বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

নীল ডাইরির ভালোবাসা

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান PRINCE FAHAD (১৫০৫ পয়েন্ট)



X ---তোর আর কোনো কাজ নেই, যা ঘুমিয়ে যা। (আম্মু) ---আচ্ছা আম্মু শোনো (আমি) --- হুম বল। --- এখানে একটু বসো, তোমাকে পড়ে শোনাচ্ছি। --- তুই পড়, আমি ঘুমাবো। --- আরে ৫ মিনিট বসো তো। এরপর আমি আবার ডাইরিটা পড়তে শুরু করলাম..... ""সেজানের সাথে আমার সম্পর্ক টা দিন দিন ভালো হতে লাগলো, আমি সেজানকে আরো বেশি ভালোবেসে ফেললাম। একদিন সন্ধ্যার সময় সেজান আমাকে মেসেজ দিলো সাদে যাতে, আমি তো অবাক হয়ে গেলাম। বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে তারওপর সেজান আমাদের সাদে কি করে গেলো.. আমি তাড়াতাড়ি সাদে গেলাম, দেখি সেজান আমার জন্য ওয়েট করতেছে। তারপর আমরা দুজন অনেকক্ষণ ভিজলাম। এভাবেই আমাদের দিন যাচ্ছিলো। সে আমাকে প্রতিদিন দেখতে আসতো, কথা বলতো, অনেক অনেক স্বপ্ন দেখতো আমাকে দিয়ে।"" একটু থেকে আম্মুকে বললাম... ---- আমার জন্য এই রকম একটা বৌ নিয়ে আসিও (আমি) --- আগে সেজানের মতো রোমান্টিক আর ভদ্র হয়ে নে, তারপর দেখা যাবে। (আম্মু) --- কিহ! আমি রোমান্টিক না। --- কচুর রোমান্টিক, যা ঘুমিয়ে যা। আমি গেলাম। এরপর আম্মু চলে গেলো, আমি আবার ডাইরিটা পড়তে লাগলাম.... "" সেদিন রাতের বেলা সেজান আমাকে কল দিলো.... --- হ্যালো জান্নাত (সেজান) --- হুম বাবু বলো! (জান্নাত) --- অনেক বড় একটা বিপদ হয়ে গেছে। --- কি বিপদ! --- বাবা আমার জন্য মেয়ে দেখতেছে, আমি তোমার কথা বলেছি, কিন্তু উনি মেনে নিচ্ছে না। --- কি বলছো এসব? --- হুম আমি সত্যি বলছি। আমি তোমাকে ছাড়া বাঁঁচবো না। --- তো কি করবে এখন? --- চলো না আমরা কালকে পালিয়ে বিয়ে করে ফেলি। --- কি বলো এসব! আম্মু কি মেনে নিবে? --- বিয়ের পর সবাই মেনে নিবে, প্লিজ না করো না। --- আচ্ছা দেখি কি করা যায়। --- দেখি না, তুমি কালকে রেড়ি থাকো। আমরা কালকেই বিয়ে করবো। --- আমার অনেক ভয় লাগছে। --- ভয়ের কিছু নাই, আমি তো আছি। তুমি তোমার জামাকাপড়, টাকা পয়সা আর স্বর্ণ অলংকার যা যা আছে সব গুলো নিয়ে নিবে, পারলে তোমার আম্মুর গুলাও নিবে। --- আচ্ছা ঠিক আছে, কখন বের হবে। --- কালকে সন্ধ্যার পর। --- দিনের বেলা বের হও। --- না, রাস্তায় মানুষ জন দেখে ফেলবে। --- আচ্ছা ঠিক আছে, আমি বের হবো। এ কথা বলে কলটা কেটে দিলাম, তারপর আমি আমার সব গুলো জিনিষ ব্যাগে নিলাম। পরের দিন দুপুরে আম্মু গোসল করতে গেছে, আমি আলমারি খুলে স্বর্ণ আর অনেক গুলো টাকা নিয়ে নিলাম। সব কিছু ঠিকঠাক করে ফেললাম, বার বার শুধু সেজান কল দিচ্ছে আমাকে, আমিও কথা বলে যাচ্ছি। সন্ধ্যা ৭.০০ টা, আমি ৫০ হাজার টাকা ও প্রায় ২ লক্ষ টাকার মতো স্বর্ণ নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম........"" ডাইরিটা পড়া শেষ, কিন্তু শেষ পর্যন্ত কি হলো সেটা আর জানা হলো না। মনের মধ্যে কেমন জেন খটকা গেলো, তাদের মিল হলো তো, নাকি হয়নি। ভাবতে ভাবতে ডাইরির পাতা গুলো উল্টাতে লাগলাম। হঠ্যাৎ করে একটা ছবি দেখলাম, সাথে সাথে ছবিটা নিয়ে দেখতে লাগলাম আর মনে মনে বললাম... সেজান তোর কপালটা আসলেই অনেক ভালো রে, মেয়েটা যেমন সুন্দর তেমন পয়সাওয়ালা আর অনেক ভালো মনের। এই রকম মেয়ে পাওয়া আসকেই ভাগ্যের ব্যাপার। মেয়েটার চোখে সেই চশমাটা যেটা আমি ভাঙ্গা অবস্থায় পেয়ে ছিলাম। ছবিটা উল্টিয়ে দেখি একটা মোবাইল নাম্বার, খুশির আর সীমা রইলো না। নাম্বারটা নিয়ে কল দিবো এমন সময় ভাবলাম,,, রাত ৩.০০ টা বাজে, এতো রাতে কল দেওয়া ঠিক হবে না, কালকে সকালে কল দিয়ে ডাইরিটা নিয়ে যেতে বলবো। এরপর আমি ঘুমিয়ে গেলাম। সকালে ঘুম থেকে উঠে, ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করে নিলাম। তারপর রুমে গেলাম। টেবিলের উপর ডাইরিটা দেখে নাম্বারটার কথা মনে পড়ে গেলো। সাথে সাথে কল দিলাম, কিন্তু কপাল খারাপ হলে যা হয় আরকি। সিমটা অফ, কল যাচ্ছে না। অনেকবার দিয়েছি বাট সিম অফ। তারপর ডাইরিটা আর চশমাটা একটা ব্যাগে নিয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে গেলাম, হাটতে হাটতে কালকে রাতের সেই ল্যাম্পপোস্ট টার ওখানে গিয়ে বসে আছি, আমার ধারনা মেয়েটা হয়তো আসবে ডাইরিটা নিয়ে যেতে, কিন্তু এলো না। দুপুরবেলা বাসায় চলে আসলাম। খেয়েদেয়ে আবার সেখানে গেলাম কিন্তু কেউ আসলো না। বার বার কল দিচ্ছি নাম্বার বন্ধ। এইভাবে ৭ দিন চলে গেলো, আমি ল্যাম্পপোস্ট এর ওখানে গিয়ে অপেক্ষা করি কিন্তু কেউ আসে না। ৮ম দিনের দিন বন্ধু এনামএর সাথে দেখা.... -- কিরে এতো রাতে এখানে কি করিস? (এনাম) --- না এমনি বসে আছি (আমি) --- আচ্ছা চল! চা খেতে খেতে কথা বলি। এরপর আমি আর এনাম একটা চায়ের দোকানে ঢুকলাম, আপনাদের বলে রাখি এনাম পড়ালেখার পাশাপাশি একটা সিম কোম্পানিতে জব করে। আমি বললাম..... --- দোস্ত একটা উপকার করতে পারবি? (আমি) --- হুম বল। (এনাম) --- একটা নাম্বার দিবো তোকে, ওই নাম্বারটা কোন NID কার্ড দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করা একটু দেখতে পারবি? --- আচ্ছা দেখবো, আগে নাম্বার দে। এরপর আমি নাম্বারটা দিয়ে দিলাম। চা খেয়ে দুজনে বাসায় চলে গেলাম। পরের দিন এনাম আমাকে NID কার্ডটার পুরো ডিটেলস দিয়ে দেয়। পড়ে দেখলাম, জামিল আহমেদ নামের কেউ একজনের, মনে হয় মেয়েটার বাবা হবে। আমাদের পাশের এলাকায় থাকে ওরা। সেদিন বিকেলে হাটতে হাটতে ওই এলাকায় গেলাম, একজন মুরুব্বীকে বললাম জামিল আহমেদের বাসা কোনটা তিনি দেখিয়ে দিলেন। দোতলা একটা বাড়ি, চারপাশে দেওয়াল দিয়ে ঘেরা। অনেকক্ষণ উঁকিঝুঁকি মারলাম কাওকে দেখতে পেলাম না। রাতে আবার এনামকে কল দিলাম.... --- দোস্ত আর একটা উপকার করতে পারবি (আমি) --- আরে বল! (এনাম) --- ওই NID. কার্ড দিয়ে অন্য কোনো নাম্বার রেজিস্ট্রেশন করা আছে কিনা দেখ। -- ওকে আমি তোকে জানাবো। --- ধন্যবাদ বন্ধ। পরের দিন এনাম ২ টা নাম্বার আমাকে sms করে পাঠায়, মনে হয় এই দুইটা নাম্বার রেজিস্ট্রেশন করা ছিলো। সকালে কল দিবো ভাবছি কিন্তু দেইনি যদি ওর মা বা বাবা কল ধরে তাই। দুপুরবেলা কল দিলাম কারণ এ সময় হয়তো জান্নাতের আম্মু গোসল করতেছে। কয়েকবার রিং পড়ার পর,,,, --- হ্যালো আসসালামু আলাইকুম (মেয়ের কন্ঠ) --- ওয়ালাইকুম সালাম। আপনার নাম কি জান্নাত? (আমি) --- হুম বাট আপনি কে? --- আপনি আমাকে চিনবেন না, আপনার নাম্বার বন্ধ তাই আপনার মায়ের নাম্বারে কল দিলাম। --- কিন্তু কেন, আপনাকে তো আমি ছিনিই না। --- আপনার একটা নীল ডাইরি, আর চশমা আমি পেয়েছি। ওগুলো আপনাকে দেওয়ার জন্য। --- আপনি পেয়েছেন, জানেন আমি কতো খুঁজেছি। তো কখন দিবেন? --- দিবো আমার একটা শর্ত আছে। --- আপনার আবার কিসের শর্ত? --- হুম আছে একটা। --- আচ্ছা ঠিক আছে বলেন। --- আপনার ডাইরিটা আমি পুরো পড়েছি, তবে শেষে কি হলো জানি না। যদি শেষটা আমাকে বলেন তাহলে আমি ডাইরি দিবো। --- ওগুলো আপনি জেনে কি করবেন? --- সেটা পরে বলবো। আগে বলেন শেষটা কি বলবেন কিনা? --- আচ্ছা ঠিক আছে বলবো। --- সত্যিটা বলতে হবে, কোনো ধরনের ফাঁকিবাজি চলবে না। --- আচ্ছা ঠিক আছে বলবো। --- তাহলে বিকালবেলা এখানে আসবেন (ঠিকানা দিলাম) --- ওকে, আপনি ডাইরি আর চশমাটা নিয়ে আসিয়েন। --- আচ্ছা ঠিক আছে। একথা বলে কলটা কেটে দিলাম, মনের মধ্যে কেমন যেন লাড্ডু ফুটতেছে। দুপুরে খেয়ে আরর ঘুমালাম না, অনেক সেজে গুঁজে ডাইরি আর চশমা একটা ব্যাগে নিয়ে বিকালবেলা বাসা থেকে বের হয়ে গেলাম। পথটা কাছেই, তাই আস্তে আস্তে হেটে হেটে যাচ্ছি। অতঃপর চলে আসলাম, দেখলাম সে কপিশপের ভিতরে কোনার একটা টেবিলে বসে আছে। আমি তার কাছে যাওয়ার পরেই....... চলবে......৷


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৭৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ নীল ডাইরির ভালোবাসা ৩
→ নীল ডাইরির ভালোবাসা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...