বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

কুম্ভীলক

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Arpita Tripathy(guest) (৪৯৭ পয়েন্ট)



X #ছোট গল্প কুম্ভীলক #অর্পিতা ত্রিপাঠী ছেনো চোর বটে তবে চৌর্যবৃত্তিতে সে কিছু নিয়মকানুন অবশ্যই মেনে চলে। এই যেমন,কোন হতদরিদ্রের বাড়িতে চুরি না করা, চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়ে গেলে বামাল ফেরত দিয়ে উপরি শাস্তি নেওয়া এইসব। সেবার দারোগা তুষারমৌলি মুখুজ্জে ছেনোকে ধরে বলল, "ওরে ছেনো, তোকে এবার আর মারবো না। ওই তো ক'খানা হাড় আছে তোর, ওসব বাজিয়ে আমার হাতের সুখ মোটেই হয়না। তার চেয়ে বরং পিঠটা একটু চুলকে দে বাবা। বড্ড ঘামাচি হয়েছে।" ছেনো অপমানে মুখ ভার করে বলল, "চুরি করে খাই কত্তা। চুলকোতে বলে অপমান করবেননি। হাড় য'খানাই থাকুক আর নাই থাকুক আপনার মারার কতা মারবেন। তাছাড়া এই মার খেয়ে ভুল শুধরাতে হবেনি আমায়!" "ভুল শোধরাবি! চুরি করবিনি তবে!" "কি যে বলেন! এ না করলে বাপ্ পিতেমোর অপমান হবে যে! জাত ব্যবসা কিনা। পরের বার যেন এবারের ভুলের কারণে ধরা না পড়ি সে কতাই বলচি আমি"। একগাল হাসে ছেনো। দারোগা বিরস মুখে হাতপাখার ঘাকতক দিয়ে ছেড়ে দেন ওকে। তা এহেন ছেনো অমাবস্যার রাত্রে ঢুকলো জমিদার কুলতিলক বজ্রনারায়ণের বাড়িতে চুরি করতে। জমিদারি নেই বজ্রনারায়ণের আর অত ভারী নামের কদরও নেই। বাড়িতে তাঁকে কেউ মানে না। গোটা তিনেক অকর্মণ্য ধাড়ী ছেলে তাস পাশা খেলে বেড়ায় আর ফিকির খোঁজে কি করে বাপের যতটুকু আছে লিখিয়ে নেওয়া যায়। জমিদারগিন্নি নবাব নন্দিনীর আশকারাতেই এমনটা হয়েছে। নির্বিবাদী মানুষ বজ্রনারায়ণের কলের গান শুনে আর লটারিতে ভাগ্য পরীক্ষা করেই দিন যায় আজকাল । ইশকুল হাসপাতাল করার জন্য সাহায্য চাইতে মাঝেমধ্যে গ্রামের লোকেরা এসেছে বটে কিন্তু সদর থেকেই তারা ফিরে গেছে নবাবনন্দিনীর আদেশে। ইচ্ছে থাকলেও অন্যকে সাহায্য করার কোন উপায় নেই জমিদারবাবুর । ছেনো এসব জানে। নেহাত বাজার মন্দা নইলে এ বাড়িতে সেও ঢোকে না। তেমন কিছু না পাওয়া গেলেও বজ্রনারায়ণের পূর্বপুরুষ সূত্রে প্রাপ্ত ঘটিবাটির দাম নেহাত খারাপ হবে না এই আশাতেই বুক বেঁধে অমাবস্যার রাতে ঘুটঘুটে অন্ধকারে 'জয় মা' বলে বেরিয়ে পড়ে সে। অন্ধকারে তার ভালোই চোখ চলে ।ভালো চোরেদের এসব গুণ থাকতে হয়। সরষের তেল সপসপে মেখে ল্যাঙ্গট পরে ছেনো চলে বজ্রনারায়ণের বৈঠকখানার উদ্দেশ্যে। বৈঠকখানায় একাই ঘুমোচ্ছেন বজ্রনারায়ন। স্ত্রী গেছেন বাপের বাড়িতে। চৌহদ্দি পেরিয়ে বৈঠকখানার জানালার শিক দুটো বাঁকিয়ে ছেনো ভেতরে ঢোকার মত পথ করে নেয়। ঝুপ করে ঘরের ভেতর নেমে এদিক ওদিক বেড়ালের মত নিঃশব্দে শিকার খোঁজে । "ছেনো এলি নাকি!" একটা গম্ভীর আওয়াজে সে প্রায় ছিটকে ওঠে। যাঃ আজকেও ধরা পড়ে গেল ! কালো অন্ধকারের মধ্যে অনুভব করে আরও একটা জমাট বাঁধা অন্ধকার সামনে দাঁড়িয়ে। কাতর স্বরে সে বলে "ক্ষমা করে দেন কত্তা, আর হবে নি।" "তা বললে চলবে কেন" গম্ভীর আওয়াজ আবার বলে ওঠে। "চুরি যখন করতে এসেছিস চুরি করতেই হবে তোকে। তোর পূর্বপুরুষের কত নামডাক ছিল জানিস! সুছিদ্র শথপতির নাম কে না জানে!যাগ্গে মেঝের ঠিক মাঝখানে একটা ফাটল আছে। ওটা বড় করতে থাক ওখানেই সব পাবি। তবে মনে রাখিস একটা তোর বাদবাকি সবার।" কথা না বাড়িয়ে মেঝে হাতড়ে ফাটল খুঁজতে শুরু করে ছেনো। পেয়েও যায়। শাবলের আঘাতে সরিয়ে ফেলে মেঝের পাথর। বেরিয়ে আসে সুড়ঙ্গের মুখ। নিচে নেমে মাটি ঘাঁটতে ঘাঁটতে দশ দশটা মোহর পায় সে! লোভে চোখ চকচক করে ওঠে ছেনোর। মোহরগুলো নাড়তে থাকে, ঘাঁটতে থাকে আর ভাবে একবার বাইরে নিয়ে যেতে পারলেই হয়!সবকটার মালিক সে একাই ।ভাবনাটা আসতেই কত্তাবাবুর ধমক খায় আবার, কিরে কি বললাম তোকে! একটা তোর বাদবাকি সবার! না শুনলে...." রক্ত জল করা গর্জন শুনে তড়িঘড়ি বলে ওঠে ছেনো "আজ্ঞে তা তো বটেই তা তো বটেই।" সুড়ঙ্গ থেকে উঠে ঘরের মধ্যে ঢুকে সাহস সঞ্চয় করে ছেনো জিজ্ঞেস করে, "আজ্ঞে একটা কথা ছিল কত্তা। বলচি, আপনি নিজেই তো সবাইকে বিলোতে পারতেন মোহর কখান। আমাকেই বা এই দায়িত্ব কেন দিলেন?" কিছুক্ষণ নিঃশব্দে কেটে যায়। ও পক্ষ থেকে কোন উত্তর শোনা যায় না। কি করবে ভাবছিল ছেনো তখনই আওয়াজ আসে , "জমিদার অনঙ্গনারায়ন কাউকে শুধু শুধু কাজের দায়িত্ব দেয় না। নিজেই যদি পারতাম তোকে বলতাম না রে ব্যাটা। আর তাছাড়া তুই লোকটা নেহাত খারাপ নয়। হাজার হোক বংশের একটা ব্যাপার আছে তো। শতছিদ্রের প্রপৌত্র তুই। একাজ তুইই পারবি। আমার বংশের কুলাঙ্গারগুলোর উপর আর কোন আশা ভরসা নেই। যাক ভোর হচ্ছে এবার ফেরা উচিত।" জমাট অন্ধকার আস্তে আস্তে ফিকে হয়ে আসছে। ছেনো জানলার বাইরে পা রাখে। বাইরেটা ভালো দেখা যায় না যতটুকু দেখা যায় সে চমকে ওঠে! এ কোন বাড়িতে পা রেখেছে সে! এ তো জমিদার বাবুর বৈঠকখানা নয় । এটা একটা পরিত্যক্ত বাড়ি। জমিদারবাড়ির অব্যবহার্য একটা অংশ। ওই ঘরে ওই সুড়ঙ্গে কার সাথে এতক্ষণ রাত কাটিয়েছে সে! ভোরের ঝিঁঝকে আলোয় দশটা মোহর আবার দেখে সে। এগুলো তো সত্যি, মিথ্যা নয়। তড়িঘড়ি ঘরে এসে বংশ লতিকা বের করে দেখে শতছিদ্র সুছিদ্র তার বহু পূর্বের নমস্য পূর্বপুরুষ। তবে কি এরা জমিদার অনঙ্গনারায়ণের সমসাময়িক? দাদু ঠাকুরদার কাছে গল্প শুনেছে সে তার পূর্ব পুরুষেরা চৌর্যবৃত্তি করে যে সম্পদ আহরণ করতেন তার একটা ভাগ রাখতেন দেবতার জন্য একটা ভাগ দরিদ্র মানুষের জন্য আরেকটা রাজার জন্য এবং বাদ বাকিটুকু নিজের পরিবারের জন্য। জমিদার ঠাকুরদাদা বড্ড বেশি বিশ্বাস করে ফেলেছেন তাকে বিরাট বড় কাজের দায়িত্ব দিয়েছেন। এই বিশ্বাস রাখতে প্রাণপাত চেষ্টা করবে সে। নিজের গ্রামে একটা হাসপাতাল তৈরি করবে। স্কুলটাকে আরো উন্নত করবে । গ্রামে বসাবে সুলভ শৌচাগার। আরো না জানি উন্নতির কতকিছু ফিকির আছে সবকিছু সে নিজেও জানে না। একটা মোহর তার আর দরকার নেই। সারা জীবনের খরচ চালানোর জন্য একটা মোহর তার কাছে বড্ড অতিরিক্ত। গোটা একটা পেঁয়াজ দিয়ে খানিক পান্তাভাত সাঁটিয়ে ছেনো একটা ঘুম দিল। তারপর চলল। না জমিদার বাড়িতে নয় , থানার দিকে। দারোগাবাবুর সাথে তার শলা করার রয়েছে। এসব কাজে তিনি ছাড়া ছেনো এগোতেই পারবে না । কি আর করবে,দারোগাবাবু বললে এবার পিঠটা খানিক চুলকেই দেবে না হয়।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ১৩২ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...