে কথা বলার চেষ্টা করছেন৷ পারছেন না। এইমাত্র তার মেয়ে এবং এই মেয়েটা যা বলল তাতে এরা সুস্থ কিনা সন্দেহ হচ্ছে। একজন বেস্টফ্রেন্ড এর বিয়েতে বরকে নিয়ে আসবে বলে বাড়ি থেকে পালিয়েছে বিয়ে করার জন্য। আরেকজন বেস্টফ্রন্ডকে বাড়ি ফিরিয়ে আনার জন্য তাকে অর্ধমৃত বানিয়ে দিল! "এই মেয়ে এদিকে তাকাও। মিতু বাড়ি এসে যদি দেখে আমি সম্পূর্ণ সুস্থ তখন কি হবে ভেবে দেখেছো?" "এত ভাবাভাবির তো দরকার নেই। আপনি আপনার মেয়েকে চেয়েছেন আমি তাকে ফেরানোর ব্যবস্থা করে দিয়েছি। এখন আপনার হাতে দুটো অপশন আছে। ১. মিতু বাড়ি ফেরার সাথে সাথে দুগালে চারটা থাপ্পড় দিবেন। সাথে আরো দুটো দিবেন বোনাস হিসেবে আমার তরফ থেকে। ২. আপনি বাড়ি গিয়ে আনোয়ার হোসেন এর মত বুকে হাত দিয়ে শুয়ে থাকুন। মিতু তো আর ডাক্তার নয়। সে ভাববে আপনি অক্কা গেছেন। আপনার মেয়েকে পাওয়া গেছে আপনি নিশ্চয়ই খুশি। এবার আমায় ক্ষ্যামা করুন। আর বিয়েতে কিন্তু সবাই আসবেন। মিতুর বাবা এবার নিশ্চিত হলেন তার মেয়ে এবং এই মেয়ে দুজনেই বদ্ধ উন্মাদ। তবে তার সংস্পর্শে এসে কে উন্মাদ হয়েছে সেটা ঠাওর করতে পারলেন না। (৫) সেদিন মিতু সত্যিই বাড়ি ফিরেছিল। তবে বাড়ি ফিরে বাবার তরফ থেকে কি জুটেছিল সেটা নীরুও জানে না। তবে মায়ের তরফ থেকে যে ঝেটার বারি জুটেছিল তা নিশ্চিত। সপ্তাহখানেক পরে নীরুর বিয়েতে মিতুর পরিবারের সবার উপস্থিতি দেখা গেল। বিয়ের কাজ পুরোপুরি সমাধা দিয়ে নীরু স্বামীর সাথে প্রথমবারের মত কক্সবাজার গেল। প্রথম দুটো দিন ঘুরাঘুরি, ছবি তোলা, খাওয়াদাওয়া সব মিলিয়ে বেশ ভালোই কাটছিল। তৃতীয় দিন আবার মিতুর বাবার কল। মিতুর বাবা বর্তমানে নীরুর কাছে একটা আতঙ্কের নাম। সাতপাঁচ ভেবে নীরু কল রিসিভ করল। আঙ্কেল থমথমে গলায় বলল, " আমার মেয়ে দ্বিতীয় দফা বাড়ি থেকে পালিয়ে গেছে। তাকে ফেরানোর ব্যবস্থা করো। তবে ও একটা চিঠি লিখে গেছে সেটা তোমার পড়া জরুরি। আমি তোমাকে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠাচ্ছি ছবি তুলে। " (প্রিয় বাবা, ছোটবেলা থেকে তুমি শিখিয়েছিলে জীবনে স্বাবলম্বী হওয়া প্রয়োজন। নিজের যত্ন নিজেকেই নিতে হয়। আজ আমি তোমায় বলছি বাবা তুমি স্বাবলম্বী হও। নিজের হার্টের যত্ন নিজে নিতে শিখো। আমি দ্বিতীয়বারের মতো পালাচ্ছি। তুমি কিন্তু ভুলেও এবার হার্ট অ্যাটাক করবে না। বিয়ে করে ফিরে বর নিয়ে আসব কথা দিচ্ছি।) আঙ্কেলে সত্যিই মিতুর চিঠিটার ছবি তুলে পাঠিয়েছে। মিতুর ছবি দেখে নীরুর মজে হচ্ছে সেদিন আঙ্কেলের বলা কথাটা সত্য। ওরা দুজনেই উন্মাদ। মিতু উন্মাদ আর তার সাথে থেকে নীরুও উন্মাদ হয়ে যাচ্ছে। মিতুর সেই গোপন নাম্বারে ডায়াল করে লাভ হলো না। তবে ইমন ভাইয়ের নাম্বারে কল দিয়ে তার সন্ধান পাওয়া গেল৷ মিতু নিজেই কল রিসিভ করেছে। "দেখ নীরু। বাবা সম্পর্কটা মেনে নিয়েছিল কিন্তু শর্ত দিয়েছিল তিন বছর সময় নিতে হবে৷ ভালো চাকরি যোগাড় করতে হবে তারপর বিয়ে৷ কিন্তু ভেবে দেখ ছোটবেলা থেকে ঠিক করে রেখেছিলাম তোর মেয়ের সাথে আমার ছেলের বিয়ে দেব। এখন যদি তোর মেয়ে আমার ছেলের বড় হয় তবে বিয়ে দেব কি করে? তাই এভাবে পালিয়ে আসতে হলো। বাবাকে চিঠিতে বলেছিলাম আমি বিয়ে করে ফিরব কিন্তু কথাটা মিথ্যে। আমি আর ইমন এখন চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় আছি। আমি ঠিক করেছি কোল আলো করার সুখবর নিয়ে তবেই বাড়ি ফিরব। বাবা নিশ্চয়ই তোকে এতক্ষণে সব জানিয়েছে। আর তুই বাবার হতে সুপারিশ করতে কল করেছিস বাড়ি ফেরার জন্য। শুন তুই বরং বাড়ি ফিরে যা। তোর বর একা কক্সবাজার থাকুক৷ আমার সুখবর আবার আগে তোর কোনো সুখবরের ব্যবস্থা করার দরকার নেই। প্রথমে আমি তোর জন্য মেয়ের জামাই আনব৷ তারপর তোর মেয়ে হবে বুঝেছিস? হাজার হোক একসময় কথা দিয়েছিলাম তোর মেয়ের সাথে আমার ছেলের বিয়ে দেব। এই মিতু কথার খেলাপ করেনা বুঝেছিস? " গড়গড় করে একনাগাড়ে কথাগুলো বলে মিতু থামল৷ মিতু যদি ফোনের ওপাশ থেকে নীরুকে দেখতে পেত তবে দেখত পেত তার চোখেমুখে বিস্ময়৷ নীরু ধাতস্থ হয়ে ফিসফিস করে বলল,"যা বুঝেছি তাতে আমি সত্যিই উন্মাদ হয়ে গেছি মিতু।আর বুঝতে চাই না।তোর ফেরার দরকার নেই মিতু। তুই সমুদ্রের জলে ভেসে যা। ভেসে যা।" ~ফারজানা আহমেদ


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৫২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ উন্মাদ

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...