বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

পিচ্চি বর ৯( শেষ পর্ব)

"পৌরাণিক গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান PRINCE FAHAD (০ পয়েন্ট)



X শিমুল এখনো বুঝে উঠতে পারে না, এগুলো বাস্তব না স্বপ্ন। রিয়া শিমুলের হাত ধরে বিছানা পর্যন্ত নিয়ে আসে, নিজের হাত দুটো ছড়িয়ে শুয়ে পড়ে বিছানায়, যেন শিমুল কে কোন ইশারা দিচ্ছে। হয়ত নিজেকে শিমুলের কাছে দান করে দিচ্ছে, হয়ত শিমুল কে বলার চেষ্টা করছে," আমি শুধু তোমার, আমি শুধু তোমাকেই ভালোবাসি আমার দেহ,আদর, ভালোবাসা সব শুধু তোমার জন্য। " এই ইশারা দ্বারা যা কিছু বোঝানো হোক না কেন, শিমুল থেকে এই ইশারা হয়ত কেউ ভালো বোঝেনি। . কী অদ্ভুত সুন্দর দৃশ্য, দুটি হৃদয়ের মিলন, দুজন প্রেমিক-প্রেমিকার কী অদ্ভুত মিলন। নাহ! এটাকে কাম বলা সম্পুর্ন ভুল হবে এটাকে 'ভালোবাসার সর্বোচ্চ স্তর' বলাই উপযুক্ত . সকালে রান্নাঘরে বসে রান্না করতে ব্যস্ত রিয়া । আজ বেশ সকালে ঘুম থেকে উঠে রান্নায় ব্যস্ত হয়ে পড়ে। আজকের সকাল যেন রিয়ার জীবনের এক নতুন সকাল, যেন রিয়ার জীবনের এক নতুন অধ্যায়ের শুরু, আজকের সকালের থেকে সুন্দর সকাল হয়ত রিয়ার জীবনে কখনো আসেনি। আজকের সকালের রোদে যেন রিয়া তার কালো অতীতকে পুড়িয়ে দিয়েছে আর শুরু করেছে এক নতুন জীবন। রিয়া নাক মুখে, আনন্দের স্পষ্ট ছাপ। হয়ত রিয়ার সমগ্র জীবনে এতটা হাসি খুশি সে কখনো ছিল না। . হঠাৎ পিছন দিক থেকে এসে শিমুল রিয়া কে জড়িয়ে ধরল। রিয়ার ঘাড়ে হালকা চুমু খেল শিমুল . "সর প্লিজ সর, রান্না করতে দাও। " . " এত সকালে রান্না কেন? " . "আগে বল এত সকালে কিভাবে উঠলা? এটাতো গিনেজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ড হয়ে গিয়েছে। " . রিয়ার জন্য গিনেজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ড তো কিছুই না। " . "বুজসি এজায়গা থেকে যাও এখন।" . "আমার জিনিসের কাছ থেকে আমি যাব কেন?" . মনে মনে রিয়া সিদ্ধান্ত নিল, শিমুল কে একটু শায়েস্তা করতেই হবে। তাই বাধ্য হয়ে শিমুলের হাতে চিমটি কাটে, রিয়ার ধারালো নখের চিমটি খেয়ে শিমুলের হাত যেন প্রায় লাফিয়ে ওঠে। শিমুলের এরকম দৃশ্য দেখে রিয়া বেশ জোরেই হেসে ওঠে, রিয়ার হাসি দেখে শিমুলের হালকা রাগ হয়। বেশ রাগের গলায় বলে, . "আজকে বাহিরে নাস্তা করব। " . শিমুলের মুখ থেকে কথাগুলো শুনে রিয়া বেশ কষ্ট পায়। বেশ অভিমানী দৃষ্টিতে রান্নায় মনযোগ দেয় রিয়া। . রিয়ার চেহারায় অভিমানের ছাপ শিমুল স্পষ্ট বুঝতে পারে, বাধ্য হয়ে আবার রিয়ার কাছে গিয়ে চুলে হাত বুলিয়ে দেয়। তবে বেশ অভিমানের সাথেই রিয়া শিমুলের হাতটা সরিয়ে দেয়। . "প্লিজ মাফ কর,আচ্ছা আমি তোমার হাতের নাস্তা খাব,বাহিরে যাব না। " . "কেন বাহিরে যাও আমার হাতের নাস্তা লাগবে কেন? " . "ওকে সরি, তুমি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ রাঁধুনি।" . মনে মনে শিমুলের কথাগুলোকে উপভোগ করে, তবে বেশ চুপচাপ থাকে রিয়া । . "আচ্ছা ঠিক আছে ডিস্টার্ব করব না তাহলে, গিয়ে সোফায় বসি। সোফায় বসে মোবাইল চালাই। তুমি রান্না কর।" . শিমুলের মুখ থেকে এই কথা শোনা মাত্র শিমুলের হাতটা শক্ত করে চেপে ধরে রিয়া । . "কোথাও যাবা না,এখানেই থাকবা আর আমাকে হেল্প করবা। " . একেবারে দাসের ন্যায় চুপচাপ শিমুল স্থির থাকে একটুও নড়াচড়া করে না। যেন রিয়া শিমুলের মালিক আর শিমুল রিয়ার গোলাম। . যদিও রান্নাবান্না খুব একটা পারে না শিমুল ২-১ দিন রান্না করার অভিজ্ঞতা থাকলেও বাস্তবে ইউটিউব ব্যতীত চা আর ডিম ভাজা বাদে কিছুই পারে না, রিয়া ও বিষয়টা ভালভাবে জানত তাই শিমুল কে রান্নাঘরে মূলত কোনো সাহায্য সহযোগিতার জন্য রাখেনি বরং শিমুলের সাথে রোমান্স করাই ছিল রিয়ার মূল উদ্দেশ্য। যদিও শিমুলের কাছে বিষয়টা একটু বোরিং লাগে টানা প্রায় আধা-পৌনে এক ঘন্টা সে এখানে রিয়ার কাছে বন্দি হয়ে থাকে . নাস্তাটা শিমুল আলোর গতিতে খাওয়া শেষ করে, পরাটা আর সেমাই বলে কথা। শিমুলের অদ্ভুত খাওয়ার স্টাইল দেখে রিয়া বিরক্তি হয় আবার হাসিও আসে, বিশেষ করে শিমুলের মুখে সেমাই লাগার দৃশ্য দেখে রিয়া আর নিজের হাসি থামাতে পারে না। রিয়ার হাসির কারণ প্রথমে শিমুল বুঝতে পারে না, পরবর্তিতে মুখে হাত দিয়ে যখন দেখে সেমাই তার মুখে লেগে আছে তখন লজ্জায় তারাহুড়া করে মুখ ধুতে যায়। শিমুলের এরকম লজ্জাজনক পরিস্থিতি দেখে রিয়ার হাসি যেন আরো কয়েক গুণ বৃদ্ধি পায়। . রিয়ার হাসি দেখে শিমুলের বেশ রাগ হয়, রাগ হয়ে মোবাইলটা হাতে নিয়ে সোফায় বসে পড়ে। শিমুলের রাগ দেখে যেন রিয়ার আরো হাসি পায়। মনেমনে ভাবে, . "পাগল নাকি? রাগ হলে মোবাইল চালানো শুরু করে, আসলেই সম্পুর্ন রেয়ার, পাগল একটা ছেলে। "(আমিও রাগ করলে মোবাইল টিপি তাইলে রাগ কিছুটা কমে আমার৷ তাহলে কি আমিও কি একজন রেয়ার) জাইহক গল্প ফিরে আসি।। . রিয়া নিজের নাস্তা শেষ করে হাতটা হালকা পরিষ্কার করে,শিমুলের পাশে গিয়ে বসে, শিমুল অনেকটা অভিনয় করে। যেন রিয়া যে তার পাশে বসেছে তা সে খেয়াল করেনি। . "কী ব্যাপার রাগ করসো নাকি? এরকম ফাও রাগ কিন্তু শুধু মেয়েরা করে। " . "জ্বালানো বন্ধ কর,যাও এখান থেকে। " . "নাহ যাব না। " . রিয়া কথা শুনে বেশ রাগেই শিমুল উঠে যাওয়া শুরু করে, রিয়া শিমুলের হাতটা শক্তভাবে চেপে ধরে। . "কোথায় যাও? এখানে বস। " . রিয়ার সাথে তর্ক করার সাহস শিমুলের কখনো জুটাতে পারে না আজকেও ব্যতিক্রম না। চুপচাপ রিয়ার আদেশে সোফায় বসে পড়ে। শিমুল সোফায় বসা মাত্রই রিয়া তাকে জড়িয়ে ধরে। . "এত রাগ তো মেয়েরা করে। " . "এখন ভাললাগে না, ছাড়ো প্লিজ। " . শিমুলের গালে চুমু বসিয়ে দেয় রিয়া । . "ঠিক আছে বাহিরে চল। " . "না ইচ্ছা করে না। " . "প্লিজজজজ। " . "আচ্ছা ঠিক আছে চল। " শিমুলের মুখ থেকে যাওয়ার জন্য সম্মতি পেয়ে রিয়ার আনন্দের যেন কোন মাত্রা থাকে না, প্রায় ফরিং এর মত লাফিয়ে ওঠে, ঠিক যেমন একটা ছোট বাচ্চা নতুন পুতুল পাওয়ার খুশিতে লাফিয়ে ওঠে রিয়া ও ঠিক একইভাবে লাফিয়ে ওঠে। রিয়া কে যেন কোন ছোট বাচ্চা মনেহয় শিমুলের । তবে রিয়ার দেহজুড়ে চাঞ্চল্যতা যেকোন পুরুষকে পাগল করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। শিমুলের বেশ গর্ব হয় কারণ রিয়া তো শিমুলের ,তার এই চঞ্চল দেহ,রিয়ার সৌন্দর্য সব শিমুলের আর শিমুল এই রিয়া কে পৃথিবীর কারো সাথে ভাগ করতে পারবে না। .আর অন্য দিকে জারিফ দেবদাস হয় জায় . জারিফ সিগারেট খাওয়া ছেড়ে দিয়েছেল প্রায় ৭ বছর। রিয়ার অপছন্দের কারণে সিগারেট ছেড়ে দিয়েছিল। কিন্তু আজকে রিয়া তার জীবনে নেই


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৩১৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ বোরকাওয়ালি পিচ্চি বউ শেষ পর্ব
→ পিচ্চি হবু বউ-শেষ পর্ব
→ পিচ্চি বর ০৩ (শেষ)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...