বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

শহুরে রোমান্টিক বউ

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান PRINCE FAHAD (২ পয়েন্ট)



X - আম্মু তুমি কি ওদের কথা বিশ্বাস করে ফেলেছো? - ওরা কি মিথ্যা কথা বলছে? আর সবকিছুই তো আমার নিজের চোখে দেখা?? আমাদের ছেলে হয়ে এমন কাজ করলি? একবারো মান সম্মানের কথা ভাবলি না?? " আম্মু কথা গুলো বলেই কান্না শুরু করে দিলো। আম্মুর কান্না দেখে চুপ হয়ে গেলাম। কোনো ভাবেই বুঝাতে পারছি না। আমার কথাই শুনতে চাচ্ছে না। এই হচ্ছে মেয়েদের নিয়ে এক সমস্যা, একবার কান্না শুরু করলে থামার লক্ষ্যণ নেই। হিমালয় গলে পানি হয়ে যাবে তবু যেনো তাদের কান্না থামবে না। কি করবো ঠিক এই মূহুর্তে কিছুই মাথায় আসছে না। " আম্মুকে কিছু বলতে যাবো ঠিক তখনি আব্বু এসে হাজির। আব্বু কে দেখেই গলার পানি শুকিয়ে গেলো। এই কাজ সেরেছে যদি আব্বু জানতে পারে না জানি আবার কপালে কি আছে?? " আব্বু কে দেখে ভয়ে ঈশিতার পিছনে দাঁড়ালেও ঈশিতা সরে যায়। ঈশিতা সরে যেতেই আব্বু বলে উঠলো...... - এখন এই মেয়ের পিছনে কেনো লুকাস? যখন আমাদের না জানিয়ে বিয়ে করে ফেলছিস তখন মনে ছিলো না?? - আব্বু তুমিও........ " আব্বু কে কিছু বলার আগেই আব্বু বলে উঠলো...... - চুপ কর বেয়াদব। আর একটাও কথা বলবি না। যা করার তো করে ফেলেছিস আমাদের মানসম্মানের দিকে একবারো তাকালি না। " আব্বুর ধমক শুনে চুপ হয়ে গেলাম। আব্বু যে অনেক রেগে আছে তাই কোনো কথা বলা যাবে না। ইচ্ছে হচ্ছে ঈশিতা ডাইনী আর রিতাকে থাপ্পড় দিয়ে দাঁত গুলো ফেলে দিতে। তাঁদের জন্যই এতো কিছু আমার কথাই শুনতে চাচ্ছে না। " সব থেকে বেশি রাগ হচ্ছে ঈশিতার প্রতি। কত বড় হারামি যে নিজেই এতো কিছু করে এখন আমাকে খল নায়ক করে নিজে সবার কাছে নায়ক বনে গেলো? ওহ! না না নায়িকা হবে। নিজের মনে মনে কথা গুলো বলছি তখনি আব্বু বলে উঠলো...... - এই জন্য ঈশিতা কে বিয়ে করতে চাস নি? ভাগ্যিস মেয়েটা লোক জানার আগেই আমাদের বলে দিয়েছে। নয়তো মানসম্মান সব ধূলায় মিশে যেতো। একবারো জানানোর কথা ভাবলি না। এতটাই পর ছিলাম....??? " আব্বুর কথা শুনে থো হয়ে গেলাম। বলে কি?? সত্যি কাহিনী টা তো কাউকেই বলতে পারছি না। কেউ শুনতে চাচ্ছে না। সব দোষ আমার আর ওই দিকে রিতা হারামি টাও চুপ করে আছে। " মনে মনে নিজের আপদ গুনে যাচ্ছি। না জানি আর কত কিছু শুনতে হবে? কার মুখ দেখে যে ঘুম থেকে উঠলাম জানি না। এমন হবে জানলে কে করতে যেতো এতো অভিনয়। আর ঈশিতাও যে কম নই সেটা বেশ বুঝতে পারলাম। রিতাকে ভয় দেখিয়ে যা ইচ্ছে করছে। এর শেষ দেখে নিবো? " আম্মু তখন কান্না কান্না কন্ঠে বললো...... - এখন কি হবে? " আম্মুর কন্ঠ শুনেই আব্বু ধমক দিয়ে বললো... - তোমার ন্যাকামি কান্না বন্ধ কর তো। তোমার ছেলেকে জিজ্ঞেসা কর এখন কি করবে??? " আব্বুর কথা শুনেই মনে কিছুটা সাহস পেলাম। এই তো এখন মোক্ষম সময়। এখনি যা করার করতে হবে। আমাকে এতো জ্বালিয়ে নিজেরা খুব হাসি তামাশা কর। এখন দেখো তোমাদের কি হাল করি.......!! " মনে মনে কথা গুলো বলছি তখনি আব্বু রাগী কন্ঠে জানতে চাইলো..... - কি মনে মনে বিড়বিড় করছিস?? কি বলেছি কানে যায় নাহ??? - আব্বু, আমি রিতাকে বউ করে ঘরে আনতে চাই। " আমার কথা শুনেই যেনো রিতার পায়ের মাঠি সরে গেলো। আড়চোখে রিতা আর ঈশিতার দিকে তাকিয়ে দেখি ঈশিতার মাথায় যেনো আকাশ ভেঙে পড়েছে। চোখে মুখে কেমন বিস্ময় এমন কথা বলবো ভাবতেই পারেনি। " আমার কথা শুনে সব থেকে বেশি চমকে উঠে রিতা। চোখ গুলো বড় বড় করে তাকায় আমার দিকে। এমন কিছু বলে ফেলবো ধারনার বাহিরে ছিলো। যেনো ভয় আর কান্না পেয়ে বসলো। রিতার দিকে তাকিয়ে থাকতেই আব্বু আমাকে ফের বললো..... - রিতার আব্বুর সাথে কথা বলি। দেখি বিয়ে টা পারিবারিক ভাবে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব করিয়ে ফেলি। " আম্মুর দিকে ফিরে বললো....... - তুমি রিতাকে তোমার ঘরে নিয়ে যাও। ঈশিতা, মামুনি আমাদের ক্ষমা করে দিও। আর এই বাদর টা যে বাসার বাহিরে যেতে না পারে? " আব্বুর কথা শুনেই ঈশিতা বলে উঠলো..... - না আংকেল,এই সব কি বলছেন? যা ভাগ্যে ছিলো না তা কি ভাবে পাবো? " আমার দিকে আড়চোখে তাকিয়ে রইলো কিছুক্ষণ। ঈশিতার চোখের দিকে তাকিয়ে দেখি চোখের পানি গুলো জ্বলজ্বল করছে। "আমার দিকে আড়চোখে তাকিয়ে রিতাকে ঈশিতা বললো...... - তোমরা সুখী হও। আর তোমাদের বিয়েতে দাওয়াত দিতে ভূলে যেও না। আমি নিজের হাতে সাজিয়ে দিতে চাই। " ঈশিতা কান্না অনেক কষ্টে দমিয়ে রাখলেও বুঝতে অসুবিধা হয়নি। রিতাও চুপ হয়ে গেলো? কি থেকে কি হয়ে গেলো ভাবতেই পারেনি। " আব্বু তখন আম্মুকে ধমক দিয়ে বললো..... - এখনো দাঁড়িয়ে আছো কেনো? " আব্বুর ধমক শুনে আম্মু রিতাকে আর ঈশিতা কে নিয়ে রুম থেকে বের হয়ে গেলো। আব্বুও রেগে রুম থেকে বের হয়ে গেলো। তবে রুবি যায় নি, সবাই চলে যেতেই এতোক্ষনে রুবি বলে উঠলো...... - ভাইয়া, এমন একটা কাজ করলি আমাকেও একবার জানানোর ইচ্ছে হলো না। আমাকে তো একবার বলতে পারতি??? - রুবি.... " আমাকে রুবি কথা গুলো বলে চলে যেতে চাইলে পিছন থেকে ডাক দিলাম। রুবি কে ডাক দিয়ে নিজেই কান্নায় ভেঙে পড়লাম। কি হতে কি হয়ে গেলো আমি নিজেও জানি না। আব্বু আর চাচ্চু যে মানুষ নির্ঘাত বিয়ে টা দিয়ে দিবে। " একটু মজা করতে গিয়ে সব শেষ করে ফেলেছি। রিতার জীবন টাও নষ্ট হয়ে যাবে? কান্নায় চোখের পানি ধরে রাখতে পারে নি? " আমার কান্না দেখে রুবি অবাক হয়ে যায়। অবাক হয়ে আমার কাছে জানতে চাইলো...... - কি হয়েছে? তুই এমন ভাবে কান্না শুরু করলি কেনো?? " রিতার কথা শুনে কান্না থামিয়ে একে একে সব কথা খোলে বললাম। আমার কথা শুনেই চমকে উঠে বললো...... - কি? তুই আগে সব বলিস নাই কেনো?? "রবির কোনো কথার উত্তর দিতে পারেনি। রুবিও চুপচাপ রুম দেখে বের হয়ে যায়। একদিন পরেই বিয়ে ঠিক হয়ে যায় রিতার সাথে। তবে রুম থেকে একটুও বের হয়নি। কারো সাথে কথা হয়নি রিতা বা ঈশিতার সাথেও না। " রুবি যখন খুশি হয়ে বিয়ের খবর জানালো তখন সবকিছুই অন্ধকার দেখতে শুরু করি। মাথায় অনেক কিছু ঘুরতে থাকে। কখনো বাসা থেকে পালিয়ে যাওয়া কিংবা সবাইকে সত্যি টা বলে দেওয়া। তবে কোনো কিছুই হয়ে ওঠে নি। " সময় দেখতে দেখতেই কিভাবে চলে যায়। আমার বিয়ের সময় চলে আসে অনিচ্ছা সত্বেও বাবার মুখের দিকে তাকিয়ে বিয়ে টা করতে হলো। যখন কাজী সাহেব বিয়ে পড়ালেন তখন কিছুই শুনতে পাইনি। মাথায় হাজারো দুঃচিন্তা। শুধু মাথা নাড়িয়ে গেলাম। " খুব ভালো ভাবেই বিয়ে টা হয়ে গেলো। একে একে সবাই চলে গেলে রুবি আমাকে আমার রুমে পৌঁছে দিতে এগিয়ে এলো। সাথে আমার একমাত্র বন্ধুও আছে। " রুমের দিকে পা চলছে না। কিভাবে যাবো? যেখানে বউ সেজে অন্য কারো বসে থাকার কথা ছিলো এখন সেখানে অন্য জন। যাকে কোনো দিনও অন্য চোখে দেখিনি। " রুবি দরজা দিয়ে পাঠিয়ে আমাকল বললো..... - যা, তুই অনেক ভাগ্যবান। তোর ভালবাসা তোর কাছেই রইলো আবার বউ পেয়ে ভুলে যাস না। ট্রিট পাওনা রইলো.... " রুবির কথা শুনেই মলিন মুখে হাসি দিতে চেষ্টা করলাম। রুবি কে বিদায় দিয়ে দরজা বন্ধ করে ধরুধরু বুকে এগিয়ে গেলাম রিতার দিকে। কি বলবো ভেবেই পাচ্ছি না। আর কোন মুখেই বা বলবো। " অনেক সাহস নিয়েই তারপর বললাম..... - দেখ, রিতা এতো কিছু হয়ে যাবে জানতাম না। কখনোই ভেবে নি,আমার জন্য তোর জীবন টা নষ্ট হয়ে গেলো। তোর ভালবাসা হারিয়ে গেলো। সবকিছুর জন্যই আমি দায়ী। পারলে আমাকল ক্ষমা করল দিস। আর তুই যদি চাস তাহলে তোর ভালবাসার মানুষের সাথে কথা বলে আমি সব ব্যাবস্থা করবো। " একদমে কথা গুলো বলতেই রিতা মাথার ঘোমটা ফেলে দিয়ে রেগে তাকালো। মাথার ঘোমটা ফেলে দিতেই ভূত দেখার মতো চমকে উঠি। " মনের অজান্তেই অস্ফুটে বলে উঠি..... - তু তো তুমি...... " আমার কথা শুনেই ঈশিতা হুংকার ছেড়ে একদম কাছে এসে পাঞ্জাবির কলার ধরে। ঈশিতার শ্বাস টুকু বুঝতে পারছি। রেগে গেয়েই বললো....... - আমি না তো কে থাকবে? বিয়ে করার সময় কান কই ছিলো যে মেয়ের নামটাও শুনতে পাস নি। না জেনেই বিয়ে করতে পাগল হয়ে গেলি? কি ভেবেছিস তোকে এতো সহজেই ছেড়ে দিবো....??? " ঈশিতার রাগী চোখ দেখে ভয়ে ভয়ে বললাম..... - না মানে..... - আর না মানে করতে হবে না। তোর জন্যই এতো কিছু হয়েছে, ফের যদি কখনো এমন করেছিস তো হাত পা ভেঙে দিবো। " ঈশিতা কথা গুলো বলেই কান্না শুরু করে দিলল। ঈশিতার কান্না দেখে চুপ গেলাম। কি করবো ঠিক বুঝতে পারছি না। ঈশিতা কান্না থামিয়ে নিজে নিজেই একে একে সব বলতে লাগলো। " বিয়ে যখন ঠিক তখনি রুবি আব্বুর কাছে সব কথা খোলে বলে। আব্বু সব শুনে রেগে আগুন হয়ে যান। তবে রুবির জন্য কিছু বলতে পারে নি। হাজার হোক আদরের মেয়ে বলে কথা। তখন রুবি আর আব্বু মিলে বাকী কাজ সম্পূর্ণ করেন। " মানে আমার সাথে ঈশিতার বিয়ে আর রিতার সাথে তার ভালাবাসার মানুষ টির বিয়ে। যদিও এখন আমার বিয়ে টা হয়েছে রিতার টা পরে হবে। আব্বু যে ভালবাসেই আম্মু কে বিয়ে করেছে তাই ভালবাসার মূল্য টা ঠিক বুঝেন। " ঈশিতার মুখে সব কথা শুনেই হেসে বলে উঠলাম.... - যাক, রুবির জন্য সব ঠিকঠাক হলো। নয়তো...... - নয়তো কি? বিয়ে করার সময় হুস ছিলো না কাকে বিয়ে করিস?? " ঈশিতা রেগে গিয়ে জানতে চাইলে কয়েক পা পিছিয়ে গিয়ে বললাম..... - হুস থাকবে কি করে?? যে টেনশনে ফেলেছিলেন, ভাগিস্য পালিয়ে যায় নি নয়তো এই বিয়ে টাও হতো না। - কি?? " ঈশিতা কিছুটা রাগ আর অবাক চোখে জানতে চাইলে কথা বাড়াতে চাইলাম নাহ। নয়তো যে মেয়ে বাবা রে বাবা না জানি আবার কি করে বসে। তাই বিছানার দিকে যেতে যেতে বললাম.... - কিছু না। ঘুম পাচ্ছে, আমি ঘুমাবো। " আমার কথা শুনেই ঈশিতা বলে উঠলো.... - ঘুম পাচ্ছে তো উপরে কি? নিচে বালিশ নিয়ে ঘুমান। আমি উপরে ঘুমাবো আর আপনি আজ থেকে নিচে ঘুমাবেন। খবর দার যদি কখনো কাছে আসার চেষ্টা করেছেন তো হাত ভেঙে ফেলবো। " কথা গুলো বলেই একটা বালিশ নিচে ছুড়ে ফেলে দিলো। ঈশিতার দিকে অবাক হয়ে জানতে চাইলাম... - মানে কি? " ঈশিতা তখন অগ্নি চোখে তাকিয়ে বললো....... - কি ভেবেছিস? আমি তোকে ................ (চলবে)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ১৬৮ জন


এ জাতীয় গল্প

→ শহুরে রোমান্টিক বউ ৬ ( শেষ পর্ব)
→ শহুরে রোমান্টিক বউ ৫
→ শহুরে রোমান্টিক বউ ৪
→ শহুরে রোমান্টিক বউ ৩
→ শহুরে রোমান্টিক বউ
→ শহুরে রোমান্টিক বউ ১

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...