বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

নীল ডাইরির ভালোবাসা ৩

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান PRINCE FAHAD (১৫০৫ পয়েন্ট)



X অতঃপর চলে আসলাম, দেখলাম সে কপিশপের ভিতরে কোনার একটা টেবিলে বসে আছে। আমি তার কাছে যাওয়ার পর বললাম.... --- Hi.. (আমি) --- আপনি সেই, যে আমাকে আসতে বলেছেন? (জান্নাত) -- হুম! আমিই। --- আমার জিনিষ গুলো কোথায়? -- আছে, আগে আমাকে দেওয়া কথা গুলো বলেন। --- আচ্ছা বলেন কি শুনতে চান? --- এখানে না, বাইরে বলিয়েন। আগে একটা কফি খেয়ে নিই, হেটে আসছি তো তাই। --- আপনার এলাকা কোথায়? --- এই তো রাস্তার ওপাশে। এভাবে কথা বলতে বলতে আমি আমার নাম, পরিচয়, পড়ালেখা সব কিছু বলে দিলাম। সেও বলে দিলো। কফি খেয়ে আমি আর জান্নাত বের হয়ে একটা পার্কের মধ্যে গেলাম। একটা ভালো জায়গা দেখে দুজনে ওখানে গেলাম, একটা ব্যাঞ্চের উপর দুইজন দুই মাথায় বসলাম। তারপর বললাম... --- আচ্ছা এবার বলেন, ডাইরিতে যতটুকু লিখেছেন, তারপরে কি হয়েছে। --- (চুপ করে আছে) ---- কি হলো বলেন। --- সেদিন আমি সেজানের কথা মতো টাকা, স্বর্ণ আর আমার জিনিষ পত্র নিয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে গেলাম। একটা ঠিকানা দিলো ওখানে যাওয়ার জন্য, রিক্সা নিয়ে সেখানে গেলাম। দেখলাম সেজানসহ তার অনেক গুলো ফ্রেন্ড দাঁড়িয়ে আছে, আমাকে দেখে সবাই ভাবি ভাবি বলে ডাকছে। সেজানকে জিজ্ঞেস করলাম ওদের কে কেন নিয়ে এসেছে? সে বললো বিয়েতে নাকি অনেক গুলো সাক্ষী লাগে তাই। আমি আর কিছু না বলে ওর দিকে চেয়ে আছি। সে আমাকে বললো, এখন কাজী অফিস যাবে, একথা বলে আমার হার ধরে ওই দিকে হাটতে লাগলো, পিছনে তার বন্ধু গুলো রয়েছে। একটা অন্ধকার গলির মধ্যে দিয়ে আমরা হাটছি, আমার অনেক ভয় হচ্ছিলো তাকে জিজ্ঞেস করলাম আমরা কোথায় যাচ্ছি, কাজী অফিস কোথায়? সে একটু সামনে বলে আমাকে নিয়ে যাচ্ছে। হাটতে হাটতে একটা নির্জন জায়গায় চলে যাই, সে আমাকে একটা ঘর দেখিয়ে বলে এটা কাজী অফিস। কিন্তু আমার মনে হচ্ছে এটা কোনো কাজী অফিস না। ভিতরে গেলাম, দেখি কেউই নেই, মনে হচ্ছে অনেক দিন কেউ থাকেনা। আমি সেজানকে কিছু বলতে যাবো এমন সময় সেজান আমার মুখ চেপে ধরে, আমি চিৎকার করতে চাচ্ছি বাট পারছি না। ওর বন্ধুরা এসে আমার কাছ থেকে টাকা, স্বর্ণ, আমার মোবাইল যা আছে সব গুলো নিয়ে যায়, সেজান রহস্যময় হাসি দিয়ে বলে " এতো দিন এগুলোর অপেক্ষাই ছিলাম, আজকে তা পূরণ হলো। আজকে তোমার সব শেষ ডার্লিং, টাকা পয়সা এবংকি তোমার মিষ্টি মাখা এই শরীর। আমি যেন নিজের চোখ কে বিশ্বাস করাতে পারছি না। যে সেজান আমাকে দেখার জন্য পাগল হয়ে যেতো সেই আমার সাথে এগুলো করছে? সেজান এসে আমার গায়ে হাত দেয় সাথে সাথেই আমি একটা চড় দিয়ে হাতের পার্লস টা নিয়ে দৌড়াতে শুরু করি। সেজান আর ওর বন্ধুরা আমার পিছু পিছু আসে আমি একটা অন্ধকার গলিতে ঢুকে পড়ি। দৌড়াতে দৌড়াতে আপনাদের এলাকায় চলে যায়, দেখি সেজানের বন্ধুগুলো ওখানে দাঁড়িয়ে আছে। তাদের দেখে আমি আবার দৌড় দিই। কখন যে আমার হাত থেকে ব্যাগটা পড়ে গেছে মনে নেই, সাথে চশমাটাও। এরপর আমি একটা CNG ডেকে তাড়াতাড়ি বাসায় চলে যাই। দেখলাম জান্নাতের চোখ দিয়ে পানি ঝরতেছে। মনে মনে সেজানকে বললাম, হায়রে ফকিন্নি এই সামান্য জিনিষ গুলার জন্য তুই মেয়েটার সাথে এমন করলি? বিয়ে করলে তো সব কিছুই তোর হতো। তারপর আমি বললাম... --- আপনার বাবা মা আপনাকে কিছু বলেনি? --- কি বলবে! আমি যে বেঁচে ফিরেছি এটাতেই উনারা খুশি। --- এই নিন আপনার ডাইরি আর চশমা। (সব গুলো দিয়ে) --- ধন্যবাদ দিয়ে ছোট করবো না, যা করেছেন সারা জীবন মনে থাকবে। আচ্ছা একটা কথা --- হুম বলেন। --- আপনি আম্মুর নাম্বার কোথায় ফেলেন? --- আপনার নাম্বার ছবিটার পেছনে ছিলো, ওটাতে কল দিয়েছিলাম বন্ধ, পরে এক বন্ধুর সহায়তায় একটা সিস্টেমে আপনার মায়ের নাম্বার টা নিলাম। --- ও আচ্ছা, সময় পেলে বাসায় গিয়ে ঘুরে আসিয়েন। --- বাসায় তো আজকেই যাবো। (আস্তে আস্তে) --- কিছু বললেন? --- না বলছি যে সময় পেলে যাবো --- ও আচ্ছা ঠিক আছে। আমি তাহলে যাই, আম্মু চিল্লাচিল্লি করবে দেরি করলে। --- ওকে, আল্লাহ হাফেজ। ভালো থাকবেন। --- আপনিও ভালো থাকবেন, Bye বিদায় নিয়ে জান্নাত চলে যাচ্ছে, আমি ওর পথ চলার মাঝে চেয়ে আছি। কেমন জানি একটা মায়া বসে গেছে মেয়েটার উপর। কিছুক্ষণ বসার পর আমিও বাসায় চলে গেলাম। একটু পর আম্মু আসলো রুমে.... --- কিরে এতোক্ষণ কোথায় ছিলি? (আম্মু) --- তোমার বৌমার সাথে দেখা করতে গেছিলাম। (আমি) --- বৌমা মানে? ---- মানে তোমার ছেলের বউ। --- আরে কি বলিস! মেয়েটা কে ছবি দেখা। --- ডাইরির সেই মেয়েটা। --- ফাইজলামো করিস? ওর তো অন্য জায়গায় বিয়ে হয়ে গেছে। --- আরে নাহ হয়নি। (সব গুলো ঘটনা আম্মুকে বললাম) --- কি বলিস এই সব সত্যি নাকি? --- হুম, আচ্ছা শোনো তুমি কালকে মেয়েটার বাসায় যাবে, বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে। --- তুই পাগল নাকি? এই অবস্থায় মেয়েটা বিয়ের জন্য রাজি হবে নাকি? আর তোরও তো খুব একটা বয়স হয়নি। --- আমি কি বলছি আমি এখন বিয়ে করবো? আমি বলছি যে বিয়েটা ঠিক করে রাখার জন্য। --- মেয়েটা যদি রাজি না হয়? --- সেটা পরে দেখা যাবে। তুমি তো আগে যাও। --- আচ্ছা বাবা ঠিক আছে যাবো। এখন খেতে আয়। পরের দিন বিকালবেলা আম্মু আর ছোট আন্টিকে জান্নাতদের বাসায় পাঠালাম, আমি যাই নি। আমি বাসা দেখিয়ে চলে আসলাম। ওরা বাসায় গেলো, সবার সাথে পরিচিত হলো। বিয়ের কথা বলার পরেই...... #চলবে......


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৬২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ নীল ডাইরির ভালোবাসা
→ নীল ডাইরির ভালোবাসা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...